Card image cap
গ্যাসের অপচয়রোধকারী চুলা
engr.tushar - 10 Sep 2015

আমরা যেই গ্যাস দিয়ে রান্না করি। রান্নার সময় গ্যাসের পরিপুর্ণ ব্যবহার হয় না। বেশ কিছু গ্যাসের আগুন বা তাপ আশেপাশে চলে যায়। যার কারণ অনেক গ্যাসের অপচয় হয়। MIST এর দুইজন আর্মি ছাত্র এমন একটি গ্যাসের চুলা আবিস্কার বা ডিজাইন করেছেন, যেখানে ৫০ শতাংশ গ্যাসের অপচয় রোধ করা সম্ভব।

1927 সালে আমেরিকাতে যেই চুলার ডিজাইন করা হয়, সেই চুলাই এখনো ব্যবহার হয়ে আসছে বাসা কিংবা রেষ্টুরেন্টে। এতে করে প্রতি বছর অনেক গ্যাসের অপচয় হচ্ছে।

হাবিব এবং এলাহী নামের দুইজন এর এই আবিস্কার আমাদের দেশের জন্য অনেক উপকারী।

 

Card image cap
আমরা কতটুকু উচু পর্যন্ত নির্মান করতে পারবো??
engr.tushar - 20 Aug 2015


মিশরের ফারাওরা যখন গিজার তিনটা পিরামিড নির্মান করেন তখন সেগুলোর উচ্চতা ছিলা ৪৮৭ ফিট বা একটা ৪৮ তলা বিল্ডিং এর সমান উচু। যা এই স্থাপনাগুলোকে তৎকালিন সময়ের সবচেয়ে উচু স্ট্রাকচারে পরিনত করে। এগুলো প্রায় ৪০০০ বছর ধরেই পৃথিবীর সবচেয়ে উচু ভবন ছিল। মানে হচ্ছে এই চার হাজার বছরে মানুষের নির্মিত কোন স্থাপনাই পিরামিডকে টপকাতে পারে নাই।

 


১৩০০ সালে যখন ইংল্যান্ডে Lincoln Cathedral নামক চার্চ নির্মিত হয় তখনই কেবল পিরামিডকে মানুষ তার নির্মিত ভবনের উচ্চতা দিয়ে টপকাতে পারে। এটির উচ্চতা ছিল ৫২৫ ফিট। তাহলে চমৎকার একটা প্রশ্ন হচ্ছে "গিজার পিরামিড কি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিল্ডিং" । কারন হাজার পাচেক বছর আগে বানানো এই জিনিষ এখনো দারিয়ে আছে। এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আগে আমাদের বুঝতে হবে বিল্ডিং কি জিনিষ।

 

 


তাত্বিক ভাবে বিল্ডিং হচ্ছে এমন একটা স্ট্রাকচার যেটার উচ্চতার কমপক্ষে ৫০ ভাগ আসবে তার ফ্লোর থেকে। যেখানে মানুষ বসবাস করতে পারবে, কাজ করতে পারবে এবং বিনোদন সহ সবকিছুর জন্য ব্যাবহার করতে পারবে। মোদ্দাকথা হচ্ছে কোন স্ট্রাকচারকে বিল্ডিং বা ভবন হতে হলে সেটাতে মানুষের থাকার এবং কাজের সুবিধা থাকতে হবে। এই শর্তযদি যদি কোন স্ট্রাকচার পুরন করতে না পারে তবে সেটা বিল্ডিং বা ভবন হিসাবে গন্য হবে না। সেটা একটা টাওয়ার হিসাবে গন্য হবে। সেক্ষেত্রে পিরামিড ভবন নয়।

 

 


আবার ইতিহাসে ফিরে যাই। Lincoln Cathedral এর পরে আরো কিছু শতাব্দি অনেক গুলো চার্চ বা খ্রিস্টানদের প্রার্থনার স্থান ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে টানা একটার পরে একটা রেকর্ড করতে থাকে আর ভাঙতে থাকে। ১৮৮০ সালে এই চার্চগুলো নির্মিত হয়। তার মানে প্রায় ৪৮০০ বছর ধরে উপরের দুইটা স্ট্রাকচার টানা উচ্চতার রেকর্ড ধারন করে ছিল।

 

 


এর পরে ১৮৮৯ সালে আইফেল টাওয়ার(৯৮৬ ফিট) নির্মিত হওয়ার পরে সেটিই ছিল সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে সর্বোচ্চ উচ্চতায় থাকার তৃতিয় স্ট্রাকচার। এটি পৃথিবীতে প্রায় ৪২ বছর ধরে টানা সর্বোচ্চ উচ্চতার স্ট্রাকচার হিসাবে গন্য ছিল। এর পরে আমেরিকার নিউয়র্কের Chrysler Building (১৪৬ ফিট) ১৯৩০ সালে আবার নতুন রেকর্ড করে। ঠিক তার পরের বছর নিউয়র্কের বিখ্যাত Empire State Building আগের রেকর্ড ভেঙ্গে আবার নতুন রেকর্ড গরে।

 

 


Empire State Building হচ্ছে মানুষ্য নির্মিত প্রথম স্ট্রাকচার যেটি এতটাই উচু যে এটা থেকে মানুষ লাফ দিলে তার টারমিনাল ভেলোসিটিতে (terminal velocity) পৌছবে।(টারমিনাল ভেলোসিটি হচ্ছে যেকোন বস্তুর পরন্ত গতিবেগ। মানে হচ্ছে কোন বস্তুকে যদি উপরে থেকে বাতাসে ছেরে দেয়া হয় তবে সেটি মাটিতে পরতে পরতে সর্বোচ্চ যেই স্পিডে পৌছবে সেটি। মানে এই ভবনটি থেকে যদি কোন মানুষ আত্মহত্যা বা যে কোন কারনে লাফ দেয় তবে তার পরন্ত গতিবেগ বাড়তে বাড়তে একসময় সেটা মোটামুটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় পৌছবে। এবং এই গতিবেগ আসতে যে সময় লাগে সেই সময়টুকুন পাওয়া যাবে এই Empire State Building থেকে লাফ দিলে। এজন্যই আত্মহত্যার জন্য এই ভবনটি কোন একসময় যথেস্ট জনপ্রিয় হয়েছিল। পরে অবশ্য কর্তৃপক্ষ এগুলো বন্ধকরার ব্যাবস্থা করে।

 

 


এর পরে ১৯৫০ সালে মানুষ হঠাৎ করে উচ্চ ভবন নির্মান বন্ধ করে আর একটা অদ্ভুৎ স্ট্রাকচার নির্মান শুরু করে। সেটা হচ্ছে রেডিও বা টিভির সম্প্রচার টাওয়ার। এই টাওয়ার গুলো হচ্ছে মানুষের দ্বারা নির্মিত তৎকালিন পর্যন্ত সবধরনের স্ট্রাকচারের মধ্যে অন্যতম উচ্চতম। তবে এগুলো কোন ভবনের মতন হয় না। এগুলো শুধু টাওয়ারের মতন করে নির্মান করা হয় যত উচুতে যাওয়া যায় ততই বিশাল এরিয়া কাভার করা যায়। এই রেকর্ডটা আছে পোলেন্ডের Warsaw radio mast নামক একটা রেডিও টাওয়ারের। এটার উচ্চতা ছিল প্রায় ২১১৮ ফিট। ১৯৯১ সালের দিকে এসে প্রচন্ড বাতাসে এটার স্ট্রাকচার ফেইল করে ধংস্ব হয়ে পরে যায়। কারন ছিল বাতাসের জোরে বেইজটা পুরো স্ট্রাকচারটির নারাচারা সহ্য করতে পারেনি।

 

 


এধরনের একটা মাত্র স্ট্রাকচার এখন পর্যন্ত দারিয়ে আছে আর সেটা হচ্ছে KVLY-TV mast যেটি আমেরিকার ডেকোটাতে অবস্থিত। এই স্ট্রাকচারটি এখনো দারিয়ে আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে এই সকল কিছুর সব ধরনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে একটা বিল্ডিং। আর সেটির নাম হচ্ছে Burj Khalifa। দুবাইতে অবস্থিত এই ভবনটি মাটি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত উচু। আমি প্রথম যখন এই ভবনটার উচ্চতা সম্পর্কে স্টাডি করি পুরোই অবাক হয়ে যাই। এদিকে শুনতেছি সৌদিরা রিয়াদে এর চেয়ে উচু কিংডম টাওয়ার বানাতে যাচ্ছে। এছারা চায়না, আমেরিকা সহ অনেকগুলো দেশ এই ধরনের ভবন বানাবে।

এবার আসি মুল কথায়। মাটি থেকে যদি এক কিলোমিটার পর্যন্ত যাওয়া যায় তবে ঠিক কতদুর পর্যন্ত আমরা নির্মান করতে পারবো??

 

 


আপনার হাতের কাছে যদি একটা গোল বল থাকে সেটা হোক বাচ্চাদের। সেটা হাতে নিয়ে মনে মনে একটু ভেবে বলেন তো দেখি আপনার হাতের বলটি যদি পৃথিবী হয় আর মহাকাশে থাকা কৃত্তিম উপগ্রহ বা Satellite গুলো পৃথিবী থেকে ঠিক কতদুরে থাকবে?? আপনার হাতের আঙ্গুল ব্যাবহার করুন তো দেখি দুরত্বটা দেখানোর জন্য। আমি জানি আপনার আন্দাজ মোটেই সঠিক হচ্ছে না। একচুয়ালি আপনি যা ভাবছেন বিষয়টা তার চেয়ে একটু জটিল। হিসাব করলে দেখা যাবে যে স্যাটেলাইটগুলো যে দুরুত্বে থাকে সেটা যদি আপনার আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে যান তবে আপনার আঙ্গুল বলের গায়ে লেগে যাবে। মানে কয়েক মিলিমিটারের মতন হবে আরকি।

 

 


ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন সম্পর্কে তো জানেন। না জানলে জেনে রাখুন নাসা এধরনের একটা বিশাল স্টেশন তৈরি করেছে পৃথিবীর কক্ষপথে যেটি এতটাই বিশাল যে রিতিমত সেখানে বেশ কয়েকজন লোক নিয়মিত অফিস করেন। যাকগে সে কথা। আসল কথায় আসি। এই স্টেশনগুলো পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু সেই ঘুরপাক খাওয়ার গতি অত্যান্ত বেশি। এতটাই বেশি যে যেখানে আমরা ২৪ ঘন্টায় একবার সুর্যউদয় এবং সুর্যাস্ত দেখি সেখানে মহাকাশের স্পেস স্টেশন বা স্যাটেলাইটে কর্মরত লোকজন দেখে ১৬ বার। মানে ২৪ ঘন্টায় তাদের ১৬ দিন হিসেব হয়। বিষয়টা অনেক জটিল। তবে আপনার টেনশনের কোন কারন নেই কারন আপনি নিজেও এই জিনিষটা দেখতে পারেন মানে একদিনে দুইবার সুর্যাস্ত এবং সুর্যোদয় দেখতে পারেন।

 

 


এই বিষয়টা দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন দুবাইয়ের Burj Khalifa তে। এই ভবনটার নিচে সুর্যাস্তের সময় দারিয়ে আপনি দেখলেন সুর্য ডুবেগেছে। এবার আপনি খুব উচ্চক্ষমতার লিফটে উঠে চলে গেলেন ভবনের একদম উপরে। সেখানে গিয়ে আপনি সম্পুর্ন অবাক হয়ে যাবেন কারন আপনি সুর্যাস্ত আবার দেখতে পাবেন। একই ঘটনা ঘটবে এই ভবনের বেলায় যখন সুর্যোদয় ঘটে। অসাধারন তাইনা। এর কারন হচ্চে অতিরিক্ত উচ্চতা। এই বিষয়টা নিয়ে সবচেয়ে মজার সমস্যায় পরে দুবাই কর্তৃপক্ষ রমজানের সময়। কারন ভবনের নিচে ইফাতােরের সময় হলেও ভবনের উপরে তখনও সুর্য দেখা যায়। তাই দুবাই ইসলামিক সেন্টার এই বিল্ডিং এর জন্য একটা সুন্দর নিয়ম করে দিয়েছে। ভবনের ৮০ তালার নিচে যারা থাকবে তারা ৩ মিনিট আগে ইফতার করবেন এবং ৮০ তালার উপরে যারা থাকবেন তারা ৩ মিনিট দেরি করে ইফতারি করবেন। মজার বিষয় তাই না।

 

 


এই বিষয়টা দেখার জন্য আপনাকে যে দুবাইতে যেতে হবে এমন কোন কথা নেই। আপনি চাইলে আমাদের কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের মধ্যে সুর্যাস্ত এবং সুর্যোদয় দুইবার দেখতে পারবেন। যাস্ট সুর্যাস্তের সময় প্রথমে আপনি বালির উপরে উপুর হয়ে শুয়ে পরুন। ঠিক যখন দেখবেন আপনার চোখথেকে সুর্যের সর্বশেষ লাল অংশটুকুন চলে যাচ্ছে সাথে সাথে ধুপ করে দারিয়ে পরুন। দেখবেন সুর্যাস্ত আবার দেখা যাচ্ছে। এটার কারন হচ্ছে পানির কিছু মৌলিক ধর্মের কারনে এটা একেবারে সমতল থাকে। তাই সাধারনত মাটিতে উচু নিচুর কারনে যা দেখা যায় না সমুদ্রে সেটা খুবই সুন্দর ভাবে দেখা যায়।

 

 


মজার বিষয় হচ্ছে আপনি যদি আপনার চোখের অবস্থান নির্নয় করে শোয়া অবস্থায় এবং দারানো অবস্থার মধ্যে চেখের উচ্চতা এবং একটা স্টপওয়াচ দিয়ে যদি দুইবার সুর্য ডোবার সময়ের ব্যাবধান নির্নয় করতে পারেন তাবে আপনি একটা সুত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ মেপে ফেলতে পারবেন। XKCD নামক একটা ওয়েবসাইট এই বিষয়টাকে আরো দুরত্ব পর্যন্ত নিয়েছে। তারা তাদের ওয়েবসাইটে এই সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে পরিক্ষা নিরিক্ষা এবং হিসাব করার জন্য সহযোগিতা করবে। চাইলে ঘুরে আসতে পারেন। ওরা আমার বর্ননা করা এই পুরো প্রসেসটা সুন্দর করে ছবি সহ সহজ করে বর্ননা করেছে এবং আপনি খুবই সুন্দর ভাবে চাইলেই নিজেই এই পরিক্ষাটা করতে পারেন। মানে একই দিনে দুইবার সুর্যাস্ত দেখতে পারবেন। বাচ্চাদের নিয়ে এইটা করতে পারেন তারা খুবই আগ্রহি হবে এবং জিনিষটা শিখতে পারবে।

ওকে আমরা আমাদের ঠিক যতটুৃকুন ইচ্ছে ততটুকুন পর্যন্ত নির্মান করতে পারবো। কিন্তু করছি না কেন??

 

 


এই প্রশ্নের উত্তরা জানতে হলে আপনাকে আগে জানতে হবে বিল্ডিং যত উচু হবে তার নিজস্ব ভর ততই বারবে। আর এই নিজস্ব ভরের কারনে ভবনটি একসময় তার বেইজের সাপোর্টিং স্ট্রাকচার ফেইল করবে মানে ধ্বসে পরে যাবে। কিন্তু বিজ্ঞানিরা গবেষনা করে অসাধারন একটা জিনিষ আবিস্কার করেছেন। তারা দেখছেন পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে যদি কোন কিছুকে ৩৫০০০ বা পয়ত্রিশ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায় তবে সেখানে যাওয়ার পরে এই স্ট্রাকচারটা অন্য আর একটা ফোর্স অনুভব করবে। আর সেটা হচ্ছে টান বল। এই উচ্চতাকে বলা হয় geostationary orbit। এই বলটা এতটাই বেশি হবে যে উক্ত স্ট্রাকচার একদম হঠাৎ করে শুন্য বল দেয়া শুরু করবে পৃথিবীতে অবস্থিত তার বেইজের উপরে।

 

 


মুলত এটাই হচ্ছে স্পেস এলিভেটর বা মহাকাশ লিফট নির্মানের মুল ভিত্তি। যদি কোন ভাবে একটা ক্যাবলকে নিয়ে যদি আপনি এই উচ্চতায় বসিয়ে দিতে পারেন তবে আপনি খুবই সহজভাবে মহাকাশে যাওয়ার জন্য একটা লিফ্ট নির্মান করে ফেলতে পারবেন। এর পরে সেই লিফ্ট দিয়ে উঠে গিয়ে আপনি আপনার ঘর বাড়ি সহ সবকিছু সেখানেই নির্মান করতে পারবেন। মহাকাশে কোন কিছু নির্মানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে সেখানে আপনার স্ট্রাকচারের বেইজ বা ভিত্তি নিয়ে ভাবতে হবে না। যাই বানাবেন ভাসতে থাকবে ভরহিন ভাবে। কি মজা তাই না।

 

 


তবে এইধরনের কোন শক্ত ম্যাটেরিয়ালস এখন পযন্ত বানিজ্যিক ভাবে নির্মিত হয়নি। নাসা বিভিন্ন ধরনের ন্যানোটিউব নিয়ে গবেষনা করছে এবং ধারনা করা হচ্ছে এই ন্যানোটিউব টেকনলজির কাজ বা প্রজেক্ট যদি যদি সফলভাবে সম্পন্ন হয় তবে ভবিষ্যতে বা আগামি শতকে আমরা এধরনের একটা লিফ্ট বানিয়ে ফেলতে পারবো। ফলে মহাকাশে যাওয়ার জন্য আর আমাদেরকে রকেট ব্যাবহার করতে হবে না। বরঞ্চ আমরা খুবই সহজ ভাবে অন্যান্য গ্রহে বসতি স্থাপন করতে পারবো।

 

 


এছারাও আরও কিছু সমস্যা আছে। যেমন একটা ক্যাবল যদি পৃথিবী থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তবে সেই ক্যাবলটা তো পৃথিবীর সাথে সাথে ২৪ ঘন্টা ঘুরতে থাকবে। এখন মহাকাশে প্রচুর রকমের জঞ্জালে ভর্তি। কারন আমরা গত ৬০ বছরে কমপক্ষে ৪০ হাজার বিভিন্ন ধরনের বস্তু মহাকাশে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট, মিসাইল সহ অনেক অনেক জিনিষ। এর মধ্যে বেশিরভাগই ধংস্ব প্রাপ্ত হয়ে আবর্জনার মত ভাসছে। এখন স্পেস এলিভেটর নির্মান করার পরে সেটিতো পৃথিবর সাথে সাথে একই স্পিডে ঘুরতে শুরু করবে। তখন এই জঞ্জালগুলো তো নিয়মিত এটাতে আঘাত করবে এবং একসময় ভেঙ্গে ফেলবে। তাই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

 

 


এর পরের সমস্যা হচ্ছে পৃথিবীতে প্রত্যেকটা দেশের বিমান সংস্থার জন্য কিছু নির্দিস্ট রুট বা গতি পথ থাকে। পৃথিবীর ঘুর্ননের সাথে সাথে এই ক্যাবেলের ঘুর্ননেরও একটা গতি পথ থাকবে। তাই প্রত্যেকটা দেশের বিমান সংস্থাকে এই ক্যাবলের সাথে কলিউশন হয় এমন গতিপথ পরিহার করতে হবে। তবে এই সমস্যার সবচেয়ে দারুন সমাধান হচ্ছে কেবলটা সমুদ্রে মাঝখানে স্থাপন করা। তাহলে আর কোন দেশের কোন সমস্যা হবার কথা না। যদিও আমেরিকার প্রবলেম হবে। সেটা কিভাবে?? সেটা না অন্য একদিন আলোচনা করবো।

 

 


আর একটা সমস্যা আছে। আচ্ছা এটা বোঝার জন্য আবার সেই বলটার কাছে যাই। মনে করেন বলটা পৃথিবী আর সেই পৃথিবীর উপরে আপনি একটা লম্বা কাঠি দার করিয়ে স্পেস এলিভেটর বোঝাচ্ছেন। এখন পৃথিবী নামক বলটাকে যদি আপনি একটা ঘুরনি দেন যার গতি প্রতিঘন্টায় ২ কিলোমিটার তাহলে ওই কাঠির বাহিরের মাথাটার গতি হবে প্রতি ঘন্টায় ৪ কিলোমিটার। একই সিস্টেমে পৃথিবী থেকে মহাকাশে যাওয়ার পরে ওই কেবলের মহাকাশে থাকা মাথার ঘুর্নন গতি এতই ভয়ানক দ্রুহ হবে যে সেটা আপনার আমার কল্পনার বাইরে। বিজ্ঞানিরা হিসাব করেছেন এই হিসাবে যে যদি কোন ক্যাবল পৃথিবীথেকে ৫০ হাজার কিলোমিটার দুরে নিয়ে হয় যেটা অবশ্যই নিতে হবে একটা স্পেস এলিভেটর বানাতে তাবে সেইটার উপরের মাথার ঘুর্নন স্পিড হবে প্রতি সেকেন্টে ১১.২৮ কিলোমিটার। যে স্পিডে আপনি খুবই সজে পৃথিবীর অভিকর্ষ বলকে বা গ্রাভিটিকে ফাকি দিয়ে মহাকাশে চলে যেতে পারবেন।

 

 


তো প্রশ্ন করতে পারেন ঠিক কি সুবিধা পাওয়া যাবে যদি কোন দেশ এধরনের কোন কিছু একটা বানাতে পারে। ঠিক সুবিধা বলেত ওই বলতে পারেন ওই দেশ বা ওই ব্যাক্তি পুরো পৃথিবীর মহাকাশ রিলেটেড যাবতিয় কর্মকান্ড কন্ট্রোল করতে পারবেন। এবং সত্যিকার অর্থে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনি ব্যাক্তি বা দেশে রুপান্তির হবেন। কারন বর্তমানে এক পাউন্ড ওজনের কোন কিছুকে মহাকাশে পাঠাতে খরচ হয় ১১ হাজার ডলার তখন হয়ত এই খরচটা নেমে যাবে মাত্র ১০০ ডলার বা আট হাজার টাকায়। তার মানে যোকোন কোটি পতি মহাকাশে নিজর জন্য একটা আলাদা বাড়ি বানিয়ে সেখানেই বাস করতে পারবেন। অথবা চাইলে একটা হোটেল বানানো যেতে পারে। চাইলে সেখানে বানানো যেতে পারে বিশাল কোন স্পেশশিপ যেটি গ্রহথেকে গ্রহান্তরে ঘুরতে পারবে।

অনেক ধন্যবাদ আমার লেখাটি পরার জন্য। আরো যদি কিছু জানার প্রয়োজন হয় তবে কমেন্টস এ উল্লেখ করুন। সেখানে আলোচনা করে আমরা জেনে নেবো বিষয়টি। ধন্যবাদ।

লেখার তথ্যসুত্র

১) ইউটিউব এর বিখ্যাত মাইকেল ঃ- https://www.youtube.com/watch?v=GJ4Qp2xeRds
২) কিভাবে দুইটা সুর্যাস্ত দেখে সেটাদিয়ে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্নয় করবেনঃ-http://www.darylscience.com/downloads/DblSunset.pdf
৩) পয়েন্ট ২ এর একই জিনিষ এখানেও দেখতে পারেঃ- Click This Link
৪) সর্বোচ্চ ভবন এর ইতিহাস জানতে এই লিংকে যানঃ- Click This Link
৫) এটাও ঘুরে আসতে পারেনঃ Click This Link
৬) পরন্ত মানুষ এবং টারমিনাল ভ্যালোসিটি সম্পর্কে জানতে এখানে যানঃ- Click This Link
৭) KWTV রেডিও টাওয়ারটি সম্পর্কে আরো জানতে এখানে যেতে পারেনঃ- Click This Link
৮) রেডিও টাওয়ার কিভাবে ধংস্ব হয়েছিল সেটার ভিডিও দেখতে পারেনঃ- http://www.youtube.com/watch?v=vx4k9gXAZEM
৯) বুর্জ খলিফার ছবি দেখতে এখানে ঃ- http://www.owips.com/burj-khalifa/
১০) রমজানের সময় বুর্জ খলিফার সময় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুনঃ Click This Link
১১) মহাকাশে থাকা স্পেস শাটল বা স্যাটেলাইট গুলো হাইট জানতে এখানে যানঃ- Click This Link
১২) মহাকাশে অবস্থিত স্যাটালাইট এর পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে সুর্যদয় দেখতে এখানে ক্লিক করুনঃ- https://www.youtube.com/watch?v=5nF5RXQxDH4
১৩) XKCD এর সেই হিসাব পত্র দেখতে এই লিংকে যানঃ- Click This Link
১৪) স্পেস এলিভেটর সম্পর্কে আরো জানতে নিচের লিংক গুলোতে যেতে পারেন। আমি এগুলো থেকে তথ্যগুলো নিয়েছি।
http://www.spaceward.org/
http://www.spaceelevatorblog.com/
https://en.wikipedia.org/wiki/Space_elevator
এখাকনে স্পেস এলিভেটর বানানোর আরো একটা সুন্দর উপায় বিশ্লেষন করা হয়েছে
https://en.wikipedia.org/wiki/Space_fountain

 

Card image cap
বি.এন.বি.সি ২০১১পার্ট২
engr.tushar - 02 Jul 2015

TABLE OF CONTENTS

PART 2    Administration and Enforcement

Chapter 1

PURPOSE AND APPLICABILITY

1.1

PURPOSE

2-1

1.2

TERMINOLOGY

2-1

1.3

APPLICABILITY

2-1

1.3.1

Construction

2-2

1.3.2

Removal

2-2

1.3.3

Demolition

2-2

1.3.4

Alteration

2-2

1.3.5

Maintenance

2-2

1.3.6

Repair

2-2

1.3.7

Land Development

2-2

Chapter 2

ORGANIZATION AND ENFORCEMENT

2.1

CODE ENFORCEMENT AGENCY

2-3

2.2

ENFORCEMENT ATTHE FIELD LEVEL

2-3

2.3

BUILDING OFFICIAL

2-3

2.4

ADMINISTRATIVE JURISDICTION OF BUILDING OFFICIALS

2-3

2.5

MERGING THE JURISDICTIONS UNDER SMALL LOCAL BODIES

2-4

2.6

QUALIFICATION OF THE BUILDING OFFICIAL

2-4

2.7

RESTRICTIONS ON THE BUILDING OFFICIAL

2-4

2.8

DAMAGE SUIT

2-4

2.9

POWERS AND DUTIES OF THE BUILDING OFFICIAL

2-5

2.9.1

General

2-5

2.9.2

Deputies

2-5

2.9.3

Recognition of Professional Services

2-5

2.9.4

Application and Permits

2-5

2.9.5

Building Notices and Orders

2-5

2.9.6

Right of Entry

2-5

2.9.7

Inspection

2-6

2.9.8

Orders to Stop Work

2-6

2.9.9

Occupancy Violation

2-6

2.9.10

Maintenance of Records

2-6

2.9.11

Expert Opinion

2-6

2.10

APPEALATE AUTHORITY

2-6

2.11

REQUIREMENT OF CERTIFICATION OF WORK

2-7

2.12

LIMITS OF PROFESSIONAL CONDUCT

2-7

2.13

VIOLATION AND PENALTIES

2-7

2.13.1

General

2-7

2.13.2

Professional Violation

2-7

2.13.3

Obligation of Offender

2-7

2.13.4

Conviction No Bar to Further Prosecution

2-7

2.14

POWER TO MAKE RULES

2-8

Chapter 3

PERMIT AND INSPECTIONS

3.1

PERMITS

2-9

3.2

TYPES OF PERMIT

2-9

3.2.1

Validity of Permits from the Date of Issuance

2-9

3.2.2

Permits Obtained Prior to Adoption of Code

2-10

3.3

CONSTITUTION OF BUILDING PERMIT COMMITTEES

2-10

3.4

APPLICATION FOR PERMIT

2-10

3.5

DISPOSAL OF APPLICATION

2-11

3.6

PREPARATION AND SIGNING OF DRAWINGS

2-11

3.7

FEES

2-13

3.8

RESPONSIBILITIES AND DUTIES OF THE OWNER

2-13

3.8.1

General

2-13

3.8.2

Employment of Technical Personnel

2-13

3.8.3

Right of Entry

2-13

3.8.4

Permits from Other Agencies

2-13

3.8.5

Information on Progressive Work

2-13

3.8.6

Safety Measures

2-13

3.8.7

Notice of Completion

2-14

3.8.8

Documents at Site

2-14

3.9

RESPONSIBILITIES AND DUTIES OF TECHNICAL PERSONNEL

2-14

3.10

INSPECTION

2-14

3.11

UNSAFE BUILDINGS

2-14

3.11.1

General

2-14

3.11.2

Examination

2-14

3.11.3

Notification

2-14

3.11.4

Disregard of Notice

2-14

3.11.5

Cases of Emergency

2-14

3.12    DEMOLITION OF BUILDINGS    2-15

3.13    VALIDITY OF THIS CODE    2-15

3.13.1 Partial Invalidity    2-15

3.13.1 Invalidity of Existing Buildings    2-15

3.14    ARCHITECTURAL AND ENVIRONMENTAL CONTROL    2-15

3.15    MAKING IMPLEMENTATION PROCEDURES    2-16

Chapter 1

PURPOSE AND APPLICABILITY

1.1 PURPOSE

The purpose of this part is to relate the provisions of the Code to different documents for administration and enforcement of the Code. All legal issues shall be referred to the Building Construction Act.

1.2 TERMINOLOGY

ALTERATION : Any change, addition or modification in construction such as structural, dimensional, or any removal of any part of a building or any change to or closing of any required means of ingress or egress or a change to the fixtures or equipment or any change in occupancy or use.

APPLICANT : A person, a firm, a company, a corporation, or a government, semi-government or nongovernment agency who intends to undertake any work regulated by this Code and who has filed an application to the Building Official for this purpose in a form prescribed in the Code.

APPROVED PLAN : The set of plans, designs and specification of a building submitted to the Authority as per provision of this Code and duly approved and sanctioned by the Authority.

AUTHORIZED OFFICER : An officer appointed by the Government by notification in the Official Gazette to exercise in any area the functions of an Authorized Officer.

BUILDING OFFICIAL : Same as AUTHORIZED OFFICER above. Having meaning and authority of AUTHORIZED OFFICER as defined in the Building Construction Act.

BUILDER : A person, a firm, a company, a corporation or a government, semi-government or non-government agency who undertakes construction of any work regulated by the Code. Owner of a building or structure in connection to which the work is undertaken shall not be considered as a Builder.

CONSTRUCT, TO : To construct a new building or reconstruct an existing building or to convert a building from one occupancy to another.

DEVELOPMENT : Carrying out construction of buildings, engineering, mining or other operations in, or over or under land or water. Includes redevelopment and layout and subdivision of any land. 'To develop' and other grammatical variations shall be interpreted accordingly.

ERECT, TO : See CONSTRUCT, TO.

OWNER (OF A BUILDING) : The person, organization or agency at whose expenses the building is constructed and who has the legal right over the land on which it is constructed or one who has the right to transfer the same and includes his or her heirs, assignees and legal representatives, and a mortgagee in possession.

PERMIT : A written document or certificate issued by the Authority for carrying out a specific activity under the provisions of this Code.

UNSAFE BUILDING : A building which, in the opinion of the Building Official, is structurally unsafe, or insanitary, or lacks proper means of ingress or egress, or which constitutes a hazard to life or property.

1.3 APPLICABILITY

The requirements of this Code shall be complied within any construction, addition, alteration or repair, use and occupancy, location, maintenance, demolition and removal of a building or structure or any appurtenances connected or attached to it as set forth herein below.

2-1

1.3.1    Construction

For construction of a new building, the provisions of this Code shall apply to its design and construction.

1.3.2    Removal

For removal of any portion or the whole of a building, the provisions of this Code shall apply to all parts of the building whether removed or not.

1.3.3    Demolition

For dismantling or demolition of any part or the whole of a building, the provisions of this Code shall apply to any remaining portion and to the work involved in the dismantling or demolition process.

1.3.4    Alteration

For alteration of a building, the provisions of this Code shall apply to the whole building whether existing or new. If the portion of the building to which the alteration is made is completely self contained with respect to the facilities and safety measures required by this Code, the provisions of this Code shall apply only to that portion and not to the whole building.

1.3.5    Maintenance

Maintenance work shall be undertaken for all new and existing buildings and all parts thereof to continue their compliance with the provisions of this Code. All devices, equipment and safeguards installed as per the requirements of this Code shall be maintained in conformity with the edition of the Code under which installed. The owner of the building or his designated agent shall at all times be responsible for the safe and sanitary maintenance of the building or structure, its means of egress facilities and the safety devices, equipment and services installed therein. The Authorized Officer or his delegated persons as described in relevant documents mentioned in Chapter 2 may cause re-inspection of a building to determine its continued compliance with this section.

1.3.6    Repair

Application or notice to the Authority administering the Code is not necessary for ordinary repairs to buildings or structures, provided such repairs do not involve the cutting away of any wall or portion thereof, the removal or cutting of any structural or bearing element, the removal or alteration of any required means of egress, or the rearrangement of any parts of a structure affecting the access and exit facilities. All works involving addition to, alteration or change of use of any building or structure shall conform to the requirements set forth in Part 9 of this Code.

1.3.7    Land Development

For development of a land for construction of a building, the provisions of this Code shall apply to the entire development work. For land development purposes the following laws shall also be applicable:

a)    The Town Improvement (Tl) Act 1953

b)    Land Development Rules for Private Housing 2004

Chapter 2

ORGANIZATION AND ENFORCEMENT

2.1 CODE ENFORCEMENT AGENCY

2.1.1    The Government shall establish a new or designate an existing department/agency responsible for enforcement of this Code throughout Bangladesh. Code enforcing agency shall have the authority of the government and shall herein be referred to as the Building Regulatory Authority (BRA). This Authority shall work as apex body to implement the provisions of the Bangladesh National Building Code (BNBC) and will be administered under the Ministry of Housing and Public Works, Government of Bangladesh.

2.1.2    Central Headquarters of BRA will be located in Dhaka or any other place as decided by the government.

Headed by one Chairman it will have Members not exceeding five. There will be necessary officers and staff for smooth functioning of the office.

Card image cap
facebook like
Ashraful Haque - 09 Jun 2015
Powered by need4engineer

Card image cap
বাড়ির ফাঊন্ডেশণ বাজেট
engr.tushar - 08 Jun 2015

আমার ছয় কাঠা এক টুকরো জমি আছে।আমি প্লান করতে সাত তলা ফাঊন্ডেশণ দিয়ে তিন তলা বাড়ী করবো । ঢাকা ইমারত অনুযায়ী আমি ৩,৭৫ কাঠা  ব্যবহার করতে পারব।

কিন্তু, বাড়ী করার ব্যাপারে আমার খুবি সীমিত জানি। কেউ যদি শুধু  সাত তলা ফাঊন্ডেশণ + পাইলিং এর বাজেট দিতেন , খুব উপকার হত।

Card image cap
BNBC 2011, Part-01
engr.tushar - 03 Jun 2015

Original Link: http://buildingcode.gov.bd

TABLE OF CONTENTS

PART 1    Scope and Definition

Chapter 1    TITLE, SCOPE AND GENERAL

1.1    TITLE    1-1

1.2    PURPOSE    1-1

1.3    SCOPE    1-1

1.4    EXISTING BUILDINGS    1-2

1.4.1    Addition and Alteration    1-2

1.4.2    Change of Use    1-2

1.5    HISTORIC OR ARCHITECTURALLY VALUABLE BUILDINGS    1-2

Chapter 2    DEFINITIONS

2.1    GENERAL    1-3

2.2    DEFINITIONS OF TERMS    1-3

Chapter 3 ABBREVIATIONS

3.1    ABBREVIATIONS OF NAMES    1-7

3.2    ABBREVIATIONS OF WORDS    1-8

Chapter 1

TITLE, SCOPE AND GENERAL

1.1 TITLE

The provisions and regulations contained in this document shall constitute and be collectively known and may be cited as the "Bangladesh National Building Code:2012", abbreviated, where desired, as BNBC, and will hereinafter be referred to as the "Code".

1.2    PURPOSE

The purpose of this Code is to establish minimum standards for design, construction, quality of materials, use and occupancy, location and maintenance of all buildings within Bangladesh in order to safeguard, within achievable limits, life, limb, health, property and public welfare. The installation and use of certain equipment, services and appurtenances related, connected or attached to such buildings are also regulated herein to achieve the same purpose.

The provisions of this Code are applicable to all persons of Bangladesh irrespective of class, creed, culture, religion or sex. The Code does not in any way create or otherwise establish or designate any particular class or group of persons who will or should be specially protected or benefited by the provisions of this Code.

The expressed intent of this Code is to insure public safety, health and general welfare insofar as they are affected by the construction, alteration, repair, removal, demolition, use or occupancy of buildings, structures or premises, through structural strength, stability, means of egress, safety from fire and other hazards, sanitation, light and ventilation.

1.3    SCOPE

The provisions of this Code shall apply to the design, construction, use or occupancy, alteration, moving, demolition and repair of any building or structure and to any appurtenances installed therein or connected or attached thereto, except such matters as are otherwise provided for in other ordinances and statutes controlling and regulating buildings.

If for any case different sections of this Code provide different specifications for materials, methods of design or construction, or other requirements, the most restrictive specification shall govern.

In case of any conflict between a general requirement and a specific requirement, the specific requirement shall be applicable.

Unless otherwise explicitly stated in this Code, all references to part, chapter or section numbers or to provisions not specifically identified by number, shall be construed to refer to such part, chapter, section or provision of this Code.

References made to a section without mentioning a part shall be construed to refer to that section of the part in which the reference is made.

The provisions of any appendix in this Code shall not be mandatory unless they are referred to as such in any section of the Code or they are specifically adopted by any regulation.

Inspection conducted or permission granted for any building or plan of building, under the provisions of this Code, shall not be construed as a warranty of the physical condition of such building or the adequacy of such plan. Neither the Authority administering the Code, nor any employee thereof shall be liable for damages or any defect or hazardous or illegal condition or inadequacy in such building or plan, nor for any failure of any component of such building which may occur subsequent to such inspection or granting of permission under the provisions of the Code.

1-1

1.4    EXISTING BUILDINGS

Buildings which are in existence on the date of promulgation of this Code may have their use or occupancy continued without undergoing any alteration, abandonment or removal unless in the opinion of the Authority such continued use is hazardous to life and property and provided such use or occupancy was legal on the date of promulgation of this Code. Buildings approved before adoption of the present updated Code and compliant with the previous version of the Code may continue to be used or occupied unless any deviation is made thereafter or any deterioration has rendered the building unsafe in the opinion of the Authority.

1.4.1    Addition and Alteration

Additions, alterations, modifications or repair to an existing building may be made without requiring the existing building to comply with all the requirements of this Code, provided the additions, alterations, modifications or repairs conform to that required for a new building. Such additions or alterations shall not be permitted when the existing building is not in full compliance with the provisions of this Code except when the addition or alteration will result in the existing building or structure being no more hazardous based on life safety, fire safety and sanitation than it was before the addition or alteration was undertaken. Any building together with the new additions shall not exceed the height, number of storeys and area specified in this Code for new buildings having the relevant occupancy and type of construction. Non-structural alterations or repairs to an existing building or structure which do not adversely affect any structural member, nor reduce the strength of any part of the building or structure to result in an unsafe condition shall be made with materials and components having the required fire resistance.

1.4.2    Change of Use

Change in use or occupancy in an existing building may be made when such change complies with the requirements of this Code for a new building and provided such change does not render any part or the whole of the affected building or structure any more hazardous based on life safety, fire safety and sanitation than it was before such change was effected.

1.5    HISTORIC OR ARCHITECTURALLY VALUABLE BUILDINGS

A building or structure which has been designated by official action as having special historical or archaeological interest, or a building or structure identified by a legally constituted authority as being architecturally valuable, may be undertaken for repairs, alterations and additions necessary for its preservation, restoration, rehabilitation or continued use provided:

a)    the proposed repair, alteration or addition to buildings of historical or archaeological significance is approved by the legally constituted authority, such as the Department of Archaeology;

b)    the proposed repair, alteration or addition to buildings of architectural value does not impair the aesthetic quality and architectural character of such buildings; and

c)    the restored building or structure will be no more hazardous, if any, based on life safety, fire safety and sanitation than the existing building.

Chapter 2

DEFINITIONS

2.1    GENERAL

Unless otherwise expressly stated, the abbreviations, terms, phrases, words and their derivations listed below shall, for the purpose of this Code, be construed as set forth in this chapter. Words not explicitly defined shall have their ordinarily accepted meanings as the context implies as provided in The Oxford English Dictionary, second edition, Simpson, J. & Weiner, E., Ed., Oxford University Press, London, 1989; and Chambers Science and Technology Dictionary, Chambers Harrap Publishers Ltd, New York, 1999.

The terms defined in this part shall have a general applicability to the entire Code. Other than these, there are other terminology and definitions provided in different parts, chapters and sections which shall be applicable only to that particular part, chapter or section in which they are defined. In case of any conflict or contradiction between a definition given in this part and that in any other part, chapter or section, the meaning provided in that part, chapter or section shall govern for the interpretation of the provisions of that particular part, chapter or section. In general, definitions given in a lower level shall override the meanings of all upper levels for the interpretation of the provisions within the scope of that lower level.

2.2    DEFINITIONS OF TERMS

The terminologies used in this Code are defined in this section. Irrelevance of gender, tense and number is implicit in these definitions and throughout the Code. Words in the masculine gender include the feminine and the feminine the masculine. Verbs used in the present include the future. Words used in the singular include the plural and the plural the singular.

ACCESSORY USE: Any use subordinate to the major use which is normally incidental to the major use. ALTERATION: Any change, addition or modification in construction such as structural, dimensional, or any removal of any part of a building or any change to or closing of any required means of ingress or egress or a change to the fixtures or equipment or any change in land use or occupancy or use.

APPROVED: Approved by the Authority.

AUTHORIZED OFFICER: An officer appointed by the Government by notification in the Official Gazette to exercise in any area the functions of an Authorized Officer.

AUTHORITY: The Authority which has been created by a statute and which, for the purpose of administering this Code or part thereof, may authorize a committee or an official to act on its behalf. (This definition of Authority shall apply to all appearances of the term in this Code written with a capital A).

BUILDING: Any permanent or semi-permanent structure which is constructed or erected for human habitation or storage or for any other purpose and includes the foundation, plinth, walls, floors, roofs, chimneys, fixed platform, verandah, balcony, cornice, projections, extensions, annexes and any land or space enclosed by wall adjacent to it. The term building will also include the sanitary, plumbing, HVAC, outdoor display structure, signs and all other building service installations which are constructed or erected as an integral part of a building.

BUILDING LINE: The line up to which the plinth of a building may lawfully extend. Also known as SETBACK LINE.

BUILDING OFFICIAL: Same as AUTHORIZED OFFICER above. Having meaning and authority of same as AUTHORIZED OFFICER as defined in the Building Construction Act.

COMMITTEE: A Building Construction Committee constituted for any area in the prescribed manner, if necessary.

Construct, To: See ERECT, TO.

CONVERSION: The change in occupancy or premises to any occupancy or use requiring new occupancy permit.

COVERED AREA: The ground area above the plinth level which is covered by a building structure. The covered area of a building shall exclude gardens, wells, uncovered water and swimming pool, fountains, drainage structures, boundary wall, gates, single-storey open porch, uncovered staircase, watchman's cabin, detached pump house, electrical substations, garbage chutes and other utility structures.

DEVELOPMENT: Carrying out construction of buildings, engineering, mining or other operations in, or over or under land or water. Includes redevelopment and layout and subdivision of any land. 'To develop' and other grammatical variations shall be interpreted accordingly.

DRAIN: A conduit or channel for conveying water, sewage, or other waste liquid for subsequent disposal. DRAINAGE: The disposal of any liquid with a system meant for this purpose.

ERECT, TO: To erect a new building or re-erect an existing building or to convert a building from one occupancy to another. Also known as CONSTRUCT, TO.

GOVERNMENT: The government of the People's Republic of Bangladesh.

GRADE: The lowest point of elevation of the finished surface of the ground, pavement or footpath within the area between the building and a line which is the property line or a line 1.5 m from the building, whichever is nearer the building.

HEIGHT OF BUILDING: The vertical distance from a reference datum to the highest point of the coping or the parapet of a flat roof or to the deck line of a mansard roof or to the average height of the highest gable of a pitched or whipped roof. The reference datum shall be the elevation of the nearest footpath, or the elevation of the nearest road or street or public way at its centre line, whichever is higher.

HIGH RISE BUILDING: Any building which is more than 6 storeys or 20 m high.

OCCUPANCY OR USE GROUP: The purpose for which a building or a part thereof is used or intended to be used.

OCCUPANCY, MAJOR: The major or principal occupancy of a building or a part thereof which has attached to it subsidiary occupancy or occupancies contingent upon it.

OCCUPIER: A person paying or liable to pay rent or any portion of rent of a building in respect of which the ward is used, or compensation or premium on account of occupation of such building and also a rent-free tenant. Does not include a lodger and the words 'occupancy' and 'occupation' do not refer to the lodger. In such cases the owner himself or herself is living in his or her own building, he or she shall be deemed to be the occupier thereof.

OWNER, OF A BUILDING: The person, organization or agency at whose expenses the building is constructed or who has the right to transfer the same and includes his or her heirs, assignees and legal representatives, and a mortgagee in possession.

PERMIT: A written document or certificate issued by the Authority for carrying out a specific activity under the provisions of this Code.

PLINTH AREA: Area of a building measured at the plinth level.

PLOT: See SITE.

PUBLIC WAY: See ROAD.

RELIABLE LITERATURE: See RELIABLE REFERENCE.

RELIABLE REFERENCE: Reference materials such as published article, codes, standards or other material judged to be reliable by the professional users and specialists in the subject concerned. This may also be referred to as RELIABLE LITERATURE.

ROAD: A thoroughfare or public way which has been dedicated or deeded to the public for public use. Also known as STREET.

ROAD LINE: A line defining the side limits of a road.

ROOM HEIGHT: The clear head room between the finished floor surface and the finished ceiling surface or the underside of the joists or beams, whichever is lower.

SANCTIONED PLAN: The set of plans, design and specifications of a building submitted to the Authority as per provision of this Code and duly approved and sanctioned by the Authority.

SERVICE ROAD: A road or lane provided at the rear or side of a plot for service purposes.

SETBACK LINE: See BUILDING LINE.

SITE: A piece or parcel of land on which a building is intended to be or has already been constructed. Also known as PLOT.

SPECIALIST: A professional who by education, research, practice and experience specializes in a particular branch of a broader discipline and is generally judged to be so by the professionals in the relevant discipline.

STOREY: That portion of a building included between the upper surface of any floor and the upper surface of the floor above, except that the topmost storey shall be that portion of a building included between the upper surface of the topmost floor and the ceiling or roof above. If the finished floor level directly above a usable or unused under-floor space is more than 1.8 m above the grade, as defined herein, for more than 50 per cent of the total perimeter or is more than 3.6 m above grade at any point, such usable or unused under-floor space shall be considered as a storey.

STOREY, FIRST: The lowest storey in a building which qualifies as a storey as defined herein, except that a floor level in a building having only one floor level shall be classified as a first storey, provided such floor level is not more than 1.25 m below grade, as defined herein, for more than 50 per cent of the total perimeter, nor more than 2.5 m below grade at any point.

STREET: See ROAD.

STREET LEVEL: The elevation of the centre line of any road or street which a plot fronts.

STREET LINE: See ROAD LINE.

UNSAFE BUILDING: A building which, in the opinion of the Building Official, is structurally unsafe, or insanitary, or lacks proper means of ingress or egress, or which constitutes a hazard to life or property.

Chapter 3

ABBREVIATIONS

3.1 ABBREVIATIONS OF NAMES

Names of institutions, organizations and professional societies referred to in this Code are listed below in an alphabetical order.

ACI: American Concrete Institute; Box 19150, Redford Station, Detroit, Ml 48219, USA.

AISC: American Institute of Steel Construction, Inc.; 400 North Michigan Avenue, Chicago, IL 60611, USA.

AISE: Association of Iron and Steel Engineers; Suite 2350, Three Gateway Center, Pittsburgh, PA 15222, USA.

AISI: American Iron and Steel Institute; Suite 300,1133 15th Street N.W., Washington, DC 20005, USA.

ANSI: American National Standards Institute; 1430 Broadway, New York, NY 10018, USA.

ASHRAE: American Society of Heating, Refrigerating and Air-conditioning Engineers, Inc.; 345 East 47th Street, New York, NY 10017, USA.

ASME: American Society of Mechanical Engineers; United Engineering Centre, 345 East 47th Street, New York, NY 10017, USA.

ASTM: American Society for Testing and Materials; 1916 Race Street, Philadelphia, PA 19103, USA.

AWS: American Welding Society; 550 N.W. LeJeune Rd., P.O. Box 351040, Miami, FL 33135, USA.

BOCA: Building Officials and Code Administrators International Inc.; 1313 East 60th Street, Chicago, IL 60637, USA.

BSI: British Standards Institution; 2 Park Street, London W1A 2BS, UK.

BSTI: Bangladesh Standards and Testing Institution; 116A Tejgaon Industrial Area, Dhaka 1208, BANGLADESH.

BWDB: Bangladesh Water Development Board; WAPDA Building, Motijheel Commercial Area, Dhaka 1000, BANGLADESH.

CGSM: Canadian General Standards Board; Technical Information Unit, Ottawa, CANADA K1A 1G6.

FM: Factory Manual; Standards Laboratories Department, 1151 Boston Providence Turnpike, Norwood, MA 02062, USA.

ICBO: International Conference of Building Officials; 5360 South Workman Mill Road, Whittier, CA 90601, USA.

ISO: International Organization for Standardization; 1, Rue de Varembe, Case Postal 56, CH-1211, Geneve 20, SWITZERLAND.

ISSMFE: International Society of Soil Mechanics and Foundation Engineering; University Engineering Department, Trumpington St, Cambridge CB21PZ, UK.

NFPA, NFiPA : National Fire Protection Association; Batterymarch Park, Quincy, MA 02269, USA.

PDB: Power Development Board; WAPDA Building, Motijheel Commercial Area, Dhaka 1000, BANGLADESH.

PWD: Public Works Department; Poorta Bhaban, Segun Bagicha, Dhaka 1000, BANGLADESH.

RCSC: Research Council on Structural Connections of the Engineering Foundation; American Institute of Steel Construction (AISC).

RMA: Rubber Manufacturing Association; 1400 K Street N.W., Washington, DC 20005, USA.

SBCCI: Southern Building Code Congress International; 3617 8th Ave, S. Birmingham, AL 35222, USA.

SMACNA : Sheet Metal and Air Conditioning Contractors' National Association, 8224 Old Courthouse Road, Tysons Corner, Vienna, VA 22180, USA.

SPRI: Single Ply Roofing Institute; 104 Wilmont Road, Suite 201, Deerfield, IL 600015-5195, USA.

UL: Underwriters Laboratories, Inc; 207 East Ohio Street, Chicago, IL 60611, USA.

3.2 ABBREVIATIONS OF WORDS

The abbreviations used in this Code are listed below in an alphabetical order. Abbreviations not explicitly defined herein below shall be construed to have their usual meaning as the context implies.

BDS: Bangladesh Standards; published by the BSTI

BS: British Standard; published by the BSI

CBF: Concentric Braced Frame

CFC: Chlorofluorocarbon

CGI: Corrugated Galvanized Iron

cps: Cycles per second

CWPC: Cold Drawn Low Carbon Wire Prestressed Concrete DCP: Dry Chemical Powder (fire extinguisher)

DDT: Dichlorodiphenyltrichloroethane

DPC: Damp-proof Course

EBF: Eccentric Braced Frame

FAR: Floor A

Card image cap
আবরাজ কুদাই হোটেল, মক্বা
Ashraful Haque - 26 May 2015

প্রজেক্ট বর্ণনা:

  • Five-star towers
    • The towers range from 29 to 44 storeys; they include typical floors and 5 Royal/VIP floors, and comprise approximately 1,200 luxurious residential bays each;
    • The towers include prayer halls and managerial offices, and are designed to accommodate the main reception lobby and information desks, lounges, restaurants, cafés, and so on;
    • Piazza level with dedicated lounges restaurants & dinning with the associated facilities.
    • The design of the typical tower bay has been organized to ensure area of Approx: 45 Sqm
    • The Back of House areas have been carefully housed within the podium basement levels falling immediately below the plaza levels, this ensuring close proximity of the services to the various functions above.

 

  • SHOPPING MALL
    • The commercial zone is designed in four levels located directly above ground level, commercial levels comprise shops of various sizes and large anchor stores, while the 6th & 6th Mezzanine levels is serving as a “Food Court”. The commercial zone has also a direct access from private north road.
    • Number of panoramic elevators and a number of escalator batteries are available for easy access through different levels.

 

  • CONVENTION CENTRE
    • The large Ballroom, which has been conceived to accommodate convention events with meeting rooms & all required and adequate supporting facilities.

 

  • CAR PARKS
    • The car parking area is designed in 6 storeys accessed directly from the Shopping Mall level in addition the total capacity of the parking spaces amounts to around 3000 stalls.
    • Several entrances and exits are provided through the private road separating the cars and pedestrian circulation completely as well as providing a dedicated separate entrance for the 5 star Hotel.
  • BUS STATION
    • Bus station dedicated to transport occupants from hotel to complex & from complex to Haram , assuming 70% of occupants need to go to haram accordingly bus fleet of 30 buses will be adopted 28 in motion & 7 waiting, in addition to 5 buses dedicated to airport complex route.
    • Bus station located at ground floor allowing all occupants entry to complex via separated entrances towards the related shuttles to their hotels

Card image cap
বিল্ডিং এর ফাইল এস্টিমেট
engr.tushar - 22 May 2015

****এই পোস্টটি শুধুমাত্র সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য****

                         PILE ESTIMATE


আমার বানানো সফটওয়্যার যা দিয়ে সহজে বিল্ডিং এর Pile Estimate করতে পারবেন
Downloadlink-  http://bit.ly/1FnWu6V
Downloadlink2- http://bit.ly/1Ejtkll
  
    any Problem contact me
    ----------------------
facebook- www.facebook.com/listenfarukh
Email- [email protected]

Card image cap
সামান্য ব্যয় বাড়িয়ে স্থাপনা নিরাপদ করা সম্ভব
engr.tushar - 17 May 2015
ভূমিকম্প আতঙ্ক দূরে ঠেলে মানুষকে সচেতন করে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদি আহমেদ আনসারী। অধ্যাপক আনসারী ১৯৯১ সালে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে একই বিভাগে শিক্ষকতায় যোগ দেন। পরে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অফিস ফর আরবান সেফটি প্রকল্পের পরিচালনাসহ বিভিন্ন সংগঠনে দুর্যোগ নিয়ে কাজ করেন। প্রথম আলোর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভূমিকম্প নিয়ে জনগণ বা সরকার দুই পর্যায়েই অসচেতনতা রয়েছে। তিনি বলেছেন, কীভাবে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়, সতর্ক ও নিরাপদ থাকা যায়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মোর্শেদ নোমান

 

নিজ কার্যালয়ে মেহেদি আহমেদ আনসারী। ছবি: মনিরুল আলম

প্রথম আলো: ভূমিকম্প যেহেতু পুরোপুরি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই আতঙ্কিত না হয়ে সেটির প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। কিন্তু কী ধরনের প্রস্তুতি দরকার।
মেহেদি আহমেদ আনসারী: শুরুতেই একটি উদাহরণ দিয়েই শুরু করি। ২০১০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুটি ভূমিকম্প হয়েছে চিলি ও হাইতিতে। চিলির ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮ এবং হাইতির ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩। অনেক বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলেও চিলিতে মারা গেছে ৫০০ জন, পক্ষান্তরে হাইতিতে প্রাণহানি ঘটেছে তিন লাখেরও বেশি। এর কারণ হলো ১৯৬০ সালের চিলিতে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে সেখানকার প্রায় সব ভবনই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গত ৫০ বছরে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছিল চিলির সরকার। কঠোর নিয়মকানুন ও বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণের উদ্যোগের কারণে ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ করে ভূমিকম্প প্রতিরোধে উদাহরণ তৈরি করেছে চিলির সরকার। চিলির সরকারের এ উদ্যোগ সরকারি দিক থেকে সচেতনতার প্রমাণ। এর সঙ্গে সেখানকার সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা বড় ভূমিকা পালন করেছে।

 

গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি, ভূমিকম্প প্রতিকার ও প্রতিরোধে প্রস্তুতি হতে হবে তিনটি স্তরে। প্রথমটি হলো, সাধারণ মানুষের প্রস্তুতি। এর মধ্যে রয়েছে তিনি যে ভবনটিতে থাকেন সেটি ভূমিকম্প সহনীয় কি না, যদি ভূমিকম্প সহনীয় না হয় তাহলে সেটাকে ভূমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তোলা। নতুন ভবন তৈরির ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড মেনে ভূমিকম্প সহনীয় ভবন তৈরি করা। এ ছাড়া ভূমিকম্প পূর্বপ্রস্তুতি, ভূমিকম্পের সময় করণীয় এবং ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে করণীয়গুলো জেনে রাখা। মোটকথা এ বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন থাকা। দ্বিতীয় স্তরে সচেতনতার বিষয়টি হলো, জাতীয় প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি এবং সবশেষে সরকারের সমন্বয়।
প্রথম আলো: আপনি বলছিলেন সাধারণ মানুষের প্রস্তুতির কথা। যেসব ভবন তৈরি হয়ে আছে সেগুলোকে কীভাবে ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে গড়ে তোলা যায়?
মেহেদি আহমেদ আনসারী: শুরুতেই ভবনগুলোর ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট বা বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়ন করে নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভবনটি যেখানে রয়েছে সেখানকার মাটি পরীক্ষা করা, ভবনটির ফাউন্ডেশন বা ভিত্তির ওজন নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কি না, ভবনের কলাম ও বিমে পর্যাপ্ত রড আছে কি না, কলামের ধারণক্ষমতা রয়েছে ইত্যাদি বিষয়গুলো। এগুলো পরীক্ষা করে ভবনে কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলোর সমাধান করা যায়। ফেরোস্কেনিং ও কোরকাটিংয়ের মাধ্যমে সহজেই এ পরীক্ষা করা যায়।
প্রথম আলো: সেটা কীভাবে? আর এতে খরচই বা কেমন? আমাদের দেশে এটা করার মতো সক্ষমতা আছে?
মেহেদি আহমেদ আনসারী: অবশ্যই। শুরুতে ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে নিতে হবে। এ জন্য প্রতি বর্গফুটে খরচ হতে পারে ৫ থেকে ১০ টাকার মতো। অর্থাৎ ২০০০ বর্গফুটের ছয়তলা একটি ভবনের মূল্যায়ন করতে খরচ হবে মাত্র ৬০ হাজার টাকা। গড় হিসাব করলে এটা খুবই বেশি নয়। মূল্যায়নের পর যদি কোনো সমস্যা থাকে, সে সমস্যা সমাধানের জন্য ভবনটিকে রেট্রোফিট করে নিতে হবে।
রেট্রোফিট হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেটা দিয়ে পুরোনো ভবন না ভেঙে যথাযথ শক্তিশালী করা। এ পদ্ধতিটি কিছুটা ব্যয়বহুল, যদিও নিরাপত্তার বিচারে সেটা অনেক বেশি নয়। এটি করতে প্রতি বর্গফুটে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। এ হিসাবে ২০০০ বর্গফুটের ছয়তলা একটি ভবনের রেট্রোফিট করতে খরচ হবে ৬০ লাখ টাকা। ওই ভবনটি যদি ১০টি ফ্ল্যাটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট হয় তাহলে প্রতি মালিকের খরচ হবে ছয় লাখ টাকা করে। নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখলে এটি খুব বড় ব্যয় নয়। তার পরও সরকার যদি স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করে কিংবা কোনো তহবিলের মাধ্যমে ভর্তুকি দেয় তাহলে এটা অসম্ভব নয়।
রেট্রোফিট করার ক্ষেত্রে আমাদের দেশেও উদাহরণ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮৫ থেকে ৯০ সালে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি ভবনকে রেট্রোফিট করা হয়। এটি আগে চারতলা ছিল। কলাম ছিলই না। আরেকটা উদাহরণ হচ্ছে গুলশান শ্যুটিং ক্লাবের উল্টো দিকে ইউকেএআইডির একটা ভবন। আজকাল অনেক ভবন নতুনভাবে রেট্রোফিট করা হচ্ছে। গত এক বছরে ১০ থেকে ১৫টা তৈরি পোশাকশিল্পের ভবন রেট্রোফিট করা হয়েছে।
আর আমাদের সক্ষমতার কথা বলতে গেলে বলতে পারি যে আজ থেকে দুই বছর আগেও একটা ভবন ভূমিকম্প সহনীয় কি না, তা বলার মতো দক্ষ প্রকৌশলী আগে হয়তো ৫০ থেকে ১০০ জন ছিলেন আমাদের। এখন সংখ্যাটি ৫০০-এর মতো হবে। এখন কমপক্ষে ৫০টি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
প্রথম আলো: পুরোনো ভবনের বিষয়টি তো বললেন, নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কী ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন?
মেহেদি আহমেদ আনসারী: ভবন নির্মাণে সতর্কতার ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন রি-ইনফোর্সড কংক্রিটের শুরুতে লোহার যে বেড় তৈরি করা হয়, সেটির টাই-রডকে ১৩৫ ডিগ্রি কোণে বাঁকিয়ে ভেতরের দিকে ঢুকিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া ভবনের বিমের ও কলামের বিল্ডিংয়ের রডকে কোড অনুসারে ডিটেইলিং করার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এতে ভবন নির্মাণের ব্যয় সামান্য বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ভবন যদি প্রস্থের চেয়ে দৈর্ঘ্যে অনেক বেশি হয়, তাহলে এর বিভিন্ন অংশ আলাদা করা যেতে পারে। যেমন লিফটের অংশটুকু মূল ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত না হলে ভালো হয়। আবার খেয়াল রাখতে হবে, ঘরের জানালা যেন খুব বেশি বড় না হয়।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মেনে চলা এবং সেটা মেনেই ভবন নির্মাণ করা। বিল্ডিং কোডের মূল ব্যাপারটি হচ্ছে জীবনের নিরাপত্তা। এসব ভবন বিধ্বস্ত হলেও জীবন বেঁচে যাবে। কিন্তু এ জন্য কিন্তু প্রতি বর্গফুটে ২০ থেকে ২৫ টাকা খরচ করাই যথেষ্ট। এ প্রক্রিয়ায় কিছু বাড়তি রড দিতে হবে। বিল্ডিংটা যাতে বাঁশের মতো হয়, বাঁশ যেমন মচকায়, ভাঙে না; তেমন করে তৈরি করতে হবে। এ ধরনের ভবনে ভূমিকম্প হলেও আমরা অবস্থান করতে পারব। এ ধরনের ভবনই আমাদের দেশে এখন অনেক বেশি। আমাদের এখানে পাঁচ হাজার টাকা বর্গফুটের ফ্ল্যাট যেমন রয়েছে তেমনি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দামের ফ্ল্যাটও বিক্রি হচ্ছে। এত ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ২০ থেকে ২৫ টাকা বাড়তি ব্যয় খুবই নগণ্য।
আরেক ধরনের ভবন হচ্ছে, যেগুলোকে বলা হয় ইমিডিয়েট অকুপেনসি। বড় ঝাঁকুনিতেও একেবারেই ভাঙবে না। এ জন্য প্রতি বর্গফুটে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ বাড়বে।
প্রথম আলো: শুরুতেই আপনি জাতীয় প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি এবং সবশেষে সরকারের সমন্বয়ের কথা বলছিলেন। সেটা কীভাবে হবে?
মেহেদি আহমেদ আনসারী: আমাদের দেশে যেসব নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোর ভূমিকাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), অন্যান্য নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সিটি করপোরেশনগুলোর ভূমিকা ঠিকমতো না হলে জটিলতা ও সমস্যা তৈরি হবে। ভবন নির্মাণে বিধিমালা মানা হচ্ছে কি না, সেসবের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ এসব সংস্থাকেই করতে হবে। শহরকেন্দ্রিক দুর্যোগে ইনসিডেন্ট কমান্ড সিস্টেম গঠন জরুরি। এ ক্ষেত্রে মেয়ররা ভূমিকা নেবেন, তাই মেয়রের ক্ষমতায়ন একটি বড় বিষয়। এখানে মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট বা নগর সরকারের ধারণাটিকে সমানে আনা জরুরি। পৃথিবীর প্রায় সব জায়গাতেই মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজটি করে থাকে। শিশু জিহাদের উদ্ধার বা রানা প্লাজা ধসের ঘটনার সময় আমরা দেখেছি যে প্রশিক্ষিত বাহিনী ব্যর্থ হওয়ার পর অপ্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করেছেন। আমাদের এখানে বড় দুর্ঘটনা হলেই কর্তাব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু সারা বিশ্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দেখা যায়, কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে বসে সব তথ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত পাঠান। এখানে সমন্বয় নেই পুলিশের কাজেও। রানা প্লাজা ধসের পর উদ্ধার তৎপরতার সময় সমন্বয়ের সমস্যাটি সবার কাছে প্রকট হয়ে ধরা পড়েছে। একটি ভবনের ক্ষেত্রে এ অবস্থা হলে হাজার হাজার ভবন ভাঙলে কী অবস্থা হবে?
সাধারণ জনগণকেও ইমারত নির্মাণ বিধিমালার ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে। মালিকেরা ব্যয় সামান্য বাড়ালেই ভূমিকম্প সহনশীল ভবন হয়, এ বিষয়ে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাঁদের বোঝাতে হবে যে বিধিমালা মেনে চললে তাঁদেরই লাভ। অন্যদিকে ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে, সেসব বিষয়েও সচেতন করতে হবে মানুষকে। অনেক সময় দেখবেন এ ধরনের দুর্যোগে ভয়ে লাফিয়ে পড়ার কারণে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ সময়ই মানুষ ভবন থেকে দৌড়ে নেমে আসছেন। কিন্তু নিয়ম হলো, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হওয়া যাবে না, যেখানেই থাকি না কেন। আগে থেকেই চিহ্নিত করে রাখা জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে: যেমন টেবিলের তলায় ঢুকে পড়া, দেয়ালঘেঁষে মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, চুলা বন্ধ রাখা, লিফটে না ওঠা ইত্যাদি। এরপর ভবন ভেঙে পড়লেও সেখানটায় একটা ‘ট্রায়াঙ্গল অব লাইফ’ বা বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া যাবে। এ হচ্ছে ন্যূনতম পূর্বসতর্কতা। তবে আসল বিষয় হলো, ভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় না হলে এসব পূর্বসতর্কতাও কোনো কাজে আসবে না।
জনগণের সচেতনতার পাশাপাশি প্রকৌশলী সম্প্রদায় যাঁরা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কাজ করেন, তাঁদের সচেতন হতে হবে ভবন নির্মাণে নীতিমালা মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে। সরকারি-বেসরকারি সব খাতের প্রকৌশলীদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
প্রথম আলো: এখানে সরকারের ভূমিকাটি কী হবে?
মেহেদি আহমেদ আনসারী: সরকারের প্রধান কাজ হবে নীতিগত দিক থেকে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মোকাবিলার প্রস্তুতির বিষয়গুলোও সরকারের। সরকারের হয়ে এ কাজগুলো করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। তবে তার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করাই হবে প্রথম কাজ। এ কাজটি এখনই শুরু করতে হবে। তাহলেই হয়তো আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমরা প্রতিটি ভবনের মান চিহ্নিত করে দিতে পারব কালার কোড দিয়ে। রানা প্লাজা ধসের পর আমরা যেভাবে কালার কোড দিয়ে গার্মেন্টস ভবনগুলো চিহ্নিত করেছিলাম, এখনো একই কাজ করতে পারি। তখন অন্তত এ তথ্যটি জানা থাকবে কোন ভবন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তারপর চালিয়ে নিতে হবে ভবন মজবুত করার কাজ।
আর উদ্ধার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সরকারকেই বড় ভূমিকা নিতে হবে। আমরা সব সময়ই বলে আসছি ভবন যদি ভূমিকম্প সহনীয় হয়, তাহলে ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি সবই কম হবে। তার পরও উদ্ধারকাজ চালাতে হবে। উদ্ধারকাজের জন্য সরকার প্রায় দুই বছর আগে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীকে ৬৯ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দিয়েছে। এর মধ্যে আছে কাটিং মেশিন, সার্চার রেসকিউ ক্যামেরা, পাম্প মেশিন ইত্যাদি ছোটখাটো জিনিস। তবে উদ্ধার তৎপরতার জন্য বুলডোজার, ডোজারসহ অনেক যন্ত্রপাতি আমাদের দেশের সেনাবাহিনী ও বেসরকারি খাতের অনেকের কাছেই আছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য আর ১৫০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার একটি প্রকল্পও রয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের হাতে, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কার্যালয়েও ছোটখাটো যন্ত্রপাতি থাকতে পারে।
উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিতে সরকার ৬২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী তৈরি করারও যে উদ্যোগ নিয়েছে তার মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এসবই ভূমিকম্পের জন্য করা হচ্ছে। এসব স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্যোগের সময় প্রশিক্ষিত বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন। নেতৃত্বে থাকবেন প্রশিক্ষিতরাই। দুর্যোগের বড় ধাক্কা সামাল দিতে পরিকল্পনা নিয়ে না এগোলে কাজ হবে না। যতই যন্ত্রপাতি কেনা হোক না কেন, সমন্বিতভাবে কাজ না করলে কিছুই হবে না। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের ফোন নম্বর যেভাবে মানুষের কাছে থাকে তেমনি এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবীদের নম্বরও মানুষের কাছে থাকা উচিত।
প্রথম আলো: নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারের দিকনির্দেশনা কী থাকা উচিত।
মেহেদি আহমেদ আনসারী: প্রথম বিষয়টি হলো, বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারক করা। আরেকটি বিষয় হলো ঢাকায় অনেক জায়গাতেই মাটি ভরাট করে ভবন নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু ভরাট করার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মানা হচ্ছে না। অনেক ডেভেলপার আছেন যাঁরা আর্থিক ব্যয়ের অজুহাতে এ কাজটা করতেই চান না। কিন্তু বন্যাপ্রবণ, ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকা সব এলাকা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ পদ্ধতিকে বলে বলা হয় রিস্ক সেনসেটিভ ল্যান্ড ইউজ প্ল্যানিং। এ পরিকল্পনা অনুসারে নরম জায়গায় ভবন তৈরিতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সেটার জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। মাটি ভরাটের সময় নিচে শক্ত মাটি যেখানটায় আছে সে পর্যন্ত দুরমুজ করে যেতে হবে। স্যান্ড কমপেকশন, জেট গ্রাউটিং, ডাইনামিক কমপেকশন, ভাইব্রোকমপেকশন পদ্ধতির মাধ্যমে মাটির উন্নয়ন করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হলো মানুষকে জানানো। কোন এলাকাটি রিস্ক সেনসেটিভ সেটা সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। এসব জায়গায় ভবন নির্মাণের মাটি ঠিকমতো ভরাট হচ্ছে কি না, যথাযথভাবে পাইলিং করা হচ্ছে কি না, সেটার ওপর নজর রাখতে হবে।
প্রথম আলো: ভূমিকম্প ঝুঁকি ও সতর্কতার কথা অনেক হলো। সবশেষে আপনার কাছে জানতে চাই, আমরা কতটা ভূমিকম্প ঝুঁকিতে আছি?
মেহেদি আহমেদ আনসারী: এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে আমাদের আশপাশের অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনাগুলোর কথা তুলে ধরতে চাই। আমাদের আশপাশের অঞ্চলে ১৮৬৯ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত ছয়টি বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ১৮৬৯ সালে ঢাকা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে ৭.৫ মাত্রার, ১৮৮৫ সালে ঢাকা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে মধুপুরে ৭.১ মাত্রার এবং ১৮৯৭ সালে ঢাকা থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এই ভূমিকম্পটির সময় ঢাকায় আহসান মঞ্জিল আংশিক বিধ্বস্ত হয়। তখন নবাব আহসানউল্লাহকে ১৫ দিন তাঁবুতে কাটাতে হয়েছে। সে সময় পুরো ভারতে ১ হাজার ৫৪২ জন মারা যান, যাঁর মধ্যে ঢাকায় ১০ জন। ওই সময় ঢাকার জনসংখ্যা ছিল মাত্র এক লাখ। পরিধি ছিল ১৫ থেকে ২০ বর্গকিলোমিটার। পাকা ভবন ছিল ১০০-এর মতো। এর মধ্যে আহসান মঞ্জিল, আরমানিটোলা চার্চসহ ১০ থেকে ১২টি ভবন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন ঢাকার পরিধি সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২৭ বর্গকিলোমিটার। চারপাশের নদীসহ ধরলে ৩৭০ বর্গকিলোমিটার। রাজউকের এলাকার মধ্যে আছে ১ হাজার ৫৩০ বর্গকিলোমিটার। সিটি করপোরেশন এলাকার ৩০ শতাংশই ভরাট মাটি। নদী দিয়ে মাপলে ৬৫ শতাংশ ভরাট এবং ৩৫ শতাংশ আদি মাটি।
নেপালের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের কথাই যদি ধরি, মূল ভূমিকম্পটি হয়েছে কাঠমান্ডু থেকে পশ্চিম দিকে। তারপর কয়েকটি আফটার শক হয়েছে এবং সর্বশেষটি হয়েছে দার্জিলিংয়ের দিকে, যার মাত্রা ছিল ৫.৯। প্রথমটি থেকে এটার দূরত্ব ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার এবং এ ক্ষেত্রে ক্রমেই আফটার শকগুলো পূর্ব দিকে সরে এসেছে। পূর্ব দিক মানেই হচ্ছে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, আমাদের এই জোনে ২০১৫ সালের ২৬ মে থেকে ২০১৬ সালের ২৬ মের মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ মাত্রার অন্তত একটি হবে, ৬ থেকে ৭ পর্যন্ত অন্তত চারটি হবে এবং ৫ থেকে ৬ পর্যন্ত অন্তত আটটি হবে। কারণ, সৃষ্ট ফাটলের নড়াচড়া এখনো থামেনি। এর মধ্যে একটা বড় ভূমিকম্প যদি হয়ে যায় তো হলোই। তারা সেটা অনুমান করতে চাচ্ছে না।
১৮৬৯ সালের ভূমিকম্প আমাদের দিকে হয়েছে। ১৮৯৭ সালেরটিও এদিকেই হয়েছে, একই রেখা ধরে। ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার দিকে হলো; ২০০৫ সালে কাশ্মীরে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্ব দিকটায় ৮০ থেকে ১০০ বছর ধরে ডরমেন্ট হয়ে আছে। এনার্জি সঞ্চিত হচ্ছে। যেকোনো সময় এর বিচ্ছুরণ ঘটতে পারে। তাই প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া আমাদের গতি নেই।
 প্রথম আলো: তাহলে সতর্কতার ক্ষেত্রে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে?
মেহেদি আহমেদ আনসারী: ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলা, দুর্যোগ প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন করণীয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা ও উদ্যোগের বিকল্প নেই। প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগ নিলে ঝুঁকির পরিমাণটিই কমিয়ে আনা যায়। আমরা তো ভূমিকম্প প্রতিরোধ করতে পারব না। কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ড, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি এবং মানুষের সচেতনতাই পারে বড় ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে।
প্রথম আলো: আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।
মেহেদি আহমেদ আনসারী: আপনাকে ও প্রথম আলোর পাঠকদেরও ধন্যবাদ।

ভূমিকম্পের পূর্বপ্রস্তুতি
ঘরবাড়ির প্রস্তুতি:
* বাড়ির ছাদ ও দেয়ালে ফাটল থাকলে তা চিহ্নিত করে মেরামতের ব্যবস্থা করা।
* স্কুলের ভবন ভূমিকম্পে টিকে থাকবে কি না, সেটা পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে মজবুত করা।
বাড়িঘর নির্মাণে সতর্কতা:
* বাড়িঘর নির্মাণে সরকারি ও কারিগরি নিয়মকানুন মেনে চলা।
* বিল্ডিং কোড মেনে বাড়ি বানানো।
* ভবনের উচ্চতা ও ওজনের (লোড) হিসাব অনুযায়ী শক্ত ভিত দেওয়া।
* অবকাঠামোগুলোতে রিইনফোর্সড কংক্রিট ব্যবহার করা।
* গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন নিরাপদভাবে স্থাপন করা।
* নরম মাটির ওপর ভবন নির্মাণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা।
* জলাশয় ভরাট করে বাড়ি বা স্থাপনা তৈরি না করা।
* জানালার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অবশ্যই দেয়ালের অর্ধেকের চেয়ে কম রাখা।
* প্রতি তলার ছাদ একই রকম রাখা।
অন্যান্য প্রস্তুতি:
* ভবনের বিভিন্ন কক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা এবং নিরাপদ স্থানটি জেনে রাখা।
* ভূমিকম্পের সময় নিরাপদে বের হওয়ার সঠিক পথ শনাক্ত করা।
* ভারী জিনিসপত্র কম উচ্চতায় রাখা।
* স্কুল, হাসপাতাল, ওয়ার্ড ও অন্যান্য অফিসে নিয়মিত ভূমিকম্প প্রতিকার মহড়ার ব্যবস্থা করা।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়:
* টেবিল, ডেস্ক বা বেঞ্চের নিচে আশ্রয় নেওয়া।
* বাড়িতে থাকলে খাটের নিচে আশ্রয় নেওয়া।
* কাচের জানালা, ভারী জিনিসপত্র, পরীক্ষাগারের রাসায়নিক দ্রব্য এবং মাথার ওপরের ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকা।
* ভয় পেয়ে ওপর থেকে লাফিয়ে না পড়া।
* ঘরের বাইরে থাকলে দালান, বড় গাছপালা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ লাইন থেকে দূরে থাকা।
* দিনের বেলা সম্ভব হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন বন্ধ করা। রাতে বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দিলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।
* পরবর্তী ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকা।
ভূমিকম্প-পরবর্তী করণীয়:
* বিচলিত হয়ে সবাই দরজার দিকে একসঙ্গে না দৌড়ে শান্ত ও সারিবদ্ধভাবে মহড়ার নির্দেশিত পথে বের হয়ে আসতে হবে।
* খোলা ও নির্ধারিত স্থানে আশ্রয় নেওয়া।
* ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনায় না ঢোকা, যা ভেঙে পড়তে পারে এবং আগুন লাগলে তা নেভানোর ব্যবস্থা করা।
* উদ্ধারকাজে নিজেকে নিয়োজিত করা।
* আহত মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া ।
* রেডিও ও টেলিভিশন থেকে প্রচারিত জরুরি নির্দেশাবলি শোনা এবং তা মেনে চলা।
* জরুরি প্রয়োজন ছাড়া টেলিফোন ও মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা। কারণ, এতে জরুরি সেবা বিভাগের যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
* সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সক্রিয় সহযোগিতা করা।

Card image cap
যোগাযোগ
Ashraful Haque - 17 May 2015

আশরাফুল হক তুষার

ফোন: 01712693695

মাহমুদুর রহমান সোহান

ফোন: 01686520616

ফেইসবুক: http://facebook.com/need4engineer

ইউটিউব: http://youtube.com/need4engineer

জি-মেইল: [email protected]

ইয়াহু মেইল: [email protected]

Card image cap
জমি জমার পরিমাপ
engr.tushar - 15 May 2015

জমি জমার পরিমাপ

এখানে একটি পরিমাপকে বিভিন্ন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে কারন প্রত্যেকে যেন যার যার সুবিধা মতে সহজে বুঝতে পারেন।

১ অযুতাংশ = ৪ বর্গফুট ৫২.৩৬ বর্গ ইঞ্চি।

১ ছটাক = ৪৫ বর্গফুট।

-----------------------------------------

১ শতাংশ =৪৩৫ বর্গফুট ৬৫.৪৫ বর্গ ইঞ্চি।

১ শতাংশ = ১০০ অযুতাংশ।

৫ শতাংশ = ৩ কাঠা। = ১৩০৬.৮ বর্গফুট ।

১০ শতাংশ = ৬ কাঠা। = ৪৩৫৬ বর্গফুট ।

-----------------------------------------

১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট।

১ কাঠা = ৮০ বর্গগজ।

১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ।

১ কাঠা = ১৬ ছটাক।

২০ কাঠা = ১ বিঘা।

৬০.৫ কাঠা = ১ একর।

---------------------------------------

১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট।

১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ।

১ বিঘা = ২০ কাঠা ।

১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ।

---------------------------------------

১ একর = ১০০ শতাংশ।

১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক।

১ একর = ৬০.৫ কাঠা।

--------------------------------------

চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য নিন্মের হিসাবটা একটু বেশী কাজে লাগবে।

১ গন্ডা = ৮৭১ বর্গফুট।

১ গন্ডা = ২ শতাংশ।

১ গন্ডা = ১.২১ কাঠা।

২০ গন্ডা = ১ কানি ।

১ কানি = ১৬,৯৯০ বর্গফুট।

১ কানি = ৩৯ শতাংশ।

১ কানি = ২৩.৫ কাঠা।

১ কানি = ২০ গন্ডা।

---------------------------------------------

সুতরাং এবার আপনি নিজেই হিসাব করে দেখুন আপনার ক্রয়কৃত বা পৈত্রিক জায়গা-জমি বা ফ্ল্যাটের আয়তন কত?

নিন্মে কিছু সব সময় আলোচনা হয় এমন জমি বা ফ্ল্যাটের আয়তন বা পরিমাপ সর্ম্পকে ধারনা দেওয়া হলোঃ-

১. একটি ৩ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ২১৬০ স্কয়ার বর্গফুট।

২. একটি ৫ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ৩৬০০ স্কয়ার বর্গফুট।

৩. একটি ১০ কাঠার প্লটে মোট জমির পরিমাপ হয়= ৭২০০ স্কয়ার বর্গফুট।

এখন আপনি ভেবে দেখুন আপনি কত স্কয়ার বর্গফুটের বাসা তৈরী করবেন। বর্তমানে রাজউক ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরের ইমারত নিমার্ণ আইনে প্রায় এক তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। তাহলে এই এক তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রেখে আপনি যে প্লট কিনেছেন তাতে কত স্কয়ার বর্গফুটের একটি বাড়ী তৈরী করা যাবে তা ভেবে দেখুন। অর্থাৎ আপনি ৩ কাঠার প্লটে ১৪৪০ স্কয়ার বর্গফুটের বাড়ী করে বাকী ৭২০ স্কয়ার বর্গফুট জায়গা খালি রাখতে হবে বাড়ীর চারপাশে ড্রেন ও আলো বাতাসের জন্য।

ধরুন বর্তমানে যারা ফ্ল্যাট কেনেন তাদের ক্ষেত্রে-- যেমন:-

১. ৯০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ৬০০ থেকে ৬৫০ স্কয়ার বর্গফুট ।

২. ১২০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ৭৮০ থেকে ৮৫০ স্কয়ার বর্গফুট ।

৩. ১৬০০ স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে সিড়ি, ফ্ল্যাটের সামানে, সাইডে, পিছনের জায়গা বাদ দিয়ে টিকবে ১২০০ থেকে ১২৫০ স্কয়ার বর্গফুট ।

Card image cap
ভূমিকম্প প্রতিরোধ সম্পন্ন বাড়ি
engr.tushar - 04 May 2015

ভূমিকম্প হলেই সবাই চিন্তা করে “আমার বাড়িটা কি পরবর্তী ভুমিকম্পে টিকবে ? ” যেহেতু বিষয়টা আমার পেশায় পরে এবংবিদেশে কিছু (ডজনখানেকের বেশী) হাইরাইজ বিল্ডিং এর seismic ডিজাইন করার অভিজ্ঞতা আছে, এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিতে চাই । তবে পরামর্শ দেয়ার আগে একটা ডিসক্লেইম করে নিতে চাই। কেউ যেন কোন প্রফেশনাল স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া সরাসরি আমার উপদেশ প্রয়োগ করতে না যান । কানাডার ইঞ্জিনিয়ারিং এথিক্স আর ল বলে, আমি কনসাল্টিং ফি নেই বা না নেই, কেউ যদি আমাকে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ভেবে আমার উপদেশ কাজে লাগিয়ে বিপদে পরে তবে সে আমাকে তার ক্ষতির জন্যে মামলা ঠুকে দিতে পারবে ।

১. আমার মতে খুব সল্প প্রচেস্টায় এবং কম খরচেই ঢাকা শহর সহ অনেক শহরে পুরনো বিল্ডিংগুলোকে ভূমিকম্প প্রতিরোধ করে নেয়া যেতে পারে ।

২. সাধারনত উচু দালানগুলো কোন Professional ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা ডিজাইন করা হয় । সমস্যা হল চার-পাচ তলা বাড়িগুলো যেগুলো মিস্ত্রীর উপর ভারসা করে বানিয়ে ফেলা হয়েছে । আমি এসব বিল্ডিংএর উপর মূলত জোর দিচ্ছি, কিন্তু এই আলোচনা আরো উচু দালানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ।

৩. কিভাবে ভুমিকম্পের সাথে মোকাবেলা হয়: ভূমিকম্প বা ঘূর্ণি ঝর জনিত কারনে বিল্ডিং এ ধাক্কা লাগে (হরাইজন্টাল ফোর্স) । বাকি সবসময় বিল্ডিংশুধু মানুষ আর আসবাবপত্রের বোঝা টানে (ভার্টিক্যাল ফোর্স) । আপনি যদি দু’পা একসাথে করে দাড়িয়ে থাকেন তাহলে যে কেউ সামনে বা পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে আপনাকে সহজেই ফেলে দিতে পারবে । এর সাথে তুলনা চলে একটা কলাম বা আড়াআড়ি দেয়াল যা ভুমিকম্পে কোন কাজে লাগবে না । কিন্তু আপনি যদি ঘুরে দাঁড়ান তাহলে আপনাকে পাশ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা অত সহজ হবে না । এর সাথে তুলনা চলে ধাক্কার দিক বরাবর একটা দেয়াল যা ভুমিকম্পে খুব কার্যকরী । এবার আপনি যদি পা দুটা ছড়িয়ে দেন আপনাকে পাশ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলানো আরো দূরহ হয়ে যাবে । এর সাথে তুলনা চলে লম্বা দেয়াল (ধাক্কার দিক বরাবর)। দেয়াল যত লম্বা, ভুমিকম্প রোধে তত শক্তিশালী। দুই কলামের মাঝে ক্রস ব্রেসিং নিশ্চই অনেকেই দেখেছেন – এটা দেয়ালের বিকল্প ।

৪. তাহলে ভূমিকম্প এবংঘূর্ণিঝর রোধে সবচেয়ে কার্যকরী হল কিছু দেয়াল – সেটা কনক্রিট বা ইটের বা ব্লক এর হতে পারে । একটা চার থেকে ছ তলা রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং এর জন্য দুই দিকে ( বিল্ডিং এর দৈর্ঘ আর প্রস্ত বরাবর ) দুই সেট ছোট দেয়ালই যথেস্ট । নেপালের ধংস চিত্রের মধ্যে অক্ষত দাড়িয়ে থাকা কিছু বিল্ডিংএর এক্সটার্নাল ভিউতে দুই ডিরেকশনে দেয়ালগুলো আমার দৃস্টি আকর্ষণ করেছে । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লিফট কোর আর সিড়িঘরের দেয়ালগুলোকে কাজে লাগালেই চলে । যদি তা দিয়ে পরিপূর্ণ না হয়, আর্কিটেক্টের সাথে আলাপ করে কিছু বাড়তি দেয়াল নির্বাচন করা যায় যেটা নীচ থেকে উপর পর্যন্ত কন্টিনিউ করবে । দেয়ালের অবস্থান নির্ণয়ে মোটামুটি symmetry বজায় রাখতে হয় যাতে ভুমিকম্পের ধাক্কায় বিল্ডিং মোচর খেয়ে না যায় । আগেই বলেছি দেয়ালের বিকল্প হিসাবে স্টিলের ক্রস ব্রেসিংব্যবহার করা যায় যা আমার মতে repair এর ক্ষেত্রে খুব কাজের হবে ।

5. এখন কথা হল কিভাবে পুরনো বাড়ির শক্তি বাড়ানো যায় । হ্যাঁ, দেয়াল খোজতে হবে । যে কোন বিল্ডিং এ দেয়ালের অভাব নাই । কিন্তু বেশিরভাগই পার্টিশন দেয়াল – তাদেরকে কোন বোঝা টানার জন্যে বানানো হয়নি । বীম, ফ্লোর বা কলামের সাথে তারা সেভাবে সংযুক্ত না বরং ইচ্ছে করে বীম বা ফ্লোর থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করা হয় যেন তাদের সংযোগস্থলে ক্র্যাক দেখা না দেয় ( aesthetic ব্যাপার)। ইঞ্জিনিয়ারের কাজ হবে আপনার এই দেয়ালকে ভূমিকম্প প্রতিরোধ দেয়ালে পরিনত করা – ফ্লোর বা বীমের সাথে ভালভাবে সংযুক্ত করে দেয়া । মনে রাখতে হবে ভুমিকম্পের ধাক্কাটা আসবে ফ্লোর ধরেই । আমার মতে সহজ কাজ হবে বিকল্প ক্রস ব্রেসিংব্যবহার করা । এই ক্ষেত্রে কিভাবে ব্রেসিংটা দেয়ালের ভিতর লুকানো যায় ( aesthetic ব্যাপার) সেটা বের করতে হবে । যদি সিড়ি ঘরের মত বাইরের হয়, তাহলে ক্রস ব্রেসিং লুকানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে – অর্কিটেক্টের সহায়তা নিয়ে ক্রস ব্রেসিংএর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা যেতে পারে যেন দেখতে সোভনিয় হয় । দেয়ালের জোর বাড়ানোর সাথে সাথে তার ফাউন্ডেশনের জোরটাও হিসাব করে পরখ করে নেয়া ভাল । তবে অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো আগের ফাউন্ডেশনই যথেস্ট হবে যদিনা গোঁড়ায় গলদ থাকে ।

৬. শেষ কথা – কে উদ্যোগ নিবে – সরকার, রাজউক, নাকি নিজে? আমার মনে হয় নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রতিটা বাড়ির মালিক নিজেই উদ্যোগী হতে পারেন । তাদের সহায়তার জন্যে অনেক দক্ষ বুয়েটিয়ান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে । যাদের নিজের ফার্ম আছে তারা একটা নতুন সার্ভিস খুলতে পারেন – পুরনো বিল্ডিংএর ভূমিকম্প উপযোগী করে দেয়া – যেসব ফার্ম এই সেবায় নাম করবে, দেখা যাবে তাদের সার্টিফাই করা বাড়ির ভাড়াও হচ্ছে বেশী – তাই মালিক নিজে সেই বাড়িতে না থাকলেও আগ্রহী হবেন এই সেবা পেতে । বুয়েট গবেষনা করতে পারে কিভাবে সল্প ব্যয়ে পুরনো বিল্ডিংগুলোর ভূমিকম্প প্রতিরোধ বাড়ানো যায় । শুনেছি এখন বুয়েটে ভূমিকম্প বিষয়ক গবেষনার জন্যে নূতন ইন্স্টিটিউট আছে ।

সুত্র: https://www.buetian.com/archives/1209