Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মসলা বা মর্টার

নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মসলায় একটি ফাইন এগ্রিগেট ও একটি বাঁধুনী গুণসম্পন্ন পদার্থ থাকে। এ মিশ্রণ দিয়ে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট বা পাথরকে একটির সাথে অপরটি আটকিয়ে রাখা যায়। বিশুদ্ধ পানি দিয়ে মসলার মিশ্রণ তৈরি করতে হয়। এ অধ্যায়ে মসলা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

মসলা

সূক্ষ্ম দানার উপাদান, বন্ধন সামগ্রী এবং সাহায্যকারী উপাদানের সমন্বয়ে তৈরী সমসত্ব মিশ্রণকে মসলা বলে। সূক্ষ্ম দানার উপাদান হিসেবে বালি, সুরকি ইত্যাদি, বন্ধন সামগ্রী হিসেবে সিমেন্ট, চুন ইত্যাদি এবং সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে পানি ব্যবহৃত হয়। মসলা ইট বা পাথর গুলোকে একত্রে মজবুত ভাবে ধরে রাখে এবং এদের মাঝের শূন্যস্থান পূর্ণ করে। মর্টারের স্থায়িত্ব ও শক্তি ব্যবহৃত বন্ধন সামগ্রী এবং সূক্ষ্ম দানার উপাদানের পরিমাণ এবং গুণগত মানের উপর নির্ভর করে।

মসলার প্রকারভেদ

উপাদানের ওপর ভিত্তি করে মসলাকে নিম্নোক্ত শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা-

  1. সিমেন্ট মসলাঃ সিমেন্ট, বালি ও পানির সংমিশ্রনে এ মসলা তৈরী করা হয়।
  2. চুর্ণক মসলাঃ চুন, বালি ও পানির সংমিশ্রনে এ মসলা তৈরী করা হয়।
  3. সুরকি মসলাঃ চুন, সুরকি ও পানির সংমিশ্রনে এ মসলা তৈরী করা হয়।
  4. চুন, বালি, সুরকি মসলাঃ চুন, বালি, সুরকি ও পানির সংমিশ্রনে এ মসলা তৈরী করা হয়।
  5. যুক্ত মসলাঃ সিমেন্ট, চুন, বালি ও পানির সংমিশ্রনে এ মসলা তৈরী করা হয়।
  6. কাদার মসলাঃ কর্দমযুক্ত মাটি ও পানির সংমিশ্রনে এ মসলা তৈরী করা হয়।

 মসলার উপাদানগুলোর গুণাগুণ

  • মসলায় ব্যবহৃত বালি ধারালো, তীক্ষ্ণ, ত্রিকোণাকার, রন্ধ্রবহুল হবে এবং লবণ ও অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান থেকে মুক্ত থাকবে।
  • সুরকি পরিষ্কার ও লবণমুক্ত হবে এবং ৮নং চালুনি অতিক্রম করবে। এতে অন্যান্য অপদ্রব্য মিশ্রিত থাকবে না।
  • লবণ, পলি, কাদা এবং অন্যান্য অপদ্রব্য থেকে পানি মুক্ত হবে। খাবার পানি ব্যবহার করতে হবে।
  • চুন অবশ্যই ভালোভাবে কলিকৃত হতে হবে।
  • বিশুদ্ধ এবং সদ্য প্রস্তুত সিমেন্ট ব্যবহার করতে হবে। ভেজাল সিমেন্ট ব্যবহার করা যাবে না।

 মসলা তৈরি করতে উপাদানের অনুপাত

১.         চুন মসলা :

  • ফ্যাট লাইম => চুন : বালি = ১ : ২ থেকে ১ : ৩ (আয়তন হিসেবে)
  • হাইড্রোলিক লাইম => চুন : বালি = ১ : ২

২.         সিমেন্ট মসলা => সিমেন্ট : বালি = ১ : ২ থেকে ১ : ৬ বা বেশি, মূলত কাজের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয় শক্তির উপর নির্ভর করে।

৩.         যৌগিক মসলা => সিমেন্ট : চুন = ১ : ৬ থেকে ১ : ৮

১০.৫ বিভিন্ন গাঁথুনির কাজের মসলার অনুপাত

১.         চুন মসলা => চুন : বালি = ১ : ৩

২.         সিমেন্ট মসলা => সিমেন্ট : বালি = ১ : ৬ সাধারণ কাজে জন্য এবং ১ : ৪ উচ্চমানের কাজের জন্য

পানি-সিমেন্ট অনুপাত

কংক্রিট বা মসলা তৈরিতে পানির ওজনের সাথে সিমেন্টের ওজনের অনুপাতকে পানি-সিমেন্ট অনুপাত বলে। কংক্রিটের শক্তি পানির সিমেন্টের অনুপাতের উপর নির্ভর করে। সঠিক পানি সিমেন্ট অনুপাত একজন নির্মাতাকে কংক্রিট বা মসলার কার্যোপযোগিতা এবং শক্তির নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়। পানি-সিমেন্ট অনুপাত বেশি হলে কার্যোপযোগিতা বৃদ্ধি পায় কিন্তু কম হলে শক্তি বৃদ্ধি পায় ।

WaterCement Ratio=Weight of WaterWeight of Cement

সিমেন্টের পরিপূর্ণ পানি যোজন বিক্রিয়ার জন্য পানি-সিমেন্ট অনুপাত ০.২৫ হওয়া উচিত। তবে সাধারণভাবে পানি সিমেন্টের অনুপাত ০.৩৫ থেকে ০.৪ হওয়া উচিত কেন না এতে যথেষ্ট কার্যোপযোগিতা পাওয়া যায় এবং শক্তিও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়।

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *