Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

পাথর

পাথর (Stone)

আমাদের দেশে প্রাপ্ত পাথর সাধারণত রাস্তা তৈরি এবং স্টোন চিপস হিসেবে নির্মাণকাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। সৌন্দর্যের জন্য যে পাথর ব্যবহৃত হয় তা বেশির ভাগ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত। এ অধ্যায়ে পাথর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

৩.১ পাথর

পাথর সাধারণ ভূ-ত্বক ও এর রূপান্তর বিশেষ। বহুবিধ খনিজ পদার্থের জটিল রাসায়নিক যৌগ হলো পাথর। পৃথিবী গঠনকারী খনিজের যৌগই হলো শিলা (Rock) । আর নির্মাণ কাজে ব্যবহারযোগ্য নির্দিষ্ট আকার-আকৃতির প্রাকৃতিক শিলাখন্ডই হলো পাথর। পাথর অতিশয় মজবুত ও টেকসই। এটি সন্তোষজনকভাবে আবহক্রিয়া রোধ করে, ক্ষয়প্রাপ্তের হার কম এবং এর সংরক্ষা খরচও কম। একইসাথে এটা অনিন্দ সুন্দরও। কোন প্রতিদ্বন্দী সামগ্রী পাথরের মতো স্থায়ী হয় না। এ জন্য পাথরকে নির্মাণসামগ্রীর রাজা বলা হয়।

৩.২ পাথরের শ্রেণিবিভাগ

পাথরকে তিনটি শ্রেণিবিভাগ অনুসারে বিভক্ত করা যায়। যথা-

(ক) ভূ-তাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ (Geological classification)

(খ) ভৌত শ্রেণিবিভাগ (Physical classification)

(গ) প্রকৌশল বা রাসায়নিক শ্রেণিবিভাগ (Engineering or Chemical classification)

(ক) ভূ-তাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ : এই শ্রেণিবিভাগ অনুসারে পাথরকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

  1. আগ্নেয় শিলা (Igneous rocks) : আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে উৎক্ষিপ্ত গলিত লাভা বা ভূ-অভ্যন্তরস্থ গলিত লাভা ক্রমে ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধে এবং এ শিলা গঠিত হয়। যেমন- গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, ডুলেরাইট প্রভৃতি এ পাথরের আওতাভুক্ত।
  2. পাললিক শিলা (Sedimentary rocks) : আগ্নেয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে স্তূপ আকারে নদী বা ঝরনার তলদেশে জমা হয়। পরে রাসায়নিক বিক্রিয়া বা চাপে জমাট বেঁধে এ পাথর গঠিত হয়। যেমন- বেলেপাথর, চুনাপাথর, লেটারাইট, শেল প্রভৃতি এ পাথরের আওতাভুক্ত।
  3. রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic rocks) : ভূ-পৃষ্টের অভ্যন্তরীণ তাপ বা চাপে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা রূপান্তরিত হয়ে এ শিলা গঠিত হয়। যেমন- কোয়ার্টজাইট, স্লেট, মার্বেল প্রভৃতি এ পাথরের আওতাভুক্ত।

চিত্র ৩.১ : পাথরের ভূ-তাত্বিক শ্রেণিবিভাগ

(খ) ভৌত শ্রেণিবিভাগ : এই শ্রেণিবিভাগ অনুসারে পাথরকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

  1. স্তরিভূত শিলা (Stratified Rocks) : এ পাথরের কণাগুলো বিভিন্ন তলে স্তরীভূত অবস্থায় থাকে এবং সহজেই এই তলে এদেরকে আলাদা করা যায়। যেমন- পাললিক শিলা।
  2. অস্তরিভূত শিলা (Unstratified rocks) : এ পাথরের কণাগুলো স্তরীভূত অবস্থায় থাকে না এবং এদের গঠন স্ফটিক দানাদার বা দৃঢ় দানাদার হয়ে থাকে। যেমন- আগ্নেয় এবং পাললিক শিলা।
  3. পত্র-সদৃশ শিলা (Foliated Rocks) : কোনো একটি নির্দিষ্ট দিকে ভেঙে পড়ার প্রবণতা থাকে। যেমন-রূপান্তরিত শিলা।

(গ) রাসায়নিক শ্রেণিবিভাগ : এই শ্রেণিবিভাগ অনুসারে পাথরকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

  1. বালিজাত শিলা (Silicious rocks) : সিলিকা বা বিশুদ্ধ বালির পরিমাণ বেশি থাকে। খুব শক্ত, মজবুত, দীর্ঘস্থায়ী এবং আবহাওয়াজনিত কারণে সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। যেমন- গ্রানাইট, কোয়ার্জাইট, ট্রাপ, বেলেপাথর ইত্যাদি।
  2. কাদাজাত শিলা (Argellaceous Rocks) : কাদার পরিমাণ বেশি থেকে । এ পাথর খুব ঘন, দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী কিন্তু ভঙ্গুর হয়। যেমন- স্লেট, ল্যাটেরাইট ইত্যাদি।
  3. চুর্ণকজাত শিলা (Calcareous rocks) : ক্যালসিয়াম কার্বনেটের পরিমাণ বেশি থাকে। পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। যেমন- মার্বেল, চুনাপাথর, কংকর, গ্রাভেল ইত্যাদি।

৩.৩ পাথরের ব্যবহার

  1. কাঠামো : পিয়ার, এবাটমেন্ট, বাঁধ, রিটেইনিং ওয়াল, লাইট হাউজ, সড়ক, দালান ( ভিত্তি, দেয়াল, কলাম, লিন্টেল, আর্চ, ছাদ, ফ্লোর, ডিপিসি ইত্যাদি) তৈরিতে পাথর ব্যবহৃত হয়।
  2. ফেস ওয়ার্ক : যে কোনো কাঠামোকে পাথর জমকালো আকর্ষণীয় করে তোলে। দেয়াল বা মেঝে অলংকরণের কাজে পাথর ব্যবহৃত হয়।
  3. পেভিং এর কাজ : আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং কলকারখানার ফ্লোর, রাস্তা, ফুটপাথ ইত্যাদির পেভিং এর কাজে পাথর ব্যবহৃত হয়।
  4. বিবিধ : পাথরকে ভেঙে কংক্রিট, রাস্তার খোয়া, রেলওয়ের ব্যালাস্ট, ব্লাস্ট ফারনেসের ফ্লাস্ক, ক্যালকারিয়াস সিমেন্ট, কৃত্রিম পাথর, হলো ব্লক তৈরির কাজে পাথর ব্যবহৃত হয়।

৩.৪ পাথরের বৈশিষ্ট্য

নির্মাণকাজে ব্যবহারযোগ্য পাথরের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেয়া হলো-

  1. পাথরের গঠণশৈলী খুব মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
  2. গ্রথনশৈলী সমসত্ব ও কেলাসিত হবে।
  3. পাথর সমসত্ব বর্ণের হবে।
  4. সরন্ধ্র বা ছিদ্রযুক্ত পাথর ব্যবহার করা ঠিক নয়।
  5. পানি শোষন ক্ষমতা খুবই কম হবে।
  6. চাপ বল প্রতিরোধে যথেষ্ট শক্তিশালী হবে।
  7. ঘনত্ব ও আপেক্ষিক গুরুত্ব বেশী হবে।
  8. ঘর্ষণের কারনে সৃষ্ট ক্ষয় প্রাতিরোধে যথেষ্ট শক্তিশালী হবে।
  9. ভালো পাথর তরল প্রবেশে অভেদ্য হবে।
  10. পাথর তাপ কুপরিবাহী এবং এর বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা খুবই কম।

৩.৫ পাথরের প্রাপ্তি স্থান

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের পাথর পাওয়া যায়। এর মধ্যে সিলেটের ভোলাগঞ্জে, দিনাজপুর এবং বগুড়ার খনিগুলোতে চুনাপাথর পাওয়া যায়। স্লেট এবং ল্যাটেরাইট চট্টগ্রামে পাওয়া যায়। সিলেটের জাফলং, কোম্পানীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ জেলায় সিঙ্গেল, বোল্ডার ও নুড়িপাথর পাওয়া যায়।

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *