সিগন্যাল ছাড়াই চলবে গাড়ি


একবার ভাবুন তো উত্তরা থেকে মতিঝিল কিংবা মতিঝিল থেকে মিরপুর যেতে আপনার গাড়িটি একবারও সিগন্যালে না পড়ে তাহলে কেমন হয়! নিশ্চয়ই অনেক মজা। কারণ মাত্র ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে মতিঝিল থেকে উত্তরা বা ২০ মিনিটের মধ্যে মতিঝিল থেকে মিরপুর পৌঁছানো সম্ভব। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট নিরসনে এমনই কিছু আশার বাণী শুনিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, এ জন্য প্রয়োজন ২০টি বেহিকুলার আন্ডারপাস বা মাটির নিচের রাস্তা। এই আন্ডারপাসগুলো তৈরি হলেই কোনো সিগন্যালে পড়া ছাড়াই মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা পর্যন্ত দ্রুতগতিতে চলবে সব ধরনের গাড়ি।
রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে এমনই বেশ কিছু বেহিকুলার আন্ডারপাস নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছে ডিএসসিসি। শুরুতে মিরপুর রোডে ৬টি, ফকিরাপুল ও রাজারবাগে দুটিসহ মোট ১০টি বেহিকুলার আন্ডারপাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব আন্ডারপাস দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল করবে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, রাজধানীর ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থলে এ ধরনের আন্ডারপাস নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। তবে দু’ভাগে এগুলো নির্মাণ করা হবে। প্রথম ধাপে নির্মাণ করা হবে ফকিরাপুল ও শাহজাহানপুরসহ মিরপুর রোডের ১০টি স্থানে। এ ১০টির জন্য ৬৪০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসসিসি। একইভাবে এয়ারপোর্ট রোডে ১০টি আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, ঢাকার যানজট দীর্ঘদিনের। যানজটে পড়ে হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। ক্ষতি হয় মানুষ ও গাড়ির। থেমে যায় কর্মস্পৃহা, নেমে আসে অবসাদ। এই যানজট যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে পড়েছে। এ থেকে নগরবাসীকে রেহাই দিতে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওই সব প্রকল্প ও পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। সংশ্লিষ্টরা নতুন করে মনে করছেন, যানজটের অন্যতম কারণ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং। একদিক থেকে গাড়ি যেতে আরেক সড়ক বন্ধ রাখতে হয়। ফলে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। এই ক্রসিংয়ে গাড়ি চলাচলে যাতে কোনো সড়ক বন্ধ না থাকে সে জন্যই মাটির নিচ দিয়ে রাস্তা (বেহিকুলার আন্ডারপাস) নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপে মিরপুর রোডের ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে, ৭ নম্বরে ও ২ নম্বরে, রাসেল স্কোয়ার, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, নীলক্ষেত, মানিক মিয়া এভিনিউয়ের মাথায়, টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার, ফকিরাপুল ও শাহজাহানপুর সংযোগস্থলে আন্ডারপাস নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ২৬ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে ডিএসসিসি। একইভাবে ২য় পর্যায়ের ১০টি আন্ডারপাস নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ১০টির মধ্যে রয়েছে- মৎস্য ভবন ক্রসিং, শাহবাগ, সাকুরা (সাবেক শেরাটন হোটেল), বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণির পশ্চিমে, মহাখালী, কামাল আতাতুর্ক ও বনানী ক্রসিং।
ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন) মো. আশিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বেহিকুলার আন্ডারপাস নির্মাণ করা হলে নগরীর সৌন্দর্য বিঘ্নিত না করে যানজট নিরসনে সময়োপযোগী সমাধান হবে। এ ছাড়াও এটা ভবিষ্যতে মেট্রো লাইন নির্মাণ বা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণে কোনো বাধার কারণ হবে না। তিনি আরও বলেন, একটি সড়ক সংযোগস্থলে ফ্লাইওভার নির্মাণ বাবদ ব্যয় হয় কমপক্ষে ৩৫০ কোটি টাকা। সেখানে আন্ডারপাস নির্মাণ করা হলে ব্যয় পড়বে ৪৫ কোটি টাকা।
এ ছাড়া একটি আন্ডারপাস নির্মাণস্থলে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য ১৮ কোটি টাকা ও কনসালটেন্সি বাবদ এক কোটি টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে একটি বেহিকুলার আন্ডারপাস নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ইউটিলিটি সংস্থার সহায়তায় ৯ মাসের মধ্যে আন্ডারপাস নির্মাণ করা সম্ভব।