Card image cap
পানির নিচে রাস্তা ভাল
engr.tushar - 05 Aug 2017

তিলোত্তমা নগর

আমাদের প্রিয়তম ঢাকা

 বৃষ্টিস্নাত শহর

জলের নিচে গাড়ির চাকা

ঢাকার রাস্তা এখন আর চোখে পড়ে না, সবই যেন জলঢাকা। মানে জলে ঢাকা। যেদিকে তাকায় শুধু জল আর জল। জলের আবার অনেক রকমফের। বৃষ্টির জল, নর্দমার জল, সুয়ারেজ লাইনের জল আরও কত কি! আর সেই জলে নাকানিচুবানি খাচ্ছেন ঢাকার বর্তমান দুই মেয়র আনিস ও সাইদ ভাই। জলাবদ্ধতার জন্য কেউ কেউ আবার ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ এর মত বর্তমান সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বেজায় খুশি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ঢাকার রাস্তায় এখন প্রাইভেট গাড়ির সাথে সাথে প্রাইভেট নৌকা চালাবে মানুষ। চট্টগ্রামের এক সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা তো আরেক কাঠি সরেস। তাঁরা একবারে নৌকা কিনেই ছেড়েছে চলাচলের জন্য।

 

আসলে দোষ কার সে সব তর্কে না জড়ানোয় ভাল হবে এই অধমের। কারণ দোষ যদি কারো থেকেই থাকে তাহলে আসামীর কাঠগড়ায় আমরা সবাই থাকব। শুধু একা সরকার নয়। জলাবদ্ধতা, জলমগ্নতা, যানজট বা পাহাড়ধসের মত ঘটনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌছেছে যে শুধু প্যারাসিটামল দু’বেলা খেলে রোগ সারবে বলে মনে হয় না। বরং রোগটাকে যথাযথ ভাবে ভিতর থেকে চিহ্নিত করে রোগ সারাবার সময় এখন এসে গিয়েছে।

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে দীর্ঘ এক যুগ বাংলাদেশে নির্মাণশিল্পে প্রকৌশলী হিসাবে কাজ করেছি। দেশ বিদেশের অনেক প্রকৌশলীর সাথে কাজ করবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে ভুল শুদ্ধ যা শিখেছি তা সবই একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ব্লগ www.need4engineer.com লিখে গিয়েছি। যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে উন্নত জগত গঠন (আই,ই,বি এর শ্লোগান) করতে পারে। বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ার মত প্রথম সারির দেশে এসেও নির্মানশিল্পে প্রকৌশলী হিসাবে কাজ করে চলেছি। এতে করে বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তির উৎকর্ষতা ও অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞানের সম্মিলনে রঙ্গিন হচ্ছে মনের ক্যানভাস। সেই জায়গা থেকে দু’একটি ধারণা সবার সাথে ভাগ করে নিতে চাই। তাতে সমস্যার সমাধান রাতারাতি হবে এমনটি নয়। বরং এই ধারণাগুলো নিয়ে দেশ বান্ধব বা পরিবেশ সহনশীল পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির প্রয়োগ করা যেতে পারে।  

 ইদানিং কালে বাংলাদেশে কয়েক দিন ধরেই রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ট্যাঙ্কের  কথা বেশ শোনা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন এতেই নাকি ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে। আমি বিষয়টির সাথে আংশিক সহমত পোষণ করি। আমি জলাবদ্ধতাকে তিনটি ভিন্ন দিক থেকে দেখি।

এক, রাস্তা বা ড্রেনে বাড়ির আঙ্গিনা থেকে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি আসা বন্ধ করা। তার জন্য রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ট্যাঙ্ক   নিঃসন্দেহে ভাল উদ্যোগ।

দুই, বৃষ্টির পানি সরাসরি রাস্তা বা ড্রেনে পড়লে সেই পানি কে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা করা, তার জন্য দরকার পলিথিন-প্লাষ্টিক মুক্ত ড্রেন, প্রাকৃতিক ঢাল রক্ষা করে অবকাঠামো নির্মাণ ও খালগুলো কে পূনঃরোদ্ধার করা।

তিন, সরকারি প্রকৌশল সংস্থাগুলোর (যেমনঃ ওয়াসা, রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, সড়ক ও জনপথ, এল জি ই ডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডেসকো, বিটিআরসি, তিতাস গ্যাস ইত্যাদি) সমন্বয় আর সুদূর প্রসারী চিন্তাভাবনা করে কাজ করা।  

১) বাংলাদেশে কয়েক দিন ধরেই রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ট্যাঙ্কের  কথা বেশ শোনা যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডে আসা খুবই প্রয়োজন।  শুধু জলাবদ্ধতা দূরীকরণই নয় বরং ভূ-গর্ভস্তরে পানির স্তর ঠিক রাখার জন্যও এটির দরকার। কারণ প্রতিদিন হাজার হাজার গ্যালন পানি ঢাকা ওয়াসা ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করে ঢাকাবাসির পানির চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে। মাটির নিচে পানির স্তর বেশি নেমে গেলে ভূমিকম্প বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগে ঢাকার শহরের ভূমি দেবে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অষ্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে গিয়ে দেখেছি একটি ভবনের প্ল্যান পাশ করবার সময় অন সাইট ষ্টর্ম ওয়াটার ডিটেনশন ট্যাঙ্কের (রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ট্যাঙ্কের মত) নকশা সরকারী সংস্থায় জমা দিতে হয়। অষ্ট্রেলিয়ার প্রকৌশলীরা হিসাব করেন, যে ভূমিতে ভবন নির্মাণ করা হবে সেই ভূমি টি তো এখন সবুজ মাঠ, এই অবস্থায় যদি সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় (ওই অঞ্চলের ১০০ বছরের সর্বোচ্চ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ও সর্বোচ্চ সময় ধরে বৃষ্টিপাতের তথ্য ব্যবহার করা হয়) তাহলে সেই পানির কত শতাংশ ওই সবুজ ভূমি শুষে নিবে আর কত শতাংশ পানি বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থায় যাবে। এখন ওই ভূমি তে ভবন নির্মাণ করা হলে বৃষ্টির সম্পূর্ণ পানিই ড্রেনেজ ব্যবস্থায় চলে যাবে, বৃষ্টির পানির কোনো অংশই মাটি শুষে নেবার সুযোগ পাবে না। ফলে বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়বে। এভাবে একের পর এক খালি জমিতে বাড়ী নির্মাণ করা হলে তো আর রক্ষা নেই। অল্প বৃষ্টিতেই ড্রেনের পানি উপচিয়ে রাস্তায় চলে আসবে, সৃষ্টি হবে জলমগ্নতা। সে কারণেই ভবনের নির্মাণের সময় মাটির নিচে অন সাইট ষ্টর্ম ওয়াটার ডিটেনশন ট্যাঙ্কের প্রচলন হয়েছে। অর্থ্যাৎ বৃষ্টির সময় যে পানিটুকু মাটি শুষে নিত সেই পানি কিছু সময়ের জন্য এই ট্যাঙ্কে ধরে রাখা হয়। এই পানি দিয়ে টয়লেট ফ্ল্যাশ, গাছে পানি দেয়া, গাড়ি ধোয়া এমনকি বড় বড় ভবনের এসির কুলিং টাওয়ারেও ব্যবহার করা যায়। অনেকে বলেন বৃষ্টির পানি পান করবারও উপযুক্ত। দৈনন্দিন এই সব পানির চাহিদা মিটিয়ে অন সাইট ষ্টর্ম ওয়াটার ডিটেনশন ট্যাঙ্কের  অতিরিক্ত পানি যখন বৃষ্টিপাত থাকে না বা ড্রেনেজ ব্যবস্থার পানি নিষ্কাশন হয়ে গিয়েছে বোঝা গেলে পাম্প করে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় দেওয়া যেতে পারে। 

এ সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্ক দেখা যেতে পারে

https://www.sydneywater.com.au/web/groups/publicwebcontent/documents/document/zgrf/mdcw/~edisp/dd_070266.pdf

http://www.melton.vic.gov.au/Services/Building-Planning-Transport/Engineering/Infrastructure-planning

অনেকে হয়ত বলবেন, এতে করে আমার জায়গা নষ্ট হচ্ছে বা আমার বাড়ি বানাতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। প্রকৌশলী হিসাবে এতটুকু বলতে পারি এই ট্যাঙ্কের খরচ পুরো বাড়ি বানানোর খরচের সামান্য অংশ। আমরা এমনিতেই মাটির নিচে খাবার পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাঙ্ক ও সেপটিক ট্যাঙ্ক বানিয়ে থাকি। সমাজ বা দেশের স্বার্থে আরেকটি ট্যাঙ্ক না হয় বানালাম। রবীন্দ্রনাথ খুব সুন্দর করে বলেছেন,

ছোট ছোট বালু কণা, বিন্দু বিন্দু জল,

 গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল”

শুধু সরকার নয়, সবার মিলিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই পারে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।

 

২) এতো গেল বৃষ্টির পানি রাস্তায় যাতে না আসে বা জলমগ্নতা থেকে মুক্তির উপায়ের একটি ধারণা। কিন্তু জলাবদ্ধতার দূরীকরণের কি হবে? অর্থ্যাৎ রাস্তা বা ড্রেনে পানির প্রবেশ হয়ত কমে গেল কিন্তু বৃষ্টির কারণে পানি রাস্তা থেকে দ্রুত নিষ্কাশনের কি উপায়। সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একটি শিক্ষা আমরা সবাই জেনেছি। সেটি হল, প্রকৃতিকে বশে রেখে অবকাঠামো বা ভবন, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করতে হয়, প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে নয়। কারণ প্রকৃতির বা পরিবেশের ক্ষতি করলে প্রকৃতি খুব ধীরে ধীরে কিন্তু খুব বড় ধরণের প্রতিশোধ নেয়। তখন কিছু করার থাকে না।

 

এক্ষেত্রে বলবো হাজার হাজার বছর ধরে প্রাকৃতিক ভাবে ভূমিতে যে ঢাল (Natural Slope) তৈরি হয়েছে সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া। এর মাধ্যমে পানি তার নিজ ধর্মগুণে উচু স্থান থেকে নীচু স্থান যেমন নদী, নালা, খাল, বিলে চলে আসবে। বর্তমানে বাড়ি ঘর বা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কারণে অনেকসময় সেই প্রাকৃতিক ঢাল আমরা নষ্ট করে ফেলি। এছাড়া খাল ভরাট করা,খাল দখল করে বাড়ি বা রিসোর্ট নির্মাণ তো আছেই। অর্থ্যাৎ পানি নেমে যাবার জায়গাটিকে ও প্রাকৃতিক ঢাল কে খুব যত্ন করে নষ্ট করা হচ্ছে সরকারের নাকের ডগায়। যার কারণে বৃষ্টির পানি রাস্তা থেকে সরে যাবার স্বাভাবিক গতিপথ হারাচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। সরকারের দ্বায়িত্ব হচ্ছে হারানো খাল পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া।

 

এখানেই শেষ নয় কিছু সংখ্যক অসৎ ব্যাক্তিবর্গ পাহাড় কেটে সমতল করে বাড়ি বানানোর অপচেষ্টা করে চলেছেন প্রতি নিয়ত। এতে করে প্রায় প্রতি বছরই বর্ষার সময় পাহাড়ধসে লাশের পাহাড় গড়ে ওঠে আমাদের সামনে। শুধু অষ্ট্রেলিয়া নয় পার্শবর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, নেপাল বা ভুটান বেড়াবার সময় দেখেছি পাহাড়ে প্রাকৃতিক ঢাল রক্ষা করে কী সুন্দর সুন্দর বাড়ি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। আর সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ তো খুব চমৎকার সমতল ভূমি। এখানে প্রাকৃতিক ঢাল রক্ষা করা আরও সহজ।

 

৩) বৃষ্টির পানি রাস্তা দিয়ে তো শুধু খাল বিলে যায় না, ড্রেন দিয়েই যায় বেশিরভাগ। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যখন ড্রেন পরিষ্কার করেন তখন দেখা যায় প্রচুর চিপসের প্যাকেট,প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন বা অন্যান্য অপচণশীল আবর্জনা দিয়ে ড্রেন বন্ধ থাকে। এটি কিন্তু পুরোটায় আমাদের মানসিক রুগ্নতার লক্ষণ। সরকার এখানে একেবারেই দায়ী নয়। কিছুদিন আগে আনিসুল হক মেয়র হওয়ার পর ফুটপাতের উপর কিছু ধাতব ডাষ্টবিন বসিয়েছিল সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু হায় সেটি কেও ধ্বংস করেছি আমরা আমজনতা। ডাষ্টবিন রক্ষা করবার মানসিকতা গড়ে না উঠলে ডাষ্টবিনে ময়লা ফেলার মানসিকতা গড়ে উঠবে কিভাবে।

 

সেক্ষেত্রে এমন একটি ড্রেনেজ সিস্টেম প্রণয়ন করতে প্রকৌশলীদের যাতে রাস্তার কোন ময়লা ড্রেনের ভিতর প্রবেশ করে ড্রেন বন্ধ করতে না পারে।

 

৪) অনেক তত্ত্ব নিয়ে কপচাকপচি করেছি। এইবার একটি গল্প বলে শেষ করি। এক ভদ্রলোক বিয়ে করবেন। বিয়ের দিন বরযাত্রার আগে ভদ্রলোক দেখলেন তাঁর অমন সাধের সালোয়ারটি দুই ইঞ্চি বড় হয়েছে। তাই তিনি ড্রয়িংরুমে গিয়ে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের কে সালোয়ারটি দুই ইঞ্চি ছোট করতে বলে বাথরুমে ঢুকলেন। বাড়ির এই ছেলেটির মেজাজ সবাই জানে। তাই কালবিলম্ব না করে ভদ্রলোকের মা, ছোট বোন, ভাবী আলাদা আলাদা ভাবে সালোয়ারটি দুই ইঞ্চি করে ছোট করলেন। ফলে যা হওয়ার তাই হলো, দুই ইঞ্চি বড় হওয়ার বদলে এখন সালোয়ারটি চার ইঞ্চি ছোট হয়ে গিয়েছে। ভদ্রলোকের তো মেজাজ সেইরকম খারাপ। কী আর করা তিনি পাঞ্জাবীর পকেটে হাত ঢুকিয়ে পায়চারী করছেন । পাঞ্জাবীর পকেটে হাত দিতেই একটি কাগজ হাতে পড়ল। তাতে দর্জির লেখা সবসময় সমন্বয় করে কাজ করবেন। সমন্বয়হীনতা অনিষ্ঠের মূল।

 

আমাদের দেশে নানান সরকারী প্রকৌশল সংস্থা রয়েছে – তাদের কাজের একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র আছে। তাতে কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হলো শুধু সমন্বয়হীনতায় একই রাস্তা যখন বারে বারে খোড়া খুড়ি চলতেই থাকে। শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে সমন্বয় থাকলেই একটি অঞ্চলে পরবর্তি একশ বছরে কতগুলো সুউচ্চ ভবন হবে,কত বাসিন্দা সেই ভবনগুলোতে থাকবে আর তাতে করে ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও রাস্তার উপর কতটুকু চাপ পড়বে বা কী ধরণের সমস্যা হবে বা সমস্যা হলে তার সমাধান বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীগন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এক টেবিলেই করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে উন্নত নাগরিক সুবিধা প্রতিটি ব্যক্তি পেতে পারেন। আর সেটি না হলে জাতীয় পত্রিকার প্রথম পাতায় বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “পানির নিচে রাস্তা ভাল” ছবিটি দেখতে হবে বৃষ্টি হলেই।  

 

পরিশেষে এতটুকু বলতে পারি, জলাবদ্ধতা একটি প্রকৌশলগত সমস্যা। এর সমাধান প্রকৌশলীদেরকে করতে হবে। আমাদের দেশে অনেক বড় বড় নামকরা দেশবরেণ্য কিংবদন্তিতুল্য প্রকৌশলী রয়েছেন। সেই সমস্ত নবীন ও প্রবীন প্রকৌশলীদের নিয়ে (আবারও বলছি শুধুমাত্র প্রকৌশলীদের নিয়ে) জাতীয় কমিটি গঠণ এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে বলে আমার বিশ্বাস। আর সেই সাথে দরকার আমাদের মত সাধারণ মানুষের শুধু একটু সচেতনতা।                 

Card image cap
পানির নিচে রাস্তা ভাল
engr.tushar - 05 Aug 2017

তিলোত্তমা নগর

আমাদের প্রিয়তম ঢাকা

 বৃষ্টিস্নাত শহর

জলের নিচে গাড়ির চাকা

ঢাকার রাস্তা এখন আর চোখে পড়ে না, সবই যেন জলঢাকা। মানে জলে ঢাকা। যেদিকে তাকায় শুধু জল আর জল। জলের আবার অনেক রকমফের। বৃষ্টির জল, নর্দমার জল, সুয়ারেজ লাইনের জল আরও কত কি! আর সেই জলে নাকানিচুবানি খাচ্ছেন ঢাকার বর্তমান দুই মেয়র আনিস ও সাইদ ভাই। জলাবদ্ধতার জন্য কেউ কেউ আবার ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ এর মত বর্তমান সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বেজায় খুশি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ঢাকার রাস্তায় এখন প্রাইভেট গাড়ির সাথে সাথে প্রাইভেট নৌকা চালাবে মানুষ। চট্টগ্রামের এক সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা তো আরেক কাঠি সরেস। তাঁরা একবারে নৌকা কিনেই ছেড়েছে চলাচলের জন্য।

 

আসলে দোষ কার সে সব তর্কে না জড়ানোয় ভাল হবে এই অধমের। কারণ দোষ যদি কারো থেকেই থাকে তাহলে আসামীর কাঠগড়ায় আমরা সবাই থাকব। শুধু একা সরকার নয়। জলাবদ্ধতা, জলমগ্নতা, যানজট বা পাহাড়ধসের মত ঘটনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌছেছে যে শুধু প্যারাসিটামল দু’বেলা খেলে রোগ সারবে বলে মনে হয় না। বরং রোগটাকে যথাযথ ভাবে ভিতর থেকে চিহ্নিত করে রোগ সারাবার সময় এখন এসে গিয়েছে।

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে দীর্ঘ এক যুগ বাংলাদেশে নির্মাণশিল্পে প্রকৌশলী হিসাবে কাজ করেছি। দেশ বিদেশের অনেক প্রকৌশলীর সাথে কাজ করবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে ভুল শুদ্ধ যা শিখেছি তা সবই একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ব্লগ www.need4engineer.com লিখে গিয়েছি। যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে উন্নত জগত গঠন (আই,ই,বি এর শ্লোগান) করতে পারে। বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ার মত প্রথম সারির দেশে এসেও নির্মানশিল্পে প্রকৌশলী হিসাবে কাজ করে চলেছি। এতে করে বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তির উৎকর্ষতা ও অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞানের সম্মিলনে রঙ্গিন হচ্ছে মনের ক্যানভাস। সেই জায়গা থেকে দু’একটি ধারণা সবার সাথে ভাগ করে নিতে চাই। তাতে সমস্যার সমাধান রাতারাতি হবে এমনটি নয়। বরং এই ধারণাগুলো নিয়ে দেশ বান্ধব বা পরিবেশ সহনশীল পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির প্রয়োগ করা যেতে পারে।  

 

১) বাংলাদেশে কয়েক দিন ধরেই রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ট্যাঙ্কের  কথা বেশ শোনা যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডে আসা খুবই প্রয়োজন।  শুধু জলাবদ্ধতা দূরীকরণই নয় বরং ভূ-গর্ভস্তরে পানির স্তর ঠিক রাখার জন্যও এটির দরকার। কারণ প্রতিদিন হাজার হাজার গ্যালন পানি ঢাকা ওয়াসা ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করে ঢাকাবাসির পানির চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে। মাটির নিচে পানির স্তর বেশি নেমে গেলে ভূমিকম্প বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগে ঢাকার শহরের ভূমি দেবে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অষ্ট্রেলিয়ায় কাজ করতে গিয়ে দেখেছি একটি ভবনের প্ল্যান পাশ করবার সময় অন সাইট ষ্টর্ম ওয়াটার ডিটেনশন ট্যাঙ্কের (রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ট্যাঙ্কের মত) নকশা সরকারী সংস্থায় জমা দিতে হয়। অষ্ট্রেলিয়ার প্রকৌশলীরা হিসাব করেন, যে ভূমিতে ভবন নির্মাণ করা হবে সেই ভূমি টি তো এখন সবুজ মাঠ, এই অবস্থায় যদি সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় (ওই অঞ্চলের ১০০ বছরের সর্বোচ্চ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ও সর্বোচ্চ সময় ধরে বৃষ্টিপাতের তথ্য ব্যবহার করা হয়) তাহলে সেই পানির কত শতাংশ ওই সবুজ ভূমি শুষে নিবে আর কত শতাংশ পানি বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থায় যাবে। এখন ওই ভূমি তে ভবন নির্মাণ করা হলে বৃষ্টির সম্পূর্ণ পানিই ড্রেনেজ ব্যবস্থায় চলে যাবে, বৃষ্টির পানির কোনো অংশই মাটি শুষে নেবার সুযোগ পাবে না। ফলে বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়বে। এভাবে একের পর এক খালি জমিতে বাড়ী নির্মাণ করা হলে তো আর রক্ষা নেই। অল্প বৃষ্টিতেই ড্রেনের পানি উপচিয়ে রাস্তায় চলে আসবে, সৃষ্টি হবে জলমগ্নতা। সে কারণেই ভবনের নির্মাণের সময় মাটির নিচে অন সাইট ষ্টর্ম ওয়াটার ডিটেনশন ট্যাঙ্কের প্রচলন হয়েছে। অর্থ্যাৎ বৃষ্টির সময় যে পানিটুকু মাটি শুষে নিত সেই পানি কিছু সময়ের জন্য এই ট্যাঙ্কে ধরে রাখা হয়। এই পানি দিয়ে টয়লেট ফ্ল্যাশ, গাছে পানি দেয়া, গাড়ি ধোয়া এমনকি বড় বড় ভবনের এসির কুলিং টাওয়ারেও ব্যবহার করা যায়। অনেকে বলেন বৃষ্টির পানি পান করবারও উপযুক্ত। দৈনন্দিন এই সব পানির চাহিদা মিটিয়ে অন সাইট ষ্টর্ম ওয়াটার ডিটেনশন ট্যাঙ্কের  অতিরিক্ত পানি যখন বৃষ্টিপাত থাকে না বা ড্রেনেজ ব্যবস্থার পানি নিষ্কাশন হয়ে গিয়েছে বোঝা গেলে পাম্প করে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় দেওয়া যেতে পারে।

 

অনেকে হয়ত বলবেন, এতে করে আমার জায়গা নষ্ট হচ্ছে বা আমার বাড়ি বানাতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। প্রকৌশলী হিসাবে এতটুকু বলতে পারি এই ট্যাঙ্কের খরচ পুরো বাড়ি বানানোর খরচের সামান্য অংশ। আমরা এমনিতেই মাটির নিচে খাবার পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাঙ্ক ও সেপটিক ট্যাঙ্ক বানিয়ে থাকি। সমাজ বা দেশের স্বার্থে আরেকটি ট্যাঙ্ক না হয় বানালাম। রবীন্দ্রনাথ খুব সুন্দর করে বলেছেন,

ছোট ছোট বালু কণা, বিন্দু বিন্দু জল,

 গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল”

শুধু সরকার নয়, সবার মিলিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই পারে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।

 

২) এতো গেল বৃষ্টির পানি রাস্তায় যাতে না আসে বা জলমগ্নতা থেকে মুক্তির উপায়ের একটি ধারণা। কিন্তু জলাবদ্ধতার দূরীকরণের কি হবে? অর্থ্যাৎ রাস্তা বা ড্রেনে পানির প্রবেশ হয়ত কমে গেল কিন্তু বৃষ্টির কারণে পানি রাস্তা থেকে দ্রুত নিষ্কাশনের কি উপায়। সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একটি শিক্ষা আমরা সবাই জেনেছি। সেটি হল, প্রকৃতিকে বশে রেখে অবকাঠামো বা ভবন, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করতে হয়, প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে নয়। কারণ প্রকৃতির বা পরিবেশের ক্ষতি করলে প্রকৃতি খুব ধীরে ধীরে কিন্তু খুব বড় ধরণের প্রতিশোধ নেয়। তখন কিছু করার থাকে না।

 

এক্ষেত্রে বলবো হাজার হাজার বছর ধরে প্রাকৃতিক ভাবে ভূমিতে যে ঢাল (Natural Slope) তৈরি হয়েছে সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া। এর মাধ্যমে পানি তার নিজ ধর্মগুণে উচু স্থান থেকে নীচু স্থান যেমন নদী, নালা, খাল, বিলে চলে আসবে। বর্তমানে বাড়ি ঘর বা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কারণে অনেকসময় সেই প্রাকৃতিক ঢাল আমরা নষ্ট করে ফেলি। এছাড়া খাল ভরাট করা,খাল দখল করে বাড়ি বা রিসোর্ট নির্মাণ তো আছেই। অর্থ্যাৎ পানি নেমে যাবার জায়গাটিকে ও প্রাকৃতিক ঢাল কে খুব যত্ন করে নষ্ট করা হচ্ছে সরকারের নাকের ডগায়। যার কারণে বৃষ্টির পানি রাস্তা থেকে সরে যাবার স্বাভাবিক গতিপথ হারাচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। সরকারের দ্বায়িত্ব হচ্ছে হারানো খাল পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া।

 

এখানেই শেষ নয় কিছু সংখ্যক অসৎ ব্যাক্তিবর্গ পাহাড় কেটে সমতল করে বাড়ি বানানোর অপচেষ্টা করে চলেছেন প্রতি নিয়ত। এতে করে প্রায় প্রতি বছরই বর্ষার সময় পাহাড়ধসে লাশের পাহাড় গড়ে ওঠে আমাদের সামনে। শুধু অষ্ট্রেলিয়া নয় পার্শবর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, নেপাল বা ভুটান বেড়াবার সময় দেখেছি পাহাড়ে প্রাকৃতিক ঢাল রক্ষা করে কী সুন্দর সুন্দর বাড়ি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। আর সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ তো খুব চমৎকার সমতল ভূমি। এখানে প্রাকৃতিক ঢাল রক্ষা করা আরও সহজ।

 

৩) বৃষ্টির পানি রাস্তা দিয়ে তো শুধু খাল বিলে যায় না, ড্রেন দিয়েযায় বেশিরভাগ। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যখন ড্রেন পরিষ্কার করেন তখন দেখা যায় প্রচুর চিপসের প্যাকেট,প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন বা অন্যান্য অপচণশীল আবর্জনা দিয়ে ড্রেন বন্ধ থাকে। এটি কিন্তু পুরোটায় আমাদের মানসিক রুগ্নতার লক্ষণ। সরকার এখানে একেবারেই দায়ী নয়। কিছুদিন আগে আনিসুল হক মেয়র হওয়ার পর ফুটপাতের উপর কিছু ধাতব ডাষ্টবিন বসিয়েছিল সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু হায় সেটি কেও ধ্বংস করেছি আমরা আমজনতা। ডাষ্টবিন রক্ষা করবার মানসিকতা গড়ে না উঠলে ডাষ্টবিনে ময়লা ফেলার মানসিকতা গড়ে উঠবে কিভাবে।

 

সেক্ষেত্রে এমন একটি ড্রেনেজ সিস্টেম প্রণয়ন করতে প্রকৌশলীদের যাতে রাস্তাকোন ময়লা ড্রেনের ভিতর প্রবেশ করে ড্রেন বন্ধ করতে না পারে।

 

৪) অনেক তত্ত্ব নিয়ে কপচাকপচি করেছি। এইবার একটি গল্প বলে শেষ করি। এক ভদ্রলোক বিয়ে করবেন। বিয়ের দিন বরযাত্রার আগে ভদ্রলোক দেখলেন তাঁর অমন সাধের সালোয়ারটি দুই ইঞ্চি বড় হয়েছে। তাই তিনি ড্রয়িংরুমে গিয়ে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের কে সালোয়ারটি দুই ইঞ্চি ছোট করতে বলে বাথরুমে ঢুকলেন। বাড়ির এই ছেলেটির মেজাজ সবাই জানে। তাই কালবিলম্ব না করে ভদ্রলোকের মা, ছোট বোন, ভাবী আলাদা আলাদা ভাবে সালোয়ারটি দুই ইঞ্চি করে ছোট করলেন। ফলে যা হওয়ার তাই হলো, দুই ইঞ্চি বড় হওয়ার বদলে এখন সালোয়ারটি চার ইঞ্চি ছোট হয়ে গিয়েছে। ভদ্রলোকের তো মেজাজ সেইরকম খারাপ। কী আর করা তিনি পাঞ্জাবীর পকেটে হাত ঢুকিয়ে পায়চারী করছেন । পাঞ্জাবীর পকেটে হাত দিতেই একটি কাগজ হাতে পড়ল। তাতে দর্জির লেখা সবসময় সমন্বয় করে কাজ করবেন। সমন্বয়হীনতা অনিষ্ঠের মূল।

 

আমাদের দেশে নানান সরকারী প্রকৌশল সংস্থা রয়েছে – তাদের কাজের একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র আছে। তাতে কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হলো শুধু সমন্বয়হীনতায় একই রাস্তা যখন বারে বারে খোড়া খুড়ি চলতেই থাকে। শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে সমন্বয় থাকলেই একটি অঞ্চলে পরবর্তি একশ বছরে কতগুলো সুউচ্চ ভবন হবে,কত বাসিন্দা সেই ভবনগুলোতে থাকবে আর তাতে করে ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও রাস্তার উপর কতটুকু চাপ পড়বে বা কী ধরণের সমস্যা হবে বা সমস্যা হলে তার সমাধান বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীগন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এক টেবিলেই করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে উন্নত নাগরিক সুবিধা প্রতিটি ব্যক্তি পেতে পারেন। আর সেটি না হলে জাতীয় পত্রিকার প্রথম পাতায় বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “পানির নিচে রাস্তা ভাল” ছবিটি দেখতে হবে বৃষ্টি হলেই।  

 

পরিশেষে এতটুকু বলতে পারি, জলাবদ্ধতা একটি প্রকৌশলগত সমস্যা। এর সমাধান প্রকৌশলীদেরকে করতে হবে। আমাদের দেশে অনেক বড় বড় নামকরা দেশবরেণ্য কিংবদন্তিতুল্য প্রকৌশলী রয়েছেন। সেই সমস্ত নবীন ও প্রবীন প্রকৌশলীদের নিয়ে (আবারও বলছি শুধুমাত্র প্রকৌশলীদের নিয়ে) জাতীয় কমিটি গঠণ এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে বলে আমার বিশ্বাস। আর সেই সাথে দরকার আমাদের মত সাধারণ মানুষের শুধু একটু সচেতনতা।                 

Card image cap
বাড়ির নকশায় যুক্ত হচ্ছে ‘রেইন হার্ভেস্টিং’ ( রাজউক )
engr.tushar - 04 Aug 2017

রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং

রাজধানীর ভবনগুলোয় বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। নতুন করে বাড়ির নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ভবনের ছাদ বা নিচে ‘রেইন রিজার্ভর’ এর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিকে ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ বলা হচ্ছে। এ জন্য ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও গৃহায়ণ বিধিমালায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হলেও এ নিয়ে নীতিমালা ও ধারণা না থাকায় এখনও আবাসন কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বিরাজ করছে।

জানতে চাইলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজউক যে বিষয়টি বলছে এই সম্পর্কে আমার কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই। অন্যদেরও ধারণা আছে বলে আমার মনে হয়নি। তাহলে আমরা এটা নিয়ে কিভাবে সামনে এগোবো। আগে আমাদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হোক। এরপর সিদ্ধান্ত।’

তবে নতুন এ পদ্ধতি সংযুক্ত করেই বাড়ি নির্মাণের জন্য রাজউকের ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮’ সংশোধন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ‘রেইন হার্ভেস্টিং’ এর বিষয়টি সংযুক্ত করা হবে। তাছাড়া, বিধিমালায় নতুন করে আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত ও বাদ দেওয়া হবে। রাজউক ও নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে ছাদ বা ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড পানির ধারক হিসেবে কাজ করে। ছাদে বৃষ্টির পানি ধারণ করার পর তা চলে যাবে রিজার্ভারে। এই পদ্ধতিতে তুলনামূলক খরচ কম। উপরন্তু, এতে ১৫-২০ শতাংশ পানির চাহিদা পূরণ হবে। কমবে জলাবদ্ধতা।

রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) মো. আসমাউল হোসেন বলেন, ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও সংকট দূর করতে সংশোধিত বিধিমালায় বৃষ্টির পানি ধারণ করতে বিধান রাখা হচ্ছে। রেইন রিজার্ভারের পানি গৃহস্থালির পাশাপাশি বাড়ির বাগান ও অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে। ভবন নির্মাণের জন্য যখন নকশা অনুমোদন দেওয়া হবে তখন এই শর্তটি থাকবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাসার আন্ডারগ্রাউন্ডে ৫০০ বর্গমিটার বা তার কম জায়গা হলে ওই শর্তটি পালনে বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এছাড়া, পুরোনো ভবনের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা বাধ্যতামূলক না হলেও কেউ আগ্রহী হলে সেই নকশা নবায়ন করে দেওয়া হবে। রাজউক জানিয়েছে, এরই মধ্যে রাজউকের উত্তরার ৭৯টি অ্যাপার্টমেন্টে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, আবাসন প্রকল্পগুলোতেও জলাশয় ও খোলা জায়গা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূগর্ভে বৃষ্টির পানি রিজার্ভ হবে।

রাজউকের কর্মকর্তারা বলছেন, সংকট মেটাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিষয়টি রাজউকের পরিকল্পনায় মাত্র আসলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতিটি চালু রয়েছে। প্রতিবেশী ভারতসহ অনেক দেশে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের নজির রয়েছে। এ জন্য শহরগুলোর সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে বিভিন্ন প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফেরও উদাহরণ রয়েছে অনেক দেশে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান জানিয়েছেন, ওয়াসার ৮৬ শতাংশ পানি আসে ভূগর্ভ থেকে। বাকি ১৪ শতাংশ পানি আসে নদী থেকে। ফলে দিন দিন ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। স্তর নেমে যাওয়ায় ওয়াসার নলকূপগুলো পানিও পাচ্ছে না। নগরবাসীর পানি সংকট দূর করতে ঢাকা ওয়াসাকে অনেক দূর থেকে নদীর পানি শোধন করে তা সরবরাহ করতে হয়। এ অবস্থায় নদীর ১৪ শতাংশের সঙ্গে বৃষ্টির ১৫-২০ শতাংশ জল যুক্ত করা গেলে ভূগর্ভের পানির উপর নির্ভরতা কমবে।

সম্প্রতি ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে আমরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। এক লাখ অ্যাপার্টমেন্টের ছাদে বৃষ্টির পানির রিজার্ভার করার পরিকল্পনা নিয়েছি। রাজউকের যতগুলো বিল্ডিং হচ্ছে সবগুলোতে রেইন হার্ভেস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় সংশোধন আনা হচ্ছে। আমার বৃষ্টির পানি আমার কাছে থাকবে, কোথাও যাবে না। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি বাড়িতে রেইন হার্ভেস্টিংয়ের ব্যবস্থা করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজউক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি, সামনে কোনও রেইন হার্ভেস্টিং ছাড়া প্ল্যান পাস না করতে।’

নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে আসার পর সম্প্রতি পূর্তমন্ত্রী রাজউককে আগামীতে অনুমোদন দেওয়া প্রতিটি বাড়ির নকশায় রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই পদ্ধতিতে বৃষ্টির পানি যখন ছাদে আটকে রাখা যাবে, তখন তা আর রাস্তায় আসবে না। জলাবদ্ধতা কমবে। এতে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিকভাবে আমরা লাভবান হওয়া যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পানি ওয়াসার নলকূপের পানির চেয়ে অনেক বিশুদ্ধ। খাওয়ার উপযোগী। এরপরও এই পানি ছাদ থেকে নামিয়ে আনার সময় ফিল্টারিং করার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া অন্যভাবেও তা করা যায়। বছরের ছয় মাস যদি বৃষ্টির পানি ব্যবহার করা যায়, তাহলে অনেক খরচ কমে আসবে। ওয়াসার বিল কমবে। বাড়িওয়ালারা রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের জন্য যে টাকা ইনভেস্ট করবেন, তা দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে উঠে আসবে।’ এভাবে বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় পানি (জলাবদ্ধতা) ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) নির্বাহী সদস্য ও নগর বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মানুষের বাড়িতে আগে উঠোন ছিল। সেখান থেকে পানি ভূগর্ভে চলে যেত। কিন্তু এখন সেই ব্যবস্থা নেই। খোলা মাঠ নেই। আছে ছাদ। ছাদ থেকে পানি চলে যাচ্ছে রাস্তায়। ফলে জলজটের সৃষ্টি হয়। এই পানি দীর্ঘক্ষণ আবদ্ধ থাকার ফলে রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনা বাড়ে। প্রত্যেক বাড়িওয়ালা যদি এই পদ্ধতি অবলম্বন করেন, তাহলে জলজট আর থাকবে না।’

তবে এ নিয়ে এখনও হাউজিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং’ বিষয়ক তৃতীয় বাংলাদেশ কনভেনশনে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল বলেন, ‘এ সম্পর্কে সঠিক নীতিমালা ও ধারণা না থাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ নিয়ে এখনও ভবন নির্মাতাদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। এখন এর কোনও ব্যবহার দেখছি না। এই পানি গাড়ি ধোয়া ও বাগানে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারি। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হলে আমাদের বিল্ডিং নির্মাণ খরচ বেড়ে যাবে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে ফ্ল্যাটের দামও বাড়বে।’
সুত্র: বাংলাট্রিবিউন

Card image cap
ঢাকার অর্ধেকের বেশি সড়ক নষ্ট
engr.tushar - 04 Aug 2017

গত সপ্তাহে টানা বৃষ্টির পর রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে হাঁ হয়ে বেরিয়ে এসেছিল বড় বড় গর্ত। গত দুদিনের বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। বাসের চাকা পর্যন্ত আটকে যাচ্ছে এসব গর্তে। যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় যানজট তৈরি হচ্ছে। তীব্র ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের অবস্থা কাহিল।
রাজধানীর প্রধান সড়ক কিংবা গলিপথ—প্রায় সবখানেই এখন এই অবস্থা, চলাচলে স্বস্তি নেই। পাঁচটি মূল সড়কের চারটিতেই চলাচলের জন্য কষ্ট। সব মিলিয়ে রাজধানীর প্রায় ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার সড়কের অর্ধেকের বেশিই এখন বেহাল।
গত মঙ্গল ও বুধবার এসব সড়ক ঘুরে এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতির জন্য নগরবিদ ও প্রকৌশলীরা অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের রক্ষণাবেক্ষণকে দায়ী করেছেন। তাঁরা বলছেন, সঠিক উপায়ে মেরামত করলে ক্রমান্বয়ে মেরামতযোগ্য সড়কের পরিমাণ ও ব্যয় কমে আসার কথা।
কিন্তু দুই সিটি করপোরেশনের সড়ক মেরামতের চিত্র বলছে, প্রতিবছর মেরামতযোগ্য সড়কের পরিমাণে তেমন হেরফের হচ্ছে না, বরং প্রতিবছরই বরাদ্দ বাড়ছে। গত বছর দুই সিটি করপোরেশন ৫২০ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করেছে। চলতি বছর ৫১৯ কিলোমিটার মেরামতের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গত অর্থবছরে দুই সিটির সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানীবাসীকে স্বস্তি দিতে এই ভরা বর্ষায়ও কোনো সুখবর নেই। এখন সিটি করপোরেশন বড় বড় গর্তে আস্ত ইট ফেলছে। কিন্তু এতে পরিস্থিতির বদল হচ্ছে না। ইট দিয়ে রাস্তার গর্ত ভরাট, বর্ষার পানি আর চাকার ঘর্ষণে তা আবারও নষ্ট হওয়া—এই চক্রেই দিন পার করতে হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বলছে, শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী মেরামতের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। 
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ উড়ালসড়ক ও মগবাজার-মৌচাক-শান্তিনগর উড়ালসড়কের নিচের সড়ক প্রায় পাঁচ বছর ধরেই বেহাল। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ দুই উড়ালসড়কের নিচের সড়কের কিছু কিছু স্থানে গর্ত এতটাই গভীর যে নতুন করে নির্মাণ না করলে স্বাভাবিক অবস্থায় আনা যাবে না। মগবাজার উড়ালসড়কের নিচের সড়ক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। ফলে এই সড়ক চালু রাখার বিষয়টি ঠিকাদারের সদিচ্ছার ওপরই ছেড়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
ঢাকায় মোটা দাগে মূল সড়ক পাঁচটি। এগুলো হচ্ছে কুড়িল থেকে প্রগতি সরণি হয়ে রামপুরা ও যাত্রাবাড়ী; আবদুল্লাহপুর থেকে মহাখালী ও ফার্মগেট হয়ে প্রেসক্লাব; গাবতলী থেকে আজিমপুর; মহাখালী থেকে মগবাজার হয়ে গুলিস্তান এবং পল্লবী থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত সড়ক। এর মধ্যে আবদুল্লাহপুর থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত সড়কটিই একটু ভালো। এই পথে রাষ্ট্রীয় অতিথি, ভিভিআইপি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচল সবচেয়ে বেশি।
রাজধানীর প্রায় সব সড়কই সিটি করপোরেশনের অধীনে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। এর বাইরে বিমানবন্দর সড়কের বনানীর পরের অংশসহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে থাকা সড়ক ৫০ কিলোমিটারের বেশি নয়। এর মধ্যে গাবতলী-সদরঘাট বেড়িবাঁধের অবস্থা বেশি খারাপ।
এ বছর বর্ষা শুরুর আগে কতটুকু সড়ক বেহাল, তা হিসাব করে দুই সিটি করপোরেশন মেরামতের পরিকল্পনা করে। এতে দেখা গেছে, ৫১৯ কিলোমিটার সড়ক বেহাল, অর্থাৎ মেরামত করতে হবে। এর মধ্যে উত্তরে ২৫০ এবং দক্ষিণে ২৬৯ কিলোমিটার। এ ক্ষেত্রে প্রায় ২২ শতাংশ সড়ক বর্ষার আগে মেরামতের জন্য রাখা হয়েছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই সিটির প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, ভারী বৃষ্টিপাত আর জলাবদ্ধতার পর এখন অর্ধেকের বেশি সড়কই বেহাল। এর বাইরে গত শুষ্ক মৌসুমে শুরু হওয়া প্রায় ৫০০ স্থানে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
গত দুই দিন প্রথম আলোর দুজন প্রতিবেদক ও তিনজন আলোকচিত্রী উত্তর সিটির গাবতলী, মাজার রোড, দারুস সালাম, আগারগাঁও, মিরপুর ১২ নম্বর, মহাখালী, সাতরাস্তা এবং দক্ষিণ সিটির মিরপুর রোড, রামপুরা, বনশ্রী, বাসাবো, মাদারটেক, মৌচাক মোড় ও মালিবাগ এলাকা ঘুরেছেন। এতে দেখা গেছে, এসব এলাকার দুই-তৃতীয়াংশ সড়কেই গর্ত, ভাঙাচোরা ও খোঁড়াখুঁড়ির মহোৎসব চলছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুদরত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে অনেক সড়কে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশি গর্ত হয়েছে এমন সড়কগুলোতে ইট বিছিয়ে চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইট, বালু দিয়ে আপত্কালীন এই সংস্কারকাজ সিটি করপোরেশন নিজস্ব জনবল দিয়ে করছে। শুষ্ক মৌসুমে ভারী মেরামত করা হবে।
প্রায় একই কথা বলেন দক্ষিণের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার বৃষ্টি বেশি হয়েছে। তাই সড়কে গর্তও বেশি হয়েছে। এখন তাঁরা সাময়িক মেরামতের ওপরই জোর দিচ্ছেন।
রক্ষণাবেক্ষণের গলদের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর সিটির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুদরত উল্লাহ বলেন, সিটি করপোরেশন সাধারণত একই সড়ক পরপর দুই বছর সংস্কার করে না। রক্ষণাবেক্ষণ না করলে ঢাকার সড়কে চলাচল করা যেত না। 
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত নতুন সড়ক ঠিকভাবে নির্মাণ করা হলে ১৫-২০ বছর হাত দিতে হয় না। ঢাকার সড়ক যেহেতু পুরোনো, তাই একবার ভারী মেরামত করলে ৬-৮ বছর টিকে থাকার কথা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক আকতার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, শুধু জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের এই অবস্থা হয়েছে, সেটি ঠিক নয়। ভারী যানবাহন চলাচল এবং নিম্নমানের কাজের কারণেও সড়ক ভেঙেছে। বছরের শুরুতেই সিটি করপোরেশনের সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির একটি পথনকশা বা রোডম্যাপ থাকলে এমন হতো না। এ ক্ষেত্রে সময় অনুযায়ী কাজ শুরু ও শেষ করতে হবে এবং অবশ্যই বর্ষা মৌসুমে সড়ক খোঁড়া বন্ধ রাখতে হবে।
সুত্র প্রথম-আলো

Card image cap
তিনশ ফুট সড়কে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান
engr.tushar - 04 Aug 2017
  • বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা থেকে সড়কের বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির সামনে থেকে এ অভিযান শুরু হয়।

    অভিযানে ১০০ ফুট খাল খনন প্রকল্প এলাকায় গড়ে তোলা কয়েকটি ভবন ভেঙে দেওয়া হয়। এসব ভবনে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ গড়ে তোলা হয়েছিল। এছাড়া পুলিশ হাউজিংয়ের সামনেও দুটি ভবন ভাঙা হয়েছে অভিযানে।
    বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের সামনের সীমানা দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়।

    রাজউকের কর্মকর্তারা আরও একটি ভবনের সামনের সীমানা দেয়াল অভিযানের দ্বিতীয় দিনে ভাঙার কাজ শুরু হবে বলে সেদিন জানালেও বৃহস্পতিবারের অভিযানে সেসব বাড়ির দেয়াল ভাঙা হয়নি।

    রাউজকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পার্শ্বে ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম জানান, প্রথমে সড়কের উত্তর পাশে খালের জায়গা খালি করবেন তারা।

     

    “সড়কের উত্তরপাশটা প্রায় ফাঁকা। সে কারণে সেখানে আগে উচ্ছেদ করে আমরা খাল খননকাজ শুরু করতে চাই।”

     

    বসুন্ধরা গ্রুপের লোকজন বাড়িতে থাকা যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিতে মৌখিকভাবে সময় চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

    “আমরা যেখানে অভিযান চালাব, সেখানে কিছু ভারী যন্ত্রপাতি আছে। তারা আমাদের কাছে মৌখিকভাবে সময় চেয়েছেন এসব যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার জন্য।”

    কুড়িল-পূর্বাচল তিনশ ফুট সড়কের দুপাশে প্রায় ১৫০টির মতো স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান নুরুল ইসলাম। এসব স্থাপনা পুরোপুরি উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

    রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসির উদ্দিন আহমেদসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১০০ ফুট খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের কর্মকর্তা এবং সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

Card image cap
রাজধানীর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সংরক্ষণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
engr.tushar - 03 Aug 2017

০২ আগস্ট, ঢাকা : যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে রাজধানীর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনে কোনো স্থাপনা ভেঙে নতুন করে নির্মাণ বা সংরক্ষণ বা সংস্কারের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দেন।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও রাজউকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফকালে এ কথা জানান।

বৈঠকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে ৯৩টি স্থাপনার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইবরাহীম হোসেন খান, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার ও রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তথ্যসূত্র : বাসস

Card image cap
৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে মারা যাবে ৮৮ হাজার মানুষ
engr.tushar - 31 Jul 2017

পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। ছবি : এনটিভি

শহরাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে যত্রতত্র মাটি ভরাট করে নির্মিত দালান। এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। তাঁর মতে, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন না করা গেলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। অন্যদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বজ্রপাতের দুর্যোগ ঠেকাতে ব্যাপকভাবে তালগাছ লাগানোর উপর জোর দেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনের প্রথম দিনে এসব বিষয় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী জানান, মধুপুর ফল্টে যদি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয় তবে তাতে ঢাকায় সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়বে প্রায় ৭২ হাজার দালান। আর সেই ভূমিকম্প যদি রাত ২ নাগাদ হয় তাতে মারা যেতে পারে ৮৮ হাজার মানুষ।

খ্যাতিমান এ নগর পরিকল্পনাবিদ  আরো জানান, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলে হওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার। এ বিষয়ে অনেক দেশি-বিদেশি গবেষক তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন সাম্প্রতিক সময়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘শুধু ভবন ভূমিকম্প সহনীয় হলে হবে না। যে ধরনের মাটির ওপরে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটাও যাতে লোডটা নিতে পারে। আমি এটা উল্লেখ করছি এজন্য যে, শুধু ঢাকা না, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় জলাভূমিকে ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ওগুলোতে কিন্তু ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বেশি। একবার নির্মাণ হয়ে গেলে এটাকে ঠিক করা সম্ভব না বা আবার ভূমিকম্প সহনীয় পর্যায়ে আনতে প্রচুর টাকাপয়সা লাগবে ঠিক করতে। এটাকে রেট্রোফিট করা বলে। সেজন্য ডিজাইনের সময় নির্মাণের সময় এই পয়েন্টগুলো মনে রাখতে হবে। যেটা বিল্ডিংকোডে বলা আছে।’ 

জামিলুর রেজা চৌধুরীর মতে অন্য অনেক দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথেষ্ট সাফল্য দেখালেও ভূমিকম্পের ব্যাপারে এখনো উদাসীন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ভূমিকম্পের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও তিনি অন্যান্য দুর্যোগের ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। আশংকা প্রকাশ করেন সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাম এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়া নিয়ে। বজ্রপাত ঠেকাতে তিনি তালগাছ লাগাতে পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে মায়া বলেন, ‘আমরা বলছি বাংলাদেশে পাঁচ লাখ তালগাছ লাগাতে হবে। আগে ঠাডা মারলে বজ্রপাত হলে তালগাছে পড়ে। তাই প্রত্যেক গ্রামে-গঞ্জে তালগাছ লাগাব আমরা।’

কনভেনশনের আরেকটি সেশনে ভূমিধস ঠেকাতে মানুষের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার ওপর জোর দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Card image cap
ট্রান্সফরমার তৈরী
engr.tushar - 17 Jun 2017
পাওয়ার ট্রান্সফরমার তৈরী করবার হিসাব নিকাশ (ক্যালকুলেটর সহ)
পাওয়ার ট্রান্সফরমার তৈরী করবার হিসাব নিকাশ (ক্যালকুলেটর সহ)

ভূমিকা

পাওয়ার তৈরী করতে চান অনেকেই। এই লেখার মাধ্যমে এটি তৈরী করবার প্রয়োজনীয় ক্যালকুলেশন দেখাবো। সেই সাথে এই ক্যালকুলেশন প্রকৃয়াটি সহজ করবার জন্য একটি ক্যালকুলেটর ও দেবো। এবং এই ক্যালকুলেটর টির ব্যবহার উদাহরণ সহ দেখাবো। তার আগে এর বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ, গঠন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চলুন জেনে নেই।

কাকে বলে

আমরা জানি, পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্টেপ আপ অথবা স্টেপ ডাউন করতে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, ট্রান্সফরমার এর ধরন অনুযায়ী প্রাইমারিতে প্রদত্ত কে সেকেন্ডারিতে বাড়ায় অথবা কমায়।

ট্রান্সফরমার কত প্রকার

কোর এর আকার, ব্যবহার ও কাজের প্রকারভেদে অনেক ধরণের পাওয়ার ট্রান্সফরমার রয়েছে। যেমন,

  • ল্যামিনেটেড (E-I) কোর,
  • টরোয়ডাল কোর,
  • অটো ট্রান্সফরমার,
  • ভেরিয়েবল ট্রান্সফরমার।
  • এছাড়াও রয়েছে উচ্চ ফ্রিকুয়েন্সি ফেরাইট কোর ট্রান্সফরমার।

ফেরাইট কোর সাধারণত SMPS ও কনভার্টারে বহুল ব্যবহৃত হয়।

পাওয়ার টান্সফরমার ছাড়াও আরো অনেক রকম ট্রান্সফরমার রয়েছে। যেমন –

  • কারেন্ট ট্রান্সফরমার
  • ইন্সট্রুমেন্ট ট্রান্সফরমার,
  • পালস ট্রান্সফরমার,
  • আরএফ ট্রান্সফরমার,
  • অডিও ট্রান্সফরমার ইত্যাদি।

নিচের চিত্রে E-I কোর ট্রান্সফরমার, টরোয়ডাল ট্রান্সফরমার, ভেরিয়েবল ট্রান্সফরমার বা VARIAC এর ছবি দখতে পাচ্ছেন-

E-I কোর ট্রান্সফরমার, টরোয়ডাল ট্রান্সফরমার, ভেরিয়েবল ট্রান্সফরমার বা VARIAC
চিত্রে বাম থেকে E-I কোর ট্রান্সফরমার, টরোয়ডাল ট্রান্সফরমার, ভেরিয়েবল ট্রান্সফরমার বা VARIAC

আমরা লেমিনেটেড E-I কোর ট্রান্সফরমার ডিজাইন, তৈরী কৌশল ও হিসাব নিকাশ নিয়ে আলোচনা করব। ট্রান্সফরমার তৈরী বা ডিজাইন করতে প্রথমে অনেক হিসেব নিকেশ করে নিতে হয়, যা বেশ সময় সাপেক্ষ। এই কাজকে সহজ করতে আপনাদের জন্য একটি স্প্রেডশিট ক্যালকুলেটর দিলাম। এখন মিনিটেই হিসাব করে ফেলতে পারবেন। ক্যালকুলেটর টি লেখার শেষে লিংক আকারে দেয়া আছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ট্রান্সফরমার তৈরির আগে কিছু বিষয় জানা থাকা দরকার। আমাদের দেশে পাওয়ার লাইনে (বাসা-বাড়ির লাইনে) ২২০ ভোল্ট ৫০ হার্জ থাকে। একটি ট্রান্সফরমার কে ঠিক যে ফ্রিকুয়েন্সির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, তার চাইতে কম বা বেশি ফ্রিকুয়েন্সিতে কিছুতেই চালানো উচিত নয়। কারন এতে করে ট্রান্সফরমারটিতে ওভার কিংবা লো ভোল্টেজ এফেক্ট এর মত এফেক্ট পড়বে এবং ট্রান্সফরমারটি অনেক গরম হবে, এমনকি সেটি ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে।

প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কিভাবে নির্ণিত হয়

ট্রান্সফরমারের যে কয়েলে ইনপুট ভোল্টেজ দেয়া হয় তাকে প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং বা প্রাইমারি কয়েল বলে। আর যে কয়েল থেকে আউটপুট ভোল্টেজ নেয়া হয় তাকে বলে সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং বা সেকেন্ডারি কয়েল বলে। প্রাইমারি কয়েলে যখন পাওয়ার ইনপুট দেয়া হয় তখন প্রাইমারি কয়েলের চতুর্দিকে ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স বা তরিচ্চুম্বকীয় আবেশ তৈরি হয়। আর ট্রান্সফরমারের কোর এই ম্যাগনেটিক ফ্লাক্সের জন্য একটি পরিবাহী হিসেবে কাজ করে।

নিচের চিত্রে দেখুন সবুজ কালী দিয়ে ম্যাগনেটিক ফ্লাস্ক কে ট্রান্সফরমার এর কোরের মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হতে দেখা যাচ্ছে। নীল কালি দিয়ে এর সেকেন্ডারি ও লাল কালী দিয়ে এর প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং দেখানো হয়েছে।

কোর এর মধ্যদিয়ে ম্যগনেটিক ফ্লাস্ক প্রবাহিত হচ্ছে
কোর এর মধ্যদিয়ে ম্যগনেটিক ফ্লাস্ক প্রবাহিত হচ্ছে

মূলনীতি

ফ্যারাডের সূত্রানুসারে-

একটি পরিবাহী এবং একটি চুম্বকক্ষেত্রে যখন আপেক্ষিক গতি এরূপ বিদ্যমান থাকে যে পরিবাহীটি চুম্বকক্ষেত্রকে কর্তন করে তবে পরিবাহীতে একটি EMF আবিষ্ট হয়। যার পরিমান ফ্লাক্স কর্তন এর বা ফ্লাক্স পরিবর্তনের হারের সাথে সরাসরি সমানুপাতিক।

কোরের মাধ্যমে এই ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স সেকেন্ডারি কয়েলে আবিষ্ট হয়ে ভোল্টেজ ও কারেন্ট তৈরি করে।

ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারিতে বিদ্যুচ্চুম্বকীয় আবেশন প্রকৃয়া
ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারিতে বিদ্যুচ্চুম্বকীয় আবেশন প্রকৃয়া

ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন অংশ সমূহ

নিচে এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ সমূহের বর্ণনা করা হলো।

কোর

ম্যাগনেটিক মেটারিয়াল দিয়ে তৈরী হয় এটি। বিভিন্ন আকার ও গঠনের হয়ে থাকে। যেমন, E-I কোর, U-T কোর, EE কোর, টরোয়ডাল কোর ইত্যাদি। নিচের চিত্রে টরোয়েড কোর ও E-I কোর দেখতে পাচ্ছেন-

টরোয়েড কোর ও E-I কোর
টরোয়েড কোর ও E-I কোর

কন্ডাক্টর

সাধারণত এনামেল ইন্সুলেশন যুক্ত কপার কন্ডাক্টর ব্যবহৃত হয়। এলুমিনিয়াম তার ও ব্যবহার করা যায়। সেক্ষেত্রে এলুমিনিয়াম কন্ডাক্টরের ব্যাস কপার কন্ডাক্টরের ব্যাসের 1.26 গুন বেশি হতে হবে। কারণ এলুমিনিয়াম তারের কারেন্ট কন্ডাক্টিভিটি কপারের 61%।

ববিন

ববিন এর উপরে কন্ডাক্টরকে কয়েল আকারে পেঁচানো হয়। বিভিন্ন আকারের প্লাস্টিকের ববিন বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। সঠিক মাপের ববিন বাজারে কিনতে না পাওয়া গেলে হার্ড বোর্ড, ফাইবার বোর্ড ইত্যাদি দিয়ে নিজেও তৈরি করে নিতে পারেন। নিচের চিত্রে বাজারে পাওয়া যায় এমন বিভিন্ন সাইজের ববিন এর চিত্র দেখানো হলো-

বিভিন্ন রকম ট্রান্সফরমার ববিনের চিত্র
বিভিন্ন রকম ট্রান্সফরমার ববিনের চিত্র

হাতে তৈরি ববিনের চিত্র নিচে দেখা যাচ্ছে-

হাতে তৈরী করা ট্রান্সফরমারের ববিন

Card image cap
মেঝে ঢালাই করার নিয়ম
engr.tushar - 21 Apr 2017

আর সি সি কাজের জন্য কংক্রিট মিশ্রণ সাধারনত ১:২:৪ অনুপাতে হওয়া ভালো। ১ ভাগ সিমেষন্ট, ২ ভাগ বালু এবং ৪ ভাগ খোয়া ওজন হিসেবে মাপা হবে। এ রকম মিশ্রণ প্রতি বস্তার হিসেবে বানানো উচিত এবং পানি সর্বাধিক ২৫ লিটার হবে। মূলত: ওজনভিত্কি মাপ নেওয়া উচিত হলেও সাধারণ কাজের জন্য আয়তন হিসাবেও মাপা যায়। খোয়া অথবা বালুর জন্য কাঠের ফর্মা ব্যবহার করা উচিত। ফর্মার আকার হবে, ৩৫ সেমিল্প২৫ সেমিল্প৪০ সেমিল্প ৩৫ লিটার। যেটা কিনা একবস্তার হিসাব, এই হিসেবে বানালেই সুবিধে। এবার একবস্তা সিমেন্টে ১.৫ ফর্মা বালু এবং ৩ ফর্মা খোয়া ঢালুন। ১:৫:৩ মশলা তেরী হয়ে যাবে;।

যদি মিকচার মেশিন দিয়ে তৈরী করা হয় তাহলে কমপক্ষে ২ মিনিট মশলাটা মিশাতে হতে যতক্ষন পানির সাথে মশলা একেবারে মিশে না যায়।

যদি মিশ্রণ হাত দিয়ে তৈরী করা হয় তাহলে পাকা মেঝেতে সিমেন্ট বালুর মিশ্রণ ভাল করে তৈরী করে নিন, তারপর খোয়া মিশিয়ে পানি মিশিয়ে মশলা তৈরী করুন। যদিও এটি গুণগত মানসম্পন্ন কংক্রিট পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ ঝুঁকিপূর্ন।

সেটিং শুরু হওয়ার আগে ঢালাই হয়ে যাওয়া উচিত। আধা ঘন্টা থেকে ১ ঘন্টার মধ্যে ঢালাই হয়ে গেলে ভাল। দেরী হয়ে গেলে ঢালাই ব্যবহার উপযোগী বানাবার জন্য অতিরিক্ত পানি মেশানো এবং তারপর ব্যবহার করা ভুল। লক্ষ্য রাখা উচিত পিলারে ঢালাই ১.৫ মিটারের বেশী উপর থেকে ঢালা উচিত না, এতে সমস্ত সামগ্রী আলাদা হয়ে যাবে। ঢালাই করার পর তা নিরেট হওয়া উচিত যাতে ফাঁক ফোকর না থাকে। এজন্য নিডল ভাইব্রেটর অথবা লোহার রড দিয়ে ঠাসাই করা উচিত।

মেঝে ঢালাই: মেঝে ভিটি বালু দিয়ে ভরাট করে ভাল করে দুরমুজ করতে হবে ও পানি দিতে হবে যাতে কোন অংশ দুর্বল না থাকে। এরপর ইট বিছিয়ে কংক্রিট ঢালাই করতে হবে, ঢালাই ৩ ইঞ্চি পুরু হবে।

 

ছাদ ঢালাই: পুরো ছাদের সাটারিং একবারে করতে হবে। ১ ফুট পর পর মোটা বাঁশ দিয়ে ঢেকনা দিতে হবে যাতে ছাদ ও বীমের ফরমা যথেষ্ট মজবুত হয়। ফরমা সমতল হয়েছে কি না তা লেবেল দিয়ে যাচাই করে নিতে হবে।ষ রডের কাজ সম্পন্ন করে ঢালাই এক দিনে সম্পন্ন করতে পারলে ভালো। ছাদ ও বীমের ঢালাই এক সঙ্গে করা উচিত। ছাদ৪-৮ ইঞ্চি পুরু হতে পারে। ২১ দিন পর ফরমা খোলা যেতে পারে। ঢালাইর একদিন পরই ছাদের উপরিভাগে পানি ধরে রেখে কিউরিং করতে হবে।

ঢালাই এর জন্য কাঠের কাজ: সেন্টারিং এর জন্য এমন তক্তা অথবা প্লেট ব্যবহার হোক যেন তাতে কোন ছিদ্র না থাকে এবং তক্তার উপর ঢালাই এর আগে ডিজেল অথবা গ্রীজ লাগানো উচিত তাতে ঢালাইয়ের ফিনিশিং সুন্দর হবে। সবচেয়ে ভাল হয় পাতলা পলিথিন সিট ব্যবহার করা। যদি কাজ ভাল হয় তাহলে নিম্নলিখিত সময়ে সাটার খোলা যেতে পারে।

নংঢালাই এর স্থানসময়
দেওয়ালে অথবা পিলার এবং খাড়া ঢালাই৪৮-৭২
ছাদ (নীচের তক্তা বা প্লেট এবং খুটি না খুলে)৩দিন
বীম (নীচের খুটি ছাড়া)
ছাদ ক) ৪.৫ মিটার পর্যন্ত খুটি স্প্যান
 খ) ৪.৫ মিটারের দূরের খুঁটি স্প্যান১৪
বীম/আর্চ ক) ৬ মিটার পর্যন্ত স্প্যান১৪
 খ) ৬ মিটারের বেশী স্প্যান২১ দিন

Card image cap
ছাদের বাগান সুস্থভাবে শ্বাস নেবার প্রতিজ্ঞায়
engr.tushar - 18 Apr 2017

"ছাদের বাগান সুস্থভাবে শ্বাস নেবার প্রতিজ্ঞায়............"

আমাদের ঢাকা শহরে যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৯ হাজার ৪ শত ৪৭ ( ১৯,৪৪৭ জন মানুষ বাস করে।

সেখানে ২০০০, ৩০০০ বা ৫০০০ বর্গ ফুট এর বাড়ির ছাদ গুলো তালা বন্ধ করে ফেলে রাখা সত্যি বিলাসিতা।

জার্মানি সহ গোটা ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ যেখানে জনসংখ্যা নেগেটিভ আয়তন অনেক বড় , সেখানে শুধু ছাদেই নয় জানালার কোনা থেকে শুরু করে বাড়ীর দেয়াল কোথাও বাকি নেই যেখানে তারা গাছ লাগায় না। স্কুলের বাচ্চা থেকে শুরুকরে বুড়ো-বুড়ী সবার প্রকৃতি প্রেম। ৮০,৯০ বছরের বয়স্ক পুরুষ-মহিলাও সারাদিন বাগানে কাজ করে গাছের পরিচর্যা করে।এসব উন্নত দেশগুলোতে মালী বা কাজের লোকের বিলাসিতা নেই। বাজার রান্না ধোয়ামোছা বাগানের পরিচর্যা সার পানি দেয়া সব নিজেদের করতে হয়।
আর এইসব গাছের বেড়ে ওঠার জন্য যে সার দরকার তাও নিজেরাই ঘরে তেরি করে। অনেক গুলো বাড়ী থেকে কোন পচনশীল আর্বজনা পাওয়া যায় না মানে শূন্য পার্সেন্ট । বাংলাদেশে আগে গ্রামের বাড়িগুলোতে উঠোনে মাটিতে পুতে রাখার ব্যবস্থা থাকলেও শহরের বাড়িতে তা অসম্ভব।এখানে জার্মানিতে বাড়ির বাগানে নেটের একরকম খাঁচা থাকে যেখানে এরা প্রতিদিনের রান্না ঘরের পচনশীল বর্জ্যগুলো ফেলে রাখে সেগুলো পরে রোদে বৃষ্টিতে মাটিতে মিশে গিয়ে মাটি উর্বর করে।

আমাদের দেশেও বাড়ির ছাদে খোলা ড্রাম বা ইটের চারকোনা বাক্সে এক স্তর পচনশীল বর্জ্য এক স্তর মাটি বা বালি দিয়ে খুব সহজে জৈব সার বানানো যায় যেটা ওই বাড়ির ছাদের বাগানের সারের চাহিদা মেটাতে পারে। 

বাড়ির প্রতিদিনের রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট থেকে একদিকে যেমন জৈব সার পাওয়া যায়, বাইরে থেকে সার কেনার দরকার হয়না অন্যদিকে বালি-ভর্তি অনুর্বর মাটির উর্বরা ফিরিয়ে দেয়া যায়।সব উন্নত দেশ এমনকি ভারতেও এখন বায়োফুড বা কেমিকেল সার ও কীটনাশক মুক্ত খাবার বা শাকসবজি চাষাবাদ শুরু হয়েছে। 
আমাদের পুরো ঢাকা শহর কঙ্ক ক্রিটে ঢাকা। কোথাও কোন খালি জায়গা নেই। যে কোন আবাসিক এলাকা যেমন বসুন্ধরার ১০০টি বাড়ীর ৫০০০ বর্গ ফুটের ছাদে ৫,০০,০০০ বর্গফুট খালি জায়গা। ছাদ গুলোর অর্ধেক খালি যায়গায় যদি শুধু কাঁচামরিচ লাগানো যায় ( বাংলাদেশে মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে মরিচের অবস্থান প্রথম সারিতে তারপরেও দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।কারণ মরিচ প্রতি বাড়িতে প্রতিদিন দরকার)।
একটি ৩০০০ বর্গ ফুটের ছাদে খালি ৩০ থেকে ৫০ টি গাছ অনায়াসে লাগানো যায়। কাঁচা অবস্থায় প্রতি শতাংশে ১০০-১২০ কেজি মরিচ পাওয়া যেতে পারে।
তাহলে পুরো ঢাকা শহরে বা দেশের বড় বড় শহর গুলোর ছাদে প্রচুর মরিচের সম্ভাবনা রয়েছে।

ফুলের টবে না লাগিয়ে পিলার বরাবর দেড় থেকে দুই ফুট গভীর ইটের চৌবাচ্চার মত হলে পানি বা সার দেয়া সহজ এবং জায়গা বেশি পাওয়া যায়।

চিলেকোঠার দেয়ালে একটি কবুতরের ঘর বানিয়ে দিলে রান্নাঘরের ভাত বা রুটির উচ্ছিষ্ট খেয়ে এক জোড়া কবুতর বাসায় নির্মল বিনোদন ও প্রশান্তি এনে দিতে পারে। সেই সাথে বাড়ির শিশুদের কিছু সময়ের জন্য ভিডিও গেম থেকে দুরে এনে ইট , কাঠ , পাথরের শহরেও প্রকৃতির প্রতি মায়া, মমতা ও ভালবাসার জন্ম দিতে পারে।কবুতরগুলোও আকাশে ডানা মেলে ইকো-সিস্টেম এর ভারসাম্য আনতে পারে। 

একটি বাড়ির ছাদের চারদিকে দেয়ালের ধার এর পিলার বরাবর বাগান করা হলে পিলার সহজে মাটির বাড়তি ওজন এর ভার নিতে পারে।সিঁড়ি বা চিলেকোঠার একদিক বাদ রেখে বাকি তিন দিকে গাছ লাগানো যায়। এক পাশের দেয়ালের এই ইটের ঘর সব সময় খোলা রেখে এক স্তর বালি এক স্তর রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য রোদে এবং বৃষ্টিতে ভিজে কম্পোস্ট হয়ে সার বানানোর জন্য রেখে বাকি দুই দিকে গাছ লাগানো যায়।বালি বা মাটি দেয়ার ফলে এই পচনশীল বর্জ্য গন্ধ ছড়াবে না। এর পরে সেটি পুরোপুরি ভরে গেলে গাছ লাগানোর তৈরি হয়ে গেল। ফলে বাইরে থেকে মাটি আনার দরকার নেই। রান্না ঘরের বর্জ্য পচে অনুর্বর বালির সাথে মিশে জৈবসার হয়ে গেল। এভাবে অন্য পাশের দেয়াল গুলো পর্যায়ক্রমে উর্বর মাটি তৈরি করে নিলে বাইরে থেকে সার বা মাটি আনার দরকার হয়না অন্যদিকে পচনশীল বর্জ্য কাজে লাগানো গেল। 

আমাদের দেশের আবহাওয়া উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রচুর আর্দ্রতা শীতপ্রধান দেশগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত জৈবসার তৈরি করে।

অন্যদিকে ঢাকার ৪,৫০০ টন বর্জ্য থেকে যদি ৫০০ টন জৈব সার পাওয়া যায়( প্রতি কেজি ইউরিয়ার সমপরিমাণ দাম হলে ১,৫০,০০,০০০ টাকার সার উৎপাদন সম্ভব। (ইউরিয়া আমদানিতে খরচ ৩০ টাকা প্রতি কেজি)এতে একদিকে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো গেলো অন্যদিকে অনুর্বর শুষ্ক মাটিতে উর্বরতা বাড়ানো যায়। 

নজরুল ইসলাম খান পেশায় সচিব উনি তার মিন্টুরোডের সরকারী বাড়ির প্রতিটি কোন সবুজ গাছ লাগিয়েছেন পুরোটাই প্রাকৃতিক জৈব সার থেকে ইকো ব্যালেন্স করে।
ঢাকা শহরের অনেক এলাকা বিশেষ করে যেখানে বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে খুব সহজেই।ছাদের চিলেকোঠা থেকে সরাসরি

বাগানের গাছে পানি দেয়া, কাপড় বা গাড়ী ধোয়ার জন্য একটি আলাদা স্থায়ী বা ব্যবস্থা করার না হলে অস্থায়ী প্লাস্টিকের পানির ট্যাংক এ সংরক্ষণ করা গেলে পরে সরাসরি বা বিশুদ্ধ করে পরে ব্যবহার করা যেতে পারে।

সবুজ চাষ করা মানে হল বাতাস থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস আটকে আলাদীনের দৈত্যর মত বোতলে আটকে ফেলা ( কার্বন ট্র্যাকিং) সেই সাথে সুপ্ত তাপমাত্রা আটকে ফেলা। ঘরের ভেতরের মানি-প্লান্ট বা অন্য সবুজ গাছ যেগুলো রোদ ছাড়া বেঁচে থাকে তাও ঘরের ভেতরের বাতাস থেকে কার্বন বা বিষাক্ত গ্যাস শুষে নেয়। ঘরের ফ্রিজ, এসি, আইপিএস অন্য সব ব্যাটারী প্রতিনিয়ত বাতাসে দুষিত ক্যামিকেল নি:সরণ করে।
এ এক সত্যি বিস্ময় যেখানে আমরা শিশুদের খোলা আকাশ দেখাতে পারিনা জানালা খুলে তাকালে আর একটি জানালা। সেখানে ছাদ গুলো তালা বন্ধ রেখে স্বপ্ন গুলোকে সেই সাথে স্বাধীন ভাবে শ্বাস নেবার অধিকার টুকুও হত্যা করা হয়।ছাদে নিয়মিত সবজী বা ফুলের চাষাবাদের ফলে মুক্ত বাতাস আর প্রকৃতির স্পর্শ পাওয়া যেত অন্যথায় আমরা জোর করে শিশুদের পিষে ধরে অসুস্থ বড়দের টিভি সিরিয়াল, ভিডিও গেম বা ইন্টারনেটে আসক্ত করছি।
পৃথিবীর সব উন্নত দেশ গুলোতে ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের ব্যাগ ও ভিন্ন ভিন্ন রঙের ড্রাম এর ব্যবহার করে আলাদাভাবে পচনশীল অ-পচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ করার হলেও আমাদের দেশে এখনো কোন আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার দেখা যায়না।

সুতরাং আজ থেকে শুরু হোক সবুজের আন্দোলন সেটা নিজের শোবার ঘর আর প্রতিটি বাড়ির বন্ধ ছাদ থেকে।নিজের আর নিজের সন্তানের সুস্থভাবে শ্বাস নেবার প্রতিজ্ঞায়। এর সঠিক বাস্তবায়নে সরকারের যথাযথ নীতিমালা প্রয়োজন ।সরকারী উদ্যোগ বাড়ানোর পাশাপাশি রয়েছে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যেমন প্রয়োজন তেমনি সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

রাশা বিনতে মহিউদ্দীন
স্টুডেন্ট অফ মাস্টার্স ইন ইনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন এন্ড এগ্রিকালচারাল ফুড প্রডাকশন, ইন ইউনি হোয়েনহেইম, স্টুটগার্ট জার্মানি।

Card image cap
এন্ড্রয়েড এ্যাপস
Ashraful Haque - 26 Mar 2017

আমাদের সংগঠনের একটি এ্যপস প্লে-স্টোরে আছে। যার নাম Xutility

এই এ্যপসটিতে যেই বিষয়গুলি পাবেন তা হলো

  • Land Area Calculation
  • Brick Work Estimate detail
  • Paint Work Estimate
  • Tiles Works Estimate
  • Concrete Estimate
  • Pile Estimate
  • Plaster Estimate
  • Rebar Weight
  • Shutter Weight
  • Electric Bill
  • Column Load Capacity
  • Imposed load on Column
  • Concrete Mix Design
  • Singly Beam Design
  • Footing Design
  • Lap Length
  • SPT to Bearing Capacity
  • Unit Converter
  • Material Unit Weight
  • Steel Beam
  • Dictionary
  • RAJUK
  • Number to Word
  • Quiz
  • Engineering Formula

Card image cap
Buet Test Sample Letter
engr.tushar - 20 Jan 2017

Date: January 21, 2017

 To

Director

BRTC, BUET, Dhaka-1000

 Subject: Application for testing of Concrete Cylinder for compressive strength

 Dear Sir

We require to test concrete compressive strength for raft found foundation of B2+G+8 storied building at gulshan. For your kind information we have given information in the table below.

Sent by:

Md. Ashraful Haque

Ref.:

LABAID/PDA/2017/RMC/RAFT/001

Ref. Dt.:

21 January 2017

Project:

Need4 Demo, H# XX, R# YY, Dhaka-XXXX

Testing Dt.:

21

01

17

Casting Dt.:

23

12

16

Test for:  28 days

Sealed / unsealed:

Unsealed

To be verified by teacher:                

Sample type & set:

Cyl (4”x8”)                                

No. of Set:        01

Location:

RAFT Foundation

Frog Mark / ID:

N4U

Proportion:

RMC 3500 psi

Type of CA:

Stone chips

Any special note:

Ready Mix Concrete poured by pump

 We request you to take necessary steps regarding the test.

Thank You

Md. Ashraful Haque

Project Manager

Need4engineer