Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

কুয়েটের শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের ০৯ ব্যাচের ১১৯ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেছেন। ক্লাসের দাবিতে তারা বিভাগের সামনে মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে এ অনশন শুরু করেন। এদিকে শিক্ষার্থীদের অনশনের খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাদের অভিভাবকরা। বেশ কয়েকজন অভিভাবক বাংলানিউজকে জানান, মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে গেলেও বুধবার সকালের পর অনেক অভিভাবক অনশনের খবর জেনেছেন। সন্তানের দুশ্চিন্তায় তারা ক্যাম্পাসে ছুটে এসেছেন। তাদেরও দাবি কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ক্লাসের তারিখ ঘোষণা করে। এর আগে শিক্ষার্থীরা রোববার ও মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবন ও পুরকৌশল বিভাগের সামনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিকী অনশন পালন করেন। অনশন থেকে বুধবার সকাল ৯টায় পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাংলানিউজকে বলেন, দুই দিনের অনশনের সময় প্রশাসন একের পর এক ক্লাসের তারিখ ঘোষণার আশ্বাস দেয়। এমনকি একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকসহ বেশ কিছু বৈঠকও করেন। আর এসব বৈঠক শেষেও প্রশাসন আমাদের ক্লাসের তারিখ ঘোষণা করতে পারেনি। পেরেছে কেবল প্রহসনমূলক রেজিস্ট্রেশনের তারিখ ঘোষণা করতে। তারা আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে আমরা টের পাই প্রশাসন রাতের আঁধারে একাডেমিক ভবন থেকে অন্য বিভাগের ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষার খাতা সরিয়ে নিচ্ছে। যেন আমরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে রাখলেও অন্য বিভাগগুলোর পরীক্ষা চালিয়ে নিতে পারেন। প্রশাসনের এরকম কার্যকলাপ ও আমাদের আন্দোলনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধের অভাব দেখে মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছি। দাবি অনুযায়ী স্পষ্টভাবে ক্লাসের তারিখ না পাওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগে এমন নজির নেই যে ক্লাস চালু না করেই রেজিস্ট্রেশন করার। কিন্তু ৪ নভেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক ডেকে আমাদের মূল সমস্যার সমাধান না করে রেজিস্ট্রেশনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। যা রীতিমতো শুভঙ্করের ফাঁকি। সুত্র: http://banglanews24.com এদিকে অনশনের কারণে প্রশাসনিক ভবনে অফিসের কর্মচারি, কর্মকর্তা এবং শিক্ষকরা প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে অফিসের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বাংলানিউজকে বলেন, সমস্যাটি নিরসনের জন্য কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে। জানা যায়, চলতি বছরের ৪ এপ্রিলে পুরকৌশল বিভাগের ০৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় মৌখিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শিক্ষার্থী কুয়েট ক্যা¤পাস ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ইন্টারনেট, ব্লগ ও ফেসবুকে কটূক্তি করেন। এ ঘটনার পর পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষকরা কর্মবিরতি ও অবিলম্বে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে দাবি জানান। যার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার হন কুয়েটের নয় শিক্ষার্থী। একই অভিযোগে আরো ১০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫ জন শিক্ষার্থী সেই ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে একটি রিট করে শাস্তির স্থগিতাদেশ করলে ৪ মে থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে শিক্ষকরা বিরত থাকেন। আর কুয়েট কাউন্সিল কর্তৃক শাস্তির সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবিতে ৪ মে থেকে শিক্ষক সমিতির ব্যানার দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে আসার পর ওই বিভাগের ৮ জন শিক্ষক তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে পদত্যাগও করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষক সমিতি শিক্ষার্থীদের বৃহৎ স্বার্থে ১৯ আগস্ট তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে পরীক্ষার কার্যক্রম পুনরায় চালু করেন। কিন্তু তখনও ০৯ ব্যাচের কেবলমাত্র এক শিক্ষার্থীর শাস্তির স্থগিতাদেশ মেনে নেননি শিক্ষকরা। যার কারণে তারা ১১৯ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নেননি।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *