Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

সাগরতলের হোটেলে

সুত্র: প্রথম-আলো

 

সাগর তলের হোটেল! অবাক হচ্ছেন কি? এ হোটেলে আপনার ঘরের স্বচ্ছ জানালা দিয়েই দেখা যাবে মাছেদের ছুটোছুটি, স্কুইড আর অক্টোপাসদের অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকার দৃশ্য।

সম্প্রতি আফ্রিকা মহাদেশের তানজানিয়ায় ভারত মহাসাগরের নীচে এমনই এক হোটেল তৈরি হয়েছে। তানজানিয়ার পেম্বা দ্বীপ থেকে বহুদূরের সমুদ্রে ভাসমান মানতা রিসোর্টের তলায় অবস্থিত এ হোটেল। নির্জন এই হোটেলটি সৈকত থেকে ২৫০ মিটার দূরে আর চার মিটার পানির নীচে অবস্থিত। তিনতলার সমান ভাসমান একটি কাঠামোর নীচে পানির মধ্যে তৈরি হোটেলটি পর্যটকদের আকর্ষণ করে চলেছে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হোটেলের উপর ও নীচতলার আটটি জানালা দিয়ে স্পটলাইটের যে আলো পড়ে তাতেই চোখে পড়ে সমুদ্রের বিভিন্ন জলজ প্রাণীদেরকে, সমুদ্রতলের অসাধারণ সব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এ হোটেলের জানালা দিয়ে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে ‘নিক’ নামের এক ধরনের মাছ আর রাতের বেলায় দেখা যায় স্কুইড আর বিভিন্ন আকৃতির সব অক্টোপাসদের।

হোটেলে পানির নীচের এমন দৃশ্যে যদি মন না ভরে তখন হোটেলের ওপরে মই বেয়ে ওঠার সুযোগও পান বেড়াতে আসা পর্যটকরা। পানির প্রায় সমতলে থাকা হোটেলের এই ছাদে রয়েছে বাথরুম আর লাউঞ্জ। যদি খোলা আকাশের নীচে সমুদ্রের জলের ওপর শুয়ে রাতের আকাশ দেখতে বা প্রখর সূর্যে রৌদ্রস্নানের ইচ্ছা জাগে তখন পর্যটক যেতে পারেন হোটেলের একেবারে ওপরের ছাদে। সেখানেই হাত পা ছড়িয়ে সময় কাটাতে পারেন তাঁরা।

হোটেলটির নকশার কৃতিত্ব সুইডেনের নকশাবিদ মাইকেল জেনবার্গের। তিনি এর আগেও এ ধরনের কাঠামোর নকশা করেছিলেন। সুইডেনের লেক ম্যালারেনের ‘আটার ইন’ তাঁরই নকশা করা। নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে তিনি স্বচ্ছ পানির সুবিধাযুক্ত আরও কোনো দুর্গম অঞ্চলের খোঁজ করছিলেন। তাঁর চোখ জুড়িয়ে দিয়েছে পেম্বার এ সৈকত।

নভেম্বর মাসের শুরু থেকে মানতা রিসোর্ট পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। পুরো মানতা রিসোর্টে ১৭ টি রুম রয়েছে যার মধ্যে পানির মধ্যে রয়েছে একটি। শুধু এ রুমটিতে এক রাত কাটাতে হলে পর্যটককে অতিরিক্ত দেড় হাজার ডলার খরচ করতে হবে।

অবশ্য মানটা রিসোর্ট ছাড়াও পানির নীচে রাত কাটানোর আরও হোটেল রয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন এমনকি মালদ্বীপেও তৈরি হয়েছে এ ধরনের হোটেল। দুবাইতে পারস্য উপসাগরে ২০ মিটার পানির নীচে ‘হাইড্রোপলিস’ নামে তৈরি হয়েছিল বিশ্বের প্রথম এ ধরনের হোটেল। ফিজিতে রয়েছে ২৪ রুমের ‘পোসাইডন আন্ডারসি রিসোর্ট’, ফ্লোরিডায় রয়েছে ‘জুলস আন্ডারসি লজ’। তবে পানির নীচে সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেলটি মালদ্বীপে। ‘ইথা আন্ডারওয়াটার রেস্টুরেন্ট’ নামের এ হোটেলটিতে এক রাত কাটাতে ১১ হাজার ৭০০ ডলারের বেশি খরচ পড়বে। আর এ হোটেলটি বুকিং দিতে হলে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে থেকেই তা জানাতে হবে।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *