৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে মারা যাবে ৮৮ হাজার মানুষ

পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। ছবি : এনটিভি

শহরাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে যত্রতত্র মাটি ভরাট করে নির্মিত দালান। এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। তাঁর মতে, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন না করা গেলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। অন্যদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বজ্রপাতের দুর্যোগ ঠেকাতে ব্যাপকভাবে তালগাছ লাগানোর উপর জোর দেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনের প্রথম দিনে এসব বিষয় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী জানান, মধুপুর ফল্টে যদি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয় তবে তাতে ঢাকায় সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়বে প্রায় ৭২ হাজার দালান। আর সেই ভূমিকম্প যদি রাত ২ নাগাদ হয় তাতে মারা যেতে পারে ৮৮ হাজার মানুষ।

খ্যাতিমান এ নগর পরিকল্পনাবিদ  আরো জানান, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলে হওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার। এ বিষয়ে অনেক দেশি-বিদেশি গবেষক তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন সাম্প্রতিক সময়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘শুধু ভবন ভূমিকম্প সহনীয় হলে হবে না। যে ধরনের মাটির ওপরে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটাও যাতে লোডটা নিতে পারে। আমি এটা উল্লেখ করছি এজন্য যে, শুধু ঢাকা না, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় জলাভূমিকে ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ওগুলোতে কিন্তু ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বেশি। একবার নির্মাণ হয়ে গেলে এটাকে ঠিক করা সম্ভব না বা আবার ভূমিকম্প সহনীয় পর্যায়ে আনতে প্রচুর টাকাপয়সা লাগবে ঠিক করতে। এটাকে রেট্রোফিট করা বলে। সেজন্য ডিজাইনের সময় নির্মাণের সময় এই পয়েন্টগুলো মনে রাখতে হবে। যেটা বিল্ডিংকোডে বলা আছে।’ 

জামিলুর রেজা চৌধুরীর মতে অন্য অনেক দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথেষ্ট সাফল্য দেখালেও ভূমিকম্পের ব্যাপারে এখনো উদাসীন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ভূমিকম্পের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও তিনি অন্যান্য দুর্যোগের ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। আশংকা প্রকাশ করেন সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাম এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়া নিয়ে। বজ্রপাত ঠেকাতে তিনি তালগাছ লাগাতে পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে মায়া বলেন, ‘আমরা বলছি বাংলাদেশে পাঁচ লাখ তালগাছ লাগাতে হবে। আগে ঠাডা মারলে বজ্রপাত হলে তালগাছে পড়ে। তাই প্রত্যেক গ্রামে-গঞ্জে তালগাছ লাগাব আমরা।’

কনভেনশনের আরেকটি সেশনে ভূমিধস ঠেকাতে মানুষের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার ওপর জোর দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *