Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

ইট , পর্ব-১

প্রকৌশল কর্মকান্ডে যে সকল মালামাল ব্যবহার করা হয় তাকে প্রকৌশল সামগ্রী (EngineeringMaterials)বলে। আর পূর্তকাজে বহুল ব্যবহৃত সামগ্রীকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস বলে। যে কোন কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্মাণ সামগ্রীর শক্তি, স্থায়িত্ব, উপযোগীতা, সহজলভ্যতা, সৌন্দর্য, ব্যবহার, সংযোজন সরলতা ইত্যাদি দিকগুলো বিবেচনা করতে হয়। কাঠামোর স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা, সৌন্দর্য, স্বল্পব্যয় ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হলে নির্মাণসামগ্রীর বৈশিষ্ট্য ও গুণগত মান সম্পর্কে পূর্বেই জেনে নিতে হবে।

এ অধ্যায়ে বহুল ব্যবহৃত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়াল ইট সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো।

১.১ ইট

ইট হলো কাদা দ্বারা নির্মিত এক প্রকার কৃত্রিম পাথর। এটি একটি কাদাজাত সামগ্রী (Clay product)। এটি কাঁচা অবস্থায় নমনীয় এবং উচ্চতাপে পোড়ানোর ফলে কঠিন পাথরের আকার ধারণ করে। ভালোভাবে মাখানো নম্য (Plastic) কাদাকে ছাঁচ বা ফর্মায় ফেলে একটি নির্দিষ্ট আকার-আকৃতিতে ইট তৈরী করা হয়। এরপর প্রথমে রৌদ্রে শুকিয়ে অধিকতর শক্ত ও শক্তিশালী করা হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য উচ্চতাপে পোড়ানো হয়। বাংলাদেশে এটি বহুল ব্যবহৃত এবং একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রথম শ্রেণির নির্মাণসামগ্রী।

১.২ ইটের মাটির উপাদান

ক্রমিক নং উপাদান শতকরা উপাদান
সিলিকা ৫৫%
এলুমিনা ৩০%
আয়রন অক্সাইড ৮%
ম্যাগনেসিয়া ৫%
লাইম ১%
জৈব পদার্থ ১%

১.৩ ইট তৈরির ধাপসমূহ

নিম্নের ধারাবাহিক ধাপগুলো সম্পন্ন করে ইট তৈরী করা হয়। যথা-

  1. ইটের মাটি নির্বাচন (Selection of brick clay)
  2. ইটের কাদা প্রস্ততকরণ (Preparation of brick clay)
  3. ইট কাটা বা ইট তৈরীকরণ (Brick moulding)
  4. ইট শুকানো (Drying of bricks)
  5. ইট পোড়ানো (Burning of bricks)

১.৪ ইটের শ্রেণিবিন্যাস

ইটকে সাধারণভাবে দুইভাগে ভাগ করা যেতে পারে; যথা-

  1. পোড়ানোবিহীন ইট : ছাঁচ থেকে বের করার পর এবং রোদে শুকানোর পর যে ইট পাওয়া যায় তাকে পোড়ানোবিহীন বা রোদে শুকানো ইট বলা হয়। এটি পোড়ানোর জন্য উপযোগী ইট। অস্থায়ী এবং কম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো নির্মাণে এ ধরনের ইট ব্যবহার করা পারে।
  2. পোড়ানো ইট : পোড়ানোর পর এ ইট পাওয়া যায়। এ ধরনের ইটই নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। PWD এর মতানুসারে ইট ৫ (পাঁচ) প্রকার। যথা-
  • প্রথম শ্রেণির ইট (First class bricks) : এ ধরনের ইটের রঙ সর্বত্র সুষম গাঢ় লাল বা তাম্র বর্ণের এবং আকার সুষম হয়। উত্তমভাবে পোড়ানো এবং ইটের গায়ে কোন দাগ থাকে না। এর তলগুলো সমতল এবং ধারগুলো ধারালো ও তীক্ষ্ণ। আঘাত করলে ধাতব শব্দ পাওয়া যায়।
  • দ্বিতীয় শ্রেণির ইট (Second class bricks) : এ ধরনের ইট প্রথম শ্রেণির ইটের মতোই শক্ত এবং রঙ এর হয়ে থাকে। কিন্তু আকৃতিতে সামান্য অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। তলগুলো মসৃণ হয় না।
  • তৃতীয় শ্রেণির ইট (Third class bricks) : এ ধরনের ইট ভালোভাবে না পোড়ার কারণে আংশিক শক্ত হয়। এ ইটের বৈশিষ্ট্য হলো এরা হলুদ বর্ণের হয়। অধিকাংশ ইটের আকার-আকৃতি ঠিক থাকে না।
  • পিকেড ইট (Picked bricks) : ইটের বিভিন্ন উপাদান উচ্চতাপমাত্রায় বিগলিত হয়ে কাঁচিক  হওয়ার ফলে এ ইট তৈরী হয়। আকার-আকৃতি প্রথম শ্রেণির ইটের মতোই হয়। কিছু ইটের আকার সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। এ ইট খুবই শক্তিশালী।
  • ঝামা ইট (Jhama bricks) : ইট বেশী পুড়ে এ ইট তৈরী হয়। উচ্চতাপমাত্রায় উপাদানগুলো গলে গিয়ে সচ্ছিদ্র অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ ইটের বৈশিষ্ট্য হলো এরা কালো বর্ণের হয়। আকার-আকৃতিতে খুব বেশী অসামঞ্জস্য।

১.৫ ইটের আদর্শ মাপ

ইট ছোট হলে জোড়ার সংখ্যা অধিক হয় এবং মসলা বেশী লাগে। আবার ইট বড় হলে রাজমিস্ত্রির পক্ষে একহাতে ইট তুলে কাজ করা কষ্টসাধ্য। বাংলাদেশে আদর্শ ইটের পরিমাপ হবে ৯.৫” x ৪.৫” x ২.৭৫” (২৪১ মিমি x ১১৪ মিমি x ৭০ মিমি )। প্লাস্টারসহ ইটের মাপ ধরা হবে ১০” x ৫” x ৩” (২৫৪ মিমি x ১২৭ মিমি x ৭৬ মিমি)।

———-চলবে…..

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *