রোমের টেকসই প্রাচীন কংক্রিটের রহস্য

প্রাচীন রোমানরা যে এ যুগের চেয়ে উন্নত কংক্রিট তৈরি করতে পারত, এ কথা হয়তো অনেকেরই জানা। আধুনিক যুগের কংক্রিট যেখানে চার-পাঁচ দশকের মধ্যে ক্ষয়ে যেতে শুরু করে, সেখানে রোমানদের তৈরি কংক্রিট শত শত বছর ধরে টিকে আছে।
যারা ইতালি ভ্রমণ করেছে, তারা প্রাচীন রোমানদের স্থাপত্য প্রকৌশলের নজির দেখার সুযোগ পেয়েছে। রোমানদের তৈরি সুপ্রাচীন রাস্তা, ভবন, মন্দির শত শত বছর ধরে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে আছে।
রোমান নির্মাণ কারিগরদের তৈরি কংক্রিটের দীর্ঘদিনের টিকে থাকার এ রহস্য উদ্ধারে এবং এ ধরনের মজবুত কংক্রিট তৈরির পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল।
গবেষকেরা জানান, আধুনিক যুগের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সিমেন্ট নির্মাতা পোর্টল্যান্ড রোমানদের কংক্রিটের কাছে নস্যি। সমুদ্রের পানিতে অবকাঠামো তৈরির সময় আধুনিক যুগের কংক্রিট ৫০ বছরের মধ্যেই ধসে যেতে শুরু করে। কিন্তু রোমানদের তৈরি কংক্রিট দিব্যি টিকে আছে শত শত বছর ধরে।
ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো রহস্য হয়ে ছিল দীর্ঘস্থায়ী রোমান কংক্রিটের ফর্মুলা। আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল এ রহস্য উদ্ধার করার দাবি করে জানান, ভবিষ্যতের ভবন তৈরিতে ও শহরের বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে দীর্ঘস্থায়ী এ কংক্রিটের ফর্মুলা। এক দশকের বেশি সময় ধরে ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা রোমান কংক্রিট তৈরির পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন।
‘আমেরিকান সিরামিক সোসাইটি অ্যান্ড আমেরিকান মিনারেলজিস্ট’ সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে গবেষকেরা জানান, কংক্রিট তৈরিতে চুনাপাথর ও আগ্নেয় শিলা ব্যবহার করত রোমানরা। তাদের কংক্রিটের সঙ্গে মেশানো চুনাপাথর ও আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের মিশ্রণে সমুদ্রের লোনা পানি ব্যবহূত হতো, যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্ত কাঠের মতো দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো তৈরি করত। বর্তমানে কংক্রিট তৈরিতে আগ্নেয় শিলা ও চুনাপাথরের মতো উপাদান ব্যবহূত হয় না।
গবেষকেরা জানান, কংক্রিট তৈরির বা কংক্রিটের উপাদান তৈরির সময় বাতাসে যাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেশি ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখত রোমানরা। কিন্তু বর্তমান সময়ে সিমেন্ট তৈরির কারখানাগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় এবং তা পরিবেশের ক্ষতি করে।
গবেষকেরা আশা করছেন, রোমানদের মতো প্রাচীন কংক্রিট তৈরির পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব হলে দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিট পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা করা সম্ভব হবে। গবেষকেরা রোমানদের নির্মাণ ও কংক্রিট তৈরির কৌশল নিয়ে আরও গবেষণা করবেন।

সুত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-06-18/news/361361