Card image cap
মিন্টু ভাইয়ের উড়োজাহাজ, একটি স্বপ্ন ও দীর্ঘশ্বাস
engr.tushar - 23 Mar 2014

রাঙামাটির পাহাড়ঘেরা এক চিলতে উপত্যকার মাঝের একটি গ্রাম। সেই গ্রামের ছেলে মিন্টু চৌধুরী। ছয় ভাই। নিতান্ত দরিদ্র তাদের পরিবার। পাহাড় ঘেরা গোল আকাশের পেটে বিমান উড়ে যেত, ছোট্ট মিন্টু বিহ্বল হয়ে চেয়ে দেখতেন। তার ভাইগুলিও দেখতেন। তাদের মাঝে স্বপ্ন বুনা শুরু হ’ল সেই থেকে। প্রকৃতির অসাধারণ এক সত্যি কাহিনীর রচনায়ন!

বুয়েট অটোমোবাইল শপের টেকনিশিয়ান মিন্টু চৌধুরী। হালকা গড়ন, পেটা শরীর। সারাক্ষণ কাজের মধ্যে থাকা একজন মানুষ। সেই কবে শখ করেছিলেন উড়োজাহাজ বানাবেন, এতদিনে বানিয়েই ছাড়লেন। সেই উড়োজাহাজ এখন আকাশে উড়তে পারে!

স্বপ্নের শুরু আজ থেকে বহু বছর আগেই। তাও কম করে বছর বিশেক। সুযোগ আসার সাথে সাথে প্রথম দিকে সিদ্ধান্ত নিলেন পাওয়ার গ্লাইডার বানাবেন। ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার গ্লাইডার। কিন্তু সামান্য টেকনিশিয়ানের পদে চাকরি করে অত টাকা কোথায় পাবেন আর! এগিয়ে এসেছিলেন একজন। দেড়-দুই লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন যুক্তরাজ্য-প্রবাসী বাঙালি ওয়াকী আবদুল্লাহ। মিন্টু ভাই ভাবলেন, বাকী আর লাখ-দুয়েক তিনি যোগাড় করতে পারলেই এবার হয়ে যাবে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের উড়োজাহাজ। শুরু করলেন কাজ। কাজ চালানোর মতো ইঞ্জিন প্রথমে কোথাও পাননি। ইঞ্জিন ছাড়াই চেষ্টা করলেন গ্লাইডার নিয়ে আকাশে ভাসতে। ইঞ্জিন ছাড়া উড়তে হলে যেটা করতে হবে- হই এটাকে কোনভাবে টেনে উড়াতে হবে কিংবা উঁচু কোন জায়গা থেকে গ্লাইডার নিয়ে লাফ দিতে হবে। কিন্তু কোটি মানুষের ঢাকায় সে জায়গাটুকু কোথায়!

গ্লাইডার নিয়ে মিন্টু ভাই চলে গেলেন তার গ্রামের বাড়িতে। লোকচক্ষুর আড়ালে তার গ্রাম। সেখানে স্পীড-বোট দিয়ে হ্রদের পানির উপর টেনে প্রথম আকাশে ডানা মেলে মিন্টু ভাইয়ের স্বপ্ন! বেশ উপরে উঠে খুলে দেন নীচের স্পীড-বোটের সাথে আটকানো বাঁধন। খুব সুন্দর পাখির মতোই মসৃণ ভাবে ভেসে চললেন অনেকদূর। আগ্রহ বহুগুণে বেড়ে গেল মিন্টু ভাইয়ের!

2

খোঁজা শুরু করলেন ইঞ্জিন। বহু জায়গায় যান কিন্তু কেউ ইঞ্জিন দিতে রাজী হয়না। সবার কেবল তাদের নিজেদের নামে এটিকে হাত করার অল্প-বেশি পায়তারা। শেষ পর্যন্ত ওয়ালটনের এক প্রকৌশলীর সাহায্যেই পান একটা ইঞ্জিন। বেশকিছু মডিফিকেশন করে সেটি লাগালেন আগের কাঠামোর সাথে।

নানান জায়গাতে ধরনা দেয়া শুরু করলেন একটা পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের অনুমতি পাওয়ার জন্য। সরকারী ফ্লাইং ক্লাবে চেষ্টা করেছেন অসংখ্যবার। সিভিল এভিয়েশন থেকে পর্যবেক্ষক এনে নিরীক্ষা করালেন তার উড়োজাহাজটি। তারা সবদিক ঠিক বলে মেনে নিলেও এটা যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড হয়নি বলে অনুমতি দিতে অসম্মতি প্রকাশ করেন।

মিন্টু ভাই জানান আপত্তি, তার যুক্তি, “বাংলাদেশে থেকে আমরা বাংলাদেশের জন্য একটা স্ট্যান্ডার্ড বিবেচনা করবো। যেহেতু এই কাজ এর আগে হয়নি সেহেতু এটাকে মানদণ্ড হিসেব করেই আদর্শ পরিমাপ ঠিক করা হোক। তারা যেটা ব্যাবহার করে আমিও সেটাই ব্যাবহার করেছি। হয়তো পার্টস বেশকিছু বাইরে থেকে আনা, তবুও কেন স্ট্যান্ডার্ড বলা হবেনা? শেষ পর্যন্ত তারা এই মত দেন, এটা উড়াবার জন্য সরকারের নিবন্ধন লাগবে।” মিন্টু ভাই এবার ছোটাছুটি শুরু করলেন উড়োজাহাজের নিবন্ধনের জন্য। ‘মা এভিয়েশন’ নাম নিয়ে লাইসেন্সের জন্য মিন্টু ভাইয়ের সেই ছুটোছুটি আজও চলছে। তাদের এখন যুক্তি হচ্ছে, এটা আকাশে উড়লে তো বিদেশী কোন সংস্থা আমাদেরকে আর সাহায্য দেবেনা, আমরা তো স্বনির্ভর হয়ে গেলাম তাদের কাছে সেক্ষেত্রে। সুতরাং…

এরমধ্যে মিডিয়াতে বেশ কয়েকবার রিপোর্ট করা হয় এই উড়োজাহাজ নিয়ে। সেখানে গুরুত্ব পায় কেবল যুক্তরাজ্য-প্রবাসী ওয়াকী আবদুল্লাহ’র নাম। মিন্টু ভাইয়ের স্বপ্ন কিংবা তার এই মেধাসত্ত্বকে চরমভাবে অগ্রাহ্য করা হলে তার আগ্রহে বেশ অনেকটাই ভাটা পড়ে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও বেশ কয়েকবার মিন্টু ভাইয়ের উড়োজাহাজটি তাদেরকে দিয়ে দেবার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার এত কষ্টের ফল, মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে যেটা উড়ালেন সেটা তিনি দিয়ে দিতে চাননি।

অনেক জায়গাতে ধরনা দিয়েও যখন মিন্টু ভাই উড়োজাহাজটি আকাশে উড়াবার অনুমতি পাননি তখন গোপনেই সেটি করতে চলে যান তার প্রিয় রাঙামাটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সাধের উড়োজাহাজকে নিয়ে। মাত্র ৩৩ মিটারের মধ্যেই ইঞ্জিন সহ নিজে নিজেই আকাশে ডানা মেলে মিন্টুর স্বপ্ন। চালকের আসনে বসে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে আকাশে উড়ে বেড়ান তিনি। উত্তেজনার বশে ভুলেই গিয়েছিলেন সতর্কতামুলক হেলমেট পরিধান করতে! মিন্টু ভাই স্মরণ করলেন প্রথমবার আকাশে উড়বার কথা। উড়াবার মাস দুয়েক আগেই ছুটি নিয়ে নিয়েছিলেন। ধরেই নিয়েছিলেন উড়োজাহাজটি উড়াতে যেয়ে মারা পড়বেন। ২০০৮ সালে সেকারণে একমাস ধরে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী মিন্টু ভাই ঘুরে এসেছিলেন দেশের নানা তীর্থস্থানগুলি। ‘০৮ এর শেষের দিকে এরপর আকাশে ওড়েন তার স্বপ্ন নিয়ে! মৃত্যু অবধারিত মেনে নিয়েই।

উড়োজাহাজটি ৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে পারে। সাধারণত ২৫ হাজার ফুটের উপরে ‘এয়ার পকেট’ নামে একধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়, একারণে এটির ক্ষেত্রে সেই অতিরিক্ত ঝামেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এটিতে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়া সম্ভব মাত্র ৩০ মিনিটেই, আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে কেবল আধা লিটার জ্বালানী ব্যাবহার করেই। জ্বালানী বাবদ খরচ হবে মাত্র ৫০ টাকা! “পৃথিবীর ইতিহাসে এত কম শক্তির ইঞ্জিনে কোন আকাশযান উড়াবার আর কোন রেকর্ড বর্তমানে নেই”- দাবী করেন মিন্টু ভাই। মিন্টু ভাইয়ের উড়োজাহাজের সবচেয়ে বড় গুন এটি খুব সহজেই যে কেউ চালাতে পারবে। কেবল দুই হাতের মাধ্যমেই এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মিন্টু ভাইয়ের উড়োজাহাজের সিট থেকে সাইলেন্সর সবকিছুই তার নিজের ডিজাইন করা। সাইলেন্সর থেকে শুরু করে সিট কিংবা স্টিয়ারিং বা কন্ট্রোল বার ডিজাইন এই ধরণের পাওয়ার গ্লাইডারের ক্ষেত্রে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। মিন্টু ভাই দিনের পর দিন এগুলোর উন্নয়ন করেছেন। ব্যর্থ হয়েছেন, বারবার। তবুও হাল ছেড়ে দেননি। নানান দেশের অনেক লেখকের বহু বই পড়ে তিনি এগুলোর ডিজাইন করেন। প্রধানত এই পাখাটা কোনকারনে যদি ইঞ্জিন বন্ধ হয়েও যাই তবুও যেন আকাশে ভেসে থাকে এটা মাথায় রেখে ডেলটা টাইপের পাখাকেই নির্বাচন করেন। কাঠামো আর পতাকার রঙ করেন বাংলাদেশের পতাকার লাল-সবুজের রঙে। এটি চওড়ায় ৩২ ফুট এবং ১৪ ফুট লম্বা। দেখতে নীচের ছবিটির মতো। পাখাটি প্যারাসুট কাপড়ের। এই ডেল্টা পাখার গতানুগতিক নকশাও তিনি পরিবর্তন করেছেন। এই কারণে ইঞ্জিন বন্ধ হলেও বিমানটি বাজপাখির মতো অনেকক্ষণ ভেসে থাকবে। বর্তমানে যে কাঠামো ব্যাবহার করা হচ্ছে সেটির ওজন হচ্ছে ২০ কেজি। সবমিলিয়ে গড়পড়তা ওজনের মানুষসহ মিন্টু ভাইয়ের উড়োজাহাজের ওজন ১২০ কেজি।

3

“এ যাবত সারা পৃথিবীতে ৩৩ টা দেশ বানিয়েছে এই ধরণের উড়োজাহাজ। আমাদের সম্ভাবনা ছিল ৩৪ নম্বর হিসেবে এই গৌরবের দাবীদার হওয়া”-দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিন্টু ভাইয়ের হতাশা।

মিন্টু ভাইয়ের ইচ্ছা, ১১ সিটের একটা হালকা বিমানে এটাকে রূপ দেয়া। আপাতত যেই মডেলটা তৈরি আছে সেটি চলে ১৫০ সিসি ইঞ্জিনে। সবচেয়ে মজার ব্যাপারটি হচ্ছে, ইঞ্জিনের পুরো শক্তির মাত্র শতকরা ২৫ ভাগই যথেষ্ট আকাশে উড়বার জন্য। এবারে উড়োজাহাজের শক্তি আরও একটু বাড়াবেন ৯ হর্স পাওয়ারের ২৯০০ আর.পি.এম. এর ইঞ্জিন ব্যাবহার করে-এমনটাই ইচ্ছা মিন্টু ভাইয়ের। প্রথম যেই ইঞ্জিনচালিত উড়োজাহাজটি মিন্টু ভাই আকাশে ওড়ান সেটি বানাতে খরচ হয়েছিল ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হলে সেক্ষেত্রে দাম কমে ২ থেকে আড়াই লক্ষের মধ্যেই তৈরি করা যাবে।

উড়োজাহাজের প্রপেলার তৈরিও করেছেন মিন্টু ভাই নিজে, বেশকিছু বই-গবেষণা পত্রের সাহায্য নিয়ে। সময় লেগেছিল পুরো এক মাস। সাধারণত এসব কাজে ম্যাপল কাঠ ব্যাবহার করা হয়। মিন্টু ভাই ব্যাবহার করেছেন সেগুন কাঠ। তিনটা খণ্ডকে আলাদা আলাদা করে সহজে নকশা করে একসাথে মিলিয়ে। প্রপেলারটা বানাতেও অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে তাকে। অসংখ্যবার চেষ্টা করে এটির চূড়ান্ত করতে সক্ষম হন তিনি। তার কাছে এটি এখন অমূল্য সম্পদ! ২০০৮ সালে ভারতে ভূপেন্দর সিং নামে একজন কাঠমিস্ত্রি একটি প্রপেলার তৈরি করেন। গণমাধ্যমে এটির খবর আসে। মিন্টু ভাইয়ের জেদ চেপে যাই। সে কাঠমিস্ত্রি হলে তিনি কেন পারবেননা। জেদ থেকেই করেন বাঁধা অতিক্রম। অনেক সফল মানুষের জীবনের সংগ্রাম কাহিনী খুঁজে বের করে পড়েছেন তিনি, হয়েছেন অনুপ্রাণিত।

4

একদা বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এম. এ. তাহের আলী এই ধরণের উড়োযানের ব্যাপারে বেশ নিয়মিত কাজ করতেন। গবেষণা চলত। বর্তমান সময়ে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই মিইয়ে গেছে। মিন্টু ভাই চান সেই আগের-দিন ফিরে আসুক, চর্চা হোক এধরণের মৌলিক জ্ঞানের। বুয়েটে কাজ করার সুবাদে নানান ডিপার্টমেন্টের হয়ে নানান প্রোজেক্টে কাজ করেছেন মিন্টু ভাই, এখনও করছেন। তার উপরে নির্ভরশীলতার ব্যাপারে অনেকেই এখন ভরসা করে থাকেন। মিন্টু ভাই করেছেন নানান চাকরি। প্রথম অস্ট্রেলিয়ানদের সাথে, পরে ফ্রান্স এবং সর্বশেষ চাইনিজদের সাথে রাউজান তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। এরপর বুয়েটে প্রবেশ করেন। সেই থেকে এখানেই আছেন ভালোলাগা থেকেই।

লোভকে এড়িয়ে এখনও কালিঝুলি মাখা ল্যাবে সবাইকে দিক-নির্দেশনা দিয়ে যান এই মানুষটি। নানা ধরণের শর্তে নানারকমের প্রস্তাব পেয়েছেন সরকারি বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান থেকে, উড়োজাহাজটি তাদের দিয়ে দেবার জন্য। উনি দেননি, তার একটাই কথা, “আমার পরিশ্রম, আমার স্বপ্ন আমি কাউকে দিবনা”।

এক সন্তানের জনক মিন্টু ভাই। মেয়েটি পড়ে উচ্চ-মাধ্যমিকে। নাম মিথিলা। তিনজনের সুখের সংসার। যদিও এই উড়োজাহাজের টানে পরিবারের প্রতিও তিনি অনেক অবজ্ঞা করেছেন। মাসের শেষে বেতনের টাকা অকাতরে ঢেলেছেন উড়োজাহাজের পিছনে, নেশার বশেই। মিন্টু ভাইয়ের শেখার নেশা মারাত্মক। ছোট-বড় সকলের থেকে প্রতিনিয়ত শিখতে চান তিনি। কোন ব্যাপারেই তার আগ্রহের শেষ নেই। তবে বিশেষ আগ্রহ এই উড়োজাহাজকে ঘিরেই।

মিন্টু ভাই অপেক্ষা করছেন, রিটায়ার্মেন্টে যাবার। বর্তমান উড়োজাহাজটির সব যন্ত্রাংশ খুলে যত্নে সাজিয়ে রেখেছেন। আর ৫ বছর চাকরি আছে তার। জীবনের শেষ ইচ্ছা পেনশনের টাকা আর কিছু মিলিয়ে উড়োজাহাজটি একবার সবাইকে জন-প্রকাশ্যে উড়িয়ে ঘুরবেন। হয়তো নিয়ম ভঙ্গের জন্য তাকে জেলের ঘানি টানতে হবে, তবুও তার কোন দ্বিধা নেই। শেষ বয়সে এসে তিনি তার জীবনকে পর্যন্ত উড়োজাহাজের জন্য উৎসর্গ করতেও রাজী।

মিন্টু ভাইয়ের জীবনে এখন একটাই স্বপ্ন, বাংলাদেশে অথবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে তাকে একটি জায়গা দেয়া হোক। সেখানে তিনি গবেষণা করবেন। তিনি ব্যবসা করতে আগ্রহী না, নিতান্ত বাধ্য না হলে। সরকার এটা নিয়ে ব্যবসা করুক, কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান, তাতে মিন্টু ভাইয়ের কোন মাথা ব্যথা নেই। তিনি স্বপ্ন দেখেন কেবল একটি গবেষণাগারের। সেখানে আগ্রহী আর দরিদ্র শিক্ষার্থীরা উড়োজাহাজ নিয়ে গবেষণা করবে, তারা বিশ্বমানের উড়োজাহাজ বানাবে, এই আমাদের দেশেই।

আমাদের দেশে এই অসাধারণ মিন্টুদের স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখা আজ বড্ড বেশি প্রয়োজন!

ফটো: আনিস ইসলাম, যন্ত্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট।
বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ ইমতিয়াজ আহমেদ, যন্ত্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট।

সুত্র: http://buetech.com/bn/2014/03/19/%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%81-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A7%9C%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C/

Card image cap
আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ারের তুলনা
Ashraful Haque - 21 Mar 2014

The details required by an architect are as under:

  • Size of space including length, width or any other geometrical dimensions, which are according to the space.
  • North line, position of building, road, street adjoining the plot or space that is to be built up.
  • Width of street or road, whether road is scheduled road, district road, village road or internal road of city.
  • Position of plot with road i.e. parallel to the road or at right angle or any other angle.
  • Position of area, locality and surrounding nature of the area.
  • Requirement of house owner or client department.                             

An architect figure out how's a building should looks like, visual appeal of the house or building and defines the building style. Architect have the vision and thought of dreams. He knows how to adjust or the sequence/ arrangement of spaces, the materiality of it. An architect with his experience helps in dividing the spaces before hand is useful. He with his experience helps in dividing the spaces more efficiently as required by the client. This also ascertains that whole space is efficiently used. One gets to know the feel of the place and space functions. An architect is able to explain what the final look and feel of the spaces would be.  Architect acts as an invigilator of the construction and clarifies misconceptions. A practicing architect helps in designing the house within the constraints of building byelaws thus avoiding any illegal constructions that may create problems at the time of getting the completion certificate. An architect coordinates the requirements of various consultants like the structural engineer, mechanical engineer and electrical and plumbing, along with the code requirements for safety and accessibility.
                              
An architect also prepare  the details like front elevation, right and left side elevation,  sections, details of  joinery, boundary wall, terrace plan and internal details of building component i.e. stair, kitchen, toilet etc according to the need/requirement at site of work. He prepares floor pattern, false ceiling drawing, air conditioner duct, cabinet details etc. He prepare electric plan showing the position of fans, bulbs/ florescent tubes, exhaust fans and electric switches including main control, inverter, switches and plug etc. He prepares the drawings of public amenities showing sewer line, water supply line, pipe duct, manhole and water tank etc. He prepares the color scheme and interior designing according to the use of space and liking of house owner. In public buildings, an architech also prepares the details in the drawings showing boundary wall, roads, footpath, parks, playgrounds and other public amenities.


structural engineer designs the building structure for both load bearing and non-load bearing components according to the drawings supplied by the architect.

The drawings required to engineer for designing are as under:

  • Plan of the building i.e. basement, ground floor, first floor plan and so on according to the purposed construction scheme.
  • Elevations, sections etc.
  • Use of building.
  • Future scope i.e. addition of more stories in future.
  • Situation of building i.e. near to high way, railway track or any industrial unit.
  • Types of soil, salt analysis of soils and bearing capacity of soil.
  • In big projects, bridges and dams etc some more details of soil are required such as local topography, ground water level, flood level and sear strength of soil etc.            

structural engineer by making investigation, evaluation, planning and design the structure of buildings, bridges and dams etc to safely resist vertically and horizontal loads which includes gravity, earth pressure, wind and seismic forces. During design, he takes factor of safety so that the structures remain safe during normal use and during earthquake or wind forces or natural calamities.

Structural engineer design all type of structure where as architect work only on the buildings not on the bridges, dam etc. 
                     
At the time of designing, structural engineer calculate the load coming on the each component of the structure/ building. He also considers the load for any future additions if any. Besides the dead load and live load, he also calculate the wind pressure, earth pressure, seismic forces, rainy storm, snowfall and the forces bear by the structure during natural calamites. He design the structure/ building meeting requirement according to codes pertaining to the strength of the structure, structural connections and the calculations required to demonstrate these things and make sure that structure remain safe. Astructural engineer for the most part is not more careful about accessibility, other trades or finish materials. He often barely involved in how the building looks at all since many/ most building hide the structural elements.

However, a good structural engineer in the right situation can work with the architect to enhance the space with exposed structural elements.
                              
According to the loading intensity, nature of soil structural engineer prepares the foundation plan and foundation details of various components of building showing their depth, width for excavation. He prepare the details of brick masonry steps in foundation for load bearing walls, non load bearing walls and brick pillars. He also prepares the details of R.C.C columns footing, R.C.C wall footing including showing the arrangement of M.S. steel bars. He prepares the drawings showing the details of M.S. steel of plinth bend, door level bend, roof slab design, column, beam, fascia and wall according to loading intensity, wind forces and seismic forces. In case of bridges, dam’s etc structural engineer prepares the details of all components with respect to the loading condition.
      
In case of building construction, structural engineer’s scope is some what limited than architect. That is not to say it is not important, just that he spends less over all time on the project than the architect does, and deals with fewer elements of the projects. He has narrower, but important focus in some aspects, engineers and architects think quite alike but have different approaches but both attempt to solve problems.

Card image cap
নির্মানাধীন ভবনের লে-আউট দেয়া
engr.tushar - 19 Mar 2014

৫) নির্মানাধীন ভবনের লে-আউট দেয়া

যেকোন কাজ শুরু করার আগে কাজের একটি রূপরেখা বা লে-আউট তৈরী করা খুবই দরকার। যেমন ধরুনঃ কোন দর্জি যখন পোষাক তৈরী করে তখন কাপড় কাটার আগে কাপড়ের উপর একধরণের দাগ দিয়ে নেয়। পরে সেই দাগ অনুসারে কাপড় কাটে সেলাই করবার জন্য। এই কাপড় কাটবার আগে দাগ দিয়ে নেয়া কে ওই পোষাকের জন্য লে-আউট দেয়া বলা হয়। ঠিক তেমনি কাগজ়ে আকা ভবনের নকশাকে প্রকৃত মাপ জোপের মাধ্যমে জমিতে স্থানান্তর করাকে প্রকৌশলবিদ্যায় ভবনের লে-আউট দেয়া বোঝায়।

ভবনের নকশা, কাগজের উপর ছোট স্কেলে আকা থাকে।এখানে ডয়িং এর কাগজটিকে বাস্তব ভুমির ছোট সংষ্করণ বলা যেতে পারে।কাগজ়ে আকা নকশাটিকে প্রকৃত স্কেলে জমিতে চিহ্নিত করতে হয়, যাতে সহজেই প্রতিটি কলামের সঠিক অবস্থান, নির্মানাধীন ভবনের ওরিয়েন্টেশন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- ভবনটি সীমানার ভিতরে আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।

ড্রয়িং হলো প্রকৌশলীদের যোগাযোগের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ভাষা।কোন ভবনের লে-আউট দেয়ার জন্য যে ড্রয়িং তৈরী করা হয় সেখানে সাধারনত a,b,c,d…… ও 1,2,3,4…… এই দুই ধরণের গ্রীডলাইন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। a,b,c,d…… গ্রীড লাইনগুলো একে অপরের সমান্তরাল আবার 1,2,3,4…… গ্রীড লাইনগুলোও পরষ্পর পরষ্পরের সমান্তরাল হয়ে থাকে। কিন্তু a,b,c,d…… গ্রীড লাইনগুলো 1,2,3,4…… গ্রীড লাইনের সাথে সমকোণ তৈরী করে। এই দুই ধরণের গ্রীড লাইনের ছেদ বিন্দুটিতে সাধারণতঃ কলাম বা দেয়ালের অবস্থান করে থাকে।

 

লে-আউট দেয়ার প্রধান কাজ হলো ড্রয়িং থাকা উপরে বর্ণিত ঐ সমস্ত গ্রীডলাইনগুলোকে বাস্তব মাপজোপের মাধ্যমে প্রকৃত জমিতে স্থানান্তর করা। কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে সেই কাজটি প্রকৌশলীরা করে থাকেন-

  • প্রথমে একটি বেসলাইন (Baseline) বা সীমারেখা নির্ধারণ করতে হয়। সীমারেখাটি সাধারণতঃ পার্শ্ববতী কোনো ভবন বা রাস্তার মধ্যরেখা (centerline) এর সমান্তরালে একটি নির্দিষ্ট দুরুত্বে চিহ্নিত করা হয়।
  • বেসলাইনের সমান্তরাল করে ড্রয়িং এ অঙ্কিত বিভিন্ন গ্রীডলাইনগুলো (a,b,c,d……) কে ভূমিতে স্থানান্তর করা হয়। কিছু অস্থায়ী বাঁশের খুটির সাহায্যে এই সমস্ত গ্রীডলাইনগুলোকে চিহ্নিত করা হয়।
  • এরপর যেকোন একটি সুবিধামত গ্রীডলাইনের (1,2,3,4……) সাথে সমকোণে রেখে আরেকটি গ্রীডলাইন চিহ্নিত করা হয়।
  • একইভাবে লম্ব বরাবর যে গ্রীডলাইন পাওয়া গেল সেগুলো সমান্তরাল করে আগের মত আবার নতুন গ্রীডলাইন বসানো হয়।
  • সাময়িক বা অস্থায়ী খুটির বদলে কংক্রীটের খুটি ব্যবহার করে গ্রীডলাইনগুলোকে স্থায়ী করে রাখা হয় যাতে ভবিষ্যতে যেকোন প্রয়োজনে গ্রীডলাইনগুলো অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
  • লেভেল মেশিনের সাহায্যে রাস্তার চুড়ার তলের উপর ভিত্তি করে ভবনের প্লিন্থ লেভেল নির্ধারণ করতে হয়। প্লিন্থ লেভেলের চিহ্নটি এমন এক স্থানে রাখতে হয় যেখানে সহজে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে, সহজে দেখা যায় ও ভবন নির্মানের শেষ পর্যন্ত যেই স্থানের অস্তিত্ব থাকবে।  
  • পরষ্পর লম্ব দুইটি গ্রীডলাইনের ছেদবিন্দু থেকে কলাম ও ফাউণ্ডেশনের সাইজ, অবস্থান এবং গভীরতা নির্ধারণ করা হয়।
  • কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরষ্পর লম্ব চারটি গ্রীডলাইনের দ্বারা আবদ্ধ বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ বারবার পরীক্ষা করতে হয় যাতে উক্ত গ্রীডলাইনগুলোর মাঝে ৯০ ডিগ্রি থাকে। কারণ আমরা জানি একটি পূর্ণাংগ বর্গক্ষেত্রের কর্ণ দুইটি সবসময় সমান থাকে।

ভবনের লে-আউট দেয়া ভবন নির্মানের বেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি আসলে গণিতের জ্যামিতি বিষয়ের একটি পরিপূর্ণ ব্যবহারিক ঘটনা। ভবনে লে-আউট দিয়ে কাজ করলে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায় যেমনঃ

  • ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে ভুল হবার সম্ভাবনা কম হয়।
  • ভবন নির্মান কাজে ব্যবহৃত ফোরম্যান বা মিস্ত্রি সঠিক-সুন্দর ভাবে ও নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
  • নির্মান কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে কলামের অবস্থান পূনঃপরীক্ষার জন্য স্থায়ী লে-আউটের প্রয়োজন হয়।
  • ভবনের নকশা বা আসল  জমিতে কোন রকম সমস্যা থাকলে লে-আউট চলাকালীন সময়ে সংশোধন করা যেতে পারে।

 

 

ভবনের লে-আউট দেয়ার জন্য আজ কাল টোটাল ষ্টেশনের বহুল ব্যবহার চোখে পড়ছে। বাংলাদেশে বেশ কিছু ডিজিটাল সার্ভে কোম্পানী আছে যারা টোটাল ষ্টেশনের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে ইমারতের লে-আউট দিয়ে থাকে।তারপরও নিচে লে-আউট দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের নাম দেয়া হলঃ

-       টোটাল ষ্টেশন বা লেভেল মেশিন

-       নাইলনের সুতা

-       পেরেক

-       হাতুড়ি

-       অস্থায়ী বাঁশের খুটি

-       স্থায়ী কঙ্ক্রীটের খুটি

-       স্টীলের একটি বড় সমকোনী ত্রিভুজ

-       স্টীল টেপ (১০০ ফুট)

-       মাঝারি সাইজের প্লাম্ব বব বা ওলোন

Card image cap
আমাদের ফেইসবুক পেইজ
Ashraful Haque - 18 Mar 2014

আমাদের ফেইসবুক পেইজ http://fb.com/need4engineer এ লাইক ও শেয়ার করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

Card image cap
কংক্রিট মিক্স ডিজাইন-উদাহরণ (এ.সি.আই)
engr.tushar - 17 Mar 2014

কলামের জন্য কংক্রিট তৈরি করতে হবে। যার স্ট্রেন্থ হবে 4000  পি.এস.আই, এগ্রিগেটের সাইজ 20 মিমি ডাউন গ্রেড বা 3/4 ডাউন গ্রেড, এগ্রিগেটের ড্রাই রডেড ওজন 1600 কেজি/ঘনমিটার. বালির এফ.এম 2.8. সিমেন্ট টাইপ - সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টসমাধান: (এ. সি. আই অনুসারে)সাধারণ কাজের জন্য নন-এয়ার এনট্রেইনিং কংক্রিট ব্যবহার করতে হয়। আপেক্ষিক ঘনত্ব সিমেন্ট, কোর্স এগ্রিগেট ও ফাইন এগ্রিগেট এর যথাক্রমে 3.15, 2.68 এবং 2.64।

কনস্ট্রাকশনের ধরণস্লাম্প
(mm)(inches)
Reinforced foundation walls and footings25 - 751 - 3
Plain footings, caissons and substructure walls25 - 751 - 3
Beams and reinforced walls25 - 1001 - 4
Building columns25 - 1001 - 4
Pavements and slabs25 - 751 - 3
Mass concrete25 - 501 - 2

উপরের টেবিল থেকে পাই স্ল্যাম্প হতে হবে 25-100 মিমি। আমরা ধরে নিলাম স্ল্যাম্প 90 করবো

 

প্রতি ঘণমিটারে পানির প্রয়োজন

স্ল্যাম্প

9.5 mm
(0.375 in.)

12.5 mm
(0.5 in.)

19 mm
(0.75 in.)

25 mm
(1 in.)

37.5 mm
(1.5 in.)

50 mm
(2 in.)

75 mm
(3 in.)

100 mm
(4 in.)

বাতাস / বায়ু মুক্ত কংক্রিট

25 - 50

207

199

190

179

166

154

130

113

75 - 100

228

216

205

193

181

169

145

124

150 - 175

243

228

216

202

190

178

160

-

বাতাসের পরিমান (শতকরা)32.521.510.50.30.2

এখানে আমাদের এগ্রিগেট সাইজ 19 মিমি, স্লাম্প 90 সুতরাং উপরের চার্ট থেকে প্রতি ঘনমিটারে পানি লাগবে 205 কেজি এবং বাতাস হবে 2 শতাংশ

28 দিনে স্ট্রেন্থ এম.পি.এ(পি.এস.আই)সিমেন্ট-পানি অনুপাত ওজন অনুসারে
নন-এয়ার এনট্রেইনড /  বাতাস মুক্ত
41.4 (6000)0.41
34.5 (5000)0.48
27.6 (4000)0.57
20.7 (3000)0.68
13.8 (2000)0.82

সিমেন্ট-পানির অনুপাতের চার্ট (উপরের চার্টটি) থেকে আমরা পাই 0.57, সুতরাং প্রতি ঘনমিটারে সিমেন্ট লাগে 205/0.57=359.65 কেজি

বিভিন্ন ধরণের ফাইন এগ্রিগেটের এফ.এম ও কোর্স এগ্রিগেটের সাইজের উপর ভিত্ত করে প্রকি একক ঘনআয়তনে কোর্স এগ্রিগেটের পরিমান 
এগ্রিগেটের নমিনাল সর্বোচ্চ আকার ফাইন এগ্রিগেটের এফ.এম
2.402.602.803.00
9.5 mm (0.375 inches)0.500.480.460.44
12.5 mm (0.5 inches)0.590.570.550.53
19 mm (0.75 inches)0.660.640.620.60
25 mm (1 inches)0.710.690.670.65
37.5 mm (1.5 inches)0.750.730.710.69
 50 mm (2 inches)0.780.760.740.72

উপরের চার্ট থেকে পাই প্রতিঘনমিটার এর কোর্সএগ্রিগেটের পরিমান হবে 0.62 ঘনমিটার। যেহুতে বলা আছে যে এগ্রিগেটের ওজন 1600 কেজি/ঘনমিটার, সুতরাং প্রয়োজনীয় এগ্রিগেটের ওজন 0.62 X 1600=992 কেজি। উপরের প্রাপ্ত তথ্যাদি থেকে আমরা পাই

সিরিয়ালমালামালওজন (কেজি) প্রতি ঘনমিটার এআয়তন (ঘন সেমি) প্রতি ঘনমিটার এঘনফুট প্রতি ঘণমিটারে
1সিমেন্ট359.65

(359.65/3.15) X 10^3

=114.17X 10^3
4.03
2পানি205205  X 10^37.24
3পাথর992

(992/2.68) X 10^3

=370 X 10^3

13.07
4বাতাস2%20 X 10^30.71
বালি বা ফাইন এগ্রিগেট ছাড়া মোট আয়তন709.17 X 10^3 25.04
সুতরাং বালির আয়তন(1000-709.17) X 10^3=290.83  X 10^310.27

উপরের তালিকাটি শুষ্ক কংক্রিট এর জন্য, কিন্ত ভেজা কংক্রিট বা জমাট বাধা কংক্রিট এর জন্য হিসাব করতে হবে 54 শতাংশ বেশি।

প্রতি ঘনমিটার কংক্রিটে সিমেন্ট লাগবে 4.03 X 1.54 = 6.21 ঘণফুট = 4.97 ব্যাগ

বালি লাগবে 10.27 X 1.54 ঘনফুট = 15.82 সি.এফ.টি

পাথর লাগবে 13.07 X 1.54 = 20.12 সি.এফ.টি

Card image cap
বিআরটিসি (বুয়েট) টেষ্টিং সার্ভিস পাওয়ার জন্য করণীয়
engr.tushar - 14 Mar 2014

১. টেষ্ট এর নাম উল্লেখসহ “পরিচালক, বিআরটিসি, বুয়েট” বরাবরে চিঠি লেখা (যোগাযোগের জন্য চিঠিতে অবশ্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/প্রকৌশলীর মোবাইল নম্বরটি লেখা) 

২. চিঠিটি বিআরটিসি অফিসে (কাউন্সিল ভবনের নীচ তলা, সংযুক্ত ক্যাম্পাস ম্যাপটি দেখুন) জমা দিয়ে বিআরটিসি নম্বর নেয়া 

৩. ল্যাবরেটরীতে টেষ্ট স্যাম্পল জমা দেয়ার সময় স্যাম্পলের গায়ে বিআরটিসি নম্বরটি অবশ্যই লেখা 

৪. আপনার টেষ্ট স্যাম্পল সংশ্লিষ্ট ল্যাবরেটরী থেকে রিসিভ করানো 

৫. বিআরটিসি নম্বর সহ চিঠিটি টেষ্ট-ইন-চার্জের রুমে (রুম নং ৪০৮, ৪র্থ তলা, পুরকৌশল ভবন) এনে,

  • টেষ্ট ফি জেনে নেয়া এবং ব্যাংক ডিপোজিট সিøপ সংগ্রহ করা 
  • টেষ্ট রিপোর্ট পাওয়ার সম্ভাব্য তারিখ জেনে নেয়া 

৬. ব্যাংক ডিপোজিট সিøপটি সোনালী ব্যাংক, বুয়েট শাখায় টাকা জমা দিয়ে রশিদের অংশ সংগ্রহে রাখা এবং চিঠিতে টাকা জমা দেওয়ার স্ক্রল নম্বর সহ অন্যান্য তথ্য (সীল দেওয়া অংশে) পূরণ করে কনক্রিট ল্যাবে রক্ষিত বক্সে চিঠিটি রাখতে হবে। 

৭. টাকা জমা দেওয়ার রশিদ দেখিয়ে নির্ধারিত দিনে টেষ্ট রিপোর্ট রুম নং ৪০৮, ৪র্থ তলা, পুরকৌশল ভবন থেকে সংগ্রহ করা (টেষ্ট রিপোর্ট প্রস্তুত আছে কিনা সে বিষয়ে বিআরটিসি নম্বর উল্লেখ করে নিম্নের নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে) 

৮. টেষ্ট রিপোর্ট পাওয়ার পর পরই রিপোর্টিং এ কোন রকম ভুল ভ্রান্তি আছে কিনা তা ভালভাবে দেখে নেয়া। 

 

যোগাযোগের জন্যঃ 

প্রফেসর ডঃ মোঃ সামছুল হক, টেষ্ট-ইন-চার্জ, পুরকৌশল বিভাগ 

মোবাইলঃ ০১৮১৯ ৫৫৭৯৬৪ 

ফোনঃ ৯৬৬ ৫৬৫০-৮০/৭২২৬; ফ্যাক্সঃ ৯৬৬ ৫৬৩৯ 

ওয়েবঃ http://www.buet.ac.bd/ce/ 

বিআরটিসি অফিস সময়সূচী 

শনিবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫টা 

বৃহষ্পতিবার সকাল ৯টা হতে দুপুর ১টা 

Card image cap
বুয়েটের ম্যাটেরিয়াল টেস্টিং এর জন্য চিঠির নমুনা
engr.tushar - 14 Mar 2014

Date: _____________ 

 

Director 

BRTC 

BUET 

Dhaka – 1000 

 

ATTN: MME Dept 

 

Subject: Request for conducting _________________ test 

 

Dear Sir, 

 

We request you to conduct the following tests. The samples are in sealed/unsealed condition. 

(a) _______________________ 

(b) _______________________ 

 

All test fees will be paid as per your rules and regulations. 

 

 

Kind Regards, 

 

_______________ 

 

Name: ___________________________ 

Designation: ______________________ 

Company Name: __________________________________________________ 

Company Address: ________________________________________________ 

Telephone Number: ________________ 

Mobile Number: ___________________ 

Card image cap
তিন তরুণ প্রকৌশলীর রেললাইন নিরাপত্তা
engr.tushar - 13 Mar 2014

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেল পরিবহন। টানা হরতাল এবং অবরোধে রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে স্লিপার তুলে ফেলে রেললাইন অকার্যকর করা হয়ে উঠেছিল নৈমিত্তিক ঘটনা। দেশের বিস্তৃত প্রায় সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার রেলপথে পুলিশ পাহারা বসিয়ে এ ধরনের নাশকতা রোধ করার চিন্তাটা অনেকটাই অবাস্তব। এর বাইরে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে এমন কোনো প্রযুক্তি নেই, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে জানা সম্ভব রেললাইনের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। ঠিক এই ধরনের একটি পরিস্থিতিতেই রেলপথ কী করে সুরক্ষিত রাখা যায়, তেমন চিন্তা থেকেই একদল তরুণ উদ্ভাবন করেছে এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবেই জানা সম্ভব রেল লাইনের কোনো অংশে স্লিপার অপসারিত হয়েছে কি না।

এই উদ্ভাবনের পেছনে যে দলটি কাজ করেছে, তার মধ্যে রয়েছেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) প্রাক্তন দুই শিক্ষার্থী আসিফ ইকবাল রাতুল ও ইসতাকুর রহমান এবং সেখানকার বর্তমান শিক্ষার্থী মো. আলভী নূর। রেললাইন অপসারণ শনাক্তকরণ ডিভাইসের এই প্রজেক্টটির নাম তারা দিয়েছে 'প্রজেক্ট সেফলাইন'। প্রজেক্ট সেফলাইন মূলত আরডুইনো-নির্ভর জিএসএম মডিউল সংযুক্ত একটি ডিভাইস। যদি রেললাইনের কোন স্লিপার অপসারিত হয় তবে এটি সাথে সাথে তা শনাক্ত করতে পারে এবং ঠিক কোথায় স্লিপারটি অপসারিত হয়েছে তার অবস্থান এসএমএস-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা এবং স্টেশনে সাথে সাথেই জানিয়ে দিতে সক্ষম হবে।

প্রজেক্ট সেফলাইন কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে আসিফ ইকবাল রাতুল বলেন, 'পুরো সিস্টেমটি মূলত কাজ করে ক্লোজ-লুপ সিস্টেমে লুপ-কারেন্ট ব্যাবহার করে। এখানে পরিপূর্ণ রেললাইনটি একটি ক্লোজ-সার্কিট হিসেবে কাজ করে। রেললাইনের কোনো স্লিপার অপসারিত হলে রেললাইনটি ওপেন-সার্কিটে পরিণত হয় এবং সিস্টেমের আরডুইনো বোর্ড তা নির্ণয় করে। এরপরই নির্দিষ্ট জোনের আরডুইনো বোর্ডটি ওই জোনের 'রেললাইন স্লিপার অপসারিত হয়েছে' এমন একটি সতর্কীকরণ বার্তাসহ পূর্বনির্ধারিত মোবাইল নম্বরসমূহে এসএমএস পাঠানোর জন্য জিএসএম মডিউলকে নির্দেশ দিবে। সাথে সাথেই জিএসএম মডিউল মোবাইল নম্বরসমূহে এসএমএস পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেবে। এইভাবে তিন মিনিট অন্তর অন্তর সিস্টেমটি রেললাইন ওপেন কি না তা পরীক্ষা করে এবং এসএমএস পাঠাতে থাকে। ফলে সার্বক্ষণিকভাবেই মনিটর করা সম্ভব হয় রেললাইনের কোনো স্থানে কোনো সমস্যা রয়েছে কি না।'
রাতুল জানান, প্রজেক্ট সেফলাইনের সিস্টেমটি তৈরির পর তারা একটি 'ডামি রেললাইন' তৈরি করে পুরো সিস্টেমের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন এবং তাতে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া যায়। বাংলাদেশে রেল স্টেশনগুলোর দূরত্ব একটি থেকে অন্যটি বেশি না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে প্রতিটি স্টেশনে একটি করে মডিউল বসালেই গোটা দেশের পুরো রেলপথ একটিমাত্র নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব বলে জানান তিনি। তবে রেল স্টেশনগুলোর মধ্যেকার দূরত্ব ৫ কিলোমিটারের বেশি হলে এর মধ্যবর্তী স্থানে বাড়তি মডিউল স্থাপন করতে হবে বলে জানান তিনি। কেবল নাশকতাই নয়, যেকোনো দুর্ঘটনার কারণে স্লিপার অপসারিত হওয়ার ঘটনা এই সিস্টেমের মাধ্যমে সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব জানিয়ে প্রজেক্টের আরেক সদস্য ইসতাকুর রহমান বলেন, 'এই সিস্টেমটি সারাদেশের রেললাইনকে নিরাপদ রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আর এই সিস্টেম স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণও খুব বেশি ব্যয়বহুল নয়। তাই রেল কর্তৃপক্ষ এই ডিভাইসগুলোকে স্থাপন করলে তা সার্বিকভাবে রেললাইনের নিরাপত্তায় একটি মাইলফলক হিসেবেই গণ্য হবে।'
এই প্রজেক্টের তিন সদস্যের পড়ালেখাই অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। নিজেদের পড়ালেখার পাশাপাশি নানা ধরনের প্রজেক্ট নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটে তাদের। রেললাইন নিরাপদ রাখার এই প্রজেক্টটি তারা সম্পূর্ণ নিজেদের খরচেই করেছেন দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত আরও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্রত নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সারাবিশ্ব যেভাবে প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশও যে পিছিয়ে নেই, সেটি প্রমাণ করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। প্রাতিষ্ঠানিক এবং আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশকে আরও এমন অনেক উদ্ভাবনে উদ্ভাসিত করতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী এই তরুণদল। সুত্র: http://www.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDNfMTJfMTRfNF80MV8xXzExNTEwMQ%3D%3D

 

 

 

 

 

 

 

Card image cap
ফাউন্ডেশনের কার্যকারিতা
engr.tushar - 13 Mar 2014

ফাউন্ডেশন একটি বিল্ডিং বা কাঠামোর জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ণ। কিন্তু কেন এই ফাউন্ডেশন ? এটি না করলে কি হতো ? আসুন ফাউন্ডেশনের কার্যকারীতা সম্পর্কে কিছু জানি

  • ভার বহনের তিব্রতা কমানোর জন্য। যেমন ধরুন একটি কলামে লোড আসলো ৩৮৪ কিলো পাউন্ড। এবং এই কলামের সাইজ ধরে নিলাম ১৬ ইঞ্চি এবং ১২ ইঞ্চ। এখন তাহলে কলামের ক্ষেত্রফল ১৬ X ১২ = ১৯২ বর্গ ইঞ্চ। তাহলে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে লোড আসলো ৩৮৪/১৯২ = ২ কিলো পাউন্ড বা ২০০০ পাউনড। এখন এই লোড যদি সরাসরি মাটির উপর দেয়া হয়, তাহলে মাটি সেই লোড নিতে পারবে না। কলাম মাটি ভেদ করে বা ছিদ্র করে নিচে চলে যাবে। ধরি মাটির বিয়ারিং ক্যাপাসিটি ২ টি.এস.এফ বা ২ X ২০০০ = ৪০০০ প্রতি বর্গ ফুটে বা  ৪০০০/১৪৪ = ২৮ পাউন্ড প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে। সুতরাং এখানে দেখতে পাচ্ছি যে মাটির ক্ষমতার চেয়ে কলামের অর্পিত  বিল্ডিং এর লোড ২০০০/২৮ = ৭২ গুন বেশি। সুতরাং এই তিব্রতা কমানোর জন্য কলামের সাইজ ৭২ গুন বাড়িয়ে দিতে হবে। তাই ফাউন্ডেশনের আকার হবে ৭২ X ১৯২ = ২৩০৪ বর্গ ইঞ্চ বা ২৩০৪/১৪৪ = ১৬ বর্গফুট।
  • সমভাবে লোড ছড়ানো। যেমন ধরুন দুইটি কলাম আছে এবং একটি কলামের লোড অপেক্ষা অন্য কলামের লোড বেশি। কম্বাইন ফাউন্ডেশন এ এই দুইটি কলামের লোড একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়। অথবা একাধিক কলামের বিভিন্ন লোড ম্যাট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মাটিতে সমভাবে ছড়ানো হয়, যদিও বিভিন্ন কলামের লোড বিভিন্ন হয়।
  • ফাউন্ডেশন একটি সমান পাটাতন তৈরি করে যার উপর কাঠামোটি দাড় করানো হয়। 
  • এটি কাঠামোকে মাটির সাথে আটকে রাখে। যাতে করে আনুভুমিক লোড (ভুমিকম্প, বাসাতের লোড বা কম্পনের) এর কারণে কাঠামোটি সরে না যায়
  • কাঠামোর তলার মাটিকে সরে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এতে করে কাঠামো ঝুকি মুক্ত হয়।

Card image cap
সাইট ব্যবস্থাপনার কিছু বিষয়
engr.tushar - 09 Mar 2014

অপচয় ,চুরি এবং নষ্ট হওয়া প্রতিরোধ করা বা নিয়ন্ত্রন করার উপর সাইট ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বেশি গুরুত্বপুর্ণ। এই বিষয়টির উপর সাইটের খরচের পরিমান বেশি নির্ভর করে। তাই সঠিকভাবে এই বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ণ। নিচে এই বিষয়ে কয়েকটি সাধারণ উপায় দেয়া হলো।

  • কংক্রিটের বালি, মর্টার আলাদা জায়গায় এবং নিরাপদ দুরত্বে রাখতে হবে। সম্ভব হলে যেখানে কাজ করা হবে তার কাছাকাছি রাখতে হবে। বালি ও মর্টার রাখার  জন্য পাটাতন তৈরি করে নিতে পারলে ভাল হয়। এই জন্য পরিস্কার ফ্লোর বা দুর্বল কংক্রিটের ভিত বা বিছানা করা যেতে পারে। এতে করে এর মধ্যে ময়লার মিশ্রণ রোধ হবে। 
  • সিমেন্ট বাহিরে না রেখে ভেতরে রাখা ভাল। তবে প্রয়োজনে বাইরে রাখতে হলে ভাল করে সেড বা আচ্ছাদন করে নিতে হবে। ভেতরে বা বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই একটু উচু কোন তলার উপর রাখতে হবে সিমেন্ট। কাঠের পাটাতান, ইটের বিছানা, কংক্রিটের বিছানা বা অন্য কোন উপায়ে এই ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে করে পানি থেকে বাচানো যাবে। কেননা বৃষ্টি বা ফ্লোর ধোয়ার সময় সাধারণত সমস্যা হয়ে থাকে। তাই এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। বাহিরের আচ্ছাদন পলিথিন দিয়ে করা যেতে পারে। তবে সেই ক্ষেত্র খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
  • ইট রাখতে হবে কোন সুষ্ক জায়গাতে। যাতে করে বৃষ্টির সময় অনবরত ভিজতে না পারে। কাদা-মাটি থেকেও ইটকে দুরে রাখতে হবে এবং ড্যাম্প যেন না হয় সেই জন্য আলো-বাতাস চলাচলের স্থানে রাখাই ভাল
  • ছোট প্রজেক্টের জন্য হাতে বা মিক্সার মেশিনে কংক্রিট তৈরি করা যেতে পারে। তবে বড় ঢালাই এর ক্ষেত্র অবশ্যই রেডিমিক্স কংক্রিট ব্যবহার করতে হবে। এবং রেডিমিক্স এর জন্য পাম্প ব্যবহার করতে হবে। পাম্প ছাড়া কংক্রিট ঢালতে গেলে মানুষ অনেক লাগবে এবং এর ফলে রিক্স হবে বেশি , সময বেশি লাগবে এবং কংক্রিটের গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
  • কোন মালামাল কোন সময় লাগবে তার একটা তালিকা তৈরি করে নিতে হবে। এতে করে সঠিক সময়ে সঠিক মালামাল পাওয়া যাবে। নতুবা কাজের সময় বিভিন্ন ধরণের বাধা সৃষ্টি হবে। বি.ও.কিউ করে নিতে পারলে খুব ভাল হয়। এবং এর সাথে সাথে বিস্তারিত এস্টিমেট করতে পারলে কাজের গতি এবং টাকার যোগান সহজ হয়।
  • রাবিশ বা ময়লার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন করতে হবে। সময়মত এই রাবিশ বা ময়লা সরিয়ে ফেলতে হবে।
  • কাঠ ও এলুমিনিয়ামের ফ্রেম বা অন্য কোন উপাদান এর জন্য নিরাপত্তা বাঁধ দিতে হবে। তা না হলে লোহার বা শক্ত কোন কিছু আনা-নেওয়ার সময় এর ধারগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এই বাধ কাঠ বা রাবার বা অন্য কোন কিছু দিয়ে করা যেতে পারে। কাঠের ফ্রেমের জন্য সাধারণত কাঠের পাতলা বাটাম ব্যবহার করা হয়।
  • বিভিন্ন মালামালের হিসাব দৈনিক করতে হবে এবং মাসিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। 
  • মালামাল পরিকল্পনা অনুযায়ি ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
  • দামি মালামাল অবশ্যই সুরক্ষিত স্থানে রাখতে হবে। তা না হলে চুরি বা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • ইলেক্ট্রিক্যাল কাজের সময় তার চুরি একটি বড় সমস্যা। সেই জন্য তার টানার পর সেগুলির দিকে নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে।
  • সাইট যথাসম্ভব পরিস্কার রাখতে হবে। এতে করে কাজের পরিবেশ ভাল থাকে ও কাজের পরিমান বেড়ে যায়।
  • সাইটে ফাস্ট এইড বক্স রাখতে হবে। এতে দুর্ঘটনার ফলে ক্ষতির পরিমান কিছুটা কমবে।
  • নিয়মিত প্রজেক্ট ইতিহাস লিখতে হবে। এই ইতিহাস বা কার্যবিবরণির মধ্যে থাকবে প্রতিদিন কাজের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

Card image cap
বিভিন্ন ধরনের সিমেন্ট এর গঠন এবং কার্যকারিতা
engr.tushar - 08 Mar 2014

সিমেন্ট এর প্রকারগঠনউদ্দেশ্য
র‍্যাপিড হার্ডেনিং
লাইম বা চুনের পরিমান বেশি
খুব তাড়াতাড়ি শক্ত হয়। যেখানে দ্রত ফর্মওয়ার্ক সরিয়ে ফেলতে হয় সেখানে এটি ব্যবহার করা হয়।
কুইক সেটিং
সামান্য পরিমান এলুমিনিয়াম সালফেট বাড়ানো হয় এবং জিপসাম এর পরিমান কমানো হয়।
অল্প সময়ে কাজ শেষ করার জন্য। সাধারণত পানির মধ্যে এই ধরণের সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়।
লো হিট
ট্রাই ক্যালসিয়াম এলুমিনেট এর পরিমান কমিয়ে
অনেক বড় ঢালাই এর কাজে, যেমন ড্যাম বা বাধ নির্মাণ
সালফেট রেজিসটিং
ট্রাই ক্যালসিয়াম এলুমিনেট এর পরিমান ৬ শতাংশের নিচে নিয়ে আসা
অত্যাধিক সালফেট এর সংস্পর্শে থাকার সম্ভাবনা থাকলে, পানি বা মাটির নিচে সাধারণত । যেমন ক্যানেল এর ধার, রিটেইনিং ওয়াল ইত্যাদি
ব্ল্যাস্ট ফার্ণেস স্ল্যাগ
৬০ শতাংশ স্ল্যাগ সহ ক্লিংকার গ্রিন্ডিং করে
খরচ কমাতে এর ব্যবহার করা হয়
হাই এলুমিনা
বাইঅক্সাইট এবং চুন এর মিশ্রনে, এর সেটিং টাইম সাড়ে তিন থেকে পাঁচ ঘন্টা
উচ্চ তাপ, ঠান্ডা-গরম এবং এসিডিক আবহাওয়া থাকলে
হোয়াইট
আয়রন অক্সাইড মুক্ত কাচামাল ব্যবহার করে
স্থাপত্যিক সৌন্দর্য্য এর জন্য
কালার্‌ড
সাধারণ সিমেন্ট এর সাথে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ব্যবহার করে
ডেকোরেটিভ বা সৌন্দর্য্য এর জন্য
পোজ্জলানিক
পোর্টল্যান্ড সিমেনট এর সাথে পৌজ্জালানিক ক্লিংকার ব্যবহার করে
পানিতে ব্যবহার করার জন্য
এয়ার এনট্রেইনিং
ক্লিংকার গুড়া বা গ্রিনডিং করার সময় খনিজ এবং অপরিশোধিত রেজিন, আঠা, সোডিয়াম লবন ইত্যাদি ব্যবহার করে
অল্প পানি ব্যবহার করেও কার্যউপযোগিতা বাড়ানো
হাইড্রোগ্রাফিক
পানিরোধী বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে
কার্য্যউপযোগিতা এবং স্ট্রেন্থ অনেক বেশি

Card image cap
সহজে বাড়ি নির্মান- KSRM
engr.tushar - 06 Mar 2014

সহজে জেনে নিন বাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া

১) ভালো জমি চেনা

বাড়ি বানানোর পরিকল্পনায় আপনার প্রথম ধাপ হবে উপযুক্ত জমি বেছে নেয়া। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, আর সিদ্ধান্তটি নেবার আগে আপনার অবশ্যই কয়েকটি 

জরুরি বিষয় মাথায় রাখা উচিত। বিষয়গুলো হচ্ছে:

 

  • আপনার জমিটি খুব উঁচু জায়গায় হলে বাড়ির ফাউন্ডেশন তৈরি করতে অতিরিক্ত খরচ, পরিশ্রম ও সময় লাগতে পারে
  • আপনার জমি খুব নিচু জায়গায় হলে সুয়্যারেজের সমস্যা আর পানিবদ্ধতা দেখা দিতে পারে
  • আপনার জমির মাটিতে বালির পরিমাণ বেশি হলে ফাউন্ডেশন মজবুত হবে না
  • আপনার জমিটি উঅচ-এর অন্তর্ভুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করুন

 

নিজের ও প্রিয়জনদের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি। বাড়ি নির্মাণের স্বপ্নকে বাস্তব করার জন্য চাই পূর্ব-পরিকল্পনা আর প্রস্তুতি। সেই প্রস্তুতির একটা বড় অংশ হচ্ছে বাড়ি নির্মাণের জন্য কী কী করতে হয় তা আগে থেকে জেনে নেয়া। আপনার বাড়ি নির্মাণের কাজগুলো আরেকটু সহজ করে দেবার জন্যই কেএসআরএম-এর এই উদ্যোগ। বাড়ি নির্মাণের জন্য শুষ্ক, সমতল জমি সবচেয়ে উপযোগী। বিভিন্ন ধরনের জমির বৈশিষ্ট্য জেনে নেবার জন্য অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিন।

২) জমির এলাকার ব্যাপারে জেনে নেয়া

এছাড়াও যে এলাকাতে আপনার বাড়িটি হবে সে এলাকার ব্যাপারে আপনার কিছু তথ্য 

জেনে নেয়া জরুরি:

 

  • যে এলাকায় জমিটি কিনছেন সে এলাকাটি কি আপনার অফিস আর আপনার সন্তানের স্কুল/কলেজের কাছাকাছি?
  • যে এলাকায় জমি কিনছেন সেখানে কি আপনার প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো (যেমন বাজার / ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, হাসপাতাল/ক্লিনিক) পাওয়া যাবে?
  • যে এলাকায় জমি কিনছেন সেখানে কি উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে?

 

৩) জমি কেনা

জমি নির্বাচন করার পর আপনার জমির বর্তমান মালিকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। আইনগতভাবে জমি হস্তান্তর করার জন্য:

 

  • বিক্রেতাকে বলুন বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে মিউটেশন ফর্ম সংগ্রহ করে তা সঠিকভাবে পূরণ করে জমা দিতে। ফর্মটি ভূমি মন্ত্রণালয় অফিস বা তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে (http://www.minland.gov.bd)
  • জমিটির হালনাগাদ ভূমিকর দেয়া আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন
  • বিক্রেতার কাছে জমিটির ভায়া দলিল আছে কিনা প্রশ্ন করুন। থাকলে তা ভালোভাবে পড়ে দেখুন এবং একজন ভালো উকিলকে দলিলগুলো দেখিয়ে তার পরামর্শ নিন।
  •  বাংলাদেশ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমির তফসিল অনুযায়ী বিক্রেতা স্বাক্ষর করে জমি আপনার নামে হস্তান্তর করে দিবেন। আপনার স্বাক্ষর করে জমির মালিকানা 
  • নিয়ে নিন। আপনাকে জমির দলিল ও খতিয়ান দেয়া হবে। যদি জমিটির মালিকানা সরকারের কাছে থাকে, তাহলে তা পুরোপুরি কিনে নেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সরকারি জমি ৯৯ বছর পর্যন্ত ইজারা বা লিজ নেয়া যায়। সেই লিজের জন্য আপনার সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে অরিজিনাল অ্যালটমেন্ট লেটার সংগ্রহ করতে হবে।

 

৪) বাড়ি নির্মাণ

এবার আপনার বাড়ি নির্মাণের পালা। আর্কিটেক্ট আর ইঞ্জিনিয়াররা বাড়ি নির্মাণের ব্যাপারে আপনার বিশ্বস্ত বন্ধু এবং অভিজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন। আপনার সরকারি অফিস থেকে বিভিন্ন ধরনের অনুমোদন আর দলিলপত্র সংগ্রহ করতে হবে, যেগুলোর বিবরণ নিচে দেয়া আছে। উলেখ্য যে, আপনি ঢাকার বাইরে অবস্থিত হলে রাজউক-এর বদলে আপনার সিটি করপোরেশনের বা পৌরসভার কাছ থেকে দলিলগুলো নিতে হবে। বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আপনার যে কাজগুলো করতে হবে তা হচ্ছে:

প্রথমে কোনো অভিজ্ঞ ভূমি জরিপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আপনার জমি জরিপ করিয়ে নিন। নিখুঁত জরিপের জন্য এখন ডিজিটাল জরিপ ব্যবস্থাও পাবেন।

আপনার জমির মাটির ধরনের ওপর আপনার বাড়ি নির্মাণের প্যান নির্ভর করবে, তাই সয়েল টেস্ট প্রথমেই করিয়ে নেয়া ভালো

রাজউক-এর সাথে রেজিস্টার করা কোনো আর্কিটেক্ট বা আর্কিটেকচার ফার্মের কাছে আপনার জমির দলিলপত্র আর ভূমি জরিপের তথ্য জমা দিতে হবে

আর্কিটেক্ট আপনাকে একটি হাউজ প্যান / বু প্রিন্ট দেবেন রাজউক অফিস থেকে এই প্যানের অনুমোদন নিয়ে আসতে হবে। আপনার হয়ে আর্কিটেক্টও এই কাজটি করতে পারেন

প্যান পাশ হয়ে যাবার পর আপনার বাড়ি নির্মাণকাজের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে। এ পর্যায়ে এসে:

  • একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলুন
  • স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার আর্কিটেক্টের প্যান অনুসরণ করে আপনার বাড়ির স্ট্রাকচার ডিজাইন দেবেন সে ডিজাইন অনুযায়ী আপনার বাড়ির কাজ শুরু হবে

৫) বাড়ি নির্মাণের প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো

বাড়ি নির্মাণের জন্য আপনার রড, সিমেন্ট, বালু, ইট-জাতীয় নির্মাণ সামগ্রীর প্রয়োজন হবে। আরো প্রয়োজন হবে কনট্র্যাকটর আর শ্রমিকের। শ্রমিক আর নির্মাণ সামগ্রীর ব্যাপারে আপনার ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে অবশ্যই পরামর্শ নিন। যেকোনো প্রয়োজনে ইঞ্জিনিয়ারের সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না। আজকাল বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো সবধরনের নির্মাণ সেবাই দিয়ে থাকে।ইঞ্জিনিয়ার আর আর্কিটেক্টরা বাড়ি নির্মাণের ব্যাপারে আপনার বিশ্বস্ত বন্ধু আর পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন। রড আপনার বাড়ি দাঁড়িয়ে থাকবে রডের কাঠামোর ওপর, তাই ভালো রড বেছে নিতে ভুলবেন না। প্রশ্ন হচ্ছে, যে রড কিনছেন সেটা যে ভালো তা বুঝবেন কী করে? ভালো রডের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, যেগুলো সাধারণ রডে থাকে না। এ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:

টেকসই আর মজবুত: রডে ইল্ড স্ট্রেংথ (Yield Strength) নামে একটা বৈশিষ্ট্য থাকে। এটা হচ্ছে রডের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা। যে রডে ইল্ড স্ট্রেংথ যতো বেশি, সে রড বাড়ি নির্মাণের জন্য ততো ভালো। বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে ভালো রডে ৫০০ এমপিএ (৭২৫০০ পিএসআই) ইল্ড স্ট্রেংথ থাকে। ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়-ক্ষতি থেকে বাড়িকে রক্ষা করার ব্যাপারেও রড সাহায্য করে। যে রড কিনছেন সেটা আর্থকোয়েক রেজিস্ট্যান্ট কিনা তা আগে থেকে জেনে নেয়া ভালো।ভালো ঝালাই উপযোগিতা: সাধারণ রডে ঝালাই করার সময় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এদের মধ্যে একটা হচ্ছে এমব্রিট্ল টেন্ডেন্সি, বা রড ভঙ্গুর হয়ে যাবার প্রবণতা। সাধারণ রড ঝালাই এর পর ঠান্ডা হবার সময় বেঁকেও যেতে পারে। এতে নির্মাণকাজে অসুবিধা হয়। রড কেনার সময় অবশ্যই এমন রড বেছে নিন যেটাতে এই সমস্যাগুলো নেই। এমন রড বেছে নিন যেটাতে কার্বন কনটেন্ট কম আছে। এ ধরনের রড সহজে বাট-ওয়েল্ড বা ল্যাপ-ওয়েল্ড করা যায়, যাতে আপনার নির্মাণে সময় বাঁচবে। ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা: ভালো রড থার্মো-মেকানিক্যাল ট্রিটমেন্ট প্রসেস-এ তৈরি করা হয়। এ কারণে রডে ক্ষতিকারক টরসোনাল রেসিডিউয়াল স্ট্রেস (Torsional Residual Stress) থাকে না। এ ধরনের রডে ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে।

ডাক্টিলিটি: আপনার বাড়ি নির্মাণে যে কংক্রিট ব্যবহার হবে সেটাকে দীর্ঘ দিন মজবুত রাখার জন্য আপনার ডাক্টাইল রড প্রয়োজন। ভালো, ডাক্টাইল রড কংক্রিটে ফাটল ধরতে দেয় না। আধুনিক কোয়েনচিং অ্যান্ড ট্যাম্পারিং প্রসেস অনুসারে তৈরি করা রডে ডাক্টিলিটি বেশি থাকে। রড কেনার সময় আপনি এটাও জেনে নিতে পারেন যে রডের কার্বন কনটেন্ট কতখানি, কারণ কম কার্বন কনটেন্ট-এর রড বেশি ডাক্টাইল হয়।

ধারাবাহিকতা: আপনি একবারে অনেকগুলো রড কিনবেন। তাই এসময় খেয়াল রাখা উচিত যে সবগুলো রডই সমমানের কিনা। ভালো রড উৎপাদনের সময় প্রতিবার কোয়েনচিং অ্যান্ড টেম্পারিং (ছ্ঞ - ছঁবহপযরহম ধহফ ঞধসঢ়বৎরহম) প্রসেস একইভাবে অনুসরণ করা হয়। রডের উপাদানেও পরিবর্তন হয় না। ভালো রডেসম্পূর্ণ সোজা: কনস্ট্রাকশন সাইটে রড সোজা করা বেশ সময়সাপেক্ষ আর পরিশ্রমের কাজ। তাই কেনার সময়ই আপনার খেয়াল রাখা উচিত রড সম্পূর্ণ সোজা আছে কিনা। সাশ্রয়: আপনার বেছে নেয়া রডে যদি ইল্ড স্ট্রেংথ, ডাক্টিলিটি আর ঝালাই ক্ষমতা বেশি থাকে, তাহলে নির্মাণের সময় আপনার খরচ কমে আসবে। শ্রমিকদের সময় বাঁচবে আর পরিশ্রম কম করতে হবে। বালি বালিকণার আকার ৫ মিলিমিটারের কম আছে কি না তা দেখে নিন। বাড়ি তৈরির এ উপাদানটির জন্য নদীতীরের বালি সবচেয়ে সহজলভ্য উৎস। তবে বালিতে কোনো ধরনের ধুলো, কাদা, চিড় ও জৈব অপদ্রব্য থাকলে হবে না। আর বালির গুণমান আপনি নিজেই খুব সহজে যাচাই করে নিতে পারবেন

হাতের মুঠিতে সামান্য বালি নিয়ে কিছুক্ষণ ঘষে ফেলে দিন। মুঠ খুলে দেখুন। ভালো মানের বালি হাতের তালুতে আটকে থাকবে না

একটি কাচের জগ বা মিনারেল ওয়াটারের খালি বোতলে সামান্য বালি নিয়ে তাতে এর দ্বিগুণ পরিমাণ পানি ঢালুন। জগ বা বোতলের মুখ বন্ধ করে সেটিকে ভালোভাবে ঝাঁকান। এরপর এক ঘণ্টা রেখে দিন। বালির মান অনুযায়ী সেখানে আলাদা আলাদা স্তর তৈরি হবে, যা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। 

সুরকি- পাথরচূর্ণ ও কাঁকর/নুড়িপাথর কংক্রিট স্থাপনা নির্মাণের স্থূল উপকরণ বা সুরকি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এগুলোর আকার ৪০, ২০ বা ১০ মিলিমিটার হয়ে থাকে। বাড়ির স্ল্যাব , 

বিম ও কলাম তৈরিতে ২০ মিলিমিটার ও ১০ মিলিমিটারের উপকরণই বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। সুরকি শক্ত, দৃঢ় ও টেকসই হতে হবে। পাশাপাশি কাদা, মাটি, লতাপাতা, শ্যাওলা ও 

বাইরের উপাদানমুক্ত হওয়াও জরুরি। এছাড়া দেখতে বেশি চ্যাপ্টা ও লম্বা টুকরো যতোটা সম্ভব বাদ দিতে হবে।পানি সাধারণত মিউনিসিপ্যালিটি থেকে সরবরাহকৃত খাবার উপযোগী পানিই নির্মাণ কাজে  ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। এছাড়া ব্যবহৃত পানিতে তেল, অ্যাসিড, লবণ বা জৈব অপদ্রব্য আছে কি না, সেটিও আপনি নিজে পরখ করে দেখতে পারেন। সামুদ্রিক পানি বা মাটির গভীরের পানি নির্মাণকাজের জন্য একেবারেই উপযোগী নয়।

ইট

ভালো স্থাপনার জন্য দরকার শক্ত, দৃঢ় এবং সম্পূর্ণভাবে পোড়া ইট। ভালো ইটের নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছে। 

 

  • l ভালো ইটের উপরিভাগে গুঁড়ো মাটি থাকে না এবং সেটি সাধারণত একই আকার, আকৃতি ও রংয়ের হয় 
  • l দুটো ইট একসাথে আঘাত করলে বিশেষ এক ধরনের ধাতব শব্দ হয়
  • l আনুমানিক এক মিটার উচ্চতা থেকে ফেলা হলে ভাঙবে না
  • l ইটের উপরিতল হতে হবে পুরোপুরি সমতল ও ফাটলমুক্ত

 

সিমেন্ট

 

  • এক ব্যাগ সিমেন্টের ওজন সাধারণত ৫০ কেজি হয়ে থাকে।
  • সিমেন্ট প্রাথমিকভাবে জমাট বাঁধতে গড়পড়তা ৩০ মিনিটের মতো লাগে।
  • পুরোপুরি জমাট বাঁধতে কখনই ১০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না। 
  • সিমেন্ট হাতে নিয়ে বুড়ো আঙুলের সাহায্যে ঘষলে সেটিকে ময়দার মতো মসৃণ মনে হবে 
  • সিমেন্ট লম্বা সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা উচিত নয়। সংরক্ষণের সময় তিন মাস পার হলে সিমেন্টের কার্যক্ষমতা শতকরা ২০ ভাগ কমে যায় 
  • ফ্যাক্টরি থেকে এনে দুই মাসের বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা সিমেন্ট ব্যবহারের আগে অবশ্যই পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে
  • সিমেন্ট ব্যাগ সরাসরি মেঝের ওপর রাখা ঠিক নয়। মেঝেতে কাঠের তক্তা বিছিয়ে তার ওপর সিমেন্ট ব্যাগ রাখা উচিত

 

৫) বাড়িতে গ্যাস, বিদ্যুৎ আর পানির সংযোগ নেয়া

বাড়িতে বসবাস শুরু করার আগে আপনার অবশ্যই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হবে। এখানেও উলেখ্য যে আপনি যে বাড়িটি নির্মাণ করছেন সেটি ঢাকার বাইরে হলে আপনার রাজউক-এর বদলে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার সাহায্য নিতে হবে। গ্যাস সংযোগ নেবার জন্য এক এক করে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

 

  • আপনার কাছাকাছি কোনো গ্যাস কর্তৃপক্ষের অফিস থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করুন
  • অফিসে এনলিস্টেড কনট্র্যাকটর পাওয়া যাবে। তাদের একজনের সাথে যোগাযোগ করুন
  • ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করে জমা দিন। ফর্মে কনট্র্যাকটরের নাম উলেখ করতে ভুলবেন না
  • ফর্মের সাথে আপনার জমির দলিল, খতিয়ান আর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিন এই ধাপগুলো সঠিকভাবে শেষ হলে কনট্র্যাকটর আপনার বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়ার 
  • ব্যবস্থা করবেন। 

 

বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার জন্য:

  •  প্রথমে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অফিস বা ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করুন
  •  ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করে তা প্রয়োজনীয় দলিলপত্রের সাথে জমা দিন। 

প্রয়োজনীয় দলিলগুলো হচ্ছে:

 

  •  আপনার সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি
  •  জমির মালিকানা দলিলের সত্যায়িত কপি
  • রাজউক অনুমোদিত প্যানের কপি
  • রাজউক অনুমোদিত হোল্ডিং নম্বর আর নামজারি কাগজের বা মিউটেশন ফর্মের সত্যায়িত কপি
  • যেখানে সংযোগ দেয়া হবে, মানে আপনার বাড়িটি, যেন সহজে খুঁজে পাওয়া যায় সেজন্য লোকেশন ম্যাপ (হাতে আঁকা হলেও চলবে)

 

আপনার কাগজপত্র নির্ভুলভাবে জমা দেয়ার পর আপনার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপারে আরো জানতে ডেসকো’র ওয়েবসাইট ভিজিট করুন: http://desco.org.bd ।  

বাড়িতে পানি সংযোগ নিতে হলে আপনার যা যা করতে হবে তা হচ্ছে:

ওয়াসা অফিস থেকে পানি সংযোগের ফর্ম সংগ্রহ করুন।

ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সাথে জমা দিন। যে 

কাগজপত্র লাগবে সেগুলো হচ্ছে:

  • l আপনার পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • l জমির খতিয়ানের কপি
  • l যেখানে সংযোগ দেয়া হবে, মানে আপনার বাড়িটি, যেন সহজে খুঁজে পাওয়া যায় সেজন্য লোকেশন ম্যাপ (হাতে আঁকা হলেও চলবে)
  • l অন্যান্য ফর্ম আর কাগজপত্র জমা দেবার পর ওয়াসা সেগুলো প্রসেস করতে কিছু সময় নেবে। প্রসেসিং শেষে আপনার নামে ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হবে ডিমান্ড নোট অনুসারে নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দিন

পানি সংযোগের জন্য রাস্তায় খননকাজের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনার রাজউক, সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে আশা করি এই তথ্যগুলো জানাতে 

আপনার বাড়ি নির্মাণের কাজটি 

আরেকটু সহজ হয়ে উঠবে। আপনার 

বাড়ি যেন হয় মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী। শেকড় থেকে শিখরে

করপোরেট অফিস

কবির মঞ্জিল, এসকে মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম

ফোন: ০৩১-৭১১৫০১-৫, ২৫১৩৭৯১-৪, ফ্যাক্স: ০৩১-২৫২৫৩২৫, ২৫১৩৭৯০

ই-মেইল: [email protected]

বইটি পাওয়া যাবে : www.ksrm.com.bd/images/Home-Building-Made-Easy.pdf