Editor Choice

Featured post

Nov 12

Continue reading
Top Viewed

Post title

Nov 11

This is a wider card with supporting text below as a natural lead-in to additional content.

Continue reading
Card image cap
Card image cap
বাড়ির নকশায় যুক্ত হচ্ছে ‘রেইন হার্ভেস্টিং’ ( রাজউক )
engr.tushar - 04 Aug 2017

রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং

রাজধানীর ভবনগুলোয় বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। নতুন করে বাড়ির নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ভবনের ছাদ বা নিচে ‘রেইন রিজার্ভর’ এর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিকে ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ বলা হচ্ছে। এ জন্য ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও গৃহায়ণ বিধিমালায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হলেও এ নিয়ে নীতিমালা ও ধারণা না থাকায় এখনও আবাসন কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বিরাজ করছে।

জানতে চাইলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজউক যে বিষয়টি বলছে এই সম্পর্কে আমার কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই। অন্যদেরও ধারণা আছে বলে আমার মনে হয়নি। তাহলে আমরা এটা নিয়ে কিভাবে সামনে এগোবো। আগে আমাদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হোক। এরপর সিদ্ধান্ত।’

তবে নতুন এ পদ্ধতি সংযুক্ত করেই বাড়ি নির্মাণের জন্য রাজউকের ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮’ সংশোধন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ‘রেইন হার্ভেস্টিং’ এর বিষয়টি সংযুক্ত করা হবে। তাছাড়া, বিধিমালায় নতুন করে আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত ও বাদ দেওয়া হবে। রাজউক ও নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে ছাদ বা ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড পানির ধারক হিসেবে কাজ করে। ছাদে বৃষ্টির পানি ধারণ করার পর তা চলে যাবে রিজার্ভারে। এই পদ্ধতিতে তুলনামূলক খরচ কম। উপরন্তু, এতে ১৫-২০ শতাংশ পানির চাহিদা পূরণ হবে। কমবে জলাবদ্ধতা।

রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) মো. আসমাউল হোসেন বলেন, ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও সংকট দূর করতে সংশোধিত বিধিমালায় বৃষ্টির পানি ধারণ করতে বিধান রাখা হচ্ছে। রেইন রিজার্ভারের পানি গৃহস্থালির পাশাপাশি বাড়ির বাগান ও অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে। ভবন নির্মাণের জন্য যখন নকশা অনুমোদন দেওয়া হবে তখন এই শর্তটি থাকবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাসার আন্ডারগ্রাউন্ডে ৫০০ বর্গমিটার বা তার কম জায়গা হলে ওই শর্তটি পালনে বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এছাড়া, পুরোনো ভবনের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা বাধ্যতামূলক না হলেও কেউ আগ্রহী হলে সেই নকশা নবায়ন করে দেওয়া হবে। রাজউক জানিয়েছে, এরই মধ্যে রাজউকের উত্তরার ৭৯টি অ্যাপার্টমেন্টে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, আবাসন প্রকল্পগুলোতেও জলাশয় ও খোলা জায়গা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূগর্ভে বৃষ্টির পানি রিজার্ভ হবে।

রাজউকের কর্মকর্তারা বলছেন, সংকট মেটাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিষয়টি রাজউকের পরিকল্পনায় মাত্র আসলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতিটি চালু রয়েছে। প্রতিবেশী ভারতসহ অনেক দেশে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের নজির রয়েছে। এ জন্য শহরগুলোর সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে বিভিন্ন প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফেরও উদাহরণ রয়েছে অনেক দেশে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান জানিয়েছেন, ওয়াসার ৮৬ শতাংশ পানি আসে ভূগর্ভ থেকে। বাকি ১৪ শতাংশ পানি আসে নদী থেকে। ফলে দিন দিন ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। স্তর নেমে যাওয়ায় ওয়াসার নলকূপগুলো পানিও পাচ্ছে না। নগরবাসীর পানি সংকট দূর করতে ঢাকা ওয়াসাকে অনেক দূর থেকে নদীর পানি শোধন করে তা সরবরাহ করতে হয়। এ অবস্থায় নদীর ১৪ শতাংশের সঙ্গে বৃষ্টির ১৫-২০ শতাংশ জল যুক্ত করা গেলে ভূগর্ভের পানির উপর নির্ভরতা কমবে।

সম্প্রতি ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে আমরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। এক লাখ অ্যাপার্টমেন্টের ছাদে বৃষ্টির পানির রিজার্ভার করার পরিকল্পনা নিয়েছি। রাজউকের যতগুলো বিল্ডিং হচ্ছে সবগুলোতে রেইন হার্ভেস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় সংশোধন আনা হচ্ছে। আমার বৃষ্টির পানি আমার কাছে থাকবে, কোথাও যাবে না। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি বাড়িতে রেইন হার্ভেস্টিংয়ের ব্যবস্থা করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজউক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি, সামনে কোনও রেইন হার্ভেস্টিং ছাড়া প্ল্যান পাস না করতে।’

নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে আসার পর সম্প্রতি পূর্তমন্ত্রী রাজউককে আগামীতে অনুমোদন দেওয়া প্রতিটি বাড়ির নকশায় রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই পদ্ধতিতে বৃষ্টির পানি যখন ছাদে আটকে রাখা যাবে, তখন তা আর রাস্তায় আসবে না। জলাবদ্ধতা কমবে। এতে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিকভাবে আমরা লাভবান হওয়া যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পানি ওয়াসার নলকূপের পানির চেয়ে অনেক বিশুদ্ধ। খাওয়ার উপযোগী। এরপরও এই পানি ছাদ থেকে নামিয়ে আনার সময় ফিল্টারিং করার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া অন্যভাবেও তা করা যায়। বছরের ছয় মাস যদি বৃষ্টির পানি ব্যবহার করা যায়, তাহলে অনেক খরচ কমে আসবে। ওয়াসার বিল কমবে। বাড়িওয়ালারা রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের জন্য যে টাকা ইনভেস্ট করবেন, তা দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে উঠে আসবে।’ এভাবে বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় পানি (জলাবদ্ধতা) ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) নির্বাহী সদস্য ও নগর বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মানুষের বাড়িতে আগে উঠোন ছিল। সেখান থেকে পানি ভূগর্ভে চলে যেত। কিন্তু এখন সেই ব্যবস্থা নেই। খোলা মাঠ নেই। আছে ছাদ। ছাদ থেকে পানি চলে যাচ্ছে রাস্তায়। ফলে জলজটের সৃষ্টি হয়। এই পানি দীর্ঘক্ষণ আবদ্ধ থাকার ফলে রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনা বাড়ে। প্রত্যেক বাড়িওয়ালা যদি এই পদ্ধতি অবলম্বন করেন, তাহলে জলজট আর থাকবে না।’

তবে এ নিয়ে এখনও হাউজিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং’ বিষয়ক তৃতীয় বাংলাদেশ কনভেনশনে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল বলেন, ‘এ সম্পর্কে সঠিক নীতিমালা ও ধারণা না থাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ নিয়ে এখনও ভবন নির্মাতাদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। এখন এর কোনও ব্যবহার দেখছি না। এই পানি গাড়ি ধোয়া ও বাগানে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারি। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হলে আমাদের বিল্ডিং নির্মাণ খরচ বেড়ে যাবে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে ফ্ল্যাটের দামও বাড়বে।’
সুত্র: বাংলাট্রিবিউন

Card image cap
ঢাকার অর্ধেকের বেশি সড়ক নষ্ট
engr.tushar - 04 Aug 2017

গত সপ্তাহে টানা বৃষ্টির পর রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে হাঁ হয়ে বেরিয়ে এসেছিল বড় বড় গর্ত। গত দুদিনের বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। বাসের চাকা পর্যন্ত আটকে যাচ্ছে এসব গর্তে। যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় যানজট তৈরি হচ্ছে। তীব্র ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের অবস্থা কাহিল।
রাজধানীর প্রধান সড়ক কিংবা গলিপথ—প্রায় সবখানেই এখন এই অবস্থা, চলাচলে স্বস্তি নেই। পাঁচটি মূল সড়কের চারটিতেই চলাচলের জন্য কষ্ট। সব মিলিয়ে রাজধানীর প্রায় ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার সড়কের অর্ধেকের বেশিই এখন বেহাল।
গত মঙ্গল ও বুধবার এসব সড়ক ঘুরে এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতির জন্য নগরবিদ ও প্রকৌশলীরা অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের রক্ষণাবেক্ষণকে দায়ী করেছেন। তাঁরা বলছেন, সঠিক উপায়ে মেরামত করলে ক্রমান্বয়ে মেরামতযোগ্য সড়কের পরিমাণ ও ব্যয় কমে আসার কথা।
কিন্তু দুই সিটি করপোরেশনের সড়ক মেরামতের চিত্র বলছে, প্রতিবছর মেরামতযোগ্য সড়কের পরিমাণে তেমন হেরফের হচ্ছে না, বরং প্রতিবছরই বরাদ্দ বাড়ছে। গত বছর দুই সিটি করপোরেশন ৫২০ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করেছে। চলতি বছর ৫১৯ কিলোমিটার মেরামতের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গত অর্থবছরে দুই সিটির সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানীবাসীকে স্বস্তি দিতে এই ভরা বর্ষায়ও কোনো সুখবর নেই। এখন সিটি করপোরেশন বড় বড় গর্তে আস্ত ইট ফেলছে। কিন্তু এতে পরিস্থিতির বদল হচ্ছে না। ইট দিয়ে রাস্তার গর্ত ভরাট, বর্ষার পানি আর চাকার ঘর্ষণে তা আবারও নষ্ট হওয়া—এই চক্রেই দিন পার করতে হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বলছে, শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী মেরামতের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। 
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ উড়ালসড়ক ও মগবাজার-মৌচাক-শান্তিনগর উড়ালসড়কের নিচের সড়ক প্রায় পাঁচ বছর ধরেই বেহাল। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ দুই উড়ালসড়কের নিচের সড়কের কিছু কিছু স্থানে গর্ত এতটাই গভীর যে নতুন করে নির্মাণ না করলে স্বাভাবিক অবস্থায় আনা যাবে না। মগবাজার উড়ালসড়কের নিচের সড়ক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। ফলে এই সড়ক চালু রাখার বিষয়টি ঠিকাদারের সদিচ্ছার ওপরই ছেড়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
ঢাকায় মোটা দাগে মূল সড়ক পাঁচটি। এগুলো হচ্ছে কুড়িল থেকে প্রগতি সরণি হয়ে রামপুরা ও যাত্রাবাড়ী; আবদুল্লাহপুর থেকে মহাখালী ও ফার্মগেট হয়ে প্রেসক্লাব; গাবতলী থেকে আজিমপুর; মহাখালী থেকে মগবাজার হয়ে গুলিস্তান এবং পল্লবী থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত সড়ক। এর মধ্যে আবদুল্লাহপুর থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত সড়কটিই একটু ভালো। এই পথে রাষ্ট্রীয় অতিথি, ভিভিআইপি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচল সবচেয়ে বেশি।
রাজধানীর প্রায় সব সড়কই সিটি করপোরেশনের অধীনে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। এর বাইরে বিমানবন্দর সড়কের বনানীর পরের অংশসহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে থাকা সড়ক ৫০ কিলোমিটারের বেশি নয়। এর মধ্যে গাবতলী-সদরঘাট বেড়িবাঁধের অবস্থা বেশি খারাপ।
এ বছর বর্ষা শুরুর আগে কতটুকু সড়ক বেহাল, তা হিসাব করে দুই সিটি করপোরেশন মেরামতের পরিকল্পনা করে। এতে দেখা গেছে, ৫১৯ কিলোমিটার সড়ক বেহাল, অর্থাৎ মেরামত করতে হবে। এর মধ্যে উত্তরে ২৫০ এবং দক্ষিণে ২৬৯ কিলোমিটার। এ ক্ষেত্রে প্রায় ২২ শতাংশ সড়ক বর্ষার আগে মেরামতের জন্য রাখা হয়েছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই সিটির প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, ভারী বৃষ্টিপাত আর জলাবদ্ধতার পর এখন অর্ধেকের বেশি সড়কই বেহাল। এর বাইরে গত শুষ্ক মৌসুমে শুরু হওয়া প্রায় ৫০০ স্থানে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
গত দুই দিন প্রথম আলোর দুজন প্রতিবেদক ও তিনজন আলোকচিত্রী উত্তর সিটির গাবতলী, মাজার রোড, দারুস সালাম, আগারগাঁও, মিরপুর ১২ নম্বর, মহাখালী, সাতরাস্তা এবং দক্ষিণ সিটির মিরপুর রোড, রামপুরা, বনশ্রী, বাসাবো, মাদারটেক, মৌচাক মোড় ও মালিবাগ এলাকা ঘুরেছেন। এতে দেখা গেছে, এসব এলাকার দুই-তৃতীয়াংশ সড়কেই গর্ত, ভাঙাচোরা ও খোঁড়াখুঁড়ির মহোৎসব চলছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুদরত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে অনেক সড়কে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশি গর্ত হয়েছে এমন সড়কগুলোতে ইট বিছিয়ে চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইট, বালু দিয়ে আপত্কালীন এই সংস্কারকাজ সিটি করপোরেশন নিজস্ব জনবল দিয়ে করছে। শুষ্ক মৌসুমে ভারী মেরামত করা হবে।
প্রায় একই কথা বলেন দক্ষিণের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার বৃষ্টি বেশি হয়েছে। তাই সড়কে গর্তও বেশি হয়েছে। এখন তাঁরা সাময়িক মেরামতের ওপরই জোর দিচ্ছেন।
রক্ষণাবেক্ষণের গলদের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর সিটির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুদরত উল্লাহ বলেন, সিটি করপোরেশন সাধারণত একই সড়ক পরপর দুই বছর সংস্কার করে না। রক্ষণাবেক্ষণ না করলে ঢাকার সড়কে চলাচল করা যেত না। 
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত নতুন সড়ক ঠিকভাবে নির্মাণ করা হলে ১৫-২০ বছর হাত দিতে হয় না। ঢাকার সড়ক যেহেতু পুরোনো, তাই একবার ভারী মেরামত করলে ৬-৮ বছর টিকে থাকার কথা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক আকতার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, শুধু জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের এই অবস্থা হয়েছে, সেটি ঠিক নয়। ভারী যানবাহন চলাচল এবং নিম্নমানের কাজের কারণেও সড়ক ভেঙেছে। বছরের শুরুতেই সিটি করপোরেশনের সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির একটি পথনকশা বা রোডম্যাপ থাকলে এমন হতো না। এ ক্ষেত্রে সময় অনুযায়ী কাজ শুরু ও শেষ করতে হবে এবং অবশ্যই বর্ষা মৌসুমে সড়ক খোঁড়া বন্ধ রাখতে হবে।
সুত্র প্রথম-আলো

Card image cap
তিনশ ফুট সড়কে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান
engr.tushar - 04 Aug 2017
  • বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা থেকে সড়কের বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির সামনে থেকে এ অভিযান শুরু হয়।

    অভিযানে ১০০ ফুট খাল খনন প্রকল্প এলাকায় গড়ে তোলা কয়েকটি ভবন ভেঙে দেওয়া হয়। এসব ভবনে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ গড়ে তোলা হয়েছিল। এছাড়া পুলিশ হাউজিংয়ের সামনেও দুটি ভবন ভাঙা হয়েছে অভিযানে।
    বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের সামনের সীমানা দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়।

    রাজউকের কর্মকর্তারা আরও একটি ভবনের সামনের সীমানা দেয়াল অভিযানের দ্বিতীয় দিনে ভাঙার কাজ শুরু হবে বলে সেদিন জানালেও বৃহস্পতিবারের অভিযানে সেসব বাড়ির দেয়াল ভাঙা হয়নি।

    রাউজকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পার্শ্বে ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম জানান, প্রথমে সড়কের উত্তর পাশে খালের জায়গা খালি করবেন তারা।

     

    “সড়কের উত্তরপাশটা প্রায় ফাঁকা। সে কারণে সেখানে আগে উচ্ছেদ করে আমরা খাল খননকাজ শুরু করতে চাই।”

     

    বসুন্ধরা গ্রুপের লোকজন বাড়িতে থাকা যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিতে মৌখিকভাবে সময় চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

    “আমরা যেখানে অভিযান চালাব, সেখানে কিছু ভারী যন্ত্রপাতি আছে। তারা আমাদের কাছে মৌখিকভাবে সময় চেয়েছেন এসব যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার জন্য।”

    কুড়িল-পূর্বাচল তিনশ ফুট সড়কের দুপাশে প্রায় ১৫০টির মতো স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান নুরুল ইসলাম। এসব স্থাপনা পুরোপুরি উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

    রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসির উদ্দিন আহমেদসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১০০ ফুট খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের কর্মকর্তা এবং সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

Card image cap
রাজধানীর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সংরক্ষণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
engr.tushar - 03 Aug 2017

০২ আগস্ট, ঢাকা : যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে রাজধানীর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনে কোনো স্থাপনা ভেঙে নতুন করে নির্মাণ বা সংরক্ষণ বা সংস্কারের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দেন।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও রাজউকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফকালে এ কথা জানান।

বৈঠকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে ৯৩টি স্থাপনার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইবরাহীম হোসেন খান, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার ও রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তথ্যসূত্র : বাসস

Card image cap
৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে মারা যাবে ৮৮ হাজার মানুষ
engr.tushar - 31 Jul 2017

পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। ছবি : এনটিভি

শহরাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে যত্রতত্র মাটি ভরাট করে নির্মিত দালান। এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। তাঁর মতে, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন না করা গেলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। অন্যদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বজ্রপাতের দুর্যোগ ঠেকাতে ব্যাপকভাবে তালগাছ লাগানোর উপর জোর দেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনের প্রথম দিনে এসব বিষয় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী জানান, মধুপুর ফল্টে যদি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয় তবে তাতে ঢাকায় সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়বে প্রায় ৭২ হাজার দালান। আর সেই ভূমিকম্প যদি রাত ২ নাগাদ হয় তাতে মারা যেতে পারে ৮৮ হাজার মানুষ।

খ্যাতিমান এ নগর পরিকল্পনাবিদ  আরো জানান, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলে হওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার। এ বিষয়ে অনেক দেশি-বিদেশি গবেষক তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন সাম্প্রতিক সময়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘শুধু ভবন ভূমিকম্প সহনীয় হলে হবে না। যে ধরনের মাটির ওপরে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটাও যাতে লোডটা নিতে পারে। আমি এটা উল্লেখ করছি এজন্য যে, শুধু ঢাকা না, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় জলাভূমিকে ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ওগুলোতে কিন্তু ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বেশি। একবার নির্মাণ হয়ে গেলে এটাকে ঠিক করা সম্ভব না বা আবার ভূমিকম্প সহনীয় পর্যায়ে আনতে প্রচুর টাকাপয়সা লাগবে ঠিক করতে। এটাকে রেট্রোফিট করা বলে। সেজন্য ডিজাইনের সময় নির্মাণের সময় এই পয়েন্টগুলো মনে রাখতে হবে। যেটা বিল্ডিংকোডে বলা আছে।’ 

জামিলুর রেজা চৌধুরীর মতে অন্য অনেক দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথেষ্ট সাফল্য দেখালেও ভূমিকম্পের ব্যাপারে এখনো উদাসীন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ভূমিকম্পের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও তিনি অন্যান্য দুর্যোগের ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। আশংকা প্রকাশ করেন সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাম এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়া নিয়ে। বজ্রপাত ঠেকাতে তিনি তালগাছ লাগাতে পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে মায়া বলেন, ‘আমরা বলছি বাংলাদেশে পাঁচ লাখ তালগাছ লাগাতে হবে। আগে ঠাডা মারলে বজ্রপাত হলে তালগাছে পড়ে। তাই প্রত্যেক গ্রামে-গঞ্জে তালগাছ লাগাব আমরা।’

কনভেনশনের আরেকটি সেশনে ভূমিধস ঠেকাতে মানুষের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার ওপর জোর দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Card image cap
ট্রান্সফরমার তৈরী
engr.tushar - 17 Jun 2017
পাওয়ার ট্রান্সফরমার তৈরী করবার হিসাব নিকাশ (ক্যালকুলেটর সহ)
পাওয়ার ট্রান্সফরমার তৈরী করবার হিসাব নিকাশ (ক্যালকুলেটর সহ)

ভূমিকা

পাওয়ার তৈরী করতে চান অনেকেই। এই লেখার মাধ্যমে এটি তৈরী করবার প্রয়োজনীয় ক্যালকুলেশন দেখাবো। সেই সাথে এই ক্যালকুলেশন প্রকৃয়াটি সহজ করবার জন্য একটি ক্যালকুলেটর ও দেবো। এবং এই ক্যালকুলেটর টির ব্যবহার উদাহরণ সহ দেখাবো। তার আগে এর বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ, গঠন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চলুন জেনে নেই।

কাকে বলে

আমরা জানি, পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্টেপ আপ অথবা স্টেপ ডাউন করতে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, ট্রান্সফরমার এর ধরন অনুযায়ী প্রাইমারিতে প্রদত্ত কে সেকেন্ডারিতে বাড়ায় অথবা কমায়।

ট্রান্সফরমার কত প্রকার

কোর এর আকার, ব্যবহার ও কাজের প্রকারভেদে অনেক ধরণের পাওয়ার ট্রান্সফরমার রয়েছে। যেমন,

  • ল্যামিনেটেড (E-I) কোর,
  • টরোয়ডাল কোর,
  • অটো ট্রান্সফরমার,
  • ভেরিয়েবল ট্রান্সফরমার।
  • এছাড়াও রয়েছে উচ্চ ফ্রিকুয়েন্সি ফেরাইট কোর ট্রান্সফরমার।

ফেরাইট কোর সাধারণত SMPS ও কনভার্টারে বহুল ব্যবহৃত হয়।

পাওয়ার টান্সফরমার ছাড়াও আরো অনেক রকম ট্রান্সফরমার রয়েছে। যেমন –

  • কারেন্ট ট্রান্সফরমার
  • ইন্সট্রুমেন্ট ট্রান্সফরমার,
  • পালস ট্রান্সফরমার,
  • আরএফ ট্রান্সফরমার,
  • অডিও ট্রান্সফরমার ইত্যাদি।

নিচের চিত্রে E-I কোর ট্রান্সফরমার, টরোয়ডাল ট্রান্সফরমার, ভেরিয়েবল ট্রান্সফরমার বা VARIAC এর ছবি দখতে পাচ্ছেন-

E-I কোর ট্রান্সফরমার, টরোয়ডাল ট্রান্সফরমার, ভেরিয়েবল ট্রান্সফরমার বা VARIAC
চিত্রে বাম থেকে E-I কোর ট্রান্সফরমার, টরোয়ডাল ট্রান্সফরমার, ভেরিয়েবল ট্রান্সফরমার বা VARIAC

আমরা লেমিনেটেড E-I কোর ট্রান্সফরমার ডিজাইন, তৈরী কৌশল ও হিসাব নিকাশ নিয়ে আলোচনা করব। ট্রান্সফরমার তৈরী বা ডিজাইন করতে প্রথমে অনেক হিসেব নিকেশ করে নিতে হয়, যা বেশ সময় সাপেক্ষ। এই কাজকে সহজ করতে আপনাদের জন্য একটি স্প্রেডশিট ক্যালকুলেটর দিলাম। এখন মিনিটেই হিসাব করে ফেলতে পারবেন। ক্যালকুলেটর টি লেখার শেষে লিংক আকারে দেয়া আছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ট্রান্সফরমার তৈরির আগে কিছু বিষয় জানা থাকা দরকার। আমাদের দেশে পাওয়ার লাইনে (বাসা-বাড়ির লাইনে) ২২০ ভোল্ট ৫০ হার্জ থাকে। একটি ট্রান্সফরমার কে ঠিক যে ফ্রিকুয়েন্সির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, তার চাইতে কম বা বেশি ফ্রিকুয়েন্সিতে কিছুতেই চালানো উচিত নয়। কারন এতে করে ট্রান্সফরমারটিতে ওভার কিংবা লো ভোল্টেজ এফেক্ট এর মত এফেক্ট পড়বে এবং ট্রান্সফরমারটি অনেক গরম হবে, এমনকি সেটি ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে।

প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কিভাবে নির্ণিত হয়

ট্রান্সফরমারের যে কয়েলে ইনপুট ভোল্টেজ দেয়া হয় তাকে প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং বা প্রাইমারি কয়েল বলে। আর যে কয়েল থেকে আউটপুট ভোল্টেজ নেয়া হয় তাকে বলে সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং বা সেকেন্ডারি কয়েল বলে। প্রাইমারি কয়েলে যখন পাওয়ার ইনপুট দেয়া হয় তখন প্রাইমারি কয়েলের চতুর্দিকে ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স বা তরিচ্চুম্বকীয় আবেশ তৈরি হয়। আর ট্রান্সফরমারের কোর এই ম্যাগনেটিক ফ্লাক্সের জন্য একটি পরিবাহী হিসেবে কাজ করে।

নিচের চিত্রে দেখুন সবুজ কালী দিয়ে ম্যাগনেটিক ফ্লাস্ক কে ট্রান্সফরমার এর কোরের মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হতে দেখা যাচ্ছে। নীল কালি দিয়ে এর সেকেন্ডারি ও লাল কালী দিয়ে এর প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং দেখানো হয়েছে।

কোর এর মধ্যদিয়ে ম্যগনেটিক ফ্লাস্ক প্রবাহিত হচ্ছে
কোর এর মধ্যদিয়ে ম্যগনেটিক ফ্লাস্ক প্রবাহিত হচ্ছে

মূলনীতি

ফ্যারাডের সূত্রানুসারে-

একটি পরিবাহী এবং একটি চুম্বকক্ষেত্রে যখন আপেক্ষিক গতি এরূপ বিদ্যমান থাকে যে পরিবাহীটি চুম্বকক্ষেত্রকে কর্তন করে তবে পরিবাহীতে একটি EMF আবিষ্ট হয়। যার পরিমান ফ্লাক্স কর্তন এর বা ফ্লাক্স পরিবর্তনের হারের সাথে সরাসরি সমানুপাতিক।

কোরের মাধ্যমে এই ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স সেকেন্ডারি কয়েলে আবিষ্ট হয়ে ভোল্টেজ ও কারেন্ট তৈরি করে।

ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারিতে বিদ্যুচ্চুম্বকীয় আবেশন প্রকৃয়া
ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারিতে বিদ্যুচ্চুম্বকীয় আবেশন প্রকৃয়া

ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন অংশ সমূহ

নিচে এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ সমূহের বর্ণনা করা হলো।

কোর

ম্যাগনেটিক মেটারিয়াল দিয়ে তৈরী হয় এটি। বিভিন্ন আকার ও গঠনের হয়ে থাকে। যেমন, E-I কোর, U-T কোর, EE কোর, টরোয়ডাল কোর ইত্যাদি। নিচের চিত্রে টরোয়েড কোর ও E-I কোর দেখতে পাচ্ছেন-

টরোয়েড কোর ও E-I কোর
টরোয়েড কোর ও E-I কোর

কন্ডাক্টর

সাধারণত এনামেল ইন্সুলেশন যুক্ত কপার কন্ডাক্টর ব্যবহৃত হয়। এলুমিনিয়াম তার ও ব্যবহার করা যায়। সেক্ষেত্রে এলুমিনিয়াম কন্ডাক্টরের ব্যাস কপার কন্ডাক্টরের ব্যাসের 1.26 গুন বেশি হতে হবে। কারণ এলুমিনিয়াম তারের কারেন্ট কন্ডাক্টিভিটি কপারের 61%।

ববিন

ববিন এর উপরে কন্ডাক্টরকে কয়েল আকারে পেঁচানো হয়। বিভিন্ন আকারের প্লাস্টিকের ববিন বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। সঠিক মাপের ববিন বাজারে কিনতে না পাওয়া গেলে হার্ড বোর্ড, ফাইবার বোর্ড ইত্যাদি দিয়ে নিজেও তৈরি করে নিতে পারেন। নিচের চিত্রে বাজারে পাওয়া যায় এমন বিভিন্ন সাইজের ববিন এর চিত্র দেখানো হলো-

বিভিন্ন রকম ট্রান্সফরমার ববিনের চিত্র
বিভিন্ন রকম ট্রান্সফরমার ববিনের চিত্র

হাতে তৈরি ববিনের চিত্র নিচে দেখা যাচ্ছে-

হাতে তৈরী করা ট্রান্সফরমারের ববিন

Card image cap
মেঝে ঢালাই করার নিয়ম
engr.tushar - 21 Apr 2017

আর সি সি কাজের জন্য কংক্রিট মিশ্রণ সাধারনত ১:২:৪ অনুপাতে হওয়া ভালো। ১ ভাগ সিমেষন্ট, ২ ভাগ বালু এবং ৪ ভাগ খোয়া ওজন হিসেবে মাপা হবে। এ রকম মিশ্রণ প্রতি বস্তার হিসেবে বানানো উচিত এবং পানি সর্বাধিক ২৫ লিটার হবে। মূলত: ওজনভিত্কি মাপ নেওয়া উচিত হলেও সাধারণ কাজের জন্য আয়তন হিসাবেও মাপা যায়। খোয়া অথবা বালুর জন্য কাঠের ফর্মা ব্যবহার করা উচিত। ফর্মার আকার হবে, ৩৫ সেমিল্প২৫ সেমিল্প৪০ সেমিল্প ৩৫ লিটার। যেটা কিনা একবস্তার হিসাব, এই হিসেবে বানালেই সুবিধে। এবার একবস্তা সিমেন্টে ১.৫ ফর্মা বালু এবং ৩ ফর্মা খোয়া ঢালুন। ১:৫:৩ মশলা তেরী হয়ে যাবে;।

যদি মিকচার মেশিন দিয়ে তৈরী করা হয় তাহলে কমপক্ষে ২ মিনিট মশলাটা মিশাতে হতে যতক্ষন পানির সাথে মশলা একেবারে মিশে না যায়।

যদি মিশ্রণ হাত দিয়ে তৈরী করা হয় তাহলে পাকা মেঝেতে সিমেন্ট বালুর মিশ্রণ ভাল করে তৈরী করে নিন, তারপর খোয়া মিশিয়ে পানি মিশিয়ে মশলা তৈরী করুন। যদিও এটি গুণগত মানসম্পন্ন কংক্রিট পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ ঝুঁকিপূর্ন।

সেটিং শুরু হওয়ার আগে ঢালাই হয়ে যাওয়া উচিত। আধা ঘন্টা থেকে ১ ঘন্টার মধ্যে ঢালাই হয়ে গেলে ভাল। দেরী হয়ে গেলে ঢালাই ব্যবহার উপযোগী বানাবার জন্য অতিরিক্ত পানি মেশানো এবং তারপর ব্যবহার করা ভুল। লক্ষ্য রাখা উচিত পিলারে ঢালাই ১.৫ মিটারের বেশী উপর থেকে ঢালা উচিত না, এতে সমস্ত সামগ্রী আলাদা হয়ে যাবে। ঢালাই করার পর তা নিরেট হওয়া উচিত যাতে ফাঁক ফোকর না থাকে। এজন্য নিডল ভাইব্রেটর অথবা লোহার রড দিয়ে ঠাসাই করা উচিত।

মেঝে ঢালাই: মেঝে ভিটি বালু দিয়ে ভরাট করে ভাল করে দুরমুজ করতে হবে ও পানি দিতে হবে যাতে কোন অংশ দুর্বল না থাকে। এরপর ইট বিছিয়ে কংক্রিট ঢালাই করতে হবে, ঢালাই ৩ ইঞ্চি পুরু হবে।

 

ছাদ ঢালাই: পুরো ছাদের সাটারিং একবারে করতে হবে। ১ ফুট পর পর মোটা বাঁশ দিয়ে ঢেকনা দিতে হবে যাতে ছাদ ও বীমের ফরমা যথেষ্ট মজবুত হয়। ফরমা সমতল হয়েছে কি না তা লেবেল দিয়ে যাচাই করে নিতে হবে।ষ রডের কাজ সম্পন্ন করে ঢালাই এক দিনে সম্পন্ন করতে পারলে ভালো। ছাদ ও বীমের ঢালাই এক সঙ্গে করা উচিত। ছাদ৪-৮ ইঞ্চি পুরু হতে পারে। ২১ দিন পর ফরমা খোলা যেতে পারে। ঢালাইর একদিন পরই ছাদের উপরিভাগে পানি ধরে রেখে কিউরিং করতে হবে।

ঢালাই এর জন্য কাঠের কাজ: সেন্টারিং এর জন্য এমন তক্তা অথবা প্লেট ব্যবহার হোক যেন তাতে কোন ছিদ্র না থাকে এবং তক্তার উপর ঢালাই এর আগে ডিজেল অথবা গ্রীজ লাগানো উচিত তাতে ঢালাইয়ের ফিনিশিং সুন্দর হবে। সবচেয়ে ভাল হয় পাতলা পলিথিন সিট ব্যবহার করা। যদি কাজ ভাল হয় তাহলে নিম্নলিখিত সময়ে সাটার খোলা যেতে পারে।

নংঢালাই এর স্থানসময়
দেওয়ালে অথবা পিলার এবং খাড়া ঢালাই৪৮-৭২
ছাদ (নীচের তক্তা বা প্লেট এবং খুটি না খুলে)৩দিন
বীম (নীচের খুটি ছাড়া)
ছাদ ক) ৪.৫ মিটার পর্যন্ত খুটি স্প্যান
 খ) ৪.৫ মিটারের দূরের খুঁটি স্প্যান১৪
বীম/আর্চ ক) ৬ মিটার পর্যন্ত স্প্যান১৪
 খ) ৬ মিটারের বেশী স্প্যান২১ দিন

Card image cap
ছাদের বাগান সুস্থভাবে শ্বাস নেবার প্রতিজ্ঞায়
engr.tushar - 18 Apr 2017

"ছাদের বাগান সুস্থভাবে শ্বাস নেবার প্রতিজ্ঞায়............"

আমাদের ঢাকা শহরে যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৯ হাজার ৪ শত ৪৭ ( ১৯,৪৪৭ জন মানুষ বাস করে।

সেখানে ২০০০, ৩০০০ বা ৫০০০ বর্গ ফুট এর বাড়ির ছাদ গুলো তালা বন্ধ করে ফেলে রাখা সত্যি বিলাসিতা।

জার্মানি সহ গোটা ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ যেখানে জনসংখ্যা নেগেটিভ আয়তন অনেক বড় , সেখানে শুধু ছাদেই নয় জানালার কোনা থেকে শুরু করে বাড়ীর দেয়াল কোথাও বাকি নেই যেখানে তারা গাছ লাগায় না। স্কুলের বাচ্চা থেকে শুরুকরে বুড়ো-বুড়ী সবার প্রকৃতি প্রেম। ৮০,৯০ বছরের বয়স্ক পুরুষ-মহিলাও সারাদিন বাগানে কাজ করে গাছের পরিচর্যা করে।এসব উন্নত দেশগুলোতে মালী বা কাজের লোকের বিলাসিতা নেই। বাজার রান্না ধোয়ামোছা বাগানের পরিচর্যা সার পানি দেয়া সব নিজেদের করতে হয়।
আর এইসব গাছের বেড়ে ওঠার জন্য যে সার দরকার তাও নিজেরাই ঘরে তেরি করে। অনেক গুলো বাড়ী থেকে কোন পচনশীল আর্বজনা পাওয়া যায় না মানে শূন্য পার্সেন্ট । বাংলাদেশে আগে গ্রামের বাড়িগুলোতে উঠোনে মাটিতে পুতে রাখার ব্যবস্থা থাকলেও শহরের বাড়িতে তা অসম্ভব।এখানে জার্মানিতে বাড়ির বাগানে নেটের একরকম খাঁচা থাকে যেখানে এরা প্রতিদিনের রান্না ঘরের পচনশীল বর্জ্যগুলো ফেলে রাখে সেগুলো পরে রোদে বৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গিয়ে মাটি উর্বর করে।

আমাদের দেশেও বাড়ির ছাদে খোলা ড্রাম বা ইটের চারকোনা বাক্সে এক স্তর পচনশীল বর্জ্য এক স্তর মাটি বা বালি দিয়ে খুব সহজে জৈব সার বানানো যায় যেটা ওই বাড়ির ছাদের বাগানের সারের চাহিদা মেটাতে পারে। 

বাড়ির প্রতিদিনের রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট থেকে একদিকে যেমন জৈব সার পাওয়া যায়, বাইরে থেকে সার কেনার দরকার হয়না অন্যদিকে বালি-ভর্তি অনুর্বর মাটির উর্বরা ফিরিয়ে দেয়া যায়।সব উন্নত দেশ এমনকি ভারতেও এখন বায়োফুড বা কেমিকেল সার ও কীটনাশক মুক্ত খাবার বা শাকসবজি চাষাবাদ শুরু হয়েছে। 
আমাদের পুরো ঢাকা শহর কঙ্ক ক্রিটে ঢাকা। কোথাও কোন খালি জায়গা নেই। যে কোন আবাসিক এলাকা যেমন বসুন্ধরার ১০০টি বাড়ীর ৫০০০ বর্গ ফুটের ছাদে ৫,০০,০০০ বর্গফুট খালি জায়গা। ছাদ গুলোর অর্ধেক খালি যায়গায় যদি শুধু কাঁচামরিচ লাগানো যায় ( বাংলাদেশে মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে মরিচের অবস্থান প্রথম সারিতে তারপরেও দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।কারণ মরিচ প্রতি বাড়িতে প্রতিদিন দরকার)।
একটি ৩০০০ বর্গ ফুটের ছাদে খালি ৩০ থেকে ৫০ টি গাছ অনায়াসে লাগানো যায়। কাঁচা অবস্থায় প্রতি শতাংশে ১০০-১২০ কেজি মরিচ পাওয়া যেতে পারে।
তাহলে পুরো ঢাকা শহরে বা দেশের বড় বড় শহর গুলোর ছাদে প্রচুর মরিচের সম্ভাবনা রয়েছে।

ফুলের টবে না লাগিয়ে পিলার বরাবর দেড় থেকে দুই ফুট গভীর ইটের চৌবাচ্চার মত হলে পানি বা সার দেয়া সহজ এবং জায়গা বেশি পাওয়া যায়।

চিলেকোঠার দেয়ালে একটি কবুতরের ঘর বানিয়ে দিলে রান্নাঘরের ভাত বা রুটির উচ্ছিষ্ট খেয়ে এক জোড়া কবুতর বাসায় নির্মল বিনোদন ও প্রশান্তি এনে দিতে পারে। সেই সাথে বাড়ির শিশুদের কিছু সময়ের জন্য ভিডিও গেম থেকে দুরে এনে ইট , কাঠ , পাথরের শহরেও প্রকৃতির প্রতি মায়া, মমতা ও ভালবাসার জন্ম দিতে পারে।কবুতরগুলোও আকাশে ডানা মেলে ইকো-সিস্টেম এর ভারসাম্য আনতে পারে। 

একটি বাড়ির ছাদের চারদিকে দেয়ালের ধার এর পিলার বরাবর বাগান করা হলে পিলার সহজে মাটির বাড়তি ওজন এর ভার নিতে পারে।সিঁড়ি বা চিলেকোঠার একদিক বাদ রেখে বাকি তিন দিকে গাছ লাগানো যায়। এক পাশের দেয়ালের এই ইটের ঘর সব সময় খোলা রেখে এক স্তর বালি এক স্তর রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য রোদে এবং বৃষ্টিতে ভিজে কম্পোস্ট হয়ে সার বানানোর জন্য রেখে বাকি দুই দিকে গাছ লাগানো যায়।বালি বা মাটি দেয়ার ফলে এই পচনশীল বর্জ্য গন্ধ ছড়াবে না। এর পরে সেটি পুরোপুরি ভরে গেলে গাছ লাগানোর তৈরি হয়ে গেল। ফলে বাইরে থেকে মাটি আনার দরকার নেই। রান্না ঘরের বর্জ্য পচে অনুর্বর বালির সাথে মিশে জৈবসার হয়ে গেল। এভাবে অন্য পাশের দেয়াল গুলো পর্যায়ক্রমে উর্বর মাটি তৈরি করে নিলে বাইরে থেকে সার বা মাটি আনার দরকার হয়না অন্যদিকে পচনশীল বর্জ্য কাজে লাগানো গেল। 

আমাদের দেশের আবহাওয়া উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রচুর আর্দ্রতা শীতপ্রধান দেশগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত জৈবসার তৈরি করে।

অন্যদিকে ঢাকার ৪,৫০০ টন বর্জ্য থেকে যদি ৫০০ টন জৈব সার পাওয়া যায়( প্রতি কেজি ইউরিয়ার সমপরিমাণ দাম হলে ১,৫০,০০,০০০ টাকার সার উৎপাদন সম্ভব। (ইউরিয়া আমদানিতে খরচ ৩০ টাকা প্রতি কেজি)এতে একদিকে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো গেলো অন্যদিকে অনুর্বর শুষ্ক মাটিতে উর্বরতা বাড়ানো যায়। 

নজরুল ইসলাম খান পেশায় সচিব উনি তার মিন্টুরোডের সরকারী বাড়ির প্রতিটি কোন সবুজ গাছ লাগিয়েছেন পুরোটাই প্রাকৃতিক জৈব সার থেকে ইকো ব্যালেন্স করে।
ঢাকা শহরের অনেক এলাকা বিশেষ করে যেখানে বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে খুব সহজেই।ছাদের চিলেকোঠা থেকে সরাসরি

বাগানের গাছে পানি দেয়া, কাপড় বা গাড়ী ধোয়ার জন্য একটি আলাদা স্থায়ী বা ব্যবস্থা করার না হলে অস্থায়ী প্লাস্টিকের পানির ট্যাংক এ সংরক্ষণ করা গেলে পরে সরাসরি বা বিশুদ্ধ করে পরে ব্যবহার করা যেতে পারে।

সবুজ চাষ করা মানে হল বাতাস থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস আটকে আলাদীনের দৈত্যর মত বোতলে আটকে ফেলা ( কার্বন ট্র্যাকিং) সেই সাথে সুপ্ত তাপমাত্রা আটকে ফেলা। ঘরের ভেতরের মানি-প্লান্ট বা অন্য সবুজ গাছ যেগুলো রোদ ছাড়া বেঁচে থাকে তাও ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে কার্বন বা বিষাক্ত গ্যাস শুষে নেয়। ঘরের ফ্রিজ, এসি, আইপিএস অন্য সব ব্যাটারী প্রতিনিয়ত বাতাসে দুষিত ক্যামিকেল নি:সরণ করে।
এ এক সত্যি বিস্ময় যেখানে আমরা শিশুদের খোলা আকাশ দেখাতে পারিনা জানালা খুলে তাকালে আর একটি জানালা। সেখানে ছাদ গুলো তালা বন্ধ রেখে স্বপ্ন গুলোকে সেই সাথে স্বাধীন ভাবে শ্বাস নেবার অধিকার টুকুও হত্যা করা হয়।ছাদে নিয়মিত সবজী বা ফুলের চাষাবাদের ফলে মুক্ত বাতাস আর প্রকৃতির স্পর্শ পাওয়া যেত অন্যথায় আমরা জোর করে শিশুদের পিষে ধরে অসুস্থ বড়দের টিভি সিরিয়াল, ভিডিও গেম বা ইন্টারনেটে আসক্ত করছি।
পৃথিবীর সব উন্নত দেশ গুলোতে ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের ব্যাগ ও ভিন্ন ভিন্ন রঙের ড্রাম এর ব্যবহার করে আলাদাভাবে পচনশীল অ-পচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ করার হলেও আমাদের দেশে এখনো কোন আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার দেখা যায়না।

সুতরাং আজ থেকে শুরু হোক সবুজের আন্দোলন সেটা নিজের শোবার ঘর আর প্রতিটি বাড়ির বন্ধ ছাদ থেকে।নিজের আর নিজের সন্তানের সুস্থভাবে শ্বাস নেবার প্রতিজ্ঞায়। এর সঠিক বাস্তবায়নে সরকারের যথাযথ নীতিমালা প্রয়োজন ।সরকারী উদ্যোগ বাড়ানোর পাশাপাশি রয়েছে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যেমন প্রয়োজন তেমনি সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

রাশা বিনতে মহিউদ্দীন
স্টুডেন্ট অফ মাস্টার্স ইন ইনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন এন্ড এগ্রিকালচারাল ফুড প্রডাকশন, ইন ইউনি হোয়েনহেইম, স্টুটগার্ট জার্মানি।

Card image cap
এন্ড্রয়েড এ্যাপস
Ashraful Haque - 26 Mar 2017

আমাদের সংগঠনের একটি এ্যপস প্লে-স্টোরে আছে। যার নাম Xutility

এই এ্যপসটিতে যেই বিষয়গুলি পাবেন তা হলো

  • Land Area Calculation
  • Brick Work Estimate detail
  • Paint Work Estimate
  • Tiles Works Estimate
  • Concrete Estimate
  • Pile Estimate
  • Plaster Estimate
  • Rebar Weight
  • Shutter Weight
  • Electric Bill
  • Column Load Capacity
  • Imposed load on Column
  • Concrete Mix Design
  • Singly Beam Design
  • Footing Design
  • Lap Length
  • SPT to Bearing Capacity
  • Unit Converter
  • Material Unit Weight
  • Steel Beam
  • Dictionary
  • RAJUK
  • Number to Word
  • Quiz
  • Engineering Formula

Card image cap
Buet Test Sample Letter
engr.tushar - 20 Jan 2017

Date: January 21, 2017

 To

Director

BRTC, BUET, Dhaka-1000

 Subject: Application for testing of Concrete Cylinder for compressive strength

 Dear Sir

We require to test concrete compressive strength for raft found foundation of B2+G+8 storied building at gulshan. For your kind information we have given information in the table below.

Sent by:

Md. Ashraful Haque

Ref.:

LABAID/PDA/2017/RMC/RAFT/001

Ref. Dt.:

21 January 2017

Project:

Need4 Demo, H# XX, R# YY, Dhaka-XXXX

Testing Dt.:

21

01

17

Casting Dt.:

23

12

16

Test for:  28 days

Sealed / unsealed:

Unsealed

To be verified by teacher:                

Sample type & set:

Cyl (4”x8”)                                

No. of Set:        01

Location:

RAFT Foundation

Frog Mark / ID:

N4U

Proportion:

RMC 3500 psi

Type of CA:

Stone chips

Any special note:

Ready Mix Concrete poured by pump

 We request you to take necessary steps regarding the test.

Thank You

Md. Ashraful Haque

Project Manager

Need4engineer

Card image cap
টাইলস এর এস্টিমেট
engr.tushar - 24 Nov 2016
টাইলস এর এস্টিমেট ১০০ এসএফটি নাকি সিএফটি হবে টাইলস এর এস্টিমেট ১০০ ....... ইউনিটে কি পরিমান মালামাল লাগে.... এবং কিভাবে বের করে একটু জানাবেন

Card image cap
রাজউক ইমারত নির্মাণ বিধিমালা - ২০০৮ পর্ব-৫
engr.tushar - 22 Nov 2016

(৫৪) রাস্তা ও ফুটপাথ :

১) ইমারতের নকশা অনুমোদনের ক্ষেএে নুন্যতম ৬ (ছয়) মিটার প্রশস্ত রাস্তা (ফুটপাথসহ) থাকিতে হইবে, তবে ইহা বিধি ৪৮(৩/৪/৫) ও ৫১(৯/১০) অনুযায়ী প্রাপ্য FAR এর জন্য প্রযোজ্য নহে।
২) অনুমোদিত ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানের অন্তভূক্ত কোন রাস্তা যদি ৬(ছয়) মিটারের (ফুটপাথসহ) কম প্রশস্ত হয় তাহা হইলে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প, পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের আবেদনের সময় রাস্তার প্রস্থ ৬ (ছয়) মিটার করিবার জন্য প্রয়োজনীয় জমির অর্ধেক (উভয় দিকে সমপরিমাণ) সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে হস্তান্তর করিবার অঙ্গীকার করিতে হইবে এবং এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হইবার পূর্বে ইমারত নির্মাণ অনুমোদনের জন্য আবেদন করা যাইবে, তবে আবেদন অনুমোদিত হইলেও এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শুরু করা যাইবে না ।
৩) রাস্তার জন্য জমির প্রযোজ্য অংশ হস্তান্তরের অঙ্গীকার করিবার পর প্রযোজ্য হ্রাসকৃত প্লটের আকারের উপর ভিওি করিয়া প্লটের FAR, প্রয়োজনীয় সেটব্যাক এবং সর্বোচ্চ ভূমি আচ্ছাদন হিসাব করিতে হইবে ।
৪) প্লট সংলগ্ন রাস্তাসমূহ ৬ (ছয়) মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত করিবার ক্ষেএে যেই সকল দিকে রাস্তার জন্য জমি ছাড়িতে হইবে, সেই সকল দিকের জন্য রাস্তাসংলগ্ন জমি প্রতি ০.৩ মিটার করিয়া ছাড়িয়া দেওয়ার জন্য ০.০৫ করিয়া সর্বোচ্চ ০.২ পর্যন্ত FAR সুবিধা পাওয়া যাইবে এবং উক্ত FAR মূল FAR এর সহিত অতিরিক্ত হিসাবে যোগ করা যাইবে ।
৫) কতৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী রাস্তা ৬ (ছয়) মিটারের বেশী প্রশস্ত করিবার জন্য অতিরিক্ত জমি ছাড়িয়া দিতে হইলেও শুধুমাএ রাস্তা ৬ (ছয়) মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত করিবার জন্য ছাড়িয়া দেওয়া জমির FAR সুবিধা (প্রতিদিকের রাস্তার জন্য জমি ছাড়ার ক্ষেএে সর্বোচ্চ ০.২ পর্যন্ত FAR) পাওয়া যাইবে এবং মূল FAR হিসাব করিবার ক্ষেএে প্রস্তাবিত রাস্তার প্রশস্ততা বিবেচনা করা হইবে ও অতিরিক্ত FAR মূল FAR এর সহিত যোগ করা হইবে ।
৬) বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কতৃক উন্নয়নকৃত হাউজিং এলাকা বা কমপ্লেক্সে আভ্যন্তরীণ রাস্তাসমূহের নুন্যতম প্রস্থ বেসরকারী আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা-২০০৪ অথবা এতদসংক্রান্ত অন্যকোন বিধিমালার বিধানানুযায়ী হইতে হইবে এবং আবাসিক প্রকল্পের রাস্তা ৭.৬২ মি. এর চাইতে সর হইলে এবং উক্ত প্রকল্প অনুমোদিত হইয়া থাকিলেও ইমারতের নকশা অনুমোদনের সময় উহার প্রস্থ সঠিকভাবে সংশোধন করিয়া লইতে হইবে ।
৭) সারণী-৩ এ বিশেষিত হয় নাই এইরূপ জমির FAR নির্ধারণের জন্য রাস্তার প্রশস্ততা ৬ (ছয়) মিটার বা ততোধিক হইলে FAR এর মান ও ভূমি আচ্ছাদন হিসাব করিবার ক্ষেএে রাস্তার প্রস্থের ভিওিতে প্রাপ্য সর্বোচ্চ FAR, অথবা জমির পরিমাণের ভিওিতে প্রাপ্য FAR, দুইটির মধ্যে যেটি কম তাহাই প্রযোজ্য হইবে এবং উক্তরূপে নির্ণিত FAR এর মান যে ছকে প্রদর্শিত সেই ছকের সংশ্লিষ্ট ভূমি আচ্ছাদন প্রযোজ্য হইবে, তবে সারণী-৩ এর ছকে প্রদর্শিত রাস্তার চাইতে অধিক প্রশস্ত রাস্তার ক্ষেএে রাস্তার অতিরিক্ত প্রশস্ততার জন্য বিধি ৫১(১১) অনুযায়ী রাস্তার জন্য প্রাপ্য অতিরিক্ত FAR প্রযোজ্য হইবে।
৮) সকল নতুন সংযোগ সড়কের ক্ষেএে ফুটপাথের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে ।
৯) প্লটের সন্মুখে সংলগ্ন রাস্তায় ফুটপাথ বর্তমান না থাকিলে কতৃপক্ষ আদেশ করিলে আবেদনকারীকে উহা তৈরী ও রক্ষণাবেক্ষন করিতে হইবে এবং সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ এই ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় প্রণালী এবং পরিমাপ প্রদান করিবে ।

(৫৫) কিনারা সরলীকরণ:

১) অপরিকল্পিত এলাকাসমূহের ক্ষেএে দুই রাস্তার সংযোগস্থলে অবস্থিত প্লটের সীমানা দেয়াল বা বেড়ার কিনারা বর্তুলাকার, অথবা কিনারা হইতে নির্দিষ্ট দূরত্বে ও উচ্চতায় বিন্যস্ত হইতে হইবে যাহা রাস্তায় চলাচলকারীর নিরাপওার জন্য পর্যাপ্ত হইবে ।
২) অপরিকল্পিত এলাকাসমূহের ক্ষেএে দুই রাস্তার সংযোগস্থলের ব্যাসার্ধ রাস্তার প্রস্থ এবং ট্রাফিক প্যাটার্নের উপর নির্ভরশীল হইবে এবং এই কারণে কোণার জমির অংশের ১.৫ মিটার x ১.৫ মিটার পরিসরবিশিষ্ট জায়গা ভূমিতে ও উপরে খালি রাখিতে হইবে এবং কোন নির্মাণ কার্য করা যাইবে না।

(৫৬) গাড়ী পার্কিং ব্যবস্থা :
১) বিভিন্ন ধরনের গাড়ী পার্কিং পরিসর ও গাড়ী ঘুরাইবার ব্যাসার্ধ নিন্মবর্ণিত ছক অনুযায়ী হইবে :

গাড়ীর ধরণ পার্কিং প্রস্থ (মিটার)  পার্কিং দৈর্ঘ্য (মিটার) গাড়ী ঘুরাইবার আভ্যন্তরীণ ব্যাসার্ধ (মিটার) বহিঃ ব্যাসার্ধ (মিটার)
সাধারণ গাড়ী(প্রতিটির জন্য) ২.৪ ৪.৬ ……… ………
বাস ও ট্রাক(প্রতিটির জন্য) ৩.৬ ১০.০ ৮.৭ ১২.৮
মাল্টি এক্সেল ট্রাক/লম্বা ট্রেলার (প্রতিটির জন্য) ৩.৬ ১৮.০ ৬.৯ ১৩.৮
২-চাকার মটরবাইক (প্রতিটির জন্য) ১.০ ২.০ ……… ………

২) সাধারণ গাড়ীর ড্রাইভওয়ের মাপ বিভিন্ন ধরণের পার্কিং এর জন্য নিন্মবর্ণিত ছক অনুযায়ী হইবে :

পার্কিং একমুখী ট্রাফিকএকদিকে যাবে একমুখী ট্রাফিকদুইদিকে যাবে দুইমুখী ট্রাফিক 
O ডিগ্রী ৩.৫ মি. ৪.০ মি. ৪.২৫ মি.
৪৫ ডিগ্রী ৪.০ মি. ৪.০ মি. ৪.২৫ মি.
৯০ ডিগ্রী ৪.২৫ মি. ৪.২৫ মি. ৪.২৫ মি.

নোট:
(ক) পাশাপাশি দুই বা ততোধিক সাধারণ গাড়ী পার্কিং এর ক্ষেএে পার্কিং এর বাধামুক্ত প্রস্থ প্রতি গাড়ীর জন্য ২.৩ মিটার প্রস্থ ধরিয়া ইহার গুনিতক হারে হিসাব করিতে হইবে ।
(খ) বাস ও ট্রাক, মাল্টি এক্সেল ট্রাক/লম্বা ট্রেলারের ড্রাইভওয়ের মাপ নির্ধারণের জন্য গাড়ী ঘুরাইবার আভ্যন্তরীণ ও বহিঃ ব্যাসার্ধের পরিমাপ বিবেচনা করিতে হইবে ।
(গ) সাধারণ গাড়ী ও ২-চাকার মটরবাইকের ক্ষেএে ঘুরাইবার আভ্যন্তরীণ ও বহিঃ ব্যাসার্ধের পরিমাপের উল্লেখের প্রয়োজন নাই।

৩) সাধারণ গাড়ির প্রবেশ ও নির্গমন পথ এক হইলেও পার্কিং এর প্রবেশপথের বাধামুক্ত প্রস্থ ৩ মিটারের কম হইবে না এবং এই প্রস্থের মধ্যে কোন ফুটপাথ বা অন্য কোন বাধা থাকিবে না, তবে উহা বিধি ৫১ (১০) এর বিধানানুযায়ী প্রযোজ্য রাস্তা সংলগ্ন প্লটের জন্য বিবেচিত হইবেনা।
৪) বাস ও ট্রাকের পৃথক প্রবেশ ও নির্গমন পথের প্রস্থ নূন্যতম ৪.২৫ মিটার ও একক প্রবেশ ও নির্গমন পথের ক্ষেএে ৬ মিটার হইবে।
৫) বৃহদায়তন প্রকল্প বা ইমারত অনুমোদনের জন্য দাখিলকৃত নকশাসমূহের ক্ষেএে নূন্যতম প্রয়োজনীয় পার্কিং স্থান নির্ণিত সারণী-৪ অনুযায়ী হইবে :

সারণী-৪
বিভিন্ন শ্রেণীর ভবনের জন্য নূন্যতম প্রয়োজনীয় পার্কিং স্থান

ভবনের ব্যবহার/বসবাসের ধরণ (Occupancy) নূন্যতম প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা (Minimum Parking Requirements)
আবাসিক ভবন (Occupancy Type-A) একই পরিবার ভিওিক/রেঃ হাউজ/২০০ বঃমিঃ বেশী নয় এমন গ্রস ক্ষেএফল বিশিষ্ট অর্ধ বিচ্ছিন্ন (semidetached) আবাসিক ভবন ১টি কার পার্কিং
একই পরিবার ভিওিক/রেঃ হাউজ/২০০ বঃমিঃ উর্ধ্বে গ্রস ক্ষেএফল বিশিষ্ট অর্ধ বিচ্ছিন্ন (semidetached) আবাসিক ভবন ২টি কার পার্কিং
একাধিক পরিবার (Multi-family) ভিওিক আবাসিক ভবননের ক্ষেএে ২০০ বঃমিঃ এর অধিক গ্রস এরিয়া বিশিষ্ট ফ্ল্যাট প্রতি ইউনিটের জন্য ১টি কার পার্কিং
১৪০ বঃমিঃ উর্ধ্ব হইতে ২০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়া বিশিষ্ট ফ্ল্যাট প্রতি ৩টি ইউনিটের জন্য ২টি কার পার্কিং
৯০ বঃমিঃ উর্ধ্ব হইতে ১৪০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়া বিশিষ্ট ফ্ল্যাট প্রতি ২টি ইউনিটের জন্য ১টি কার পার্কিং
৬০ বঃমিঃ উর্ধ্ব হইতে ৯০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়া বিশিষ্ট ফ্ল্যাট প্রতি ৪টি ইউনিটের জন্য ১টি কার পার্কিং
৬০ বঃমিঃ পর্যন্ত গ্রস এরিয়া বিশিষ্ট ফ্ল্যাট প্রতি ৮টি ইউনিটের জন্য ১টি কার পার্কিং
৯০ বঃমিঃ পর্যন্ত গ্রস এরিয়ার ফ্ল্যাট (কার পার্কিং এর জন্য অতিরিক্ত) প্রতি ৫টি ইউনিটের জন্য ১টি মোটর সাইকেল পার্কিং
হোটেল (স্টার শ্রেণীভুক্ত) প্রতি ৫টি গেষ্ট রুমের জন্য ১টি কার পার্কিং
হোটেল (অন্যান্য শ্রেণীভুক্ত) প্রতি ২০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
অন্যান্য প্রতি ৩০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (Occupancy Type-B) কিন্টারগার্ঢেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মহা বিদ্যালয়, সহায়ক(Tertiary) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিশ্ববদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতি ২০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং। স্কুল চওরের মধ্যে রাস্তার সমান্তরালে নীচ তলায় বাধামুক্ত ৪.২৫মিঃ প্রশস্ত ও ২৫মিঃ দৈর্ঘ্য ড্রপিং রে থাকিতে হইবে (সবার জন্য উন্মুক্ত) ২৫মিঃ কম দীর্ঘ মুখ বিশিষ্ট প্লটের জন্য প্লটের সম্পূর্ণ সন্মুখভাগ বাধামুক্ত ৪.২৫মিঃ প্রস্থ বিশিষ্ট ড্রপিং রে থাকিতে হইবে।
প্রাতিষ্ঠানিক (Occupancy Type-C) প্রতি ২০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
স্বাস্থ সেবা (Occupancy Type-D)হাসপাতাল, ক্লিনিক প্রতি ৫টি বেডের জন্য ১টি কার পার্কিং
চিকিৎসা গবেষণাগার প্রতি ১০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
অন্যান্য (চিকিৎসা বর্হিববভাগ, দলগত প্রাকটিস ইত্যাদি) প্রতি ২০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
ভবনের ব্যবহার/বসবাসের ধরণ (Occupancy) নূন্যতম প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা (Minimum Parking Requirements)
সমাবেশ (Occupancy Type-E) সিনেমা প্রতি ৪০টি সিটের জন্য ১টি কার পার্কিং
থিয়েটার , অডিটোরিয়াম প্রতি ২০টি সিটের জন্য ১টি কার পার্কিং
বিবাহ/পার্টি সেন্টার প্রতি ১০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
ধর্মীয় স্থাপনা ৩০০ বঃমিঃ পর্যন্ত কমপক্ষে ১টি কার পার্কিং
৩০০ বঃমিঃ এর উর্ধ্বে প্রতি ১০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
অন্যান্য প্রতি ২০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
বাণিজ্যিক স্থাপনা (Occupancy Type-F) দোকান, ডিপার্টমেন্ট স্টোর প্রতি ২০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
রেষ্টুরেন্ট প্রতি ১০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
অফিস প্রতি ২০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
অন্যান্য প্রতি ২০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং
শিল্প স্থাপনা (Occupancy Type-G)ষ্টোরেজ বিল্ডিং (Occupancy Type-H)   সকল স্থাপনার ক্ষেএে লোডিং আনলোডিং রে ব্যাতিতকমপক্ষে ১টি ট্রাক ও ১টি কার পার্কিং থাকিতে হইবে ।শিল্প স্থাপনা ও ষ্টোরেজ বিল্ডিং-এ প্রশাসনিক, বিক্রয় ইত্যাদি দপ্তর থাকিলে শুধু ঐ অংশের ক্ষেএে প্রতি ২০০ বঃমিঃ গ্রস এরিয়ার জন্য ১টি কার পার্কিং থাকিতে হইবে ।
নোট: ·        মিশ্র ব্যবহারের ক্ষেএে পার্কিং স্পেসের পরিমাণ ভবনের প্রতি তলার ব্যবহারের ধরণকে ভিওি ধরিয়া হিসাব করিতে হইবে । উক্ত ব্যবহারের ভিওিতে নির্ধারিত পার্কিং চাহিদার যোগফল মিশ্র ব্যবহারের মোট পার্কিং চাহিদা বলিয়া গণ্য হইবে ।·        একাধিক টাইপের ফ্ল্যাটের ক্ষেএে আলাদাভাবে প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রয়োজনীয় পার্কিং চাহিদার যোগফল মোট পার্কিং চাহিদা হিসেবে গণ্য হইবে ।·        পার্কিং স্পেসের চাহিদা ভগ্নাংশের ক্ষেএে ১ (একটি) পার্কিং হিসাব হইবে ।

·        নগর উন্নয়ন কমিটির সুপারিশক্রমে নিন্ম আয়ের আবাসিক এলাকার জন্য কতৃপক্ষ পার্কিং স্পেসের পরিমাণ কমাইতে পারিবে ।

·        ৯০ বঃ মিঃ এর কম ক্ষেএফল বিশিষ্ট ফ্ল্যাটের ক্ষেএে মোটর সাইকেল এবং কারের সমন্বয়ে পার্কিং হইতে পারিবে।

·        যে কোন ধরণের ভবনের জন্য নূন্যতম ১ (একটি) কার পার্কিং ব্যবস্থা থাকিতে হইবে ।

৬) অনুর্ধ্ব চারটি পর্যন্ত গাড়ির পার্কিং এর ক্ষেএে প্রয়োজনবোধে রাস্তা হইতে সরাসরি কৌণিক পার্কিং নিন্মবর্ণিত শর্তসমূহ পূরণ সাপেক্ষে দেওয়া যাইতে পারে, যথা:
(ক) উক্ত কৌণিক পার্কিং ৪৫ ডিগ্রীর মধ্যে হইতে হইবে;
(খ) বাসস্ট্যান্ডের ১৫মিটারের মধ্যে উক্ত পার্কিং হইবে না;
(গ) পথচারী পারাপারের চিহ্নিত জায়গার বা কোন মোড়ের ২৫মিটারের মধ্যে উক্ত পার্কিং হইবে না; এবং
(ঘ) উক্ত পার্কিং কোন অবস্থাতেই জাতীয় মহাসড়কে হইবে না ।

৭) কোন পার্কিং এলাকায় প্রবেশ বা নির্গমন পথের জন্য ফুটপাথ কাটাতে হইলে কতৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পথচারীদের সুযোগ-সুবিধার দিকে লক্ষ্য রাখিয়া ফুটপাথের পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করিতে হইবে এবং এইক্ষেএে নির্মাণব্যায় আবেদনকারী বহন করিবে ।
৮) পার্কি স্থানে রেম্প ব্যবহারের ক্ষেএে সর্বোচ্চ ঢাল ১:৮ হইবে এবং রেম্প শুরুর পূর্বে ৪.২৫ মিটার দীর্ঘ আনুভূমিক পথ থাকিতে হইবে, তবে ০.৭৫ মিটার পর্যন্ত প্রারম্ভিক উচ্চতায় উঠা বা নামার জন্য শর্ত প্রযোজ্য হইবে না ।
৯) প্রারম্ভিক উচ্চতায় উঠা বা নামার জন্য ( প্রযোজ্য ক্ষেএে সিড়িসহ) উপ-বিধি (৮) এ উল্লিখিত রেম্প সেটব্যাক অংশে নির্মাণ করা যাইবে এবং প্লটের সীমানা হইতে শুরু বা সীমানাতে শেষ হইতে পারিবে ।
১০) একমুখী গাড়ী চলাচলের রেম্পের ক্ষেএে নূন্যতম প্রস্থ ৩ মিঃ এবং উভয়মুখী গাড়ী চলাচলের রেম্পের ক্ষেএে নূন্যতম প্রস্থ সাধারণ গাড়ীর ক্ষেএে ৪.২৫ মিঃ এবং অন্যান্য ক্ষেএে ৬ মিঃ হইতে হইবে ।
১১) আবাসিক সাইটে নূন্যতম ১০০টি গাড়ী পার্কিং এবং অন্যান্য সাইটে ৫০টি গাড়ী পার্কিং স্থানের ক্ষেএে একটি আলাদা ট্রাফিক মার্জিন লেন ও হোল্ডিং বে ব্যবস্থা রাখিতে হইবে যাহাতে সংলগ্ন রাস্তায় ট্রাফিকের সহজ চলাচল কোন ভাবেই বিগ্ন না হয় ।
১২) পার্কিং স্থান এবং রেম্প এর বাধামুক্ত উচ্চতা কমপক্ষে ২.২৫ মিটার হইতে হইবে ।
১৩) ১০ মিটার পর্যন্ত সন্মুখপ্রস্থ বিশিষ্ট জমির ক্ষেএে শুধুমাএ একটি প্রবেশ ও একটি নির্গমন পথ থাকিতে পারিবে এবং জমির সন্মুখপ্রস্থ ১০ মিটারের অধিক হইলেও কতৃপক্ষ দুইটির অধিক প্রবেশ ও নির্গমনের অনুমতি নাও দিতে পারে ।
১৪) গাড়ী পার্ক করিবার জায়গা চলাচলের জন্য রেম্পের বিকল্প হিসাবে কার-লিফট স্থাপন করা যাইবে, তবে কার-লিফট এর প্রবেশ ও নির্গমন পথ বাধামুক্ত হইবে ।
১৫) পার্কিং পরিসরের লে-আউট প্ল্যান এমনভাবে হইতে হইবে যাহাতে প্রতিটি গাড়ী অন্যগাড়ীর জন্য সমস্যা সৃষ্টি না করিয়া ড্রাইভওয়ে অথবা সার্কুলেশন ক্ষেএ হইতে সরাসরি পার্কিং এ প্রবেশ ও বাহির হইতে পারে ।

(৫৭) মিশ্র উন্নয়ন (Mixed Use Development):

১) আবাসিক ব্যবহার বাণিজ্যিক ব্যবহারের সহিত মিশ্রিত হইলে FAR ও ভূমি আচ্ছাদন নির্ধারনের জন্য আবাসিক ব্যবহারের প্রযোজ্য বিধান কার্যকর হইবে এবং পার্কিং এর জন্য সারণী-৪ প্রযোজ্য হইবে ।
২) উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত মিশ্র ব্যবহার ব্যতীত অন্য সকল মিশ্র ব্যবহার উন্নয়নের ক্ষেএে বিভিন্ন শ্রেণীর জন্য প্রযোজ্য বিধানাবলীর কঠোরতমটি (Stringent Requirements) যেমন- সর্বনিন্ম FAR, FAR এর ছকের নির্দিষ্ট ভূমি আচ্ছাদন, সেটব্যাক, ইত্যাদি প্রযোজ্য হইবে, তবে কোন একটি শ্রেণী ফ্লোর এরিয়ার ৯০% বা উহার অধিক (পার্কিং বাদে) হইলে উক্ত বিশেষ ব্যবহার সংক্রান্ত বিধান উক্ত ক্ষেএে প্রযোজ্য হইবে এবং পার্কিং এর জন্য সারণী-৪ প্রযোজ্য হইবে।
৩) যে সকল জমি প্রশস্ত রাস্তা থাকিবার কারণে আবাসিক হইতে মিশ্র ব্যবহারে রূপান্তর করা হইয়াছে, সেইসব জমিতে অনাবাসিক ব্যবহারের জন্য গাড়ীর প্রবেশ এবং নির্গমন কেবলমাএ উক্ত প্রশস্ত রাস্তা হইতে হইবে । এই ধরনের মিশ্র ব্যবহার যদি কর্ণার প্লটে হয় তাহা হইলে আবাসিক ব্যবহারের জন্য যে কোন রাস্তা ব্যবহার করা যাইবে ।
৪) আবাসিক জমি সংলগ্ন জমিতে মিশ্র ব্যবহার ইমারত নির্মাণের ক্ষেএে, আবাসিক জমির দিকে সীমানা হইতে ২.৫ মিটার সেটব্যাক রাখিতে হইবে ।
৫) মিশ্র ব্যবহারের ক্ষেএে আবাসিক ব্যবহারের অংশে জানালা বা বারান্দা পার্শ্ববর্তী আবাসিক জমির দিকে দেওয়া যাইবে তবে অনাবাসিক ব্যবহারের অংশে পার্শ্ববর্তী আবাসিক জমির দিকে বারান্দা দেওয়া যাইবে না ।

(৫৮) ইমারতের পরিসরের নূন্যতম চাহিদা :
ইমারতের বিভিন্ন কক্ষ বা স্থানের আয়তন বা পরিসরের ক্ষেএে নিন্মলিখিত পরিমাপ ও শর্ত অনুসরণ করিতে হইবে, যথা:

(ক) বসবাসযোগ্য কক্ষ :
১) আবাসিক ভবনের বসত বাড়ীর প্রতিটি ইউনিট এর ক্ষেএে অন্তত একটি কক্ষ থাকিবে যাহার ক্ষেএফল ৯.৫ বর্গমিটার এবং প্রস্থ ২.৫ মিটার এর কম হইবে না এবং বসতবাড়িটির অন্যান্য বাসযোগ্য কক্ষসমূহের ক্ষেএে সর্বনিন্ম ক্ষেএফল ৫ বঃমি এবং নূন্যতম প্রস্থ ২ মিঃ হইতে হইবে; এবং
২) বসবাসযোগ্য কক্ষের নূন্যতম উচ্চতা ২.৭৫মিঃ হইবে এবং বীমের নীচে নূন্যতম ২.১৩মিঃ থাকিতে হইবে, তবে যদি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ হয় নূন্যতম উচ্চতা ২.৪৪মিঃ হইতে পারিবে ।

(খ) রান্নঘর :
১) রান্নঘরের নূন্যতম ক্ষেএফল ৪ বঃমিঃ এবং প্রস্থ ১.৫ মিঃ হইবে, তবে এই এলাকা দেওয়াল দ্বারা আবদ্ধ হওয়ার বাধ্যবাধকতা নাই;
২) রান্নঘরের নূন্যতম উচ্চতা ২.৭৫মিঃ হইবে; এবং
৩) বাসগৃহের রান্নঘরের জানালা নূন্যতম ১ (এক) বঃমিঃ ক্ষেএফল ব্যাপিয়া সরাসরি অথবা সর্বোচ্চ ২.০মিঃ প্রস্থবিশিষ্ট বারান্দার মাধ্যমে বহিঃপরিসর অথবা আভ্যন্তরীণ অঙ্গন বা আঙ্গিনা বা উঠান এর সাথে খোলা থাকিতে পারিবে । যথাযথভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও যান্ত্রিক উপায়ে বায়ুপ্রবাহের ব্যবস্থা থাকিলে বাসগৃহ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেএে বর্হিদেয়ালে জানালা না থাকিলেও চলিবে ।

(গ) গোসলখানা ও টয়লেট :
১) বেসিন, ওয়াটার ক্লোজেট (Water Closet) এবং গোসলের স্থান সম্বলিত টয়লেট এর ক্ষেএে নূন্যতম ফ্লোর এরিয়া ২.৭৫বঃমিঃ এবং নূন্যতম প্রস্থ ১.০০মিঃ হইবে;
২) বেসিন ও ওয়াটার ক্লোজেট (Water Closet) সম্বলিত টয়লেট এর ক্ষেএে নূন্যতম ফ্লোর এরিয়া ১.২০বঃমিঃ এবং নূন্যতম প্রস্থ ১.০০মিঃ হইবে;
৩) বেসিন এবং গোসলের স্থান সম্বলিত টয়লেট এর ক্ষেএে নূন্যতম ফ্লোর এরিয়া ১.৫বঃমিঃ এবং নূন্যতম প্রস্থ ১.০০মিঃ হইবে;
৪) ওয়াটার ক্লোজেট (Water Closet) এবং গোসলের স্থান সম্বলিত টয়লেট এর ক্ষেএে নূন্যতম ফ্লোর এরিয়া ২.৫বঃমিঃ এবং নূন্যতম প্রস্থ ১.০০মিঃ হইবে;
৫) বাথরুম এর উচ্চতা ২.১৩মিঃ এর কম হইতে পারবেনা এবং এই উচ্চতা ফিনিসড্ ফ্লোর হইতে ফিনিসড্ সিলিং বা ফলস্ সিলিং পর্যন্ত অথবা উপরের ফ্লোর এর প্লাম্বিং সিস্টেম এর ট্রাপ বা অন্যান্য পাইপ লাইনের নীচ পর্যন্ত পরিমাপকৃত হইবে; এবং
৬) গোসলখানা বা টয়লেট এর জানালা নূন্যতম ০.৩৭ বঃমিঃ ক্ষেএফল ব্যাপিয়া আভ্যন্তরীন আঙ্গিনা, বহিঃপরিসর বা যে কোন এয়ারওয়েল বা লাইটওয়েল এর সহিত সরাসরি খোলা থাকিতে হইবে তবে যদি যথাযথভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও যান্ত্রিক উপায়ে বায়ুপ্রবাহের ব্যবস্থা থাকে তবে জানালা না থাকিলেও চলিবে।

(ঘ) সিড়ি :
১) বিভিন্ন ধরণের সিড়ির প্রতি ফ্লাইটের বাধামুক্ত নূন্যতম প্রশস্ততার পরিমাপ নিন্মবর্ণিত ছক অনুযায়ী নির্ণীত হইবে-
সিড়ির নূন্যতম বাধামুক্ত প্রস্থ :

ভবনের শ্রেণী সিড়ির নূন্যতম প্রস্থ (মিটার)
A. আবাসিকA1. একক পরিবার বাড়ীA2. এপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাট বাড়ীA3. মেস, হোটেল

A4. নিন্মবিওের বাড়ী

A5. আবাসিক হোটেল

১.০০১.১৫১.২৫

***

১.২৫

B. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১.৫০
C. প্রাতিষ্ঠানিক ১.৫০
D. স্বস্থসেবা ২.০০
E. সমাবেশ ২.০০
F. বাণিজ্যিক ভবনF1. অফিসF2. ছোট দোকান এবং বাজারF3. বড় দোকান এবং বাজার

F4. নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবা

১.৫০১ .৫০২.০০

১.৫০

অন্যান্য ১.২৫
                                                      *** বিধি ৫৮ (ঘ) (১০) অনুযায়ী হইবে । ***

২) সিড়ির রাইজার ও ট্রেডের পরিমাপ এমন হইবে যেন একটি রাইজার ও একটি ট্রেডের যোগফল কমপক্ষে ৪০০মিঃমি হয় এবং রাইজারের সর্বোচ্চ মাপ ১৭৫মিঃমি এবং ট্রেডের সর্বনিন্ম মাপ ২২৫মিঃমি হয়;
৩) নোজিং বা হেলানো রাইজার এর কারণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মাপ ট্রেডের মাপের মধ্যে গণ্য করা যাইবে এবং সিড়ির একটি ফ্লাইটের মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিন্ম মাপের রাইজার এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিন্ম মাপের ট্রেডের মধ্যে পার্থক্য উভয় ক্ষেএে গড় মাপের ২শতাংশের বেশী হইবে না;
৪) সিড়ির যে কোন একটি ফ্লাইটে মোট ধাপের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিতে হইবে;
৫) সিড়ির ফ্লাইটসমূহের অন্তবর্তী সর্বনিন্ম উচ্চতা (Head Room) ২.১৫মিটার হইতে হইবে;
৬) সিড়ি ঘরের যে কোন ল্যান্ডিং এর তলার প্যাসেজ, যাহা অবাসযোগ্য নয় এইরূপ সার্ভিস স্পেসকে যুক্ত করে তাহার সর্বনিন্ম উচ্চতা ২.১০ মিটার হইবে এবং ল্যান্ডিং এর তলার অন্য সকল প্যাসেজ ও স্পেস এর নূন্যতম উচ্চতা ২.১৫ মিটার হইতে হইবে;
৭) সিড়ির রেলিং এর নূন্যতম উচ্চতা ০.৯০ মিটার হইবে এবং এই মাপ সিড়ির ধাপের নোজ হইতে রেলিং এর উপরিতল পর্যন্ত উলম্ব দৈর্ঘ্য বোঝাইবে এবং শিশুরা যদি এই সিড়ি ব্যবহার করে তবে ব্যালাসট্রেড ডিজাইন শিশুদের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ হইতে হইবে;
৮) ল্যান্ডিং এর গভীরতা (depth) যে কোন লেভেলে নূন্যতম সিড়ির প্রস্থের সমান হইতে হইবে;
৯) ছাদের সিড়িঘরের নূন্যতম উচ্চতা ২.১০ মিঃ হইতে হইবে;

১০) প্রতি তলায় সর্বাধিক দুইটি বসতবাড়ী ইউনিট এর জন্য ব্যবহৃত হইতেছে এমন সিড়ির প্রতি ফ্লাইটের জন্য সর্বনিন্ম বাধামুক্ত প্রস্থ নিন্মরূপ হইবে-
দুই তলা ইমারত – ০.৭৫ মিটার
তিন তলা ইমারত – ০.৮০ মিটার
চার তলা ইমারত – ০.৯০ মিটার
চার তলার অধিক ইমারত – ১.০০ মিটার

(ঙ) আবাসিক ভবনে কক্ষের উচ্চতার হিসাব ও অন্যান্য মাপসমূহ :
১) মেঝের উপরের ফিনিসড্ তল হইতে ছাদের নীচের ফিনিসড্ তল পর্যন্ত কক্ষের উচ্চতা হিসাব করা হইবে;
২) ক্ষেএমত কক্ষ বা স্পেসের নূন্যতম বাধামুক্ত উচ্চতা নিন্মরূপ হইবে, যথা :

  • বাথরুম, ল্যাভেটরী, টয়লেট, পোর্চ, বেলকনি ইত্যাদি ২.১৩ মিঃ পর্যন্ত;
  • আবাসিক ভবন সমূহের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় এমন বসবাসযোগ্য কক্ষ, রান্নঘর, ষ্টোররুম, ইউটিলিটি রুম, বক্সরুম এর ছাদ নূন্যতম ২.৭৫ মিঃ উচ্চতায় থাকিতে হইবে যাহা ফিনিসড্ ফ্লোর লেভেল হইতে ছাদের অথবা ফলস্ ছাদের সর্বনিন্ম তল পর্যন্ত বুঝাইবে, তবে এই ধরণের বাসযোগ্য কক্ষের ক্ষেএে মেঝের ক্ষেএফলের এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ এলাকায় সর্বনিন্ম ২.৪৪ মিঃ উচ্চতা রাখা যাইবে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের ক্ষেএে নূন্যতম উচ্চতা ২.৪৪ মিঃ হইতে হইবে;
  • ঢালু ছাদের ক্ষেএে যেইখানে সিলিং নাই সেইখানে মেঝে হইতে ছাদের সর্বনিন্ম তল নূন্যতম ২ মিটার উচু হইতে হইবে এবং এই ক্ষেএে গড় উচ্চতা ২.৪৪ মিঃ এর কম হইতে পারিবে না;
  • ছাদ, ফোল্ডেড পেট, শেল ইত্যাদি এবং ফলস্ সিলিং এর নীচে অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ফলস্ সিলিং না থাকিলে ডাক্ট এর নীচে মেঝে হইতে নূন্যতম উচ্চতা ২.৪৪ মিঃ হইতে হইবে;
  • আবাসিক নয় এমন ইমারত এর ক্ষেএে ছাদের নিন্ম তলের উচ্চতা নির্ধারণের প্রয়োজনীয় শর্তসমূহ নিন্মক্ত ছক অনুযায়ী হইতে হইবে-
ভবনের শ্রেণী নূন্যতম ছাদের উচ্চতা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রাতিষ্ঠানিক, বাণিজ্যিক, স্বাস্থ্য সেবা, সমাবেশ কক্ষ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ভবন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় এমন ভবনের ক্ষেএে ৩মিঃ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনের ক্ষেএে ২.৬মিঃ
শিল্প কারখানা, গুদাম ঘর, বিপদজনক ভবন, বিবিধ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় এমন ভবনের ক্ষেএে ৩.৫মিঃ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনের ক্ষেএে ৩মিঃ

(চ) কমিউনিটি স্পেস :
১) FAR এর আওাভুক্ত সর্বমোট ৩০০০ (তিন হাজার) বর্গ মিটারের অধিক ক্ষেএফল বিশিষ্ট আবাসিক ভবনে বসবাসকারীদের ব্যবহারের জন্য FAR ভূক্ত ও বসবাসের জন্য ব্যবহৃত ক্ষেএফলের (সিঁড়ি, লিফট্, লিফট্ লবী ইত্যাদিও ক্ষেএফল বাদে) নূন্যতম ৪% জায়গা বিভিন্ন সামাজিক সন্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট করিয়া রাখিতে হইবে । অগ্নি-নিরাপওার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিয়া Exit এর ববস্থা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকিলে এই কমিউনিটি স্পেস বেসমেন্টে হইতে পারিবে; এবং
২) ১৩০০ (এক হাজার তিনশত) বর্গমিটার বা ততোধিক সাইজের আবাসিক জমিতে এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করিতে চাহিলে সম্পূর্ণ জমির অন্তত ১০% জায়গা উক্ত এ্যাপার্টমেন্টের বসবাসকারীগণের খেলার জায়গা হিসাব রাখিতে হইবে, যাহার অর্ধেক আচ্ছাদিত এলাকায় হইতে পারিবে, কিন্তু কোন রকম দেওয়াল দ্বারা আবদ্ধ করা যাইবে না এবং ইহা FAR এর হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হইবে না ।

৬ষ্ঠ অধ্যায়
স্বাস্থ ও নিরাপওা
(৫৯)স্বাস্থ ও নিরাপওা :

(ক) আলো ও বায়ুপ্রবাহ :
১) প্রত্যেকটি ইমারতে জানালা, স্কাইলাইট (Skylight), ফ্যানলাইট (Fanlight) ও দরজার মাধ্যমে অথবা অন্য যে কোন প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাভাবিক আলো-বাতাসের প্রবাহ রাখিতে হইবে;
২) আবাসিক বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত কক্ষের জানালার ক্ষেএফল ঐ কক্ষেও মেঝের ক্ষেএফলের নূন্যতম ১৫% এর সমান হইতে হইবে, যাহার কমপক্ষে অর্ধেক খোলা থাকিতে হইবে, তবে রান্নাঘর, টয়লেট, ইত্যাদির ক্ষেএে বিধি ৫৮(খ) ও বিধি ৫৮(গ) এর বিধান মানিতে হইবে;
৩) যদি ইমারতে যথাযথ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, যান্ত্রিক বায়ুপ্রবাহ এবং কৃএিম আলোর ব্যবস্থা থাকে, সেইসব ক্ষেএে প্রাকৃতিক উপায়ে আলো ও বায়ুপ্রবাহের ব্যবস্থা না থাকিলে চলিবে;
৪) বেসমেন্টে সকল ধরণের প্রয়োজনীয় আলো, পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশন ও বায়ুপ্রবাহের (প্রাকৃতিক বা কৃএিম) ব্যবস্থা নিশ্চিত করিতে হইবে এবং বায়ুপ্রবাহের ক্ষেএে প্রতিটি বেসমেন্টে পৃথক ব্যবস্থা থাকিতে হইবে;
৫) যদি কোন বসবাসযোগ্য কক্ষের আলো ও বাতাসের প্রধান উৎস আভ্যন্তরীণ অঙ্গন বা আঙিনা বা উঠান হয়, তবে তাহার মাপ নিন্মবর্ণিত ছক অনুযায়ী হইতে হইবে-

                             আভ্যন্তরীণ অঙ্গন বা আঙিনা বা উঠানের নূন্যতম ক্ষেএফল

                                                            (বসবাসযোগ্য কক্ষের জন্য)

তলার সংখ্যা সর্বোচ্চ উচ্চতা (মিঃ) আভ্যন্তরীণ উঠান বা অঙ্গনের নূন্যতম নেট ক্ষেএফল (বর্গ মিঃ)
৩ পর্যন্ত ১১
১৪ ১৬
১৭ ২৫
২০ ৩৬
২৩ ৪৯
২৬ ৬৪
২৯ ৮১
১০ ৩২ ১০০
১১ ৩৬ ১২১
১২-১৩ ৪২ ১৪৪
১৪-১৫ ৪৮ ১৯৬
১৬-১৭ ৫৪ ২৫৬
১৮ এবং তদূর্ধ্ব ৬৩ এবং তদূর্ধ্ব ৩৬১
আভ্যন্তরীণ উঠানের পরিমাপের ক্ষেএে ক্ষুদ্র বাহুর দৈর্ঘ্য বৃহওর বাহুর দৈর্ঘ্যের এক তৃতীয়াংশের কম হইবে না ।

৬) টয়লেটের জানালা আভ্যন্তরীণ অঙ্গন বা আঙিনা বা উঠান, আভ্যন্তরীণ এয়ারওয়েল বা লাইটওয়েল এবং বায়ু চিমনীতে খুলিতে পারিবে;
৭) স্বাভাবিক আলো এবং বায়ু চলাচলের মাএা ও মানের জন্য নিন্মবর্ণিত ছক অনুসরণ করিতে হইবে;

                                 আভ্যন্তরীণ এয়ারওয়েল বা লাইটওয়েল এর নূন্যতম মাপসমূহ

                                       (গোসলখানা, টয়লেট ও ওয়াটার ক্লোজেটের জন্য)

                             ভবনের উচ্চতা শ্যাফটের নূন্যতম নেট ক্রস সেকশন ক্ষেএফল (বর্গ মিঃ)  শ্যাফটের নূন্যতম প্রস্থ(মিটার)
তলা ডিজাইনের
৩ পর্যন্ত ১১ ১.৫ ১.০
১৪ ৩.০ ১.২
১৭ ৪.০ ১.৫
২০ ৫.০ ২.০
৬ তলার উর্ধ্বে ২০ মিটারের উর্ধ্বে ৬.৫ ২.৫
দ্রষ্টব্য :১) যান্ত্রিক বায়ু চলাচল ব্যবস্থা থাকিলে শ্যাফটের মাপসমূহ যান্ত্রিক ডিজাইনের প্রয়োজনের ভিওিতে নিশ্চিত করিতে হইবে।
২) ভবনের বহিরাঙ্গনে সংস্থানকৃত এয়ারওয়েল বা লাইটওয়েল এর ক্ষেএে এবং আবশ্যিক উন্মুক্ত স্থানের সহিত সংযুক্ত এয়ারওয়েল বা লাইটওয়েল সমূহের জন্য এই নূন্যতম পরিমাপ প্রযোজ্য হইবেনা।

(খ) সীমানা দেওয়াল :
১) আবাসিক ভবনের ক্ষেএে সীমানা দেওয়ালের উচ্চতা ৩ (তিন) মিটারের অধিক হইতে পারিবে না যাহা সংলগ্ন রাস্তার সর্বোচ্চ বিন্দু হইতে পরিমাপকৃত হইবে এবং সর্বোচ্চ ১.৭৫ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত নিরেট ও বাকি অংশ বায়ু চলাচলের জন্য জালি অথবা গ্রীল করা যাইবে;
২) সরকারী এবং বিশেষ ভবনের ক্ষেএে সীমানা দেওয়ালের প্রয়োজন হইলে দৃষ্টি নিক্ষেপণের সুবিধার্থে প্রাথমিকভাবে জালি অথবা গ্রীল ব্যবহার করিতে হইবে;
৩) উপ-বিধি (১) ও (২) ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেএে উচ্চতা ২.৭৫ মিটারের অধিক হইতে পারিবে না, যাহা সংলগ্ন রাস্তার সর্বোচ্চ বিন্দু হইতে পরিমাপকৃত হইবে, যাহাতে পার্শ্ব এবং পশ্চাতের দিকে সর্বোচ্চ ১.৭৫ মিটার পর্যন্ত নিরেট এবং বাকি অংশ বায়ু চলাচলের জন্য জালি অথবা গ্রীল ব্যবহার করা যাইবে এবং সন্মুখ অংশে সর্বোচ্চ ১ মিটার পর্যন্ত নিরেট করা যাইবে; বাকি অংশ বায়ু চলাচল ও দৃষ্টি নিক্ষেপণের জন্য জালি অথবা গ্রীল ব্যবহার করিতে হইবে; এবং
৪) পাহাড়ী বা অসমান সাইটে সীমানা দেওয়ালের উচ্চতা প্রতিটি স্প্যানের মধ্যবর্তী বিন্দু হইতে হিসাব করিতে হইবে এবং এইরূপ স??


Header
Info card title

www


Left
Center
Right