Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

ভিত্তি (Foundation)

কাঠামোর নিজস্ব ওজন এবং এর উপর আগত অন্যান্য লোড মাটির শক্ত স্তরে স্থানান্তর করার জন্য ভূ-নিম্নস্থ অংশে কংক্রিট, পাইল, র‌্যাফট বা ম্যাট, গ্রিলেজ ইত্যাদি সমন্বয়ে কৃত্রিমভাবে ফাউন্ডেশন তৈরি করা হয়। এ অধ্যায়ে ফাউন্ডেশন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

ভিত্তি

কাঠামোর সর্বনিম্ন যে অংশ কলাম এবং দেয়ালের ধারক (Support) হিসেবে এবং এতে আগত ভার মাটির শক্ত স্তরে স্থানান্তর করতে ব্যবহৃত হয় তাকে ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন বলে। যে কোনো কাঠামোর জন্য ভিত্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাঠামো নির্মিত হওয়ার পর এর ভিত্তি দেখা যায় না বলে এর ব্যর্থতা নিরূপণ করা যায় না এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ নয়। সে কারণে ভিত্তি নির্মাণ ও ডিজাইনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। জমির মাটি পরীক্ষার (Soil Test) মাধ্যমে ভিত্তির আকার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

ভিত্তির শ্রেণিবিভাগ

ভিত্তি প্রধানত দুই প্রকার । যথা-

১. অগভীর ভিত্তি : যখন ভিত্তির গভীরতা এর প্রস্থের সমান বা কম হয় তখন তাকে অগভীর ভিত্তি বলে। একে ফুটিংও বলা হয়। এসকল ভিত্তি মাটি খনন করে নির্মাণ করা হয়। ভিত্তির গভীরতা এর প্রস্থের চেয়ে বড় হলেও যদি মাটি খনন করে উক্ত ভিত্তি নির্মাণ করা হয় তবে তাকেও অগভীর ভিত্তি বলা হয়।

অগভীর ভিত্তিকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

ক) স্প্রেড ফুটিং ফাউন্ডেশন (Spread Footing Foundation)

খ) কম্বাইন্ড ফুটিং ফাউন্ডেশন (Combined Footing Foundation)

গ) স্ট্রাপ ফুটিং ফাউন্ডেশন (Strap Footing Foundation)

ঘ) র‌্যাফ্‌ট বা ম্যাট ফাউন্ডেশন(Raft or Mat Foundation)

চিত্র: অগভীর ভিত্তি

২. গভীর ভিত্তি : যে সকল ভিত্তির গভীরতা প্রস্থের তুলনায় অনেক বেশি তাদের গভীর ভিত্তি বলে।

গভীর ভিত্তি তিন প্রকার। যথা-

ক) পাইল ভিত্তি (Pile Foundation)

খ) কফার ড্যাম (Cofferdam)

গ) কেইসন বা কুপ ভিত্তি (Caisson or Well Foundation)

১৩.৩ বিভিন্ন প্রকার ভিত্তির প্রয়োজনীয়তা

  1. ওয়াল ফুটিং : কাঠামো দেয়াল (Structural Wall) যা অন্য ফ্লোরের ভার বহন করে এবং অকাঠামো দেয়াল (Nonstructural Wall) এর ধারক বা সাপোর্ট হিসেবে ওয়াল ফুটিং ব্যবহৃত হয়।
  2. কম্বাইন্ড ফুটিং : সাধারণত দুই বা তিনটি কলাম যেগুলো একই সারিতে থাকে না তাদেরকে সাপোর্ট দিতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া যখন সিঙ্গেল ফুটিং সম্ভব দেয়া সম্ভব হয় না বা একটি কলাম জমির সীমানায় বা তার কাছাকাছি পড়ে তখন এ ধরনের ফাউন্ডেশন ব্যবহৃত হয়।
  3. ক্যান্টিলিভার বা স্ট্রাপ ফুটিং : যখন একটি ফুটিং কোনো একটি ইসেনট্রিক কলামকে সাপোর্ট দেয় এবং পার্শ্ববর্তী কলাম তুলনামূলক দূরে হয় তখন খরচ কমাতে কম্বাইন্ড ফু্‌টিং এর পরিবর্তে এ ধরনের ফুটিং ব্যবহার হয়।
  4. র‌্যাফ্‌ট বা ম্যাট ফাউন্ডেশন : এটি একটি মাত্র ফুটিং যা সম্পূর্ণ ইমারতের নিচে নির্মাণ করা হয় এবং ইমারতের সকল কলামকে সাপোর্ট দেয়। মাটির ভার বহন ক্ষমতা খুব কম হলে, কলামের ওপর লোড খুব বেশি হলে, সিঙ্গেল ফুটিং ব্যবহার সম্ভব না হলে এ ধরনের ফাউন্ডেশন ব্যবহৃত হয়।
  5. পাইল ফাউন্ডেশন : প্রয়োজনীয় ভার বহন ক্ষমতা সম্পন্ন মাটির স্তরের গভীরতা বেশি হলে বা ভূ-পৃষ্ঠ অত্যধিক ঢাল বিশিষ্ট হলে বা পানি সংলগ্ন স্থানে কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে এই ধরনের ভিত্তি ব্যবহৃত হয়।
  6. কেইসন বা কুপ ভিত্তি : পানির নিচে (যেমন-ব্রিজের পায়ার তৈরিতে) উপযুক্ত মাটির স্তরে ভিত্তি স্থাপনের জন্য পানিরোধী কাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।

ফাউন্ডেশন লে-আউট

ফাউন্ডেশনের জন্য পরিখা খনন করার আগেই দেয়ালের বা কলামের কেন্দ্র রেখা, খননের রেখা ইত্যাদির সাহায্যে ফাউন্ডেশনের দাগ দেয়ার পদ্ধতিতে ফাউন্ডেশন লে-আউট বলে। পরিখা খনন করার পূর্বে ১:৫০ স্কেলে দালানের ভিত্তির একটি প্লান অঙ্কন করতে হয়। এটিই ফাউন্ডেশন লে-আউট। প্লান অনুসারে মাটিতে দাগ দিয়ে মাটি কাটতে হয়।

ফাউন্ডেশন লে-আউট দেওয়ার পদ্ধতি

দালানের প্লান বা নকশা দেখে জমির সীমানা চিহ্নিত করে বড় দেয়ালের কেন্দ্ররেখা বের করতে হবে। এরপর ফিতা দ্বারা মেপে কেন্দ্ররেখার অবস্থান দুটি খুঁটি বা পেগ দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে। সুতলি দুটি খুঁটির মাথায় পেরেক লাগিয়ে তার সাথে টান টান করে চিত্র অনুযায়ী বেঁধে দিতে হবে। চিত্রের মধ্যকার ডট রেখা রেফারেন্স লাইন হিসেবে কাজ করবে। এই রেখার সাথে ৩ : ৪ : ৫ অনুপাত পদ্ধতিতে বা মাটাম বা থিওডোলাইট দিয়ে সমকোণ তৈরি করে আড়াআড়ি দেয়ালগুলোর কেন্দ্ররেখা চিহ্নিত করতে হবে।

কেন্দ্ররেখা নির্দেশিত খুঁটিগুলো মাটিতে এমনভাবে প্রবেশ করাতে হবে যেন মাটির উপরের অংশ সহজেই দৃষ্টিগোচর হয়। তবে তা ন্যূনতম ২৫ থেকে ৫০ সে. মি. হলে ভালো হয়। এখন সুতলি বরাবর মাটিতে দাগ দিয়ে অথবা কেন্দ্ররেখায় সুতলি বেধে দিলে জমির উপর দালানের নকশা অনুযায়ী কেন্দ্ররেখা চিহ্নিত হয়ে যাবে।

চিত্র: ফাউন্ডেশন লে-আউট দেওয়ার পদ্ধতি

মাটিতে কেন্দ্ররেখা চিহ্নিত হওয়ার পর ভিত্তির প্রস্থ অনুযায়ী, কেন্দ্ররেখার সমান্তরাল করে দু’পাশে চুন দ্বারা দুটি রেখা টানতে হবে। এভাবে ভিত্তির প্রস্থ নির্ধারিত হবে। সমস্ত পরিমাপ স্টিল ফিতা দ্বারা নিলে বা বড় জায়গার ক্ষেত্রে থিওডোলাইট ব্যবহার করলে ভুলভ্রান্তি কম হবে।

দাগ দেওয়া শেষ হলে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পরিখা খনন করতে হবে। মনে রাখতে হবে যেন কোথাও প্রয়োজনের অতিরিক্ত গভীর করে মাটি কাটা না হয়। ভিত্তির মোট গভীরতা হতে ৫ হতে ৭ সে. মি. গভীরতা পর্যন্ত খনন করে কোদাল দ্বারা সাবধানে চেছে এবং দুরমুজ করে ভিত্তির তলদেশ সমতল করতে হবে। প্রয়োজনে স্পিরিট লেভেল দিয়ে লেভেল যাচাই করা যেতে পারে। যদি কখনও কিছুটা বেশি গভীরতায় খনন করা হয় তাহলে ঐ অংশটুকু মাটি দিয়ে ভরাট না করে বরং খোয়া, বালি ইত্যাদি মিশ্রিত করে ভালোভাবে দুরমুজ করতে হবে কিংবা কংক্রিট দিয়ে পূর্ণ করতে হবে।

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *