Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

সিমেন্ট, পর্ব – ২

পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের সিমেন্টের গুণাগুণ

১.         সিমেন্টের পানি যোজন (Hydration) :

যখন পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের সাথে পানি মেশানো হয়, তখন এর রাসায়নিক উপাদানগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যা সিমেন্টকে শক্ত করে। পানির সাথে সিমেন্টের এই রাসায়নিক বিক্রিয়াকে হাইড্রেশন বলে। এ বিক্রিয়াগুলো বিভিন্ন সময় এবং হারে সংঘটিত হয়। পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট কিভাবে শক্ত হবে এবং শক্তি সঞ্চয় করবে তা এ বিক্রিয়াগুলোর উপর নির্ভর করে ।

২.         সিমেন্টের সূক্ষ্মতা (Fineness) :

সিমেন্টের সূক্ষ্মতা এর হাইড্রেশনের হার এবং শক্তি সঞ্চয়ের হারকে প্রভাবিত করে। দানার আকার যত বেশী মিহি হবে সিমেন্টের হাইড্রেশনের হার তত বৃদ্ধি পাবে।

৩.         সিমেন্টের জমাটবদ্ধতা (Setting of cement) :

সিমেন্ট পেস্টের তরল অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়াকে জমাটবদ্ধতা বলে। জমাটবদ্ধ হওয়ার সময় সিমেন্ট পেস্টে তাপমাত্রার পরিবর্তন সাধিত হয়। পানি দেয়ার পর থেকে সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের প্রাথমিক জমাটবদ্ধতার সময় ৪৫ মিনিটের কম হবে না এবং চূড়ান্ত জমাটবদ্ধতার সময় ১০ ঘন্টার বেশী হবে না।

৪.         সিমেন্টের নিখুঁততা (Soundness of cement) :

সাউন্ডনেস দ্বারা জমাটবদ্ধ সিমেন্ট পেস্টের সেই ক্ষমতাকে বোঝায় যা জমাট বাঁধার পর এর আয়তন বৃদ্ধিকে স্থিতিশীল রাখে। সিমেন্টে অতিরিক্ত পরিমাণে মুক্ত চুন, ম্যাগনেসিয়া ও ক্যালসিয়াম সালফেট থাকলে আয়তন বৃদ্ধি পাবে, ফলে ফাটল দেখা দেবে।

        সিমেন্টের শক্তি (Strength of cement) :

কাঠামোতে ব্যবহৃত সিমেন্টের শক্তি একটি অপরিহার্য বিষয়। কংক্রিট ও মসলার শক্তি নির্ভর করে সিমেন্টের সংশক্তি (Cohesion) বা লেগে থাকার প্রবণতার ওপর। সিমেন্ট চাপ শক্তিতে খুবই শক্তিশালী এবং টান শক্তিতে দুর্বল।

৬.         সিমেন্টের রঙ (Colour of cement) :

পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের রঙ ধূসর।

বিভিন্ন প্রকার সিমেন্টের ব্যবহার

বিভিন্ন প্রকার সিমেন্ট বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট এবং পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্টের ব্যবহারঃ

  1. কংক্রিট ও মসলা তৈরীর কাজে।
  2. যে কোন সিমেন্ট কংক্রিট ঢালাই এর কাজে। যেমন- মেঝে, ডি.পি.সি, বাঁধ, ড্রেন ইত্যাদি নির্মাণ কাজে।
  3. যে কোন আর. সি. সি. ঢালাই এর কাজে। যেমন- ছাদ, বিম, কলাম, পিয়ার, লিন্টেল, সানসেড, ভিত্তি ইত্যাদি নির্মাণ কাজে।
  4. দেয়াল নির্মান বা গাঁথুনির কাজে।
  5. সিমেন্ট প্লাস্টারের কাজে।
  6. সিমেন্ট পয়েন্টিং এর কাজে।
  7. নিট সিমেন্ট ফিনিসিং এর কাজে।
  8. সিমেন্ট বেজড পেইন্ট তৈরীর কাজে।

অন্যান্য কয়েকটি সিমেন্টের ব্যবহারঃ

সিমেন্টের নাম ব্যবহার
সাদা সিমেন্ট
  • মোজাইক, ফ্লোর ফিনিশ, আস্তর ইত্যদি কাজে।
  • দেয়ালে রঙ এবং কারুকার্যময় কাজে।
  • মার্বেল ও সাদা টালি তৈরীর কাজে।
রঙ্গিন সিমেন্ট
  • সৌন্দর্যবর্ধক কাজে।
  • সুইমিং পুল, ফোয়ারা, গোসলখানা, টেনিস কোর্ট, মেঝে ইত্যাদির কাজে।
দ্রুত জমাট বাঁধনক্ষম সিমেন্ট
  • পানির নীচে এবং চলন্ত পানিতে কংক্রিটের ঢালাই কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন- পিয়ার, এবাটমেন্ট ইত্যাদি নির্মাণ কাজে।
দ্রুত কঠিনক্ষম সিমেন্ট
  • যেখানে কাঠামো তাড়াতাড়ি শক্ত হওয়া দরকার অর্থাৎ ফর্ম ওয়ার্ক বা সাটারিং তাড়াতড়ি খুলে ফেলা দরকার সেখানে এ সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়। যেমন- কংক্রিটের রাস্তা, ড্রেন ইত্যাদি নির্মান কাজে।
সালফেট রোধী সিমেন্ট
  • যেখানে ক্ষতিকারক লবণ বেশি থাকে। অর্থাৎ সমূদ্রের পানির সংস্পর্শে বা নদীর মোহনায় সেতু, বাঁধ, ক্যানেল (খাল) লাইনিং, সাইফোন ইত্যাদি নির্মাণের কাজে।

৫.৬ সিমেন্টের ফিল্ড টেস্ট প্রণালি

সব সময় সিমেন্টের ল্যাবরেটরি পরীক্ষা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেক্ষেত্রে মাঠ পরীক্ষার মাধ্যমে সিমেন্টের গুণাগুণ যাচই করা সম্ভব। নিম্নে মাঠ পরীক্ষার কতগুলো পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-

  1. সিমেন্টের ব্যাগের ভেতর হাত প্রবেশ করালে ঠান্ডা অনুভূত হবে। তবে কারখানা থেকে সদ্য ব্যাগে ভরা সিমেন্ট গরম হবে।
  2. এক মুষ্টি সিমেন্ট পানিতে ছেড়ে দিলে তা না ভেঙ্গে ডুবে যাবে।
  3. দু’আঙুলের মাঝে শুষ্ক সিমেন্ট নিয়ে ঘষলে সিল্কি বা পিচ্ছিল মনে হবে। দানাদার মনে হলে সিমেন্ট ভালো নয়।
  4. দু’আঙুলের মাঝে সিমেন্ট পেস্ট নিয়ে ঘষলে আঠালো মনে হবে।
  5. সিমেন্টের রং ধূসর না হয়ে লালচে বা কালচে হলে বুঝতে হবে তাতে অপদ্রব্য মিশ্রিত আছে।
  6. নাকে শুকলে মাটির গন্ধ পাওয়া যাবে যদি তার মধ্যে কাদা বা পলির পরিমাণ বেশী থাকে।
  7. একটি কাঁচের প্লেটের ওপর সিমেন্ট পেস্টের পুরু প্রলেপ দিয়ে পানির নিচে ২৪ ঘন্টা রেখে দিলে তা না ফেটে বরং জমাট বেঁধে যাবে।

৫.৭ সিমেন্টের গুদামজাতকরণ

  1. সিমেন্ট বেশী দিন গুদামজাত করে রাখা ঠিক নয়।
  2. বর্ষাকালে যত কম সময়ের জন্য গুদামজাত করা যায় ততই ভালো।
  3. আবহাওয়ারোধী কক্ষি সিমেন্ট গুদামজাত করতে হবে।
  4. আর্দ্র মেঝে বা গুদামে সিমেন্ট গুদামজাত করা যাবে না।
  5. খালি মেঝের ওপর বা দেয়ালের গা ঘেষে সিমেন্ট গুদামজাত করা যাবে না।
  6. শুষ্ক ও উঁচু প্লাটফর্মের ওপর সিমেন্ট রাখতে হবে।
  7. উপর উপর ১০টি ব্যাগের বেশী রাখা ঠিক নয়।
  8. সিমেন্টের ব্যাগ গুদামজাত করার পর ত্রিপল দ্বারা ঢেকে রাখা উচিত।
  9. গুদামের জানালা বন্ধ রাখা ভালো।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *