কাঠ , পর্ব-২

বিভিন্ন প্রকার টিম্বারের ব্যবহারিক ক্ষেত্র

কাঠের নাম ব্যবহারিক ক্ষেত্র
সেগুন ঘরবাড়ির দরজা-জানালা, রেলগাড়ির বগি, জাহাজের পাটাতন ও আসবাবপত্র তৈরির কাজে।
গর্জন ঘরবাড়ি, রেলের স্লিপার, ইনটেরিয়র ডেকোরেশনের কাজে।
সুন্দরী পাইল, খুঁটি, বৈদ্যুতিক পোল, নৌকা তৈরির কাজে।
শাল সেতু, স্লিপার, পাইল, ঘরবাড়ি ও জাহাজ নির্মাণের তৈরির কাজে।।
কাঁঠাল দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র তৈরির কাজে।
গজারি ঘরের খুঁটি, পাইল, বৈদ্যুতিক খুঁটি তৈরির কাজে।
আম কংক্রিটের ফ্রেমওয়ার্ক, শাটারিং, জুতার গোড়ালি, প্যাকিং বক্স, খেলনা তৈরির কাজে।
শিশু আসবাবপত্র, নির্মাণকাজ, বন্দুকের বাঁট, কৃষিকর্মে ও যন্ত্রপাতি ও ভিনিয়ার তৈরির কাজে।
শিমূল দিয়াশলাইয়ের বক্স ও কাঠি এবং প্যাকিং এর কাজে।
বাবলা কৃষি কাজের সরঞ্জাম, গরুর গাড়ির চাকা, নৌকা তৈরির কাজে।
চাম্বল দরজা-জানালার চৌকাঠ, আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক পোল তৈরির কাজে।
শিল কড়াই আসবাবপত্র, নৌকা ও গৃহনির্মাণ কাজে।
নিম গৃহনির্মাণ ও আসবাবপত্র তৈরির কাজে।

ভালো টিম্বারের বৈশিষ্ট্য

  1. অবয়ব : সদ্য চেরা কাঠের পৃষ্ঠদেশ দেখতে শক্ত এবং উজ্জ্বল অবয়বের হয়।
  2. গঠন : ভালো কাঠের গঠন সুষম (homogeneous) হবে ।
  3. বার্ষিক বলয় : বার্ষিক বলয়গুলো কম প্রশস্থ এবং কাছাকাছি হবে।
  4. রঙ : রঙ খুব গাঢ় এবং সুষম হতে হবে।
  5. ক্রটি : যেকোনো দোষ-ক্রটি, যেমন-গিঁট, ফাট, বাঁকানো, আড়াআড়ি আঁশ ইত্যাদি মুক্ত হবে।
  6. আঁশ : কাঠের আঁশগুলো সোজা হবে।
  7. শব্দ : কাঠকে আঘাত করলে বাজনার মতো শব্দ হবে।
  8. কাঠিন্য : শক্ত এবং কঠিন হবে।
  9. আগ্নিরোধীতা : আগুনে ভালো প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে।
  10. ওজন : ভারী কাঠকে সাধারণত নিখুঁত এবং শক্তিশালী বিবেচনা করা হয়।
  11. যান্ত্রিক ক্ষয় : যান্ত্রিক ক্ষয় বা ঘর্ষণে ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।
  12. আকৃতি : চেরাই বা ঋতুসহকরণের সময় এর আকার-আকৃতির কোন পরিবর্তন হবে না।
  13. ঘ্রাণ : ঘ্রাণ মিষ্টিজাতীয় হবে। উৎকট গন্ধ পাওয়া গেলে ক্ষয়িষ্ণু কাঠ বুঝতে হবে।
  14. পানি প্রবেশ্যতা : একটি ভালো কাঠের পানি প্রবেশ্যতা কম হবে।
  15. স্থায়িত্ব : টেকসই হবে এবং বিভিন্ন ছত্রাক, পোকামাকড়, রাসায়নিক দ্রব্য, ভৌত এবং যান্ত্রিক ক্রিয়াকে প্রতিহত করতে পারবে।

টিম্বারের খুঁত

টিম্বারে সচরাচর নীচের খুঁতগুলো দেখা যায়-

  1. গিঁট (Knots) : কাঠে গিঁট থাকলে চেরাই ও রেঁদাকরনের সময় বিশেষ অসুবিধা দেখা দেয়। গিঁট বরাবর পেরেক ঠুকলে কাঠে ফাট দেখা দেয়।
  2. ফাট (Shake) : যে চিড় বা বিদারণের জন্য কাঠের কলাগুলো (Tissue) আলাদা হওয়াকে ফাট বলে। কাঠে বলয় ফাট, পূর্ণ ফাট, অরীয় ফাট, পেয়ালা ফাট, তারকা ফাট ও হৃদ ফাট পরিলক্ষিত হয়।
  3. ত্বক-স্ফোটক বা আব (Ring galls) : অসম্পূর্ণভাবে কেটে নেয়া শাখা অবশেষের ওপর কয়েকটি স্তর সঞ্চিত হয়ে বেশ ফুলে ওঠে। এটিই আব। নবীন বয়সে আঘাতপেলে ত্বক-স্ফোটকের সৃষ্টি হয়।
  4. ভেস্তানো (Upset) : বৃক্ষ বয়োঃবৃদ্ধিকালে টিম্বারের কোন অংশে ভীষণ চাপজনিত আঘাতের কারণে এ খুঁত লক্ষ করা যায়।
  5. পাটল (Foxiness) : বিনাশনের (Decay) প্রাথমিক পর্যায়ে টিম্বারে যে সকল হলুদ বা লাল দাগ দেখা যায় তাকে পাটল বলে। মজ্জার চারিদিকে পাটল সৃষ্টি হয়। পাটল কাঠকে বিবর্ণ করে।
  6. মোচড়ানো অাঁশ (Twisted Fibre) : বায়ু প্রবাহ প্রতিনিয়ত গাছকে তার গতিপথের দিকে বাঁকাতে চায়। ফলে কাঠের অাঁশগুলো লম্বালম্বি মোচড়াইয়া যায়। এরূপ গাছের কাঠ হতে তক্তা কাটার সময় অাঁশগুলো কেটে যায় এবং কাঠের শক্তি হ্রাস করে।
  7. তোবড়ানো (Warping) : অসম সংকোচনের জন্য তক্তার সমতল পৃষ্ঠেদেশে ঢেউ খেলানো আকৃতি তৈরী হয়, একে তোবড়ানো বলে।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *