কখন এবং কিভাবে রং করতে হয়

ধাপগুলো নিচে দেওয়া হল

১। সিলিং বা ছাদের তলা

আলোক উৎস থেকে শুরু করতে হবে, যেমন জানালা।

২। দেওয়াল

সিলিং একটি লাইন দিয়ে বাগ করতে হবে। তারপর উপর থেকে ১ বর্গ মিটার এলাকা উপর-নিচ করে রং করতে হবে।

৩। জানালা

ফ্রেম এর আগে শার্শি রং করতে হবে। প্রয়োজনে কাঁচ ঢেকে দিতে হবে।

৪।  দরজা

ফ্রেম আগে রং করতে হবে।

5। ইস্কার্টিং

কার্পেটের উপর বোর্ড জাতীয় কিছু রেখে ছোট ব্রাশ দিয়ে রং করতে হবে। 

৬.কেবিনেট ও শেলভ

ক্রম: পেছনের দিক, পার্শের দিক, শেলভের উপর , ধারগুলি, নিচের অংশ, তলা, দরজার ভেতরের অংশ, দরজার বাহিরের দরজা, ড্রয়ারের সামনের অংশ। 

যেই যন্ত্রপাতি বেশি ব্যবহার হয়।

  1. স্যান্ড পেপার
  2. স্ক্র্যাপার
  3. গরম বাতাস দেওয়ার যন্ত্র
  4. বালতি
  5. রাবার হাত মোজা
  6. ব্রাশ
  7. রোলার, ট্রে এবং সঠিক রোলারের তুলি
  8. রং এর ট্রে ও প্যাড
  9. থান কাপড়
  10. মাস্কিং টেপ
  11. স্টীল ল্যাডার 

কিভাবে রং করতে হয়?

রঙের পুর্বে সার্ফেস ভালভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে। ওয়টার পেপার দিয়ে ঘষে তারপর কাপড় বা ব্রাশ দিয়ে পরিস্কার করে দিতে হবে। কাঠের উপর রং করার পুর্বে অবশ্যই ভালভাবে সীজন করে নিতে হবে। কাঠে বা সার্ফেসে কোন ছিদ্র থাকলে তা অবশ্যই বন্ধ করে নিতে হবে। এরপর খুব ভালভাবে প্রাইমার মারতে হবে। প্রাইমারের পুরত্ব যেন সমান হয় এবং মসৃণ হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। স্যাতস্যাতে দিনে রঙের কাজ না করাই ভাল। .

গবেষণাতে দেখা গেছে যে প্রাইমার এবং দুই স্তর রঙের পুরুত্ব ৩.৫ থেকে ৫ মিলিমিটার পর্যন্ত হলে ভাল হয়। এর বেশি হলে রং ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং কম হলে খশে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। রোলার বা স্প্রে থেকে ব্রাশের ব্যবহার অনেক ভাল। তাই কমপক্ষে প্রথম স্তার বা প্রাইমার ব্রাশ দিয়ে বা বোর্ড দিয়ে করাই ভাল। সব জায়গাতে দুই কোট না দিলেও চলে। তবে দক্ষিণ ও পশ্চিমে দুই স্তর দেয়া উচিত। কেননা এই দুই দিকে আবহাওয়ার প্রভাব বেশি। 

যে জায়গাতে বৃষ্টি-রোদ-বাতাসের প্রভাব বেশি, সেখানে দুই স্তর রং করতে হবে। 

রঙের স্থায়ীত্বের জন্য প্রাইমারের দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথম স্তর মারা উচিত। আর দ্বিতীয় স্তর প্রথম স্তরের দুই সপ্তাহের মধ্যে মারা উচিত। তা নাহলে বিভিন্ন ধরণের তেল,ময়লা, ইত্যাদি লেগে যেতে পারে যা স্তরের মধ্যের বাধণে বাধা সৃষ্টি করবে। যা রঙের জন্য ক্ষতিকর। তেল নির্ভর রঙ ৪০ ডিগ্রী ফারেণহাইট তাপমাত্রাতে করা উচিত। এবং পানি রং ৫০ ড্রিগ্রী ফারেণহাইটের নিচে করা উচিত নয়।  দুই ক্ষেত্রই রং করার পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেন তাপমাত্র খুব বেশি না কমে সেটার চেষ্টা করতে হবে। 

রঙে ভাজ, ফ্যাকাশে, বা উজ্জলতা রক্ষার জন্য অবশ্যই ঠান্ডা দিনের শেষ ভাগে রঙের কাজ পরিহার করতে হবে

ঘণ কুয়াশার সময় রং করলে তা ক্ষতিকর। রঙের মিশ্রণ খুব জরুরী। তবে কোন প্যানেলের মাঝে রঙের কাজ ছাড়া যাবে না। এতে পরবর্তি এবং আগের রঙের মধ্যে একটা লাইনের সৃষ্টি হয়। যা খারাপ দেখায় এবং ক্ষতিকর। ছায়াতে রং করলে তার স্থায়ীত্ব বাড়ে। কেননা শুকানোর সময় বেশি দ্রুত না হলে তার স্থায়ীত্ব বাড়ে। 

রং সবসময় আগুণ থেকে দুরে রাখতে হবে। কাঠের উপর দ্বিতীয় স্তর মারার পর থিনার ভেজা কামড় বা স্পঞ্জ দিয়ে আলতো করে উপরে ঘষতে হবে এক ঘন্টা পর। এতে করে অতিরিক্ত কোন কিছু থাকলে তা উঠে আসবে এবং মসৃণ হবে। থিণার খুবই দাহ্য , তাই খুব সাবধাণে রাখতে হবে। 

কোথায় কোন রং

সীলার

  • যেখানে রং হয়নি এবং করা হবে, সেখানে প্রথমে সীলার মারতে হবে। 

  • টপ কোট থেকে কোন দাগ, ছিদ্র উঠিয়ে ফেলতে হবে। 

  • তৈলাক্ত বা ধোয়া লেগেছে এমন জায়গাতে এক্রেলিক থিণার ব্যবহার করতে হবে। 

  • রং করা জায়গাতে সাধারণত সীলার এর প্রয়োজন পড়ে না। 

  • প্লাস্টার বোর্ডের জন্য এক্রেলিক সিলার ব্যবহার করতে হবে।

  • কাঠের জন্য এক্রেলিক প্রাইমার বা সিলার ব্যবহার করতে হবে। 

  • আশযুক্ত প্লাস্টারের তৈল নির্ভর সীলার ব্যবহার করা উচিতFor fibrous plaster use an oil-based sealer

  • যেই জায়গা আদ্র তাতে অবশ্যই তৈল নির্ভর সীলার ব্যবহার করতে হবে।  

  1. ক্র্যাক, ফাটল বা এয়ার স্পেস থেকে রক্ষা পেতে

  2. আবহাওয়ার প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে

  3. সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও স্থায়ীত্ব বৃদ্ধির জন্য। 

  4. ভাল বন্ডিং এর জন্য দুই ফুটের বেশি উচ্চতার দেয়াল না করাই ভাল। 

  5. কাঠের মধ্যে আদ্রতার প্রবেশ এবং ফুলে যাওয়া প্রতিরোধ করে 

  6. যেকোন ধরণের ফিনিশিং কাঠকে সুন্দর করে, পরিস্কারযোগ্য করে এবং সার্ফেসকে রক্ষা করে। 

  7. কাঠের উপর কোনও প্রকার ফিনিশিং (রং, বার্ণিশ) না করলে কাঠ ক্ষয় হয়, ময়লা ধরে, ফুলে যায়, নষ্ট হয় 

  8. কাঠের টেক্চার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ফিনিশ করা হয়। 

রং কোনও প্রিজার্ভেটিভ নয়, ফাঙ্গাস পড়ার উপোযগী হলে এটা রক্ষা করতে তেমন পারদর্শী নয়। 

ট্যাগ