কংক্রিট মিক্সচার মেশিন

নির্মাণকাজে কংক্রিটের উপাদানগুলো মেশানোর জন্য যে মেশিন ব্যবহার করা হয় তাকে মিক্সচার মেশিন বলে। দুই ধরনের মিক্সার মেশিন সাধারণত আমাদের দেশে ব্যবহৃত হতে দেখা যায় । যথা-

  1. অবিরাম মিক্সচার (Continuous Mixers)
  2. ব্যাচ বা সবিরাম মিক্সচার (Batch Mixers)

কনটিনিউয়াস মিক্সচার বড় মাপের কাজে ঢালাইয়ের সময় যেখানে বেশি পরিমাণে এবং অবিরাম কংক্রিটের প্রয়োজন হয় সেখানে ব্যবহার করা হয়। নাম থেকে বোঝা যায় এ ধরনের মিক্সচারের ক্ষেত্রে যে হারে কংক্রিট মিক্সচার থেকে বের হয় ঐ হারে কংক্রিটের উপাদান মিক্সচারে দিতে হয়। এগুলো নন-টিলটিং ধরনের ড্রাম যাতে স্ক্রু জাতীয় ব্লেড ড্রামের মধ্যে ঘূর্ণায়মান থাকে। তবে ড্রামটি বাহির মুখের দিকে সামান্য কাত করে তৈরি করা হয়। মিশ্রণের সময় ড্রামের এই ঢালের উপর নির্ভর করে (সাধারণত ১৫ ডিগ্রি)।

চিত্র  : অবিরাম কংক্রিট মিক্সার

কংক্রিট মিশ্রণের সময় অনেক কম বলে কংক্রিটে বাতাসের পরিমাণ নির্ণয় সহজ হয় না। এ ধরনের মেশিন মিশ্রণে কংক্রিট মিক্স আশানুরূপ পেতে সতর্ক তদারকির দরকার হয়। কেননা এ ক্ষেত্রে মেশিন আবর্তিত হতে থাকে এবং কংক্রিটের উপাদানগুলো মিশ্রিত হয়ে ড্রামের ভেতর থেকে বের হয়ে যন্ত্রচালিত ক্যারিয়ারে ঢালাই স্থানে চলে যায়।

ব্যাচ মিক্সচার মেশিন এর ঘূর্ণায়মান অক্ষের অবস্থান অনুসারে দুভাগে ভাগ করা য়ায়। যথা-

  1. ড্রাম মিক্সচার (আনুভূমিক বা অবনত)
  2. প্যান মিক্সচার (উল্লম্ব)

ড্রাম মিক্সচারের একটি ড্রাম থাকে এবং যাতে এর অক্ষের সাথে ঘূর্ণায়মান স্থায়ী ব্লেড থাকে। ব্লেডের কাজ হচ্ছে ড্রাম ঘুরার সময় কংক্রিটের উপাদানগুলোকে উপরে তোলা। প্রতিবার ঘুরাতে উপরে তোলা উপাদান ড্রামের নিচে চলে আসে এবং চক্র আবার শুরু হয়। প্যান মিক্সচারে ব্লেড বা প্যান থাকে যা এর অক্ষের সাথে ঘূর্ণায়মান থাকে।

ড্রাম মিক্সচার তিন ধরনের হয়। যথা-

  1. ননটিলটিং ড্রাম মিক্সচার (Non-tilting Drum)
  2. রিভার্সিং ড্রাম মিক্সচার (Reversing Drum)
  3. টিলটিং ড্রাম মিক্সচার (Tilting Drum)

চিত্র  : ব্যাচ মিক্সচার মেশিন

ননটিলটিং ড্রামে ড্রামের অবস্থানের দিক নির্দিষ্ট। উপাদানগুলো এক দিক হতে ঢুকানো হয় এবং অন্য দিক হতে বের হয়। রিভারজিং ড্রাম নন-টিলটিং এর মতোই শুধু এর কংক্রিট তৈরির উপাদান ঢুকানো এবং বের করার জন্য একই মুখ ব্যবহৃত হয়। ড্রাম-মিশ্রণের জন্য এক দিকে ঘোরে এবং মিশ্রিত কংক্রিট বের করার জন্য অন্য দিকে ঘোরে। দুইধরনের ব্লেড ড্রামের দেয়ালে লাগানো থাকে। এক সেট ব্লেড এক দিকে ঘোরার সময় কংক্রিটকে ড্রামের উপরের কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যায়। অন্য সেট ব্লেড বিপরীত দিকে ঘোরার সময় কংক্রিট বের করার জন্য ড্রামের মুখের দিকে নিয়ে আসে। রিভারজিং ড্রাম ১ ঘন মিটার কংক্রিট ব্যাচের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইদানীং ব্যবহৃত ট্রাক মিক্সচারগুলো ড্রাম মিক্সচারের এই রিভারজিং ক্যাটাগরিতে পড়ে। ট্রাকের ড্রাইভার ড্রামের ঘুরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে কংক্রিট ট্রাকে আনার আগেই মিশানো হয়েছে না ট্রাকেই মিশ্রিত হচ্ছে তার উপর ঘূর্ণায়মান গতি নির্ভর করে। সাধারণত এই গতি ১৫ আরপিএম (rpm) হয়ে থাকে। যেখানে প্রিমিক্স কংক্রিটের বেলায় ২ থেকে ৬ আরপিএম হয়ে থাকে।

মিক্সচার মেশিনের ব্যবহার

১. সাধারণ ব্যাচ মিক্স‌‌‌‌ মেশিনের ব্যবহার :

    • কংক্রিটের বিভিন্ন উপাদান পানি সহযোগে মিশিয়ে নির্দিষ্ট অনুপাতের মিশ্রণ তৈরি করতে।
    • হ্যান্ড মিক্সিং এর তুলনায় অতি অল্প সময়ে ভালো কংক্রিট মিশ্রণ পাওয়া যায়।
    • এতে শ্রম ও সময় দুটোই সাশ্রয় হয়ে থাকে।
    • এতে মিশ্রণ বেশি সুষম ও পর্যাপ্ত হয় ফলে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী কংক্রিট বৃদ্ধি পায়।
    • এতে সময় কম লাগে বিধায় কংক্রিটের ঢালাই এ পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।

২. অবিরাম মিক্সচার মেশিনের ব্যবহার :

    • নির্মাণকাজে সময় অনেক কম থাকে।
    • কংক্রিট আনলোডিং সময় অনেক বেশি।
    • খুব দূরবর্তী স্থান যেখানে রেডি মিক্স উপযুক্ত নয়।
    • কম স্লাম্পের কংক্রিটের জন্য উপযোগী যেমন- রাস্তার পেভমেন্ট।

৩. ট্রানজিট মিক্সচারের ব্যবহার :

    • কংক্রিট অনুপাত, ব্যাচিং, মিক্সিং এবং ডেলিভারি সবই সরবরাহকারী করে থাকে।
    • উচ্চতর মান নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
    • প্রশিক্ষিত কর্মী স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারে গুণগত মানসম্পন্ন কংক্রিট পাওয়া যায়।
    • নির্মাণসামগ্রী গুদামজাত করার জায়গা লাগে না বিশেষ করে সংকীর্ণ জায়গায়।
    • ঠিকাদারের কংক্রিট মিশানোর সময় এবং শ্রম সাশ্রয় করে।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *