Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

স্কাইস্ক্র্যাপার / সুউচ্চ ভবন

skysraper শব্দটি বর্তমানে বহুল পরিচিত। আমরা যা ভবন ডিজাইন বা নির্মাণের সাথে জড়িত তারা খুব ভালভাবেই এই বিষয়টা নিয়ে জানি। যদি কেউ না জেনেও থাকি তবে এই লেখার মধ্য তা জানানোর চেষ্টা করব।

এই শব্দটি ১৮৮০ সালের দিকে প্রথম আলোচিত হয়। বলা যেতে পারে এই সময়েই এই শব্দটির জন্ম। যদিও এর অনেক আগেই উচ্চ ভবন নির্মিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানের স্কাইস্ক্র্যাপার সেইগুলি থেকে একটু আলাদা।

মধ্যযুগ থেকেই প্রকৌশলীরা এই উচু ভবন নিয়ে গবেষণা করে আসছে। তখন থেকেই শুরু হয়েছে আকাশ দখলের প্রতিযোগীতা। সময়ের দাবি, জমি সংকট, মানুষের চাহিদা থেকেই এই পরিকল্পনার জন্ম।

পাথর এবং অন্যান্য বস্তুর সমন্নয়ে প্রথমে উচু ভবন বা কাঠামো তৈরি করা হয়। এদেরকে তখন টাওয়ার বলা হত। এর দেয়ালগুলি ছিল অনেক পুরু এবং জানালা বলতে তেমন কিছু ছিলনা। কেননা জানালা কাঠামোর শক্তি কমিয়ে দিত।

এরপর লোহা এবং স্টীল এর আবিস্কারের ফলে এক নতুন দিগন্তের সুচনা হয়। মানুষ তখন উচু ভবন নির্মাণে আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে থাকে। বলা যেতে পারে এখান থেকেই আধুনিক উচু ভবণ এর জোয়ার শুরু হয়। একে একে শুরু হতে থাকে বিভিন্ন উচু ভবন। যেহেতু এই সময় লোহা বা স্টিল এর সাথে কংক্রিট এর সমন্বয়ে ভবন নির্মাণ করা হত। তাই এর কিছু সিমাবদ্ধতাও ছিল।

সিকাগোর বীমা ভবন সম্ভবত প্রথম উচু বিল্ডিং। এটি ছিল ১০ তলা বিশিষ্ট। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে জানালাও ছিল। কলাম এবং বীমের কাঠামো দিয়ে এই ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৮৮৫ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং এর উচ্চতা ছিল ১৩৮ ফুট। পরবর্তিতে ১৯৩১ সালে একে আবার ভেঙ্গে ফেলা হয়। যদিও বর্তমানে এই উচ্চতা কিছুই নয়। আমাদের দেশে এখন খুব সহজেই এই ধরণের ভবন নির্মাণ করা হয় এবং অহরহ হচ্ছে। কিন্তু তখনকার প্রেক্ষিতে এটি ছিল এক বড় পাওয়া।

এই বীমা ভবনকেই বলা হয় স্কাইস্ক্র্যাপারের জনক। এর পথ ধরেই উচু উচু ভবনের যাত্র শুরু এবং এর শেষ কোথায় যে হবে তা আমার জানা নেই।

উচু ভবন এর নির্মাণ এর সাথে সাথে উপরের ওঠার জন্য মানুষের চিন্তা শুরু হয়। পায়ে হেটে এত ওপরে ওঠা মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজন হয়ে পড়ে যন্তের সাহায্যের। 

১৮৫৭ সালে নিউইয়র্ক এর প্রথম এলিভেটর বা লিফ্ট স্থাপন করা হয়। স্কাইস্ক্র্যাপার এর ক্ষেত্র এর  অবদানও উল্লেখযোগ্য।

ভবন যত উপরে উঠতে থাকে। বাতাস ততই ইঞ্জিনিয়ারদের শত্রু হতে থাকে। তখন বাতাস একটি বড় বাধা হয়ে দাড়ায়। কিন্তু প্রকৌশলীরা সকল বাধায় অতিক্রম করতে চায়। তার তখন খুজতে থাকে নিত্য নতুন পন্থা। খুজতে থাকে সমাধান। ফলে সমাধানও পেয়ে যায়।

আজ আমরা দেখেত পাই হাজার ফুটের চেয়েও উচু ভবন। এবং এই উচ্চতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অথচ ভেবে দেখুন ১৮৮৫ সালের বীমা ভবন দেখেই মানুষ ভয় পেয়েছিল। সবাই ভেবেছিল এই ভবন থাকবে না। ধসে পড়ে যাবে অচিরেই।

মালয়েশিয়ার টুইন টাওয়ার উচু ভবনের মধ্য একটি আলোচিত একটি নাম। এর ৪২ তলাতে একটি ব্রীজ আছে যা দুইটি ভবনের মধ্য সংযোগ ঘটায়। মুলত ইমারজেন্সি সময়ে বের হওয়ার জন্যই এই ব্রীজ নির্মাণ করা হয়।

বর্তামানে বুর্জ আল খলিফা সবচেয়ে লম্বা ভবন। এর উচ্চতা ২৭২৩ ফুট।

ভবিষ্যতে আরও উচু ভবন হবে এই আশা রেখে বিদায় নিচ্ছি

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *