সাভারের বিল্ডিং ধসের ঘটনা ও অভিমত

কিছুক্ষন আগে বাসায় ফিরলাম। পথে ফার্মগেইটে দাড়িয়ে ছিলাম বাসের অপেক্ষায়। ওখানেই চলছে একটি জনসভা।
একজন বেশ বয়স্ক মুরুব্বী মঞ্চে থেকে বক্তৃতা দিচ্ছেন-
” এই হারামীর ইঞ্জিনিয়াররা টাকা খেয়ে বিল্ডিং বানায়। আবার টাকা খেয়ে বিল্ডিং ভাল বলে সার্টিফিকেট দেয়। এই হারামীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। “
একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কথাট আমাকে ব্যথিত করেছে। ব্যথিত করেছে দুইটি কারণে
1. ইঞ্জিনিয়ারদের এই ভাবে গালি দেয়ার জন্য
2. ঢালাওভাবে ইঞ্জিনিয়ারদের দোষ দেয়ার জন্য
আমি এখানে দুটি উদাহরণ দিতে চাচ্ছি
1.    ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া আমরা অনেক সময় ঔষধ নিয়ে থাকি। এখন এই ঔষধ খেয়ে কারও যদি কোন ক্ষতি হয় সেই দোষ নিশ্চয়ই ঐ ডাক্তার এর না।
2.    আবার ধরা যাক কোন একড্রাইভার একটি 10 টনের গাড়িতে 20 টন মালামাল তুলেছে এবং গাড়ি রাস্তার মাঝে বিকল হযে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। সেখানেও নিশ্চয়ই গাড়ি বানানো ইঞ্জিনিয়ারের দোষ হবে না।
একজন প্রকৌশলী হিসাবে আমার বিভিন্ন ধরণের অভিজ্ঞতা আছে। কখনও নিজে দেখা তো কখনও অন্যের মাধ্যমে দেখা। এগুলোর কিছু নিচে দেওয়া হলো
1.    মিস্ত্রিদের উপর ভরষা করে ইঞ্জিনিয়ারের করা ডিজাইন অনুযায়ি না করে মিস্ত্রিদের কতা অনুসারে খরচ কমিয়ে কাজ করে
2.    ইঞ্জিনিয়ারের সুপারভিশন বা পরিদর্শন ছাড়াই বিল্ডিং করে
3.    যত তালার জন্য ডিজাইন করা হয় তার চেয়ে বেশি তলার বিল্ডিং করা হয়। বিল্ডিং এর সার্টিফিকেট পাওয়ার পর। যা ইঞ্জিনয়ার এর পরামর্শ ছাড়া বা ইঞ্জিনিয়ারের অজ্ঞাতসারে
4.    কাজের ডিজাইন হয়তো ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা করা হয়, কিন্তু কাজের মান বা মালামালের মান ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা পরীক্ষা করা হয় না।
ঢাকার বাইরেই সাধারণত বিল্ডিং ধ্বসের ঘটনা বেশি ঘটে। এর কারণ হিসাবে কিছু বিষয় নিচে দেওয়া হলো
1.    বিল্ডিং ডিজাইনে ভুল হতে পারে (যদিও সেই সম্ভাবনা খুবই কম)
2.    ওখানে বিল্ডিং নির্মাণে যত্ন নেয়া হয় না
3.    একটি কাজের জন্য তৈরি বিল্ডিং অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়।
4.    বিল্ডিং নির্মাণের সময় ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয়া হয় না
5.    বিল্ডিং মালিকের নিজের ইচ্ছামত রড,সিমেন্ট কমিয়ে দেওয়া
আমি এখানে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বায়িত্ব অস্বিকার করছি না। কিন্তু একই সাথে মনে রাখতে হবে শুধু ইঞ্জিনিয়ারদের দোষে যে এমন ঘটে তা নয়। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইঞ্জিনিয়াররা দায়ি নয়।
আমি সাভারের ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি কামনা করছি।
একই সাথে ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে অনুরোধ- “আমাদের সবাইকে অবশ্যই এই বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্র অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে ডাক্তার ভুল করলে একজন মারা যায়। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার ভুল করলে বহু প্রাণ যায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *