Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

বালি, পর্ব – ২

মোটা ও চিকন বালির পার্থক্য

মোটা বালি চিকন বালি
৪ নং চালুনিতে চাললে কোনো অবশিষ্ট থাকবে না। ১৬ নং চালুনিতে চাললে কোনো অবশিষ্ট থাকবে না।
সূক্ষ্মতার গুনাঙ্ক (F.M) ২.০০ এর বেশি। সূক্ষ্মতার গুনাংক (F.M) ১.৫ এর কম।
কংক্রিটে ব্যবহার করা হয়। আস্তরের কাজে ব্যবহার করা হয়।

বালির ব্যবহার

বালি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণসামগ্রী। নিচে বালির ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-

  • গাঁথুনির মসলা তৈরিতে।
  • প্লাস্টারিং ও পয়েন্টিং এর কাজে।
  • কংক্রিট তৈরিতে।
  • কাঁচ শিল্পে।
  • সোলিং এর ফাঁকা পূরণ করতে।
  • বিটুমিনাস রাস্তার সিলকোটের উপর প্রয়োগ করতে।
  • কোনো নিচু জায়গা বা ফ্লোর উঁচু করতে বালি ব্যবহার করা হয়।

বালির ওজন

নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালির ওজন শুকনো ও ভেজা অবস্থার কারণে পার্থক্য হয়ে থাকে। শুস্ক বালির ওজন ১৬০০ থেকে ১৯২০ কেজি/ঘনমিটার হয়ে থাকে।

বালির সূক্ষ্মতার গুণাঙ্ক (Fineness modulus of sand)

বালির সূক্ষ্মতার গুণাঙ্ক একটি অনুপাত। এর সাহায্যে বালির আকার অর্থাৎ বালি চিকন, মধ্যম না মোটা দানার তা জানা যায়। কোন নির্মাণকাজের জন্য এ বালি প্রয়োজন তা জানা যায়।

ASTM চালুনি নং ৪, ৮, ১৬, ৩০, ৫০ ও ১০০ পর পর সাজিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ (যেমন- ৫০০ গ্রাম) বালি ৫ থেকে ৭ মিনিট হস্ত চালিত বা ইলেকট্রিক সিভ স্যাকারে চালার পর ১০০ নং চালুনি পর্যন্ত অবশেষ বালির ক্রম সংযোজিত শতকরা হারের যোগফলকে ১০০ দ্বারা ভাগ করলে বালির সূক্ষ্মতার গুণাঙ্ক (F.M) পাওয়া যায় । কোন কাজের ওয়ার্কএবিলিটি, ফিনিসিং এবং অর্থনৈতিক সাশ্রয় বালির সূক্ষ্মতার গুণাংক দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে।

বালির স্ফীতি ও সংকোচন

বালিতে অল্প পরিমাণ জলীয় কণার উপস্থিতিতে বালির আয়তন বৃদ্ধি পায়। একেই বালির আয়তন স্ফিতি বলে। বালির কণার চারিদিকে পানির পাতলা ফিল্ম তৈরী হওয়ায় বাতাস আটকে যায় এবং বালির কণাগুলো একে অন্য থেকে আলাদা হয়ে যায় ফলে বালির আয়তন স্ফীত হয়। যখন আরও পানি মিশিয়ে জলীয় কণার পরিমাণ বাড়ানো হয় তখন বালি কণার পৃষ্ঠদেশে গঠিত প্রলেপ ভেঙে যায় এবং বালি কণা পরস্পর কাছাকাছি চলে আসে। ফলে বালির স্ফীতির পরিমাণ কমে আসে। একে বালির সংকোচন বলা হয়। দেখা গেছে ৫% থেকে ৮% জলীয় কণার উপস্থিতিতে বালির আয়তন ২০% থেকে ৩০% বৃদ্ধি পায়। মোটা বালির আয়তন বৃদ্ধি অপেক্ষা সূক্ষ্ম বালির আয়তন বৃদ্ধির পরিমান বেশী। শুস্ক অবস্থায় বা সম্পূর্ণ ভেজা অবস্থায় বালির প্রকৃত আয়তন পাওয়া যায়। মসলা বা কংক্রিটে বালির পরিমাণ আয়তনে পরিমাপ করা হয়। মসলা বা কংক্রিটের নির্দিষ্ট অনুপাত ঠিক রাখার জন্য আয়তন বৃদ্ধির হার অনুযায়ী বালি বেশী দিতে হয়।

বালির স্ফীতি নির্ণয়ের জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে একটি পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়।

চিত্র ২.১ : বালির স্ফীতি নির্ণয়ের পরীক্ষা

  1. একটি কাঁচের পাত্রে অল্প পানি মিশ্রিত বালি নিয়ে উচ্চতা মাপা হলো। ধরি উচ্চতা ২০ সেমি।
  2. এবার পাত্রটি পানি দ্বারা পূর্ণ করা হলো এবং মুখ বন্ধ করে ঝাঁকানো হলো।।
  3. কিছুক্ষণ পর বালির উচ্চতা মাপা হলো। ধরি উচ্চতা ১৬ সেমি।

বালির আয়তন বৃদ্ধি

= ×=%

ভালো বালির বৈশিষ্ট্য

ভালো বালির বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

  1. ভালো বালি খাঁটি সিলিকা হওয়া উচিত।
  2. বালিতে লবণ জাতীয় পদার্থ থাকতে পারবে না।
  3. কণাগুলো ধারালো, কোণাকার এবং শক্ত হবে।
  4. বালি পরিষ্কার এবং দানাদার হবে।
  5. পলি, কাদা, জৈব ও অজৈব পদার্থ মুক্ত হবে।
  6. ইহা ওয়েল গ্রেডেড অর্থাৎ বিভিন্ন আকারের উপযুক্ত পরিমাণ দানা বিশিষ্ট হবে।

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *