Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

একটি কন্সট্রাকশন প্রজেক্ট এর আত্ম কাহিনী-০৪

এর আগে বর্ণনা করেছি আমার সম্পর্কে কিছু কথা। আজ বর্ণনা করব একেবারে শুরু থেকে। যদিও একদম শুরুর কিছু ঘটনা আমি জানি না। তবে আমার পরিপুর্ণ হতে সবচেয়ে জরুরী বিষয়গুলি আমি জানি। তাই আপনাদের সামনে একে একে তুলে ধরব।

আমি আগে ছিলাম একটি রেস্টুরেন্ট। কিন্তু পরে আমার মালিক অধিক লাভের সুযোগ পাওয়াতে আমাকে অফিস বিল্ডিং এর পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যপারে সাহয্য করে বাংলাদেশের নামকরা এক প্রপার্টিজ কম্পানি।

শুনেছি আমার পরিপুর্ণ গঠন এর পর আমার মালিক পাবে ৬০ শতাংশ। আর ঐ প্রপার্টিজ কোম্পানি পাবে ৪০ শতাংশ। এছাড়াও আমার মালিক এককালিন অনেক টাকা পেয়েছে নগদ। যদিও আমি এর পরিমান জানি না। এটা আমার মালিকের ব্যাপার। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম তাই ঐ বিষয়ে জানতে পারিনি।

আমি যেই রেস্টুরেন্ট ছিলাম প্রথমেই সেই রেস্টুরেন্টি ভেঙ্গে ফেলা হল। ভেঙ্গে ফেলার পর আমি হয়ে গেলাম ফাকা একটি মাঠ। শুনেছি আমি অফিস বিল্ডিং হিসাবে দেখতে কেমন হব তা আগেই ঠিক করা হয়েছিল। তারপরেই আমাকে ফাকা মাঠে পরিবর্তন করা হয়। এই রেস্টুরেন্ট ভাঙ্গার দায়িত্ব ছিল আমার মালিকের।

আমার মালিক এটি ভাঙ্গার জন্য একটি কন্টাকটরকে দায়িত্ব দিয়েছিল। শর্ত ছিল সমস্ত ধরণের মালামাল সে নিয়ে যাবে যেমন- রড,ইট,ইটেরগুড়া,দরজা,জানালা ইত্যাদি। শুধু ইলেক্ট্রিক মেইন লাইন এবং পানির লাইন ও গ্যাসের লাইন এরও কিছু করতে পারবে না। ঐ সকল মালামাল নিয়ে যাবে এবং এর বিনিময়ে আমার মালিক কিছু টাকা পেয়েছে। এই বিল্ডিং ভাঙ্গার দায়িত্ব যারা নিয়েছিল তারা অনেক সময় ফাকি দেয়। যেমন আমার অল্পকিছু অংশ তার ভাঙ্গেনি। এবং তারা জোর করে পানির মটর নিয়ে গেছে।

বিল্ডিংটি ভাঙ্গার আমাকে এ প্রপার্টিজ কোম্পানির নিকট হস্তান্তার করা হয়। আমাকে কিভাবে তৈরি করা হবে সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা করে। শুরুতে চিন্তা করা হয় যে আমি ১০ তলা হব। কিন্তু পরে আমার তলার পরিমান বাড়ানো হয়।

আমার স্বাস্থ্য, শক্তি, আয়ুকাল, গঠনের মুল্য  ইত্যাদি নিয়ন্ত্র করার দ্বায়িত্ব দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ারের উপর। বলতে পারেন আমার জন্ম হবে ইঞ্জিনিয়ার এর হাত ধরে। আমি দেখতে কেমন হব, আমার পোশাক কেমন হবে এই দ্বায়িত্ব দেয়া হয় স্থপতির উপর।

স্থপতি বা আর্কিটেক্ট এর প্ল্যান অনুযায়ী প্রথমেই একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আমার মাটির গুনাগুণ পরিক্ষা করিয়ে নেন। এই কাজে নিয়োগ করা হয় জিওটেক কন্সালটেন্ট। তারা জমির বেশ কয়েক জায়গায় বোরিং করে বিভিন্ন লেয়ার এর মাটির নমুনা সংগ্রহ করে। অর্থাৎ বিভিন্ন ফুট নিচে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে। মাটির মাটির সহ্য ক্ষমতা হিসাব করা হয়। তারপর এর একটি রিপোর্ট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে দেয়া হয়।

ইঞ্জিনিয়ার আর্কিটেক্ট এর ড্রয়িং এবং মাটির গুনাগুন এবং চারপাশের অবস্থা অনুযায়ি আমার চারপাশ রক্ষার জন্য শোর পাইল এর ডিজাইন করেন। এরপর সেই ডিজাইন একজন কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) এ দেয়া হয়।

কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার শোর পাইল করার প্রস্তুতি নেয় এবং শোর পাইল করেন।

শোর পাইল কিভাবে করেন তার বিস্তারিত আগামি পর্বে আপনাদের মাঝে ছবি সহ তুলে ধরব বলে আশা করি।

পর্ব-০৩ পাবেন এই খানে http://need4engineer.com/content/173

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *