ধাপ

নির্মাণ কাজের পর্যায়ক্রমিক ধাপ (অধ্যায়-৩)

ইংরেজীতে একটা কথা আছে-“A stitch in time saves nine” অর্থ্যাৎ কিনা যাকে বলে সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়। জীবনের চলার পথে মানুষকে প্রতিটি কাজ সঠিক সময়ে সঠিক ক্রমানুসারে করতে হয়। না হলে পা পিছলে আছাড় খাবার ভয় থাকে। সেরকমই শুধু ইটের পর ইট গাঁথলে বাড়ি তৈরী হয় না। এর জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন ধরণের কর্মকান্ড। কোনো কোনো কাজ শুরু হয় আরেকটি কাজ শেষ হবার পর আবার কোনো কোনোটি আরেকটি কাজের সাথে সমান্তরালে চলতে থাকে। কোন কাজ কখন শুরু হবে তা নির্ধারণের জন্য আসলে একটি নির্মানক্রমের প্রয়োজন হয়। এই নির্মানক্রম কে ইংরেজিতে প্রকৌশলীরা ‘কনস্ট্রাকশন সিকোয়েন্স’ বলে থাকেন।

একটি ভবন তৈরির কাজের “কনস্ট্রাকশন সিকোয়েন্স” !

আমাদের সমাজ জীবনে সকল কাজ করতে হয় একটি নির্দীষ্ট ক্রম অনুসরন করে । ঠিক তেমনি একটি ভবন তৈরির ক্ষেএেও একটি নির্দীষ্ট ক্রম অনুসরন করতে হয় । যাকে প্রকৌশলীদের ভাষায় “কনস্ট্রাকশন সিকোয়েন্স” বলা হয় । “কনস্ট্রাকশন সিকোয়েন্স” কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটি হলো “কাঠামোগত বা স্ট্রাকচারাল কাজ”, আর অপরটি হলো “সৌন্দর্য বর্ধণ বা ফিনিশিং কাজ” । একটি ভবনের কাজের “কনস্ট্রাকশন সিকোয়েন্স” নিন্মে তুলে ধরা হলো :

# কাঠামোগত বা স্ট্রাকচারাল কাজ :

প্রথম ধাপ : সাইট মোবিলাইজেশন বা সাইটে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সন্নিবেশ করা ,

দ্বিতীয় ধাপ : ভূমি জরিপ করে ভূগর্ভস্থ মাটি পরীক্ষা করা,

নির্মানাধীন ভবনের লে-আউট দেয়া

৫) নির্মানাধীন ভবনের লে-আউট দেয়া

যেকোন কাজ শুরু করার আগে কাজের একটি রূপরেখা বা লে-আউট তৈরী করা খুবই দরকার। যেমন ধরুনঃ কোন দর্জি যখন পোষাক তৈরী করে তখন কাপড় কাটার আগে কাপড়ের উপর একধরণের দাগ দিয়ে নেয়। পরে সেই দাগ অনুসারে কাপড় কাটে সেলাই করবার জন্য। এই কাপড় কাটবার আগে দাগ দিয়ে নেয়া কে ওই পোষাকের জন্য লে-আউট দেয়া বলা হয়। ঠিক তেমনি কাগজ়ে আকা ভবনের নকশাকে প্রকৃত মাপ জোপের মাধ্যমে জমিতে স্থানান্তর করাকে প্রকৌশলবিদ্যায় ভবনের লে-আউট দেয়া বোঝায়।