Card image cap
জেনে নিন ভূমি বিষয় কিছু শব্দ
engr.tushar - 04 Nov 2014

“নামজারী” কাকে বলে?

ক্রয়সূত্রে/উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা যেকোন সূত্রে জমির নতুন মালিক হলে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলা হয়।


“জমা খারিজ”কাকে বলে?

যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে। অন্য কথায় মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমির অংশ নিয়ে নতুন জোত বা খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে।


 

“খতিয়ান” কাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে “থতিয়ান” বলে। খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক। আমাদের দেশে CS, RS, SA এবং সিটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এসব জরিপকালে ভূমি মালিকের তথ্য প্রস্তত করা হয়েছে তাকে “খতিয়ান” বলে। যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান…

 


“পর্চা” কাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভুমি মালিকদের প্রদান করা করা হ তাকে “মাঠ পর্চা” বলে। এই মাঠ পর্চা রেভিনিউ/রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তসদিব বা সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে তা শোনানির পর খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়। আর চুড়ান্ত খতিয়ানের অনুলিপিকে“পর্চা” বলে।

“মৌজা” কাকে বলে?

যখন CS জরিপ করা হয় তখন থানা ভিত্তিক এক বা একাধিক গ্রাম, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা অালাদা করে বিভিন্ন এককে ভাগ করে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্তি করা হয়েছে। আর বিভক্তকৃত এই প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে।


 

“তফসিল” কাকে বলে?

জমির পরিচয় বহন করে এমন বিস্তারিত বিবরণকে “তফসিল” বলে। তফসিলে, মৌজার নাম, নাম্বার, খতিয়ার নাম্বার, দাগ নাম্বার, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ সহ ইত্যাদি তথ্য সন্নিবেশ থাকে।


“দাগ” নাম্বার কাকে বলে?
যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয় তখন মৌজা নক্সায় ভূমির সীমানা চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদা আলাদ নাম্বার দেয়া হয়। আর এই নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে। একেক দাগ নাম্বারে বিভিন্ন পরিমাণ ভূমি থাকতে পারে। মূলত, দাগ নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানা খূটিঁ বা আইল দিয়ে সরেজমিন প্রর্দশন করা হয়।


“ছুটা দাগ” কাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে প্রাথমিক অবস্থায় নকশা প্রস্তুত অথবা সংশোধনের সময় নকশার প্রতিটি ভূমি এককে যে নাম্বার দেওয়া হয় সে সময় যদি কোন নাম্বার ভুলে বাদ পড়ে তাবে ছুটা দাগ বলে। আবার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি দুটি দাগ একত্রিত করে নকশা পুন: সংশোধন করা হয় তখন যে দাগ নাম্বার বাদ যায় তাকেও ছুটা দাগ বলে।


“খানাপুরি” কাকে বলে?

জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরন করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।


“আমিন” কাকে বলে?

ভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তত ও ভূমি জরিপ কাজে নিজুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।


“কিস্তোয়ার” কাকে বলে?

ভূমি জরিপ কালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভুমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।


“খাজনা” ককে বলে?সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে প্রজার নিকট থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য  যে কর আদায় করে তাকে  খাজনা বলে।


“দাখিলা” কাকে বলে?

ভূমি কর/খাজনা আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফর্মে ( ফর্ম নং১০৭৭) ভূমি কর/খাজনা আদায়ের প্রমান পত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়।


DCR কাকে বলে?

ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে DCR বলে।


“কবুলিয়ত” কাকে বলে?

সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।


“নাল জমি” কাকে বলে?

২/৩ ফসলি সমতল ভূমিকে  নাল জমি বলা হয়।


“খাস জমি” কাকে বলে?

সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর বা ডিসি তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।


 

“চান্দিনা ভিটি” কাকে বলে?

হাট বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী  অকৃষি জমির যে অংশ  প্রজার প্রতি  বরাদ্ধ দেওয়া হয় তাকে চান্দিনা ভিটি বলে।


“ওয়াকফ” কাকে বলে?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোন ভূমি তার মালিক কর্তৃক  ধর্মীয় ও সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন দান করাকে ওয়াকফ বলে


 
“মোতয়াল্লী” কাকে বলে?
যিনি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান  করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে। ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত মোতওয়াল্লী  ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না।

“দেবোত্তর” সম্পত্তি কাকে বলে?

হিন্দুধর্ম মতে, ধর্মীয় কাজের জন্য উৎসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলে।


“ফারায়েজ” কাকে বলে?

ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।


“ওয়ারিশ” কাকে বলে?

ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী । ধর্মীয় বিধানের অনুয়ায়ী কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলেতার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে ওয়ারিশ বলে।


 

“সিকস্তি” কাকে বলে?
নদী ভাংঙ্গনের ফলে যে জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায় তাকে সিকন্তি বলে। সিকন্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়ন্তি হয় তাহলে সিকন্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।


“পয়ন্তি” কাকে বলে?

নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়ন্তি বলে।


“দলিল” কাকে বলে?

যে কোন লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারন ভাবেতাকে দলিল বলে।

Card image cap
ঢাকার মেট্রো রেইল ষ্টেশনের অত্যাধুনিক ও আন্তজার্তিক মানের ডিজাইন করেছে বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ কোম্পানি
engr.tushar - 01 Nov 2014

খুব সম্ভবত বাংলাদেশের কোন মেইনস্ট্রিম নিউজ পেপারের কানে এখনো এই খবরটি পৌছাঁয়নি। এই নোটে আমি যে ছবি দুটো দিয়েছি, সেগুলোও খুব বেশী বাংলাদেশী দেখেন নি। কারন খবরটি একেবারেই টাটকা। খবরটি প্রকাশ হয়েছে ২৪ ঘন্টাও হয়নি, এবং তা অনলাইনের দুয়েকটা অপরিচিত-বিদেশী ম্যাগাজিনে। আমি আজ সকালেই প্রথম দেখলাম। তাই সঙ্গতকারনেই, ব্যাপকভাবে এর প্রচার এখনো শুরু হয়নি। অথচ খবরটা আমাদের জন্য জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীতে যত ধরনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পদ্ধতি রয়েছে, মেট্রো রেইল, মতান্তরে মনো রেইল হচ্ছে তার ভেতর সবচাইতে আধুনিক (এবং এ কারনেই সবচাইতে ব্যয়বহুল) পদ্ধতি। তাই শুরু থেকেই মেট্রোরেইল নিয়ে আমরা অসম্ভব রকম আশাবাদী ও উল্লসিত ছিলাম। কিন্তু এ নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই গুঞ্জন চলছে। মাঝে দেখা দিয়েছিলো ব্যাপক অনিশ্চয়তা। কিন্তু এত সব গুঞ্জন আর অনিশ্চয়তার মাঝেই Dhaka Metro Rail Transit Authority (নতুন নাম Dhaka Mass Transit Company Ltd) সম্প্রতী একটা অভাবনীয় কাজ করে ফেলেছে। মেট্রো রেইলের নকশার জন্য তারা রীতিমতো একটা প্রতিযোগীতার আয়োজন করে। দেশের ভেতর নয়, সারা বিশ্বে। পৃথিবীর নামকরা সব আর্কি ফার্ম সেখানে ডিজাইন জমা দিয়েছিলো। সেই প্রতিযোগীতার ফলাফল গতকালই প্রকাশ করা হয়েছে। আমাদের মেট্রো রেইলের জন্য যে সব কোম্পানি ডিজাইন জমা দিয়েছে তাদের ভেতর থেকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে স্বনামধম্য বিট্রিশ কোম্পানি ’জন ম্যাকআসলান + পার্টনারস’, সংক্ষেপে বলা হয় JMP। বাংলাদেশের পেশাদার আর্কিটেকচাররা হয়তো ইতিমধ্যেই জানেন যে, অবকাঠামোগত নকশা (Infrastructural Design) এর জগতে ম্যাকআসলান একটা আইকনিক নাম। বিট্রিশ এই কোম্পানিটি তাদের অভূতপূর্ব স্থাপত্য নকশার জন্য গত কয়েক দশক থেকেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। এই কোম্পানিটির বয়স ৬৪ বছর। নিজেদের দেশের ভেতর তারা সবচাইতে বেশী কাজ করলেও মধ্যপ্রাচ্য আর রাশিয়াতেও তাদের বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট রয়েছে। উল্লেখ্য, নয়া দিল্লীর ‘আনন্দ বিহার’ ট্রান্সপোর্ট হাব ও ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক ‘কিংস ক্রস’ পাতাল রেইল ষ্টেশনের নতুন নকশাটি তাদেরই করা। তাদের ওয়েব সাইটেই তাদের চোখ ধাঁধাঁনো সব ডিজাইন দেখতে পাওয়া যাবে। যেগুলো কোন ডেমো নয়, রীতিমতো চলমান ও সম্পন্ন হওয়া প্রজেক্টের ছবি। ম্যাকআসলান নিয়ে আমার স্বল্পকিছু ধারনা আগে থেকেই ছিলো তাই যখন আমাদের মেট্রো রেইলের প্রজেক্টে এর নাম শুনলাম, তখন প্রচন্ড খুশীতে বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলাম। যারা আর্কিটেকচার নিয়ে একটু হলেও জ্ঞান রাখেন, তারা হয়তো ছবি দুটি দেখেই বুঝবেন যে, এ নকশাতে বুদ্ধিমত্তা, অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের ছাপ স্পষ্ট। এবং একই সাথে একে পরিবেশবান্ধব করেও নকশা করা হয়েছে, যাতে করে ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং বায়ু ও শব্দ দূষন সামলাতে পারে। যদিও মূল ডিজাইনের অতি ক্ষুদ্র অংশ মিডিয়াতে প্রকাশ পেয়েছে, তবু ততটুকু দেখে শুরুতেই যে কারো মনে হবে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নির্ভর কোন এক মুভির সেট। থ্রিডি এই ছবি দুটো দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এর নকশা অত্যন্ত আধুনিক ও মনমুগ্ধকর। ডিজাইন দেখে মনে হবে উন্নত বিশ্বের কোন একটি স্থাপনা, কারন আমদের দেশে সরকারী স্থাপনা মানেই হচ্ছে দায়সারা গোছের, নিম্নমানের ক্ষ্যাত ডিজাইন। যদিও সম্প্রতী কিছু কিছু সরকারী স্থাপনা নজর কাড়ার মতো করে গড়ে তোলা হয়েছে এবং হচ্ছে।

উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মেট্রো রেইলের প্লাটফর্মে আমাদের দেশীয় পোষাক পড়ে কয়েকজন নারী হেটেঁ যাচ্ছেন। তাদের মাথার উপরে একটি সাইনবোর্ডে লেখাঃ প্লাটফর্ম নম্বর ২। তার নীচে ছোট্ট করে লেখা ’কারওয়ানবাজার’। মূল রেইল লাইনটির দু পাশে প্লাটফর্ম বরাবর নিরাপত্তার জন্য শক্ত গ্লাস দিয়ে মোড়া। (ধারনা করছি, ট্রেন থামলে ট্রেনের দরজার সামনের অংশটুকুর গ্লাস ম্যানুয়ালি খুলতে হবে)।  এই পরিপাটি ও ঝকঝকে ছবিটি নিঃসেন্দেহে প্রচন্ডরকমের আশাজাগানিয়া। নিশ্চিতভাবেই আমরা দেশে এরকমটা আর কখনো দেখিনি। 

পরের ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে,  মেট্রো ষ্টেশনে যাত্রীদের অনায়াস উঠানামা নিশ্চিত করতে একটা ছিমছাম অথচ সর্বাধুনিক দুটি এলিভেটর শ্যাফট মেট্রো লাইনের দু পাশে থেকে দুদিকে নেমে গেছে, যেগুলো স্টেশনটিকে মাটির সাথে সংযুক্ত করেছে। সিড়িঁতে দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশীয় পোষাক সালোয়ার কামিজ পরিহিতা, ওড়না দিয়ে ঘোমটা দেয়া রমনীদের। তার আশে পাশে শার্ট প্যান্ট বা সোয়েটার পরহিত পুরুষরাও রয়েছেন। মাথার উপরে মেট্রো রেইল ষ্টেশন, তার নীচ দিয়ে হাইওয়ে ধরে চলে যাচ্ছে বিলাসবহুল চেয়ার কোচ, প্রাইভেট কার ও ফুটপাথ দিয়ে পথচারী।

 

তবে এই ডিজাইনের সবচাইতে আকর্ষনীয় দিক হচ্ছে প্লাটফর্মের ছাদটি।  অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন-সুউচ্চ সে ছাদের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ধবধবে সাদা রংয়ের দুটি বিশেষ ধরনের জ্যামিতিক প্যাটার্নওয়ালা ধনুকাকৃতির খিলান দুদিক থেকে সরলরৈখিকভাবে একে অপরকে ভেদ করে চলে গেছে। তার মাঝে কয়েক জাগায় ট্রান্সপারেন্ট গ্লাস দেয়া যাতে করে সূর্যের আলো প্রবেশ করে উভয় পাশের প্লার্টফর্মকে আলোয় ভরিয়ে দিতে পারে। (ধারনা করছি, ছাদের এই অংশটুকুকে ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রন করা যাবে। কারন দিনের সব সময় সব অংশে সমান সূর্যালোক পড়ে না।)  গ্রানাইট পাথর আর মার্বেল পাথরের টাইলসের এই শামিয়ানাটার ভেতরকার এই গ্লাসের অংশটুকু  মনে করিয়ে দিবে ইসলামিক শিল্প কলার আদলে নির্মিত টাইলসের কথা।

 

ম্যাকআসলানের ডাইরেক্টর হিরো আসো বলেন, ”ঢাকার মতো শহরের জন্য অতীব তাৎপর্যপূর্ণ এই অবকাঠামোগত পদ্ধতিটি গড়ে তুলতে পারার অনবদ্য সুযোগ লাভ করা করায় আমাদের কোম্পানি অত্যন্ত আনন্দিত। পরিবহনমন্ত্রী ওয়ায়দুল কাদের আমাদের নকশাকে স্ফিতবক্ষে অনুমোদন করেছেন। এটা আমাদের অত্যন্ত উত্তেজনাকর একটি সুযোগ যেটা  এশিয়াতে আমাদের  ক্রমবর্ধমান পোর্টফোলিও তৈরী করেছে, যেমনটা করেছে নয়া দিল্লীয় আনন্দ বিহার ট্রান্সপোর্ট হাব।”

  

আমি তার ইংরেজী বক্তব্যটিও তুলে ‍দিলাম। 

 

Hiro Aso, Director of Infrastructure at JMP stated:

 

“JMP is delighted to have won this major commission to design a significant new infrastructure system for Dhaka. Transport Cabinet Minister Mr Obaidul Qader has given the scheme his wholehearted approval – this is a very exciting opportunity for the practice and adds to our growing Asian infrastructure portfolio, including metro stations and the new Anand Vihar transport hub in New Delhi.”

 

ডিজাইনে সর্বমোট ১৬ টি স্টেশন রয়েছে। একটা নির্দিষ্ট থিমের আউট লুক বজায় রাখতে সবগুলো ষ্টেশনই একই ডিজাইন মেনে করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর মধ্যে একটি ট্রেন ডিপো (Depot)-এর ডিজাইনও তারা করে দিয়েছে। দিনশেষে যেখানে সবগুলো ট্রেন পরের দিন ব্যবহারের জন্য অথবা মেইনটেনেন্সের জন্য সংরক্ষন করা হবে, যেটাকে বাংলা আভিধানিক ভাষায় বলা হয় ’যানাগার’।

 

মেট্রোরেইল প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার বা ২ বিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড। বাংলাদেশী মুদ্রামানে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা।  এটি ঢাকা-উত্তর কে ঢাকা-দক্ষিনের সাথে মিলিত করবে।  এই প্রকল্প শেষ হবার জন্য সময় বেধেঁ দেওয়া হয়েছে ২০২১ সাল। প্লাটফর্মগুলো ২০২২ সালের মধ্যেই পুরোপুরি ব্যবহার করা শুরু হবে। ধারনা করা হচ্ছে, মেট্রো রেইলের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ লাখ লোক তাদের বাসা থেকে শিক্ষা অথবা কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত করবেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মাথার উপরেও একটা ষ্টেশন স্থাপন করা হবে। 

 

 

নীচের ছবিতে ১৬ টি ষ্টেশনের লে আউট দেখানো হয়েছেঃ


 

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মেট্রো রেইলের রুট হচ্ছে উত্তরা থেকে পল্লবী হয়ে মিরপুর ১০ ও ১১, শ্যাওড়াপাড়া কাজীপাড়া হয়ে আগার গাঁও, বিজয়স্মরনী, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার থেকে টিএসটি পার হয়ে প্রেস ক্লাবের দিকে চলে গিয়ে মতিঝিলে গিয়ে শেষ হয়েছে। এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার। নির্মান কাজের সুবিধার্থে পুরো প্রকল্পটিকে ৩ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রাথকিমকভাবে মনোনীত হবার পর আগামী বছর থেকে ম্যাকআসলান নকশার চূড়ান্তকরণ কাজ শুরু করবে। কাজ শেষ হবার পর তারা দেশীয় আর্কি ফার্মগুলোর সাথে যৌথভাবে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করবে। 

 

সব মিলিয়ে এ কথা হলফ করে বলা যায় যে, সবকিছু প্ল্যানমাফিক ঠিক ঠাকমতো চল্লে, অভূতপূর্ব ও অসামান্য হবে এর নির্মানশৈলী এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর মতো এই স্থাপনাটিও হবে আমাদের জন্য অন্যতম এক জাতীয় গৌরব।

 

নোটে ব্যবহৃত প্রথম দুটি ছবির স্বত্বঃ © John McAslan & Partners, London, England


তথ্যসূত্রঃ 

ক) http://www.dezeen.com/2014/10/29/john-mcaslan-partners-first-metro-line-dhaka-bangladesh/

খ) http://www.railjournal.com/index.php/metros/dhaka-metro-station-design-contract-awarded.html?channel=542

গ) http://www.theneeds.com/read/n5734411/dhakas-first-metro-line-will-be-designed-dezeen

ঘ) https://twitter.com/Dezeen/status/527512586909388800

ঙ) http://www.buildingconstructiondesign.co.uk/news/john-mcaslan-partners-wins-international-competition-for-dhaka-metro-line/

জন ম্যাকআসলানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তাদের প্রজেক্টের লিষ্টঃ http://www.mcaslan.co.uk/projects 

(নকশার চূড়ান্ত কাজ শেষ হবার পর এবং Dhaka Mass Transit Company Ltd (DMTCL) এর সাথে অফিসিয়াল চুক্তি সম্পন্ন হবার পর এই লিষ্টে আমাদের মেট্রো রেইল প্রজেক্টও অন্তর্ভুক্ত হবে)

এই ফাকেঁ একটা ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করিঃ

সিডনীতে অনেক বছর আগে আমি একজন বসনিয়ান তরুন আরবান আর্কিটেকচারের সাথে কথা বলেছিলাম। তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম কি করে কমানো যায়। উনি বলেছিলেন, ”এজন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্টের বিকল্প নেই। মানুষ যত বেশী পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করবে, যানজট তত কম হবে “ তার মতে, প্রাইভেট ট্রানপোর্ট ইউজ করা ট্রাফিক জ্যামের সবচাইতে বড় কারন। এরপর বল্লাম, কি ধরনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট? আন্ডার গ্রাউন্ড রেলের মতো? তিনি বল্লেন, “একদমই না। তোমাদের ঢাকার মাটি যেরকম, সেখানে আন্ডার গ্রাউন্ড রেল লাইন বানানো মোটেও সাসটেইনেবল হবে না। বানালেও কয়েক দিন পর উপরের মাটি ধ্বসে যেতে পারে। তোমাদের জন্য বেষ্ট সলিউশান হচ্ছে মনোরেল।” এই কথা তিনি আমাকে বলেছিলেন বাংলাদেশে মেট্রো রেইলের পরিকল্পনারও অনেক আগে। আর এ কথা বলার প্রয়োজন নেই যে, ২০২২ সালে এদেশের জনসংখ্যা আরো কয়েক মিলিয়ন বাড়বে। সুতরাং, আগামী ১ দশক পর হয়তো এটাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত রুট হবে।

লেখাটি সংগৃহীত

Card image cap
ভূমি জরিপ: CS, RS, PS, BS কি?
engr.tushar - 29 Oct 2014

মৌজা ভিত্তিক ভূমির নকশা ও ভূমির মালিকানা সম্পর্কিত খতিয়ান বা ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত কার্যক্রমকে ভূমি জরিপ বলা হয়। জরিপের মাধ্যমে নতুন মৌজা নকশা ও রেকর্ড তৈরী করা হয় ও পূর্বে প্রস্তুতকৃত নকশা ও রেকর্ড সংশোধন করেও ভূমির শ্রেণীর পরিবর্তনের সাথে মিল রেখে এবং মালিকানার পরিবর্তনের ধারাবাহিবতার সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ কওর হালকরন করা হয়। এ যাবত কাল পর্যন্ত চার বার রেকর্ড কার্যক্রম চালান হয় এ দেশে।
রেকর্ড গুলো হল:-
1 C S -Cadastral survey
2 R S -Revitionel survey
3 P S – Pakistan survey
4 B S- Bangladesh survey
ক) সি.এস. জরিপ (Cadastral Survey)

বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের দশম অধ্যায়ের বিধান মতে দেশের সম জমির বিস্তারিত নকশা প্রস্তুত করার এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করার বিধান করা হয়।

খ) এস.এ. জরিপ (State Acquisition Survey)


১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারী অধিপ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় এরং রায়েতের সাথে সরকারের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে জমিদারদেও প্রদেয় ক্ষতিপুরণ নির্ধারন এবং রায়তের খাজনা নির্ধারনের জন্য এই জরিপ ছিল। জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।


গ) আর.এস. জরিপ ( Revisional Survey)


সি. এস. জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়। জমি, মলিক এবং দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার নিমিত্তে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়। পূর্বেও ভুল ত্রুপি সংশোধনক্রমে আ. এস জরিপ এতই শুদ্ধ হয় যে এখনো জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আর, এস জরিপের উপর নির্ভর করা হয়। এর খতিয়ান ও ম্যাপের উপর মানুষ এখনো অবিচল আস্থা পোষন করে।


ঘ) সিটি জরিপ (City Survey)


সিটি জড়িপ এর আর এক নাম ঢাকা মহানগর জড়িপ। আর.এস. জড়িপ এর পর বাংলাদেশ সরকার কর্তিক অনুমতি ক্রমে এ জড়িপ ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্পন্য করা হয়। এ জাবত কালে সর্ব শেষ ও আধুনিক জড়িপ এটি। এ জড়িপ এর পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট এ পকাশিত হয়। 

Card image cap
ভবন নির্মাণে জায়গা ছাড়ের পরিমাণ কমছে
Ashraful Haque - 21 Oct 2014
ঢাকা মহানগরী এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করা হচ্ছে। নয়া বিধিমালা অনুযায়ী এখন থেকে রাজধানীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে চারপাশের জায়গা ছাড় দেওয়ার পরিমাণ আড়াই শতাংশ কমানো হচ্ছে। এরই মধ্যে বিধিমালাটি সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। সরকারি একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম রাব্বানী সমকালকে বলেন, নতুন বাড়ি নির্মাণে স্থবিরতা কাটাতেই বিধিমালাটি সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধনীতে ভবনের চারপাশের জায়গা ছাড়ার পরিমাণ কমানো হচ্ছে। তবে পরিবেশের কথা বিবেচনা করে বেশি কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, জায়গা ছাড়ার বিধান একেক এলাকায় একেক রকমের করার সুপারিশ এসেছিল। কিন্তু এটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নকশা অনুমোদনে এক ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে। পরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে জায়গা ছাড়ের পরিমাণ গড়ে ৫ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হলেও পরে তা কমিয়ে অর্ধেক আনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সংশোধনী বিধিমালায় নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ২ কাঠা বা এর নিচের পরিমাণ জমিতে বাড়ি বা আবাসিক হোটেল নির্মাণে চারপাশের জমি ছাড়তে হবে সাড়ে ৩০ ভাগ।
আর বাকি সাড়ে ৬৯ ভাগে ভবন নির্মাণ করা যাবে। ২ কাঠা থেকে ৩ কাঠা পর্যন্ত জমির ক্ষেত্রে ছাড়তে হবে সাড়ে ৩২ ভাগ, ৩ থেকে ৫ কাঠার ক্ষেত্রে সাড়ে ৩৪ এবং ৫ থেকে ১০ কাঠার ক্ষেত্রে বাড়ি নির্মাণে জমি ছাড়তে হবে সাড়ে ৩৭ ভাগ। এ ছাড়া ৯ থেকে ১২ কাঠার জমির ক্ষেত্রে ছাড়তে হবে সাড়ে ৩৯ ভাগ, ১২ থেকে ১৪ কাঠায় সাড়ে ৪২ ভাগ, ১৪ থেকে ১৮ কাঠায় সাড়ে ৪৪ ভাগ এবং ১৮ কাঠার ওপর জমির ক্ষেত্রে বাড়ি বানাতে চারপাশের জায়গা ছাড়তে হবে সাড়ে ৪৭ ভাগ। তবে এ প্লটে ভবন ৩৩ মিটার বা ১০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা যাবে। আর বাকি প্লটে ৬ তলার ওপরে ভবন নির্মাণ করা যাবে না।
বিধিমালাটি প্রণয়নের পর নতুন বাড়ি নির্মাণে স্থবিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে দেড় থেকে পৌনে দুই কাঠার ছোট প্লটের মালিকদের শোচনীয় অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। ছোট আকারের প্লটের ক্ষেত্রেও ৩২ ভাগ জায়গা ছাড়ার নিয়ম রয়েছে। এসব বাড়ির মালিকের সংখ্যা ১ লাখের বেশি। এ বিধান প্রণয়নের পর থেকেই হাত গুটিয়ে বসে আছেন এসব বাড়ির মালিক। তারা বিধিমালার পরিবর্তনের আর্জি জানান। এ বিষয়ে তারা এলাকার সংসদ সদস্য, গৃহায়ন মন্ত্রণালয় ও রাজউকে ধর্ণা দেন। এমন আবেদনের স্তূপ জমা পড়ছে রাজউকে। ১৯৯৬ সালে প্রণীত পুরনো বিধিমালার আলোকে তারা বাড়ি নির্মাণ করতে আবেদন জানান সরকারের কাছে। এ বিধিমালা ২ কাঠার নিচে প্লটে ভবন নির্মাণে জায়গা ছাড়তে হতো না। রাজউকও নতুন বিধিমালা ছাড়া বাড়ির নকশা অনুমোদন দিচ্ছে না। ফলে এসব মালিক নতুন ভবন তৈরি করছেন না। একইভাবে ২ কাঠার বেশি জমির মালিকরাও বিদ্যমান বিধিমালায় ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন।
রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যমান বিধিমালা জারি হওয়ার পর কয়েকটি বিধি ও উপবিধি প্রয়োগে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে নকশা অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে। বিধিমালা-২০০৮ অনুসরণ করতে গিয়ে ক্ষুদ্র আয়তনের প্লটে বাড়ির নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিচ্ছে বলে অনেক প্লট মালিক মন্ত্রণালয় ও রাজউকে আবেদন করছেন। এসব প্লট মালিকদের বক্তব্য, ৩ কাঠা আয়তনের প্লটে বাড়ি করার জন্য যে পরিমাণ জমি ছাড় দেওয়ার বিধান রয়েছে এতে বসবাসযোগ্য বাড়ি তৈরি সম্ভব নয়। তারা বিধিমালা ১৯৯৬-এর আলোকে নকশা অনুমোদনের আবেদন করছেন। তাদের আবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। রাজউকের পক্ষ থেকেও বিদ্যমান বিধিমালাটি সংশোধনের পক্ষে মত দিয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি বিবেচনা করেই সংশোধনী বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

Card image cap
পাইলের এস্টিমেট
engr.tushar - 14 Oct 2014

 

পাইলের এস্টিমেট  নিয়ে কিছু কথা

আমিMD.FARUK HOSSEN

প্রথমে আমি ধন্যবাদ জানাই  need4engineerএই প্ল্যাটফর্ম বা  ওয়েবসাইট কে এবংওয়েবসাইটের এডমিনকে আমদেরকে এত সুন্দরবাংলাই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারনিয়ে লেখালেখি, নুতনকিছু শিখার, নুতন অভিজ্ঞতা শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম উপহার দেয়ার জন্য ...

এখনকাজের কথাই আসা যাক । এই ওয়েবসাইট এ আমার থেকে অবিজ্ঞ সবাই ।তাই পোস্টকরতে ভয় লাগতেছে তারপর ও করতেছি যদি ভুল হয়ে যাই ক্ষমা করে দিবেন।।

আপনারা সবাইBuilding এরPile সম্পর্কে অনেক অভিজ্ঞ তাই পাইল সম্পর্কে বিস্তারিত না বলে আমার ক্ষুদ্র একটা কাজের কথা বলি

আমি ছোট একটাApplicationতৈরি করছি যা দিয়ে আপনি সহজে পাইলের  এস্টিমেট করতে

                                           Estimate of Pile Reainforcement   

                            
                  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


Card image cap
বৃষ্টি হলেই যে বাড়ি গান গায়!
engr.tushar - 11 Oct 2014

জার্মানির একটি বাড়ির রঙিন দেয়ালে ড্রেইন আর ফানেলের জটিল এক স্থাপনা রয়েছে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে, যখন বৃষ্টি নামে তখন পুরো বাড়িটি একটি বাদ্যযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। বাড়িটি জার্মানির ড্রেসডেনে অবস্থিত। এই বাজনা বাজাতে সক্ষম বাড়িটি তৈরি করেছেন স্থপতি এনেট পল, ডিজাইনার ক্রিস্টফ রজনার ও আন্দ্রে টেম্পেল। আর এরা সবাই এই ‘মিউজিক্যাল বাড়ি’তে বসবাস করেন। এনেট বলেন তিনি তার সেন্ট পিটার্সবার্গের বাড়ির বাইরের পাইপলাইনে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার ফলে সৃষ্ট সুরেলা শব্দ থেকে এই নতুন বাড়ি তৈরির আইডিয়া পান। বাড়ির আঙ্গিনাতে ঢুকলেই এই বিশেষভাবে তৈরি দেয়ালটি চোখে পড়বে। দেয়ালটির সামনের অংশ হলুদ রঙে রাঙ্গানো। বাড়ির দরজা বা জানালাগুলো অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি। এগুলো আলো দিয়ে নানা ধরণের চমৎকার দৃশ্য উপস্থাপন করতে পারে। এছাড়া কিছু পাইপকে আকৃতি দেয়া হয়েছে জিরাফ আর বানরের মতো। এগুলো প্রাণীজগতকে উপস্থাপন করার জন্য বানানো হয়েছে। যেদিনগুলোতে আকাশ মেঘলা হয়ে থাকে, প্রচুর বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়, সেদিনগুলো এই ‘মিউজিক্যাল দেয়াল’ এর বাদ্য শোনার জন্য উপযুক্ত দিন। কারণ বৃষ্টির পানি আর ঝড়ো হাওয়া বিশেষভাবে তৈরি এসব ড্রেইন আর পাইপে চমৎকার সুর তোলে। আর পুরো বাড়িটিই তখন হয়ে উঠে একটি বাদ্যযন্ত্র।

Card image cap
ঈদের ছুটির জন্য করণীয়
engr.tushar - 01 Oct 2014

সাইটের/কোম্পানির পক্ষ থেকে করণীয়

1. কোন নির্মাণ সামগ্রী এলোমেলো বা ছড়ানো ছিটানো রাখা যাবে না, তা সঠিকভাবে পরিমানসহ লিপিবদ্ধ করে তালা বন্ধ করতে হবে।

2. সিমেন্ট, ইলক্ট্রিক সমগ্রী, রঙের সামগ্রী এবং অন্যান্য সামগ্রী যা স্টোরে রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন তা রেজিস্টার এ পরিমান সহ লিপিবদ্ধ করে তার সারাংশ এক কপি স্টির কিপার, এক কপি সাইট ইঞ্জিনিয়ার এবং এক কপি নিরাপত্তা প্রদানকারী কোম্পানির নির্ধারিত প্রতিনিধির নিকট হস্তান্তর করবেন এবং সবাই তা সরজমিনে বুঝে নেবার পর স্টোর তালা বন্ধ করা হবে এবং তালা সিল গালা করা হবে।জরুরী কোন প্রয়োজনে স্টোর খোলার প্রয়োজন পড়লে অন্তত (সাইট ইঞ্জিনিয়ার, স্টোর কিপির, নিরাপত্তা প্রতিনিধি) যে কোন দুই জনের উপস্থিতিতে স্টোর খোলা হবে।

3. সাইটে যারা থকবে তাদের নামের তালিকা তৈরি করে এক কপি হেড অফিসে, এক কপি নিরাপত্তাপ্রদানকারী কোম্পানিকে প্রেরণ করবে।

4. সাইটে রড বা বড় যে সব সামগ্রী যা স্টোর এ রাখা সম্ভবপর নয় তা এমনভাবে জড়ো করে রাখতে হবে যাতে করে নিরাপত্তা রক্ষী যেখানে অবস্থান করবেন সেখান থেকে সহজে দৃষ্টিগোচর হয়। এই সকল মালামালের একটি তালিকা তৈরি করে নিরাপত্তা প্রতিনিধির নিকট হস্তান্তর করতে হবে।

5. সাইটে ইঞ্জিনিয়ার অন্তত দিনে একবার নিরাপত্তা প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে সাইটের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য নিবে।

6. সাইটের নিরাপত্তার স্বার্থে সুর্যাস্তের পর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

7. দাহ্য পদার্থের আশেপাশে ধুমপান করা যাবেনা। সম্ভব হলে দাহ্য পদার্থ সমুহ এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সহযে কেউ প্রবেশ করবে না।

8. ঈদের ছুটির সময় গেইট সবসময় বন্ধ থাকবে এবং বাহিরের কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। কোম্পানী এর কেউ ঢুকতে চাইলে আইডি কার্ড প্রদর্শন এবং সাইট ইঞ্জিনিয়ারের অনুমতিক্রমে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে। 9. কোম্পানির এ্যাডমিন অফিসার জনাব এডমিন আলি (মোবাইল 0100000000) এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

 

নিরাপত্তা প্রদানকারী পক্ষ থেকে করণীয়

1. ছুটির পুর্বেই মালামাল কোনটি কোথায় আছে তার কপি কোম্পানি এর সাইট ইঞ্জিনিয়ারের নিকট থেকে সংগ্রহ করে তা যথাযথভাবে বুঝে নিতে হবে

2. ছুটি চলাকালীন সময়ে স্টোর থেকে কোন সামগ্রী বের হলে তা পুঙখানুপুঙ্খ ভাবে নিশ্চিত করে বের করতে হবে।

3. প্রতিদিন এবং প্রতি রাতে প্রতিটি সাইটে, সদর দপ্তরের প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিদর্শন নিশ্চিত করা

4. কর্তব্যরত সুপারভাইজার বা নিরাপত্তারক্ষী প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় সমস্ত সাইট এলাকা ঘুরে দেখে সব সঠিক আছে কিনা তা রেজিস্টারে নাম, সময় সহ লিপিবদ্ধ করে স্বাক্ষর করবে

5. জরুরী পরিস্থিতিতে কোম্পানির কর্মকর্তাদের অবহিত করা এবং তড়িৎ প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা নেয়া।

6. বাহিরের কোন ব্যক্তি কোন প্রকার কথা বলতে চাইলে তাকে সাইট এ প্রবেশ করতে না দিয়ে, সাইট এর বাহিরে বরে হবে কথা বলা 7. ছুটি শেষে দ্রব্য সামগ্রী সাইট ইঞ্জিনিয়ারের নিকট বুঝিয়ে দেয়া।

Card image cap
নিজের বাড়ি নিজে তৈরীর আগে করণীয়....
engr.tushar - 30 Sep 2014

বাসস্থান আমাদের তৃতীয় মৌলিক চাহিদা। যার বাপ-দাদার বা নিজের এক খন্ড জমি আছে সবাই চায় সেখানে নিজের মতো করে সুন্দর একটি বাড়ি বানাতে। পৃথিবীতে টোকিওর পর জমির দাম ঢাকায় সবচেয়ে বেশি। কিন্তু আমাদের বাঙালী টিপিক্যাল নেচারের জন্য আমরা বাড়ি বানানোর সময় প্রফেসনালদের সাহায্য নেই না। প্রতিটি বাড়িওয়ালার ভাব হচ্ছে হালার ইন্জিনিয়ার কিছুই জানে না আমিই বেশি জানি। এই বেশি জানার ফলে পরবর্তীতে দেখা যায় বাড়ি তৈরীর পর নানা রকম ইউটিলিটি সমস্যা, মোডিফিকেশন চলে, ভাঙাভাঙি, জোড়াতালি চলে। ফলে বাড়িটি তার সৌন্দর্য হারিয়ে কিম্ভুতকিমাকার রুপ ধারন করে। আসুন দেখী একটি বাড়ি তৈরীর জন্য কার্যক্রমের ধাপ কি???:D

১. প্রথমেই ফাইনান্স এর কথা ভাবুন। অর্থাৎ টাকা কোথা হতে আসবে তা নিশ্চিত করুন। এর জন্য দরকার প্রিলিমিনারী এস্টিমেশন। এর জন্য অভিজ্ঞ সিভিল ইন্জ্ঞিনিয়ারের কাছে যান।

২. প্লানিং করুন। পুরো বাড়ি একবারে করবেন নাকি দুই তলা করে পরে বাকি চার তলা করবেন। গ্যারেজ কার পার্কিং কয়টি রাখবেন। বাড়িটির অকুপেন্সি কেমন হবে আবাসিক হবে নাকি স্কুল হবে, লিফ্ট, জেনারেটর, সাব স্টেশনের প্রভিশন রাখবেন কি রাখবেন না, আশেপাশে ভবিষতে কি রকমের ইমারত নির্মিত হতে পারে, ছাদে বাগান হবে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি।

৩. ভালো স্থপতি দিয়ে বাড়ির প্লান করিয়ে নিন। মনে রাখবেন জমি যত ছোট হোক আর তেড়া বেকা হোক। একজন ভালো স্থপতি সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। জমির প্রতির টুকরার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন। এ ছাড়াও স্থপতিকে দিয়ে বাড়ির ফার্ণিচার প্লান ও ইনটেরিওর ডেকোনেশন প্লান করিয়ে নিতে পারেন। 

৪. প্লান পাস হলে সয়েল টেষ্ট করাবেন। হুট করে পাইলিং-এ যাবেন না। সয়ের টেষ্ট রিপোর্ট নিয়ে অভিজ্ঞ সিভিল ইন্জ্ঞিনিয়ারের সাথে আলাপ করুন।

৫. বিল্ডিং-এর স্ট্যাকচারাল ডিজাইনের জন্য অভিজ্ঞ সিভিল ইন্জ্ঞিনিয়ারের কাছে যান। ভূমিকম্প নিয়া ইদানিং সবাই বেশি চিন্তিত। স্ট্যাকচারাল সিসমিক লোডের জন্য ডিজাইন করা যায়। 

৬. প্লাম্বিং এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ডিজাইন অভিজ্ঞ ইন্জ্ঞিনিয়ার দ্বারা করে নিন। মনে রাখবেন বাড়ি তৈরির পর প্রাথমিক সমস্যা গুলো প্লাম্বিং এবং ইলেক্ট্রিক ওয়ারিং-এই দেখা যায়। ফলে দেখা যায় ভাঙচুর করতে হচ্ছে বা প্রতিদিন একটি বিরক্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এইটা বাড়ি তৈরীর ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৭. ডিটেইল বিল অফ কোয়ান্টিটি বা বি ও কিউ তৈরী করুন। এবং আপনার পূর্বের আনুমানিক ব্যায়ের সাথে তুলনা করুন। যদি ব্যায় বেড়ে যায় তবে ডিজাইন বা প্লানে কিছু পরিবর্তন এনে ব্যায় কমাতে পারেন। 

৮. কনস্ট্রাকশন-এ শুধু মাত্র কন্ট্রাকটরের উপর নির্ভরশীল না হয়ে একজন সিভিল ইন্জ্ঞিনিয়ারকে ফুল টাইম অথবা পার্ট টাইম সুপারভিশনে রাখুন। 

লজিস্টিক কর্জকর্ম সম্পর্কে কিছু বললাম না। এ দেশে লজিস্টিক কাজকর্ম সিষ্টেম মেনে চলে না। বাড়ি তৈরীর জন্য সুষ্ঠু প্লানিং আর ডিজাইন না করলে পরবর্তীতে নানা অসুবিধার সম্মুখ্খীন হতে হয়। তাই উপযুক্ত প্রফেশনালদের সাথে আলাপ করে বাড়ি তৈরীর কাজে হাত দেবেন। এতে তাদের যা রিমুনেশন দিতে হবে তা আপনার মোট ব্যায়ের বড়োজোর ১-২% হতে পারে।

Card image cap
এ১ কাগজকে ভাজ করে এ৪ ফাইলে রাখা
engr.tushar - 18 Sep 2014

ধাপ-১

ধাপ-২

ধাপ-৪

ধাপ-৪

ধাপ-৫

ধাপ-৬

ধাপ-৭

ধাপ-৮

ধাপ-৯

ধাপ-১০

ধাপ-১

ধাপ-১১

 

 

Card image cap
কনস্ট্রাকশনসাইটে কনক্রীট সিলিন্ডার প্রস্তুতকরণ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষনের আদর্শ নিয়মাবলী
engr.tushar - 09 Sep 2014

কনক্রীট সিলিন্ডার প্রস্তুতপ্রণালী 

১. সিলিন্ডার সাইজঃ

  • সাধারণত কনক্রীটের কমপ্রেসিভ স্ট্রেংথ পরীক্ষণের জন্য আমরা ৬" X ১২"সিলিন্ডার স্যাম্পল তৈরি করে থাকি।
  • তবে ৪"  X ৮"সিলিন্ডার স্যাম্পলও তৈরি করা যায়, যা ASTM Standard C31/C31M-03 দ্বারা স্বীকৃত।
  • লক্ষনীয় যে, ৪ " X ৮" কনক্রীট সিলিন্ডার তৈরির সাথে বেশ কিছু উপকারিতা সন্নিহিত। যেমন ঃ 

ƒএকটি ৬" X ১২" সিলিন্ডার তৈরিতে যে পরিমাণ কনক্রীট প্রয়োজন, তা দিয়ে তিনটিরও বেশী ৪ " X ৮" কনক্রীট সিলিন্ডার তৈরি করাসম্ভব। অর্থাৎ, ৭০% কনক্রীট অপচয় রোধকরা যায়।

  • মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ (পাথর, সিমেন্ট , বালু ইত্যাদি) সাশ্রয়ী। 
  • সংরক্ষণ ও পরবর্তীতে বুয়েট ল্যাবরেটরীতে পরিবহন অত্যন্ত সহজসাধ্য। 
  • ASTM Standard অনুসারে, ৬" X ১২" সিলিন্ডার ও ৪ " X ৮" সিলিন্ডার পরীক্ষাকরে প্রাপ্ত কনক্রীট স্ট্রেংথে তেমন কোন পার্থক্যই নেই। 
  • ƒবুয়েটে ৪ " X ৮" কনক্রীট সিলিন্ডারের খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। 

তাই এসব বিচারে গতানুগতিক  ৬" X ১২" কনক্রীট সিলিন্ডারের পরিবর্তে ৪ " X ৮" সিলিন্ডার তৈরি করাই বেশী সুবিধাজনক, প্রাকৃতিক সম্পদ সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব। 

২. কনস্ট্রাকশনসাইটে সিলিন্ডার প্রস্তুতির পূর্বশর্তঃ

ƒকাস্টিং এর পূর্বে যে স্থানে কনক্রীট মিক্স করা হয় (রেডী মিক্স কনক্রীটের ক্ষেত্রে, সাইটের যে স্থানে ডেলিভারী দেয়া হয়) সেখানেই সিলিন্ডার তৈরি করতে হবে। 

ƒ ড্রাম মিক্সারের ক্ষেত্রে মিশ্রণে প্রয়োজনীয় পানি পুরোপরি যোগ করার পরেই কেবল সিলিন্ডারে কনক্রীট নেয়া যাবে। 

ƒএকটি ব্যাচের মাঝামাঝি পর্যায়ে সিলিন্ডারে কনক্রীট নেয়া উচিত। 

সিলিন্ডার তৈরির মৌল্ড গুলো অবশ্যই ওয়াটার লীক প্রুফ হতে হবে। 

ƒশুধু তাই নয়, সিলিন্ডার তৈরি করারআগে কনক্রীটে কোর্স এগ্রিগেটের সর্বোচ্চ সাইজ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। সর্বোচ্চ সাইজ ৬" X ১২" সিলিন্ডারের জন্য ২" (৫০মিলি ও ৪ " X ৮" সিলিন্ডারের জন্য ১-১/৪" (৩১মিলি)হওয়া বাঞ্চনীয়। 

৩. সিলিন্ডার কাস্টিংঃ

সিলিন্ডার প্রস্তুতি এবং কনক্রীটের কমপ্যাকশনের জন্য নিচের ছকটি গুরুত্বপূর্ণঃ 

সিলিন্ডার মোল্ড সাইজ কমপ্যাকশন প্রণালী 
ট্যাম্পিং রডভাইব্রেটর 
রডের ডায়ারডের দৈর্ঘ্য লেয়ার প্রতি লেয়ারে রডিং লেয়ার প্রতি লেয়ারে ভাইব্রেশন 
৪ " X ৮" ১০ মিলি১২"২৫
৬" X ১২" ১৬ মিলি২০"২৫

সাধরণত সিলিন্ডারে কনক্রীটকমপ্যাকশনের জন্য রডিংবা ভাইব্রেশন যে কোন পদ্ধতিই অবলম্বর কর া

যায়, তবে স্ল্যাম্প এর  পরিমাণ ১" (২৫মিলি)এর কম হলে ভাইব্রেটরব্যবহার করা উচিত। 

ƒট্যাম্পিং রডের একপ্রান্ত গোলাকার হওয়া বাঞ্চনীয়। সেই সাথে ভাইব্রেটর নজেল পাইপ  ৪ " X ৮"  এর ক্ষেত্রে ২৫ মিলি এবং  ৬" X ১২"  এর ক্ষেত্রে ৩৭ মিলি এর বেশি হওয়া যাবে না

ট্যাম্পিং এর ক্ষেত্রে রডের গোলাকার প্রান্ত দিয়েপ্রতিটি লেয়ার এর উপর চারদিকে সমানভাবে কমপ্যাকশন করতে হবে। সর্বনিম্ন লেয়ারেএমনভাবে ট্যাম্পিং করতে হবে যেন ট্যাম্পিং রড নিচ পর্যন্ত পৌঁছায়। উপরের লেয়ার/লেয়ারগুলোর ক্ষেত্রে ট্যাম্পিং রড কমপ্যাকশন কালে নিচের লেয়ারের ভেতর আনুমানিক ২৫ মিলি প্রবেশ করতে হবে।

ভাইব্রেটর চালানো অবস্থায় সিলিন্ডারে কনক্রীট নেয়া বাঞ্চনীয় নয়। প্রতিটি লেয়ার আলাদাভাবে ডাইব্রেটর দিয়ে কমপ্যাকশন করা উচিত। ডাইব্রেশনের গতি হবে অত্যন্ত ধীর এবং কোন ভাবেই ডাইব্রেটর নজেলটিকে মৌল্ড এর তলা বা সাইডে অধিক সময় রাখা চলবে না, অন্যথায় কিছু এয়ার ভয়েড থেকে যেতে পারে। প্রতি লেয়ারের মাঝামাঝি গভীরতা পর্যন্ত নজেল প্রবেশ করা যেতে পারে এবং শুধুমাত্র ততক্ষণই ভাইব্রেশন করা প্রয়োজন যতক্ষণ না একটি লেয়ারের উপরিভাগ সমতল হয়ে উঠবে। সাধারণত ১০ সেকেন্ডের বেশি ভাইব্রেশন করার প্রয়োজন হয় না। ভাইব্রেশন শেষে নজেলটিকে অত্যন্ত ধীরে উঠিয়ে আনতে হবে। 

ƒসম্পূর্ণ সিলিন্ডার মৌল্ড টি ভর্তি হয়ে গেলে ১০-১৫ বার মোল্ড এর বাইরে চারপাশে ভাইব্রেটরের নজেল বা ট্যাম্পিং রড দিয়ে মৃদু আঘাত করতে হবে, যাতে অরৎ াড়রফনা থাকতে পারে। সবশেষে মৌল্ড উপরিভাগের অতিরিক্ত কনক্রীট ফেলে দিয়ে সমান করে দিতে হবে। 

ƒএকটি কনক্রীটসিলিন্ডার উল্লেখিত নিয়মে সর্বমোট ১৫ মিনিটের মধ্যে কাস্টিং করা বাঞ্চনীয়। 

৪. কনক্রীট সিলিন্ডারের পরীক্ষা-পূর্ব কিউরিং ও সংরক্ষণঃ

ƒ উপরে উল্লেখিত উপায়ে সিলিন্ডার সমূহকাস্টিং এরপরপরই সেগুলোর পরিচিতমূলক নাম সংরক্ষণ করা অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে কাস্টিং তারিখ, লোকেশন (বীম, কলাম,পাইলক্যাপ ইত্যাদি) এবং ক্ষেত্রবিশেষে গ্রীড নাম্বার দিয়ে সিলিন্ডারসমূহকে কনক্রীট আধাশক্ত থাকা অবস্থাতেই সূক্ষ্ণ ধারালো কিছু দিয়ে এর উপরিভাগে স্থায়ী ফ্রগমার্ক তৈরী করা যেতে পারে। 

সিলিন্ডার কাস্টিং এর অনতিবিলম্ব পরেই সেগুলোকে মৌল্ড এ রাখা অবস্থাতেই ৪৮ঘন্টা পর্যন্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শ হতে দূরে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ছিদ্রহীনপ্লাস্টিক ব্যাগব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চুনমিশ্রিত পানিতে মৌল্ড সমেত সদ্য প্রস্তুতকৃত সিলিন্ডারগুলোকে ডুবিয়ে রাখাই যথাযথ। 

ƒ  এভাবে ৪৮ঘন্টা প্রাথমিক কিউরিং শেষে গড়ষফহতে সিলিন্ডারগুলো বের করে, তাদের গায়ে অনপনেয় কালি বা রং দিয়ে স্থায়ীমার্কিং করাউচিত।তবে মোল্ড হতে বের করার৩০মিনিটেরমধ্যে সিলিন্ডারগুলোকে চুনমিশ্রিত পানিতে (স্যাচুরেটেড)সম্পূর্ণ ডুবিয়ে রাখতে হবে। 

৫. পরীক্ষণের জন্য বুয়েট এ প্রেরণ ঃ

ƒ কিউরিং কৃত সিলিন্ডার সমূহকে নির্দিষ্ট টেস্টিং তারিখের কমপক্ষে ২/১ দিন পূর্বে বুয়েট পুরকৌশল বিভাগের কনক্রীট ল্যাবরেটরিতে পৌঁছে দিতে হবে। তারিখ হবার বহুদিন পূর্বে সিলিন্ডারগুলো বুয়েটে সরবরাহ করা সমীচীন নয়। 

ƒসিলিন্ডার গুলোকে একত্রে অভেদ্য কাপড়ে বা প্লাষ্টিকব্যাগে মুড়িয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত উর্ধ্বতন ব্যক্তির সই সমেত একটি ফরোয়ার্ডিং চিঠির এর উপর সিল-গালা করে বুয়েটে এ সরবরাহ করা উচিত, যাতে করে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে। অন্যথায় সিলিন্ডারগুলো আনসীলড বলে গণ্য হবে।

ƒ  সিলিন্ডারগুলোপরীক্ষনের আবেদন জানিয়ে ডিরেক্টর,বি.আর.টি.সি, বুয়েট বরাবর আবেদনপত্রে নিম্নোক্ত 

বিষয়সমূহ উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরীঃ 

(১)  কাস্টিং ডেট 

(২)  লোকেশন (বীম, কলাম, রিটেইনিং ওয়ালইত্যাদি) 

(৩)  গ্রীড নং (যদি থাকে) 

(৪)  মিক্স অনুপাত

(৫)  এগ্রিগেট টাইপ (ব্রীক/স্টোন চিপস, সিঙ্গেলস) 

(৬)  দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/প্রকৌশলীর ফোন নম্বর 

(৭)  সিলিন্ডারের সংখ্যা ও সাইজ

Card image cap
একটি কন্সট্রাকশন প্রজেক্ট এর আত্ম কাহিনী-০৫
engr.tushar - 09 Sep 2014

এর আগে শোর পাইলের আগে পর্যন্ত আমার অবস্থা বর্ণনা করা হযেছিল। আজকে থেকে আমার উপরে শোর পাইল করা শুরু হয়েছে।
শোর পাইল করা হয়েছে শোর বা তীর এর নিরাপত্তার স্বার্থে।
এর জন্য প্রথমেই শোর পাইল করার জন্য কন্ট্রাকটর নিয়োগ দেয়া হয়। আমার শোর পাইলের ডিজাইন করেছেন বুয়েটের প্রকৌশলী। শোর পাইল কংক্রিটের পাইল বা খুটি। এর ডায়া ছিল 2'-0" এবং এর দৈর্ঘ্য ছিল ৫৮'-0"। 
শোর পাইলের সময় কাদামাটি বের হয়। এই মাটি অপসারণ করার জন্য প্রথমে একটি 'মাড ট্যাংক' এ এই কাদা পানি জমা করা হয়। ট্যাংক থাকে দুইটি। একটিতে কাদা জমা হয়। আর একটিতে এই ট্যাংক থেকে উপরের পানি বের হয়ে জমা হয়।
অর্থাৎ কাদামাটি যেই ট্যাংকে জমা হয়, সেখানে তলানীতে কাদা জমা হয় এবং এই উপরের দিকে পাশের ট্যাংকএর সাথে কানেকশন থাকে।  
ট্যাংক দুটি সাধারণত জমির মাঝামাঝি থাকে। যেখানে শোর পাইল করা হবে সেখান থেকে একটা ড্রেইন থাকে। সেই ড্রেইন দিয়ে শোর এর জন্য বোরিং এর কাদা পানি আসে।  

Card image cap
বাংলাদেশের জেলা মেলানো খেলা
Ashraful Haque - 08 Sep 2014

এই খেলাতে 64 টা জেলা আছে। উপরে ডানদিকে বাটনে চাপ দিলে , যেই জেলার ম্যাপ (বাম-নিচে) ড্রাগ করা হবে তার নাম দেখাবে।
নাম দেখানো অন-অফ করা যাবে। জেলাগুলিকে বাংলাদেশের ম্যাপের উপর বসাতে হবে।
এতে করে আপনি আপনার জেরা জ্ঞান সম্মন্ধে যাচাই করতে পারবেন। আর দেখে নিন কত সময় লাগছে আপনার।
তো শুরু করা যাক খেলাটি :) এখাণে ক্লিক করুন অথবা ম্যাপটির উপরে